ডি এস কে টিভি চ্যানেল
প্রকাশ : রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

তাহলে এর চেয়ে কষ্টের দৃশ্য আর কী হতে পারে?

ছয় ছেলের পাকা বাড়ি, তবুও আশ্রয় হয়নি ৮৫ বছরের অসুস্থ মায়ের!

ছয় ছেলের পাকা বাড়ি, তবুও আশ্রয় হয়নি ৮৫ বছরের অসুস্থ মায়ের!

ছয় ছেলের পাকা বাড়ি, তবুও আশ্রয় হয়নি ৮৫ বছরের অসুস্থ মায়ের! ????

একজন মা তাঁর জীবনের কতটা সময়, কতটা স্বপ্ন আর কতটা সুখ বিসর্জন দিয়ে সন্তানদের বড় করেন, তার হিসাব হয়তো কোনো দিনই করা সম্ভব নয়। নিজের কষ্ট লুকিয়ে সন্তানদের মুখে হাসি ফোটান, নিজের প্রয়োজন ভুলে সন্তানদের প্রয়োজন পূরণ করেন। অথচ জীবনের শেষ প্রান্তে এসে সেই মাকেই যদি আশ্রয়ের জন্য অসহায়ের মতো দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, তাহলে এর চেয়ে কষ্টের দৃশ্য আর কী হতে পারে?

সম্প্রতি ৮৫ বছর বয়সী অসুস্থ জয়নব ভানুর ঘটনা আমাদের সামনে এমনই এক হৃদয়বিদারক বাস্তবতা তুলে ধরেছে। জানা যায়, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের কারণে তিনি নিজের সন্তানদের কাছেই আশ্রয়হীন হয়ে পড়েন। সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো, তাঁর ছয় ছেলের সবারই পাকা বাড়ি রয়েছে, অথচ সেই বৃদ্ধ মায়ের জন্যই নিশ্চিত হয়নি নিরাপদ আশ্রয়। শেষ পর্যন্ত তাঁর আশ্রয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করতে এগিয়ে আসতে হয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও)।

একবার ভাবুন তো, যে মা সন্তানদের একটু ভালো রাখার জন্য নিজের সারাটা জীবন পরিশ্রম করেছেন, আজ সেই মায়েরই জীবনের শেষ দিনগুলো কাটানোর জন্য নিরাপদ একটি জায়গার প্রয়োজন হচ্ছে! যে সন্তানদের হাত ধরে তিনি পথ চলতে শিখিয়েছেন, বয়সের ভারে নুয়ে পড়ার পর সেই সন্তানদের কাছেই যদি তাঁর ঠাঁই না হয়, তাহলে একজন মায়ের হৃদয়ে কতটা কষ্ট জমে থাকতে পারে!

সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ থাকতেই পারে। মানুষের মধ্যে মতের অমিলও হতে পারে। কিন্তু কোনো বিরোধের কারণে অসুস্থ, বয়স্ক মা-বাবাকে অবহেলা করা কিংবা তাঁদের আশ্রয়হীন করে দেওয়া কখনোই মানবিকতার পরিচয় হতে পারে না।

আমরা প্রায়ই বলি, মা-বাবা আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ। কিন্তু সেই কথার প্রকৃত মূল্য তখনই বোঝা যায়, যখন তাঁদের শরীর দুর্বল হয়ে আসে, চলার শক্তি কমে যায়, আর অন্যের সহযোগিতা ছাড়া জীবন চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। তখন তাঁদের প্রয়োজন শুধু খাবার কিংবা মাথা গোঁজার ঠাঁই নয়, প্রয়োজন একটু ভালোবাসা, সম্মান আর আপনজনের সঙ্গ।

মনে রাখতে হবে, মা-বাবার আশ্রয় কোনো দয়া নয়, এটি তাঁদের প্রাপ্য সম্মান ও সন্তানের দায়িত্ব। আজ যাঁরা বৃদ্ধ মা-বাবাকে অবহেলা করছেন, তাঁরাও একদিন বার্ধক্যে পৌঁছাবেন। সময়ের চাকা কারও জন্য থেমে থাকে না।

জয়নব ভানুর ঘটনা শুধু একটি পরিবারের ঘটনা নয়, এটি আমাদের সমাজের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।

আমাদের প্রত্যেকের উচিত মা-বাবার জীবনের শেষ অধ্যায়টুকু যেন অবহেলা, অপমান আর অনিশ্চয়তায় না কাটে, তা নিশ্চিত করা। কোনো মাকে যেন জীবনের শেষ বয়সে এসে নিজের সন্তানদের ঘরে আশ্রয়ের জন্য অপেক্ষা করতে না হয়।

আপনার মতে, বৃদ্ধ মা-বাবার দায়িত্ব নেওয়া কি সন্তানের কর্তব্য নয়? আপনার মূল্যবান মতামত কমেন্টে জানাবেন।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডি এস কে টিভি চ্যানেল

রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬


ছয় ছেলের পাকা বাড়ি, তবুও আশ্রয় হয়নি ৮৫ বছরের অসুস্থ মায়ের!

প্রকাশের তারিখ : ২৫ অক্টোবর ২০২৬

featured Image


ছয় ছেলের পাকা বাড়ি, তবুও আশ্রয় হয়নি ৮৫ বছরের অসুস্থ মায়ের! ????

একজন মা তাঁর জীবনের কতটা সময়, কতটা স্বপ্ন আর কতটা সুখ বিসর্জন দিয়ে সন্তানদের বড় করেন, তার হিসাব হয়তো কোনো দিনই করা সম্ভব নয়। নিজের কষ্ট লুকিয়ে সন্তানদের মুখে হাসি ফোটান, নিজের প্রয়োজন ভুলে সন্তানদের প্রয়োজন পূরণ করেন। অথচ জীবনের শেষ প্রান্তে এসে সেই মাকেই যদি আশ্রয়ের জন্য অসহায়ের মতো দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, তাহলে এর চেয়ে কষ্টের দৃশ্য আর কী হতে পারে?

সম্প্রতি ৮৫ বছর বয়সী অসুস্থ জয়নব ভানুর ঘটনা আমাদের সামনে এমনই এক হৃদয়বিদারক বাস্তবতা তুলে ধরেছে। জানা যায়, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের কারণে তিনি নিজের সন্তানদের কাছেই আশ্রয়হীন হয়ে পড়েন। সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো, তাঁর ছয় ছেলের সবারই পাকা বাড়ি রয়েছে, অথচ সেই বৃদ্ধ মায়ের জন্যই নিশ্চিত হয়নি নিরাপদ আশ্রয়। শেষ পর্যন্ত তাঁর আশ্রয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করতে এগিয়ে আসতে হয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও)।

একবার ভাবুন তো, যে মা সন্তানদের একটু ভালো রাখার জন্য নিজের সারাটা জীবন পরিশ্রম করেছেন, আজ সেই মায়েরই জীবনের শেষ দিনগুলো কাটানোর জন্য নিরাপদ একটি জায়গার প্রয়োজন হচ্ছে! যে সন্তানদের হাত ধরে তিনি পথ চলতে শিখিয়েছেন, বয়সের ভারে নুয়ে পড়ার পর সেই সন্তানদের কাছেই যদি তাঁর ঠাঁই না হয়, তাহলে একজন মায়ের হৃদয়ে কতটা কষ্ট জমে থাকতে পারে!

সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ থাকতেই পারে। মানুষের মধ্যে মতের অমিলও হতে পারে। কিন্তু কোনো বিরোধের কারণে অসুস্থ, বয়স্ক মা-বাবাকে অবহেলা করা কিংবা তাঁদের আশ্রয়হীন করে দেওয়া কখনোই মানবিকতার পরিচয় হতে পারে না।

আমরা প্রায়ই বলি, মা-বাবা আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ। কিন্তু সেই কথার প্রকৃত মূল্য তখনই বোঝা যায়, যখন তাঁদের শরীর দুর্বল হয়ে আসে, চলার শক্তি কমে যায়, আর অন্যের সহযোগিতা ছাড়া জীবন চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। তখন তাঁদের প্রয়োজন শুধু খাবার কিংবা মাথা গোঁজার ঠাঁই নয়, প্রয়োজন একটু ভালোবাসা, সম্মান আর আপনজনের সঙ্গ।

মনে রাখতে হবে, মা-বাবার আশ্রয় কোনো দয়া নয়, এটি তাঁদের প্রাপ্য সম্মান ও সন্তানের দায়িত্ব। আজ যাঁরা বৃদ্ধ মা-বাবাকে অবহেলা করছেন, তাঁরাও একদিন বার্ধক্যে পৌঁছাবেন। সময়ের চাকা কারও জন্য থেমে থাকে না।

জয়নব ভানুর ঘটনা শুধু একটি পরিবারের ঘটনা নয়, এটি আমাদের সমাজের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।

আমাদের প্রত্যেকের উচিত মা-বাবার জীবনের শেষ অধ্যায়টুকু যেন অবহেলা, অপমান আর অনিশ্চয়তায় না কাটে, তা নিশ্চিত করা। কোনো মাকে যেন জীবনের শেষ বয়সে এসে নিজের সন্তানদের ঘরে আশ্রয়ের জন্য অপেক্ষা করতে না হয়।

আপনার মতে, বৃদ্ধ মা-বাবার দায়িত্ব নেওয়া কি সন্তানের কর্তব্য নয়? আপনার মূল্যবান মতামত কমেন্টে জানাবেন।



ডি এস কে টিভি চ্যানেল

চেয়ারম্যান ও সম্পাদকঃ সামসুল আলম
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আসআদ

কপিরাইট © ২০২৫ ডি এস কে টিভি চ্যানেল