ডি এস কে টিভি চ্যানেল

প্যারাডক্স যখন অর্থডক্স

প্যারাডক্স যখন অর্থডক্স

প্যারাডক্স যখন অর্থডক্স


লেখক প্রিন্সিপাল মোঃ বিল্লাল হোসেন 


এখানে সবকিছুই ঠিকঠাক—

শুধু ‘ঠিক’ কথাটার মানে

কখন যে বদলে গেছে,

কেউ খেয়াল রাখেনি।


ভুলের গায়ে সিল পড়ে—

‘অনুমোদিত।’

তারপর সেই ভুলই

নথির পাতায়

সঠিক হয়ে যায়।


ঘুষ এখন ঘুষ নয়,

ভদ্র নাম—‘উপহার’;

তদবির আর তদবির নয়,

সভ্য নাম—‘সুপারিশ’।


মেধা অপেক্ষায় থাকে,

সনদ পড়ে থাকে পাশে;

চেনাজানা মানুষটি

ফল প্রকাশের আগেই

ফল জেনে যায়।


দুর্নীতির বিরুদ্ধে সভা বসে,

ব্যানার ওঠে, বক্তৃতা হয়;

দুর্নীতি যে নিন্দনীয়—

এ কথায় সবাই একমত।


তারপর চা আসে,

বিস্কুট আসে,

সভা শেষ হয়—

দুর্নীতিও থেকে যায়

আগের মতোই।


প্রশ্ন করলে

কপালে ভাঁজ পড়ে;

চুপ থাকলে

প্রশংসার ফুল ঝরে।


এখানে উত্তর জানার চেয়ে

কোন প্রশ্ন করা যাবে না—

সেটা জানা

বেশি জরুরি।


কেউ অন্যায় দেখলে

প্রথমে অবাক হয়,

তারপর বিরক্ত,

তারপর অভ্যস্ত।


শেষে একদিন

হেসে বলে—

‘এ তো এমনই হয়!’


এই একটি বাক্যেই

কত ইতিহাসের

শেষকৃত্য হয়ে যায়।


যে লজ্জা একদিন

মুখ লুকিয়ে রাখত,

আজ সেই লজ্জাই

সাহসের বক্তৃতা দেয়।


যে অন্যায়ে

একদিন প্রতিবাদ উঠত,

আজ সেখানে

পরামর্শ সভা বসে—

কীভাবে বিষয়টি

‘সামলানো যায়’।


তারপর বিবেকও

একদিন ক্লান্ত হয়;

নিজের সঙ্গেই

সমঝোতা করে।


ভুলকে আর ভুল মনে হয় না,

অন্যায় আর চমকে দেয় না,

মিথ্যাও মিথ্যা শোনায় না—

দীর্ঘদিনের অভ্যাস

শব্দের অর্থ বদলে দেয়।


এইখানেই প্যারাডক্সের জয়—

যা ছিল ব্যতিক্রম,

তা হয়ে যায় নিয়ম;

যা ছিল লজ্জার,

তা হয়ে যায় প্রথা;

আর যা সত্য,

তা হয়ে যায়

অস্বস্তিকর।


তখন প্যারাডক্স

আর প্যারাডক্স থাকে না;

অর্থডক্স হয়ে যায়।


প্যারাডক্স যখন অর্থডক্স—

উল্টো পথই মানচিত্রে সোজা।

ভুলকে আর ভুল বলা যায় না—

কারণ ভুলই হয়ে গেছে

আমাদের সঠিকের সংজ্ঞা।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডি এস কে টিভি চ্যানেল

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬


প্যারাডক্স যখন অর্থডক্স

প্রকাশের তারিখ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

প্যারাডক্স যখন অর্থডক্স


লেখক প্রিন্সিপাল মোঃ বিল্লাল হোসেন 


এখানে সবকিছুই ঠিকঠাক—

শুধু ‘ঠিক’ কথাটার মানে

কখন যে বদলে গেছে,

কেউ খেয়াল রাখেনি।


ভুলের গায়ে সিল পড়ে—

‘অনুমোদিত।’

তারপর সেই ভুলই

নথির পাতায়

সঠিক হয়ে যায়।


ঘুষ এখন ঘুষ নয়,

ভদ্র নাম—‘উপহার’;

তদবির আর তদবির নয়,

সভ্য নাম—‘সুপারিশ’।


মেধা অপেক্ষায় থাকে,

সনদ পড়ে থাকে পাশে;

চেনাজানা মানুষটি

ফল প্রকাশের আগেই

ফল জেনে যায়।


দুর্নীতির বিরুদ্ধে সভা বসে,

ব্যানার ওঠে, বক্তৃতা হয়;

দুর্নীতি যে নিন্দনীয়—

এ কথায় সবাই একমত।


তারপর চা আসে,

বিস্কুট আসে,

সভা শেষ হয়—

দুর্নীতিও থেকে যায়

আগের মতোই।


প্রশ্ন করলে

কপালে ভাঁজ পড়ে;

চুপ থাকলে

প্রশংসার ফুল ঝরে।


এখানে উত্তর জানার চেয়ে

কোন প্রশ্ন করা যাবে না—

সেটা জানা

বেশি জরুরি।


কেউ অন্যায় দেখলে

প্রথমে অবাক হয়,

তারপর বিরক্ত,

তারপর অভ্যস্ত।


শেষে একদিন

হেসে বলে—

‘এ তো এমনই হয়!’


এই একটি বাক্যেই

কত ইতিহাসের

শেষকৃত্য হয়ে যায়।


যে লজ্জা একদিন

মুখ লুকিয়ে রাখত,

আজ সেই লজ্জাই

সাহসের বক্তৃতা দেয়।


যে অন্যায়ে

একদিন প্রতিবাদ উঠত,

আজ সেখানে

পরামর্শ সভা বসে—

কীভাবে বিষয়টি

‘সামলানো যায়’।


তারপর বিবেকও

একদিন ক্লান্ত হয়;

নিজের সঙ্গেই

সমঝোতা করে।


ভুলকে আর ভুল মনে হয় না,

অন্যায় আর চমকে দেয় না,

মিথ্যাও মিথ্যা শোনায় না—

দীর্ঘদিনের অভ্যাস

শব্দের অর্থ বদলে দেয়।


এইখানেই প্যারাডক্সের জয়—

যা ছিল ব্যতিক্রম,

তা হয়ে যায় নিয়ম;

যা ছিল লজ্জার,

তা হয়ে যায় প্রথা;

আর যা সত্য,

তা হয়ে যায়

অস্বস্তিকর।


তখন প্যারাডক্স

আর প্যারাডক্স থাকে না;

অর্থডক্স হয়ে যায়।


প্যারাডক্স যখন অর্থডক্স—

উল্টো পথই মানচিত্রে সোজা।

ভুলকে আর ভুল বলা যায় না—

কারণ ভুলই হয়ে গেছে

আমাদের সঠিকের সংজ্ঞা।


ডি এস কে টিভি চ্যানেল

চেয়ারম্যান ও সম্পাদকঃ সামসুল আলম
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আসআদ

কপিরাইট © ২০২৫ ডি এস কে টিভি চ্যানেল