ডি এস কে টিভি চ্যানেল
আপডেট : শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দীর্ঘশ্বাসের প্রতিশোধ - প্রিন্সিপাল মোঃ বিল্লাল হোসেন

দীর্ঘশ্বাসের প্রতিশোধ - প্রিন্সিপাল মোঃ বিল্লাল হোসেন

ভোরের প্রথম আলো যখন শহরের দিগন্ত ছুঁয়ে ধীরে ধীরে জাগিয়ে তোলে, তখনই শুরু হয় অধ্যক্ষ মোঃ বিল্লাল হোসেনের দিন। এক কাপ ধোঁয়া ওঠা চা, পাশে কয়েকটি প্রিয় বই, পুরোনো ডায়েরি আর একটি ঝরনা কলম—এই সামান্য আয়োজনেই তিনি খুঁজে নেন নিজের একান্ত পৃথিবী। কর্মব্যস্ত জীবনের কোলাহল থেকে দূরে দিনের অন্তত কিছুটা সময় তিনি নিজেকে সমর্পণ করেন সাহিত্য ও সৃজনশীল চিন্তার কাছে।

শিক্ষকতা তাঁর কাছে শুধু জীবিকা নয়; মানুষ গড়ার একটি নৈতিক দায়িত্ব। দীর্ঘ শিক্ষকতা ও শিক্ষাপ্রশাসনের জীবনে তিনি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক, বিভাগীয় প্রধান, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। শ্রেণিকক্ষে পাঠদান থেকে শুরু করে একটি প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক পরিচালনা—শিক্ষাক্ষেত্রের নানা স্তরে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁর চিন্তাকে করেছে বাস্তবমুখী ও জীবনঘনিষ্ঠ।


তাঁর বিশ্বাস, একটি ভালো শিক্ষা মানুষের মেধাকে বিকশিত করে, কিন্তু মূল্যবোধ তাকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। তাই শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানের পাশাপাশি নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, মানবিকতা, দায়িত্ববোধ ও দেশপ্রেমের শিক্ষা দেওয়াকে তিনি সবসময় গুরুত্ব দিয়েছেন।


এই দীর্ঘ কর্মজীবনের পাশাপাশি তাঁর আরেকটি নীরব পরিচয়—তিনি একজন কবি ও সাহিত্যপ্রেমী। পেশাগত দায়িত্ব যতই থাকুক, কবিতার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কখনো ছিন্ন হয়নি। বরং জীবনের অভিজ্ঞতা যত গভীর হয়েছে, তাঁর কবিতার বিষয়ও তত বিস্তৃত হয়েছে।

প্রকৃতি, মানুষ ও সমাজ—এই তিনের কাছ থেকেই তিনি তাঁর লেখার প্রধান উপাদান সংগ্রহ করেন। গ্রামের মেঠোপথ, নদীর ভাঙন ও গড়ন, বর্ষার জল, শরতের আকাশ, শীতের কুয়াশা কিংবা মাটির মানুষের নীরব জীবনসংগ্রাম—সবকিছুই তাঁর অনুভূতির জগতে এসে কবিতার ভাষা পায়।


তবে তাঁর কবিতা শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যে থেমে থাকে না। সময়ের অসঙ্গতি, অন্যায়, বৈষম্য, বঞ্চনা, ক্ষমতার অপব্যবহার, মানুষের প্রতি মানুষের অবহেলা এবং বিবেকের সংকটও তাঁর লেখায় জায়গা করে নেয়। তিনি বিশ্বাস করেন, সাহিত্য কেবল বিনোদনের বিষয় নয়; সাহিত্য মানুষের বিবেককে প্রশ্ন করতে পারে, অন্ধকারের দিকে আলো ফেলতে পারে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে নীরব প্রতিবাদের ভাষা হয়ে উঠতে পারে।


তাঁর লেখার টেবিলটি খুব সাধারণ। কিন্তু সেই টেবিলেই প্রতিদিন জন্ম নেয় নানা ভাবনা। কখনো একটি শব্দ তাঁকে দীর্ঘক্ষণ ভাবায়, কখনো কোনো দৃশ্য মনের মধ্যে একটি পংক্তির জন্ম দেয়। কোনো সাধারণ মানুষের জীবনের অসাধারণ সংগ্রামও তাঁর কাছে হয়ে ওঠে কবিতার বিষয়। একটি নদীর ভাঙন তাঁর কাছে শুধু ভৌগোলিক পরিবর্তন নয়—তার মধ্যে তিনি দেখতে পান মানুষের হারিয়ে যাওয়া ঘর, স্মৃতি ও স্বপ্নের গল্প।

সাহিত্য তাঁর কাছে আত্মপ্রকাশের পাশাপাশি আত্মশুদ্ধিরও একটি পথ। দিনের ব্যস্ততা, মানুষের সঙ্গে নানা অভিজ্ঞতা এবং জীবনের পাওয়া-না-পাওয়াগুলো তিনি কখনো ডায়েরির পাতায়, কখনো কবিতার পঙ্‌ক্তিতে ধরে রাখেন। তাই তাঁর লেখায় ব্যক্তিগত অনুভূতির সঙ্গে মিশে যায় বৃহত্তর সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বোধ।


তাঁর জীবনদর্শনের কেন্দ্রে রয়েছে একটি সহজ বিশ্বাস—মানুষের পদমর্যাদা নয়, তার কর্মই তাকে মূল্যবান করে তোলে। একজন মানুষ কত বড় পদে ছিলেন, তার চেয়ে তিনি কতটা মানুষের উপকার করেছেন, কতটা ভালো চিন্তার জন্ম দিয়েছেন এবং সমাজের জন্য কতটুকু ইতিবাচক অবদান রেখেছেন—সেটিই তাঁর কাছে বড় হয়ে ওঠে।


এই কারণেই শিক্ষা ও সাহিত্য তাঁর জীবনে দুটি আলাদা পথ নয়। একটি পথ মানুষকে জ্ঞান দেয়, অন্যটি মানুষকে অনুভব করতে শেখায়। একটি মেধাকে জাগায়, অন্যটি বিবেককে। আর এই দুই পথের সমন্বয়েই তিনি নিজের জীবনকে এগিয়ে নিতে চান।


অধ্যক্ষ মোঃ বিল্লাল হোসেন এখনো পথের যাত্রী। তাঁর সামনে রয়েছে শিক্ষা নিয়ে আরও কিছু করার স্বপ্ন, সমাজকে নিয়ে কিছু ইতিবাচক উদ্যোগের আকাঙ্ক্ষা এবং কলমের মাধ্যমে মানুষের কথা বলার প্রত্যয়। তিনি মনে করেন, জীবন যতদিন আছে, শেখারও ততদিন শেষ নেই; আর মানুষের জন্য ভালো কিছু করার ইচ্ছারও কোনো অবসর নেই।


তাঁর কলম তাই থেমে থাকুক না। সেখানে উঠে আসুক মাটির মানুষের কথা, নদীর কথা, প্রকৃতির কথা, সময়ের কথা এবং মানুষের বিবেকের কথা। শিক্ষা ও সাহিত্যের এই দ্বৈত সাধনায় তাঁর পথচলা আরও সমৃদ্ধ হোক—এই প্রত্যাশাই তাঁর সুহৃদ, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীদের।

শিক্ষার আলোয় মানুষ গড়া এবং সাহিত্যের আলোয় বিবেক জাগানো—এই দুই স্বপ্ন নিয়েই অধ্যক্ষ মোঃ বিল্লাল হোসেনের নিরন্তর পথচলা।


দীর্ঘশ্বাসের প্রতিশোধ


লেখক প্রিন্সিপাল মোঃ বিল্লাল হোসেন


ভাবছ তুমি—জিতেছ আজ,

ধন-দৌলতে ভরেছ সমাজ;

ভুলে যেও না—সময়ের রাজ

হিসাব রাখে প্রতিটি কাজ।


মানুষ ঠকিয়ে যতই ওঠো,

মিথ্যার সিঁড়ি যতই ছোটো;

সোনার মুকুট মাথায় পরো—

ভেতরটা কি আলোয় ভরো?


অন্যের চোখের জলের ধারা

কখনো হয় না ভাগ্যতারা;

বঞ্চিতের সেই দীর্ঘশ্বাস

নীরব থেকেও রাখে আভাস।


আজকে তুমি প্রাসাদ গড়ো,

অন্যের অধিকার পায়ে মাড়াও;

ইটের পরে ইট বসিয়ে

শিখর ছোঁও আকাশ ছুঁয়ে।


কিন্তু মাটি ভুলে না ঋণ,

সময় ভুলে না কোনো দিন;

অশ্রু দিয়ে লেখা যে খাতা,

একদিন খুলবেই তার পাতা।


যে হাত আজ অধিকার কেড়ে

বিজয়মালা পরে ফেরে,

কাল সে হাতই শূন্য হয়ে

নিজের দুয়ারে দাঁড়ায় এসে।


বঞ্চিত মানুষ চুপটি থাকে,

কথা জমায় চোখের ফাঁকে;

তার নীরবতার গভীর ক্ষত

একদিন হয়ে ওঠে ঝড়।


যে শিখর অন্যায়ে গড়া,

তার ভিতরে থাকে ক্ষয়;

বাইরে যত সোনার প্রলেপ—

ভেতরজুড়ে পতনের ভয়।


তাই বলি—উঁচু হতে চাও,

মানুষের পাশে মানুষ হও;

অন্যের মুখে হাসি ফোটাও,

সত্যের পথে অটল রও।


মানুষ ঠকিয়ে শিখর ছোঁয়া

শিখর নয়—পতনের ছোঁয়া;

অন্যায় যত শক্তই হোক,

সময়ের কাছে টেকে না লোক।


যে উন্নতি মানবতার নয়,

সে উন্নতি কোনো উন্নতি নয়;

বঞ্চিতের চোখে অশ্রু রেখে

কেউ কোনোদিন মহৎ হয়?


আজ যদি সত্যিই উঠতে চাও,

অন্যের হাত শক্ত করে ধরো;

যার অধিকার কেড়ে নিয়েছ—

তার অধিকার ফিরিয়ে দাও।


নইলে কোনো নিঃশব্দ রাতে,

ঘুম ভেঙে যাবে হঠাৎ;

চারপাশ জুড়ে কেউ থাকবে না—

শুধু শুনবে অতীতের ডাক।


যাদের কাঁদিয়েছ পথের ধারে,

যাদের স্বপ্ন গেছ থামিয়ে,

তাদের বুকের জমা দীর্ঘশ্বাস

ফিরবে তোমার দুয়ারে।


বঞ্চিতের কান্না হারায় না,

অন্যায়ের রাজ্য টেকে না;

সময় যখন আয়না ধরে—

মুখ লুকাবার পথ থাকে না।


মানুষ ঠকিয়ে যতই ওঠো

অহংকারের শিখর চূড়ায়—

শেষে হিসাব মেলায় সময়,

নীরব দীর্ঘশ্বাসের খাতায়।


দীর্ঘশ্বাস প্রতিশোধ চায় না—

সময়ই তার বিচার করে;

আজ যে অশ্রু ঝরে নীরবে,

কাল সে-ই ইতিহাস হয়ে ঝরে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডি এস কে টিভি চ্যানেল

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


দীর্ঘশ্বাসের প্রতিশোধ - প্রিন্সিপাল মোঃ বিল্লাল হোসেন

প্রকাশের তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ভোরের প্রথম আলো যখন শহরের দিগন্ত ছুঁয়ে ধীরে ধীরে জাগিয়ে তোলে, তখনই শুরু হয় অধ্যক্ষ মোঃ বিল্লাল হোসেনের দিন। এক কাপ ধোঁয়া ওঠা চা, পাশে কয়েকটি প্রিয় বই, পুরোনো ডায়েরি আর একটি ঝরনা কলম—এই সামান্য আয়োজনেই তিনি খুঁজে নেন নিজের একান্ত পৃথিবী। কর্মব্যস্ত জীবনের কোলাহল থেকে দূরে দিনের অন্তত কিছুটা সময় তিনি নিজেকে সমর্পণ করেন সাহিত্য ও সৃজনশীল চিন্তার কাছে।

শিক্ষকতা তাঁর কাছে শুধু জীবিকা নয়; মানুষ গড়ার একটি নৈতিক দায়িত্ব। দীর্ঘ শিক্ষকতা ও শিক্ষাপ্রশাসনের জীবনে তিনি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক, বিভাগীয় প্রধান, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। শ্রেণিকক্ষে পাঠদান থেকে শুরু করে একটি প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক পরিচালনা—শিক্ষাক্ষেত্রের নানা স্তরে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁর চিন্তাকে করেছে বাস্তবমুখী ও জীবনঘনিষ্ঠ।


তাঁর বিশ্বাস, একটি ভালো শিক্ষা মানুষের মেধাকে বিকশিত করে, কিন্তু মূল্যবোধ তাকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। তাই শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানের পাশাপাশি নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, মানবিকতা, দায়িত্ববোধ ও দেশপ্রেমের শিক্ষা দেওয়াকে তিনি সবসময় গুরুত্ব দিয়েছেন।


এই দীর্ঘ কর্মজীবনের পাশাপাশি তাঁর আরেকটি নীরব পরিচয়—তিনি একজন কবি ও সাহিত্যপ্রেমী। পেশাগত দায়িত্ব যতই থাকুক, কবিতার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কখনো ছিন্ন হয়নি। বরং জীবনের অভিজ্ঞতা যত গভীর হয়েছে, তাঁর কবিতার বিষয়ও তত বিস্তৃত হয়েছে।

প্রকৃতি, মানুষ ও সমাজ—এই তিনের কাছ থেকেই তিনি তাঁর লেখার প্রধান উপাদান সংগ্রহ করেন। গ্রামের মেঠোপথ, নদীর ভাঙন ও গড়ন, বর্ষার জল, শরতের আকাশ, শীতের কুয়াশা কিংবা মাটির মানুষের নীরব জীবনসংগ্রাম—সবকিছুই তাঁর অনুভূতির জগতে এসে কবিতার ভাষা পায়।


তবে তাঁর কবিতা শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যে থেমে থাকে না। সময়ের অসঙ্গতি, অন্যায়, বৈষম্য, বঞ্চনা, ক্ষমতার অপব্যবহার, মানুষের প্রতি মানুষের অবহেলা এবং বিবেকের সংকটও তাঁর লেখায় জায়গা করে নেয়। তিনি বিশ্বাস করেন, সাহিত্য কেবল বিনোদনের বিষয় নয়; সাহিত্য মানুষের বিবেককে প্রশ্ন করতে পারে, অন্ধকারের দিকে আলো ফেলতে পারে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে নীরব প্রতিবাদের ভাষা হয়ে উঠতে পারে।


তাঁর লেখার টেবিলটি খুব সাধারণ। কিন্তু সেই টেবিলেই প্রতিদিন জন্ম নেয় নানা ভাবনা। কখনো একটি শব্দ তাঁকে দীর্ঘক্ষণ ভাবায়, কখনো কোনো দৃশ্য মনের মধ্যে একটি পংক্তির জন্ম দেয়। কোনো সাধারণ মানুষের জীবনের অসাধারণ সংগ্রামও তাঁর কাছে হয়ে ওঠে কবিতার বিষয়। একটি নদীর ভাঙন তাঁর কাছে শুধু ভৌগোলিক পরিবর্তন নয়—তার মধ্যে তিনি দেখতে পান মানুষের হারিয়ে যাওয়া ঘর, স্মৃতি ও স্বপ্নের গল্প।

সাহিত্য তাঁর কাছে আত্মপ্রকাশের পাশাপাশি আত্মশুদ্ধিরও একটি পথ। দিনের ব্যস্ততা, মানুষের সঙ্গে নানা অভিজ্ঞতা এবং জীবনের পাওয়া-না-পাওয়াগুলো তিনি কখনো ডায়েরির পাতায়, কখনো কবিতার পঙ্‌ক্তিতে ধরে রাখেন। তাই তাঁর লেখায় ব্যক্তিগত অনুভূতির সঙ্গে মিশে যায় বৃহত্তর সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বোধ।


তাঁর জীবনদর্শনের কেন্দ্রে রয়েছে একটি সহজ বিশ্বাস—মানুষের পদমর্যাদা নয়, তার কর্মই তাকে মূল্যবান করে তোলে। একজন মানুষ কত বড় পদে ছিলেন, তার চেয়ে তিনি কতটা মানুষের উপকার করেছেন, কতটা ভালো চিন্তার জন্ম দিয়েছেন এবং সমাজের জন্য কতটুকু ইতিবাচক অবদান রেখেছেন—সেটিই তাঁর কাছে বড় হয়ে ওঠে।


এই কারণেই শিক্ষা ও সাহিত্য তাঁর জীবনে দুটি আলাদা পথ নয়। একটি পথ মানুষকে জ্ঞান দেয়, অন্যটি মানুষকে অনুভব করতে শেখায়। একটি মেধাকে জাগায়, অন্যটি বিবেককে। আর এই দুই পথের সমন্বয়েই তিনি নিজের জীবনকে এগিয়ে নিতে চান।


অধ্যক্ষ মোঃ বিল্লাল হোসেন এখনো পথের যাত্রী। তাঁর সামনে রয়েছে শিক্ষা নিয়ে আরও কিছু করার স্বপ্ন, সমাজকে নিয়ে কিছু ইতিবাচক উদ্যোগের আকাঙ্ক্ষা এবং কলমের মাধ্যমে মানুষের কথা বলার প্রত্যয়। তিনি মনে করেন, জীবন যতদিন আছে, শেখারও ততদিন শেষ নেই; আর মানুষের জন্য ভালো কিছু করার ইচ্ছারও কোনো অবসর নেই।


তাঁর কলম তাই থেমে থাকুক না। সেখানে উঠে আসুক মাটির মানুষের কথা, নদীর কথা, প্রকৃতির কথা, সময়ের কথা এবং মানুষের বিবেকের কথা। শিক্ষা ও সাহিত্যের এই দ্বৈত সাধনায় তাঁর পথচলা আরও সমৃদ্ধ হোক—এই প্রত্যাশাই তাঁর সুহৃদ, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীদের।

শিক্ষার আলোয় মানুষ গড়া এবং সাহিত্যের আলোয় বিবেক জাগানো—এই দুই স্বপ্ন নিয়েই অধ্যক্ষ মোঃ বিল্লাল হোসেনের নিরন্তর পথচলা।


দীর্ঘশ্বাসের প্রতিশোধ


লেখক প্রিন্সিপাল মোঃ বিল্লাল হোসেন


ভাবছ তুমি—জিতেছ আজ,

ধন-দৌলতে ভরেছ সমাজ;

ভুলে যেও না—সময়ের রাজ

হিসাব রাখে প্রতিটি কাজ।


মানুষ ঠকিয়ে যতই ওঠো,

মিথ্যার সিঁড়ি যতই ছোটো;

সোনার মুকুট মাথায় পরো—

ভেতরটা কি আলোয় ভরো?


অন্যের চোখের জলের ধারা

কখনো হয় না ভাগ্যতারা;

বঞ্চিতের সেই দীর্ঘশ্বাস

নীরব থেকেও রাখে আভাস।


আজকে তুমি প্রাসাদ গড়ো,

অন্যের অধিকার পায়ে মাড়াও;

ইটের পরে ইট বসিয়ে

শিখর ছোঁও আকাশ ছুঁয়ে।


কিন্তু মাটি ভুলে না ঋণ,

সময় ভুলে না কোনো দিন;

অশ্রু দিয়ে লেখা যে খাতা,

একদিন খুলবেই তার পাতা।


যে হাত আজ অধিকার কেড়ে

বিজয়মালা পরে ফেরে,

কাল সে হাতই শূন্য হয়ে

নিজের দুয়ারে দাঁড়ায় এসে।


বঞ্চিত মানুষ চুপটি থাকে,

কথা জমায় চোখের ফাঁকে;

তার নীরবতার গভীর ক্ষত

একদিন হয়ে ওঠে ঝড়।


যে শিখর অন্যায়ে গড়া,

তার ভিতরে থাকে ক্ষয়;

বাইরে যত সোনার প্রলেপ—

ভেতরজুড়ে পতনের ভয়।


তাই বলি—উঁচু হতে চাও,

মানুষের পাশে মানুষ হও;

অন্যের মুখে হাসি ফোটাও,

সত্যের পথে অটল রও।


মানুষ ঠকিয়ে শিখর ছোঁয়া

শিখর নয়—পতনের ছোঁয়া;

অন্যায় যত শক্তই হোক,

সময়ের কাছে টেকে না লোক।


যে উন্নতি মানবতার নয়,

সে উন্নতি কোনো উন্নতি নয়;

বঞ্চিতের চোখে অশ্রু রেখে

কেউ কোনোদিন মহৎ হয়?


আজ যদি সত্যিই উঠতে চাও,

অন্যের হাত শক্ত করে ধরো;

যার অধিকার কেড়ে নিয়েছ—

তার অধিকার ফিরিয়ে দাও।


নইলে কোনো নিঃশব্দ রাতে,

ঘুম ভেঙে যাবে হঠাৎ;

চারপাশ জুড়ে কেউ থাকবে না—

শুধু শুনবে অতীতের ডাক।


যাদের কাঁদিয়েছ পথের ধারে,

যাদের স্বপ্ন গেছ থামিয়ে,

তাদের বুকের জমা দীর্ঘশ্বাস

ফিরবে তোমার দুয়ারে।


বঞ্চিতের কান্না হারায় না,

অন্যায়ের রাজ্য টেকে না;

সময় যখন আয়না ধরে—

মুখ লুকাবার পথ থাকে না।


মানুষ ঠকিয়ে যতই ওঠো

অহংকারের শিখর চূড়ায়—

শেষে হিসাব মেলায় সময়,

নীরব দীর্ঘশ্বাসের খাতায়।


দীর্ঘশ্বাস প্রতিশোধ চায় না—

সময়ই তার বিচার করে;

আজ যে অশ্রু ঝরে নীরবে,

কাল সে-ই ইতিহাস হয়ে ঝরে।


ডি এস কে টিভি চ্যানেল

চেয়ারম্যান ও সম্পাদকঃ সামসুল আলম
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আসআদ

কপিরাইট © ২০২৫ ডি এস কে টিভি চ্যানেল