বিএসএফের গুলিতে নিহত ফেলানীর ভাই এখন বিজিবি সদস্য
প্রকাশের তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
বিএসএফের গুলিতে নিহত ফেলানীর ভাই এখন বিজিবি সদস্য
২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলিতে প্রাণ হারানো কিশোরী ফেলানী খাতুনের ছোট ভাই আরফান হোসেন এবার যোগ দিয়েছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে (বিজিবি)।
সম্প্রতি লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের আয়োজিত নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হওয়ার পর বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর তিনি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে যোগ দেবেন।
ফেলানীর মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড একসময় সারা দেশে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গভীর ক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়বিচারের দাবিতে লড়ে আসা এই পরিবার আজ পেল নতুন আশার আলো।
আরফান হোসেন এইচএসসি পাস করেছেন। তিনি কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার দক্ষিণ রামখানা কলোনিটারী গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা নুর ইসলাম দিনমজুর এবং মা জাহানারা বেগম গৃহিণী। পরিবারের অন্য সদস্যদের মধ্যে দুই ভাই জাহান উদ্দিন ও আক্কাস আলী এখনও পড়াশোনা করছেন, আর দুই বোন মালেকা খাতুন ও কাজলী আক্তার বিবাহিত।
আরফান বলেন, “আমার বাবা-মায়ের স্বপ্ন ছিল দেশের সেবা করা। ফেলানী হত্যার পর থেকেই আমাদের ইচ্ছা ছিল বিজিবিতে যোগ দেওয়ার। আজ সেই স্বপ্ন পূরণ হলো। আমাকে সুযোগ দেওয়ার জন্য বিজিবিকে ধন্যবাদ জানাই।”
ফেলানীর বাবা নুর ইসলাম বলেন, “ভারত থেকে ফেরার পথে আমার মেয়েকে নির্মমভাবে হত্যা করে কাঁটাতারের বেড়ায় ঝুলিয়ে রেখেছিল বিএসএফ। সেই দৃশ্য আজও মনে দগদগে হয়ে আছে। তবে বিজিবি ও দেশবাসী সবসময় আমাদের পাশে থেকেছে। আজ আমার ছেলে নিজ যোগ্যতায় বিজিবিতে চাকরি পেল—এটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দ।”
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম বলেন, “ফেলানীর পরিবারকে আমরা সবসময় সহযোগিতা করেছি। আরফান মেধা ও দক্ষতায় নিয়োগ পরীক্ষায় সফল হয়েছে। আমরা আশা করি, প্রশিক্ষণ শেষে সে একজন দক্ষ সদস্য হয়ে দেশের সেবায় নিয়োজিত হবে।”
তিনি আরও আশ্বস্ত করে বলেন, “ফেলানীর মতো হৃদয়বিদারক ঘটনা যাতে আর কখনো না ঘটে, সে বিষয়ে বিজিবি সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।”
চেয়ারম্যান ও সম্পাদকঃ সামসুল আলমবার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আসআদ
কপিরাইট © ২০২৫ ডি এস কে টিভি চ্যানেল
আপনার মতামত লিখুন