নোবেল শান্তি পুরস্কার ২০২৫: সম্ভাব্য ১০ প্রার্থী নিয়ে চূড়ান্ত জল্পনা
প্রকাশের তারিখ : ১০ অক্টোবর ২০২৫
নোবেল শান্তি পুরস্কার ২০২৫: সম্ভাব্য ১০ প্রার্থী নিয়ে চূড়ান্ত জল্পনা
আর মাত্র কিছুক্ষণ পরই জানা যাবে ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার কার ঝুলিতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ সময় শুক্রবার (১০ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় অসলো থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে এই বছরের শান্তিতে নোবেল বিজয়ীর নাম। ঘোষণার আগেই পুরস্কারপ্রত্যাশীদের তালিকায় বেশ কৌতূহল তৈরি হয়েছে বিশ্বজুড়ে।
গত কয়েকদিন ধরে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্য ও দাবি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হলেও, প্রকৃতপক্ষে কারা শান্তির জন্য অবদান রেখে এই পুরস্কারের জন্য সবচেয়ে যোগ্য—সে প্রশ্নের উত্তর পেতে অপেক্ষা আর কয়েক ঘণ্টা।
উল্লেখ্য, এর আগে নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন ইরানের বন্দি মানবাধিকার কর্মী নার্গেস মোহাম্মদী (২০২৩), দালাই লামা (১৯৮৯) এবং মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র (১৯৬৪)-এর মতো কিংবদন্তি ব্যক্তিত্বরা। ট্রাম্পও তাদের সারিতে নাম লেখানোর আশা প্রকাশ করেছেন।
হোয়াইট হাউসে অবস্থানকালে ‘সাতটি যুদ্ধ’ সমাপ্ত করার দাবি করে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কারের উপযুক্ত প্রাপক। তবে সমালোচকরা তার কর্মকাণ্ডের মধ্যে শান্তির ছোঁয়া খুঁজে পাননি। কারণ, তার প্রশাসন একদিকে আন্তর্জাতিক সহায়তা কমিয়ে দেয়, অন্যদিকে অভিবাসীদের নির্বাসনে পাঠানোসহ নানা বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেয়। এমনকি একসময় গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ ও পানামা খালের নিয়ন্ত্রণ পুনর্দখলের কথাও বলেন তিনি।
তবে ট্রাম্পের চারপাশের বিতর্ক সরিয়ে রাখলে, ২০২৫ সালের শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের জন্য আলোচনায় থাকা ১০ সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা বেশ বৈচিত্র্যময়—যাদের মধ্যে রয়েছেন মানবিক, রাজনৈতিক ও নাগরিক সমাজের কর্মী থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক সংস্থা পর্যন্ত।
সম্ভাব্য প্রার্থীরা:
১. দ্য ইমারজেন্সি রেসপন্স রুমস (সুদান):
তৃণমূল পর্যায়ের তরুণদের উদ্যোগ, যারা যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে সরকারি বা আন্তর্জাতিক সহায়তা না পৌঁছালেও জীবনরক্ষাকারী মানবিক সহায়তা দিচ্ছেন।
২. ভলোদিমির জেলেনস্কি (ইউক্রেন):
রুশ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও শান্তির আহ্বানের প্রতীক হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট।
৩. রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স (RSF):
বিশ্বব্যাপী তথ্যের স্বাধীনতা রক্ষায় নিবেদিত একটি আন্তর্জাতিক অলাভজনক সংস্থা।
৪. মাহরং বালুচ (পাকিস্তান):
মানবাধিকার ও নারীর মুক্তি আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী, যিনি নিপীড়নের বিরুদ্ধে নির্ভীক কণ্ঠস্বর তুলেছেন।
৫. আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (ICC):
যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারকাজে তাদের ভূমিকা ক্রমেই বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হচ্ছে।
৬. ইউলিয়া নাভালনায়া (রাশিয়া):
রুশ বিরোধী নেতা অ্যালেক্সি নাভালনির স্ত্রী, যিনি স্বামীর মৃত্যুর পরও রাশিয়ায় স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
৭. চৌ হ্যাং-তুং (হংকং):
আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী, যিনি চীনের গণতন্ত্র আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন এবং এর জন্য কারাবরণও করেছেন।
৮. স্ট্যান্ডিং টুগেদার (ইসরাইল–ফিলিস্তিন):
উভয় পক্ষের সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে সহাবস্থান ও শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে এই যৌথ উদ্যোগ।
৯. শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান আল-থানি (কাতার):
আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় কাতারের ভূমিকা ও গাজা যুদ্ধের শান্তি প্রচেষ্টায় নেতৃত্বের জন্য তিনি আলোচনায়।
১০. ন্যাটো (NATO):
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা রক্ষায় পশ্চিমা সামরিক জোট হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা রাখার কারণে তাদের নামও বিবেচনায়।
অসলোতে এখন সবার দৃষ্টি নোবেল কমিটির দিকে—কে হচ্ছেন ২০২৫ সালের শান্তির দূত, তা জানার অপেক্ষায় সারা বিশ্ব। ?✨
চেয়ারম্যান ও সম্পাদকঃ সামসুল আলমবার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আসআদ
কপিরাইট © ২০২৫ ডি এস কে টিভি চ্যানেল
আপনার মতামত লিখুন