শৈশবে দৃষ্টিশক্তি হারানোর আশঙ্কা, তবুও থেমে যাননি: বাংলাদেশি গবেষক তানভীরের পিএইচডি অর্জন
মাত্র চার বছর বয়সে দৃষ্টিশক্তি কমতে শুরু করে তানভীর সৈয়দের। চিকিৎসকেরা আশঙ্কা করেছিলেন, ১৫ বছর বয়সের মধ্যেই তিনি পুরোপুরি দৃষ্টিশক্তি হারাতে পারেন। কিন্তু সেই আশঙ্কাকে জয় করে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে পিএইচডি অর্জন করেছেন বাংলাদেশের এই গবেষক।
তানভীরের বেড়ে ওঠা সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে। শৈশব থেকেই দৃষ্টিশক্তির সীমাবদ্ধতার সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে তাঁকে। তবে পড়াশোনা, খেলাধুলা কিংবা স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি এই সীমাবদ্ধতা।
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ক্রিকেটার হিসেবে যুক্তরাজ্যের ইয়র্কশায়ার কাউন্টি দলের হয়ে খেলেছেন তিনি। সংগীতের প্রতিও ছিল তাঁর আগ্রহ। পাশাপাশি একাধিক ভাষা শেখার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর।
উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে গিয়ে ইউনিভার্সিটি অব লিডস থেকে বায়োমেডিক্যাল সায়েন্স ও হিউম্যান ফিজিওলজি বিষয়ে পড়াশোনা করেন তানভীর। পরে ইউনিভার্সিটি অব ব্র্যাডফোর্ড এবং জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি থেকে দুটি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
২০১৬ সালে ফ্লোরিডা ইনস্টিটিউট অব টেকনোলিটিতে পিএইচডি শুরু করেন তিনি। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল স্বল্পদৃষ্টিসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান শিক্ষায় ভার্চ্যুয়াল রিয়েলিটি প্রযুক্তির ব্যবহার।
২০২৬ সালের মে মাসে পিএইচডি সম্পন্ন করেন তানভীর। তাঁর গবেষণায় উঠে এসেছে, ভার্চ্যুয়াল বিজ্ঞান পরীক্ষাগারে ছোট লেখা পড়া, বিভিন্ন বিষয় শনাক্ত করা এবং চলাচলের ক্ষেত্রে স্বল্পদৃষ্টিসম্পন্ন শিক্ষার্থীরা নানা সমস্যার মুখোমুখি হন।
এসব সমস্যার সমাধানে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার সুপারিশ করেছেন তিনি। তাঁর গবেষণা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান শেখার সুযোগ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
শৈশবের প্রতিকূলতা, শিক্ষাজীবনের নানা চ্যালেঞ্জ এবং দীর্ঘ গবেষণার পথ পেরিয়ে তানভীরের এই অর্জন নিঃসন্দেহে অনুপ্রেরণার। তাঁর সাফল্য প্রমাণ করে, শারীরিক সীমাবদ্ধতা স্বপ্নপূরণের পথে বাধা হতে পারে না, যদি থাকে অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও পরিশ্রম।

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬
শৈশবে দৃষ্টিশক্তি হারানোর আশঙ্কা, তবুও থেমে যাননি: বাংলাদেশি গবেষক তানভীরের পিএইচডি অর্জন
মাত্র চার বছর বয়সে দৃষ্টিশক্তি কমতে শুরু করে তানভীর সৈয়দের। চিকিৎসকেরা আশঙ্কা করেছিলেন, ১৫ বছর বয়সের মধ্যেই তিনি পুরোপুরি দৃষ্টিশক্তি হারাতে পারেন। কিন্তু সেই আশঙ্কাকে জয় করে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে পিএইচডি অর্জন করেছেন বাংলাদেশের এই গবেষক।
তানভীরের বেড়ে ওঠা সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে। শৈশব থেকেই দৃষ্টিশক্তির সীমাবদ্ধতার সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে তাঁকে। তবে পড়াশোনা, খেলাধুলা কিংবা স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি এই সীমাবদ্ধতা।
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ক্রিকেটার হিসেবে যুক্তরাজ্যের ইয়র্কশায়ার কাউন্টি দলের হয়ে খেলেছেন তিনি। সংগীতের প্রতিও ছিল তাঁর আগ্রহ। পাশাপাশি একাধিক ভাষা শেখার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর।
উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে গিয়ে ইউনিভার্সিটি অব লিডস থেকে বায়োমেডিক্যাল সায়েন্স ও হিউম্যান ফিজিওলজি বিষয়ে পড়াশোনা করেন তানভীর। পরে ইউনিভার্সিটি অব ব্র্যাডফোর্ড এবং জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি থেকে দুটি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
২০১৬ সালে ফ্লোরিডা ইনস্টিটিউট অব টেকনোলিটিতে পিএইচডি শুরু করেন তিনি। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল স্বল্পদৃষ্টিসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান শিক্ষায় ভার্চ্যুয়াল রিয়েলিটি প্রযুক্তির ব্যবহার।
২০২৬ সালের মে মাসে পিএইচডি সম্পন্ন করেন তানভীর। তাঁর গবেষণায় উঠে এসেছে, ভার্চ্যুয়াল বিজ্ঞান পরীক্ষাগারে ছোট লেখা পড়া, বিভিন্ন বিষয় শনাক্ত করা এবং চলাচলের ক্ষেত্রে স্বল্পদৃষ্টিসম্পন্ন শিক্ষার্থীরা নানা সমস্যার মুখোমুখি হন।
এসব সমস্যার সমাধানে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার সুপারিশ করেছেন তিনি। তাঁর গবেষণা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান শেখার সুযোগ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
শৈশবের প্রতিকূলতা, শিক্ষাজীবনের নানা চ্যালেঞ্জ এবং দীর্ঘ গবেষণার পথ পেরিয়ে তানভীরের এই অর্জন নিঃসন্দেহে অনুপ্রেরণার। তাঁর সাফল্য প্রমাণ করে, শারীরিক সীমাবদ্ধতা স্বপ্নপূরণের পথে বাধা হতে পারে না, যদি থাকে অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও পরিশ্রম।

আপনার মতামত লিখুন