গ্যাস ও কাঁচামাল সংকটে ৭ সার কারখানার ৬টিই বন্ধ, আমন মৌসুমে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ
দেশে তীব্র গ্যাস ও কাঁচামাল সংকটে রাষ্ট্রায়ত্ত সাতটি সার কারখানার ছয়টিই বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামের তিনটি কারখানাও রয়েছে। বর্তমানে শুধু ঘোড়াশাল-পলাশ সার কারখানায় উৎপাদন চলছে। ফলে সামনে আমন মৌসুমে সারের সরবরাহ নিয়ে কৃষক ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) অধীনে থাকা বন্ধ কারখানাগুলো হলো—চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল), যমুনা ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (জেএফসিএল), আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার অ্যান্ড কেমিক্যাল কোম্পানি (এএফসিএল), ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি), ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) এবং শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি (এসএফসিএল)।
বিসিআইসি জানিয়েছে, ছয়টি কারখানা বন্ধ থাকলেও এর মধ্যে শাহজালাল সার কারখানা এক-দুই দিনের মধ্যে উৎপাদনে ফিরতে পারে। সিইউএফএল ও জেএফসিএল গ্যাস সংকটের কারণে গত ফেব্রুয়ারি থেকে উৎপাদন বন্ধ রেখেছে। সিইউএফএলে দৈনিক ১১০০ থেকে ১২০০ টন এবং জেএফসিএলে ১২০০ থেকে ১৩০০ টন ইউরিয়া উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে।
অন্যদিকে, কাঁচামালের সংকটে গত বছরের নভেম্বর থেকে টিএসপি কারখানার উৎপাদন বন্ধ। আশুগঞ্জ সার কারখানাও গ্যাসের অভাবে গত বছরের ১ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে। কারখানাটি বন্ধ থাকায় মাসে প্রায় ১৩৫ কোটি টাকা ক্ষতি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানির উৎপাদন গত ২৮ জুন থেকে ফসফরিক অ্যাসিডের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বন্ধ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি চালাতে গ্যাসের প্রয়োজন না হলেও কাঁচামালের অভাবে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে ওই অঞ্চল থেকে সার আমদানি নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে বিসিআইসি বলছে, কাতার ও সৌদি আরব থেকে বিকল্প পথে সার আমদানি করা হচ্ছে। পাশাপাশি রাশিয়া ও ব্রুনেই থেকেও সার আমদানির বিষয়ে আলোচনা চলছে।
বিসিআইসির সাতটি কারখানার সম্মিলিত দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৭ হাজার ১০০ টন। বর্তমানে একমাত্র ঘোড়াশাল-পলাশ সার কারখানায় দৈনিক ২ হাজার ৮০০ টনের বেশি সার উৎপাদন হচ্ছে।
কৃষি মন্ত্রণালয় অবশ্য দেশে সারের সংকট নেই বলে দাবি করেছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশে পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং চলতি আগস্ট মাসেই আমদানি করা সার দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তবে চাহিদার তুলনায় মজুতের অবস্থান এবং কয়েকটি কারখানা দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় আমন মৌসুমে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ আগস্ট ২০২৬
গ্যাস ও কাঁচামাল সংকটে ৭ সার কারখানার ৬টিই বন্ধ, আমন মৌসুমে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ
দেশে তীব্র গ্যাস ও কাঁচামাল সংকটে রাষ্ট্রায়ত্ত সাতটি সার কারখানার ছয়টিই বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামের তিনটি কারখানাও রয়েছে। বর্তমানে শুধু ঘোড়াশাল-পলাশ সার কারখানায় উৎপাদন চলছে। ফলে সামনে আমন মৌসুমে সারের সরবরাহ নিয়ে কৃষক ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) অধীনে থাকা বন্ধ কারখানাগুলো হলো—চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল), যমুনা ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (জেএফসিএল), আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার অ্যান্ড কেমিক্যাল কোম্পানি (এএফসিএল), ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি), ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) এবং শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি (এসএফসিএল)।
বিসিআইসি জানিয়েছে, ছয়টি কারখানা বন্ধ থাকলেও এর মধ্যে শাহজালাল সার কারখানা এক-দুই দিনের মধ্যে উৎপাদনে ফিরতে পারে। সিইউএফএল ও জেএফসিএল গ্যাস সংকটের কারণে গত ফেব্রুয়ারি থেকে উৎপাদন বন্ধ রেখেছে। সিইউএফএলে দৈনিক ১১০০ থেকে ১২০০ টন এবং জেএফসিএলে ১২০০ থেকে ১৩০০ টন ইউরিয়া উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে।
অন্যদিকে, কাঁচামালের সংকটে গত বছরের নভেম্বর থেকে টিএসপি কারখানার উৎপাদন বন্ধ। আশুগঞ্জ সার কারখানাও গ্যাসের অভাবে গত বছরের ১ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে। কারখানাটি বন্ধ থাকায় মাসে প্রায় ১৩৫ কোটি টাকা ক্ষতি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানির উৎপাদন গত ২৮ জুন থেকে ফসফরিক অ্যাসিডের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বন্ধ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি চালাতে গ্যাসের প্রয়োজন না হলেও কাঁচামালের অভাবে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে ওই অঞ্চল থেকে সার আমদানি নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে বিসিআইসি বলছে, কাতার ও সৌদি আরব থেকে বিকল্প পথে সার আমদানি করা হচ্ছে। পাশাপাশি রাশিয়া ও ব্রুনেই থেকেও সার আমদানির বিষয়ে আলোচনা চলছে।
বিসিআইসির সাতটি কারখানার সম্মিলিত দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৭ হাজার ১০০ টন। বর্তমানে একমাত্র ঘোড়াশাল-পলাশ সার কারখানায় দৈনিক ২ হাজার ৮০০ টনের বেশি সার উৎপাদন হচ্ছে।
কৃষি মন্ত্রণালয় অবশ্য দেশে সারের সংকট নেই বলে দাবি করেছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশে পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং চলতি আগস্ট মাসেই আমদানি করা সার দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তবে চাহিদার তুলনায় মজুতের অবস্থান এবং কয়েকটি কারখানা দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় আমন মৌসুমে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন