মায়ের চোখের সামনেই মেয়ের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ, ৯ দিন আইসিইউতে লড়ে মারা গেলেন অন্তঃসত্ত্বা সিফাতুন
চট্টগ্রামে উপহারের লোভে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ, ৯ দিন আইসিইউতে লড়াই করে প্রাণ হারালেন অন্তঃসত্ত্বা সিফাতুন!
নিজের মায়ের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদ করতে গিয়ে নির্মম হামলার শিকার হন তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা সিফাতুন। দীর্ঘ ৯ দিন আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত না ফেরার দেশে চলে গেলেন তিনি। তাঁর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবারে।
বিয়ের পর মেয়েকে শ্বশুরবাড়িতে পাঠিয়ে বাবা-মায়েরা স্বপ্ন দেখেন, তাঁদের মেয়ে নতুন সংসারে সুখে থাকবে। কিন্তু সেই সংসারেই যদি উপহার কিংবা খাবারের পরিমাণ নিয়ে অপমান ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়, তাহলে সেই কষ্টের দায় নেবে কে?
অভিযোগ অনুযায়ী, চট্টগ্রামে সিফাতুনের শ্বশুরবাড়িতে তাঁর মা মেয়েকে নিজের হাতে তৈরি নাস্তা খাওয়াতে গিয়েছিলেন। কিন্তু নাস্তার পরিমাণ কম হওয়ার অভিযোগ তুলে সিফাতুনের মা রিজিয়া বেগমের হাতে নির্যাতনের শিকার হন বলে অভিযোগ উঠেছে। মেয়ের সামনেই নিজের মায়ের ওপর এমন নির্যাতন সহ্য করতে পারেননি সিফাতুন।
তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়েও মাকে রক্ষা করতে এগিয়ে যান তিনি। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় তাঁর ননদসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা তাঁর ওপর হামলা চালান। চুলের মুঠি ধরে মাটিতে ফেলে মারধরসহ তাঁকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপর গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় সিফাতুনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। টানা ৯ দিন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকার পর শেষ পর্যন্ত তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর এই মৃত্যুতে পরিবার হারিয়েছে প্রিয় একজন মানুষকে, আর তাঁর মা হারিয়েছেন নিজের চোখের সামনে বড় করে তোলা আদরের মেয়েকে।
একটি নাস্তার পরিমাণ, কিছু উপহার কিংবা সংসারের ছোটখাটো বিষয়—কোনোটিই একজন মানুষের ওপর নির্যাতন চালানোর অজুহাত হতে পারে না। বিয়ে মানে কোনো মেয়েকে অন্যের হাতে তুলে দিয়ে তার নিরাপত্তার দায় শেষ করে দেওয়া নয়। একজন নারীও সম্মান, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকার অধিকার রাখেন।
এখন প্রয়োজন সিফাতুনের মৃত্যুর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
আর কত নারীর জীবন ঝরে গেলে সমাজ বুঝবে—মেয়ে কোনো বোঝা নয়, কোনো উপহারের বিনিময়ে কেনা মানুষও নয়?

রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ অক্টোবর ২০২৬
মায়ের চোখের সামনেই মেয়ের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ, ৯ দিন আইসিইউতে লড়ে মারা গেলেন অন্তঃসত্ত্বা সিফাতুন
চট্টগ্রামে উপহারের লোভে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ, ৯ দিন আইসিইউতে লড়াই করে প্রাণ হারালেন অন্তঃসত্ত্বা সিফাতুন!
নিজের মায়ের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদ করতে গিয়ে নির্মম হামলার শিকার হন তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা সিফাতুন। দীর্ঘ ৯ দিন আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত না ফেরার দেশে চলে গেলেন তিনি। তাঁর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবারে।
বিয়ের পর মেয়েকে শ্বশুরবাড়িতে পাঠিয়ে বাবা-মায়েরা স্বপ্ন দেখেন, তাঁদের মেয়ে নতুন সংসারে সুখে থাকবে। কিন্তু সেই সংসারেই যদি উপহার কিংবা খাবারের পরিমাণ নিয়ে অপমান ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়, তাহলে সেই কষ্টের দায় নেবে কে?
অভিযোগ অনুযায়ী, চট্টগ্রামে সিফাতুনের শ্বশুরবাড়িতে তাঁর মা মেয়েকে নিজের হাতে তৈরি নাস্তা খাওয়াতে গিয়েছিলেন। কিন্তু নাস্তার পরিমাণ কম হওয়ার অভিযোগ তুলে সিফাতুনের মা রিজিয়া বেগমের হাতে নির্যাতনের শিকার হন বলে অভিযোগ উঠেছে। মেয়ের সামনেই নিজের মায়ের ওপর এমন নির্যাতন সহ্য করতে পারেননি সিফাতুন।
তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়েও মাকে রক্ষা করতে এগিয়ে যান তিনি। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় তাঁর ননদসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা তাঁর ওপর হামলা চালান। চুলের মুঠি ধরে মাটিতে ফেলে মারধরসহ তাঁকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপর গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় সিফাতুনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। টানা ৯ দিন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকার পর শেষ পর্যন্ত তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর এই মৃত্যুতে পরিবার হারিয়েছে প্রিয় একজন মানুষকে, আর তাঁর মা হারিয়েছেন নিজের চোখের সামনে বড় করে তোলা আদরের মেয়েকে।
একটি নাস্তার পরিমাণ, কিছু উপহার কিংবা সংসারের ছোটখাটো বিষয়—কোনোটিই একজন মানুষের ওপর নির্যাতন চালানোর অজুহাত হতে পারে না। বিয়ে মানে কোনো মেয়েকে অন্যের হাতে তুলে দিয়ে তার নিরাপত্তার দায় শেষ করে দেওয়া নয়। একজন নারীও সম্মান, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকার অধিকার রাখেন।
এখন প্রয়োজন সিফাতুনের মৃত্যুর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
আর কত নারীর জীবন ঝরে গেলে সমাজ বুঝবে—মেয়ে কোনো বোঝা নয়, কোনো উপহারের বিনিময়ে কেনা মানুষও নয়?

আপনার মতামত লিখুন