অভাবের সংসারে বড় স্বপ্ন, বাবার জন্য হজের টাকা জমানোর আশা।
গরিব শিশুর সবচেয়ে বড় স্বপ্ন—‘একদিন আব্বুকে হজে পাঠাব’
দারিদ্র্য তার স্বপ্নকে থামাতে পারেনি। কঠোর পরিশ্রম আর সীমাহীন কষ্টের মাঝেও ছোট্ট সুজন বুকে লালন করে এক অসাধারণ স্বপ্ন—একদিন সামর্থ্য হলে সবার আগে নিজের বাবাকে হজে পাঠাবে।
সুজন জানায়, তার বাবা-মা প্রায়ই বলেন, হজ করতে অনেক টাকা লাগে, তাই তাদের পক্ষে তা সম্ভব নয়। কিন্তু সে বিশ্বাস করে, আল্লাহ একদিন সামর্থ্য দিলে বাবার হজের ব্যবস্থাই হবে তার জীবনের প্রথম বড় কাজ।
শুধু এটুকুই নয়, সুজনের আরেকটি ছোট্ট ইচ্ছা হলো স্কুটি বা ছোট একটি গাড়ি চালানো শেখা। কিন্তু দারিদ্র্যের কারণে সেই স্বপ্নও এখন অধরাই রয়ে গেছে। তার ভাষায়, “একটা স্কুটির দামই ৮–১০ হাজার টাকা। আমরা গরিব মানুষ, তাই ইচ্ছা থাকলেও সবকিছু করা সম্ভব হয় না। তবু আশা ছাড়ি না। আল্লাহ চাইলে একদিন আমরাও ভালো থাকব।”
ধনী-গরিবের পার্থক্য নিয়েও শিশুসুলভ সরলতায় নিজের উপলব্ধি তুলে ধরে সুজন। সে বলে, “অনেক ধনী মানুষ আছেন, যারা কাউকে সাহায্য করেন না। আবার অনেকেই আছেন, যারা অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান। মানুষের উচিত কৃপণ না হয়ে গরিবদের সহযোগিতা করা।”
নিজের কঠিন বাস্তবতার কথাও জানায় সে। প্রতিদিন সকাল ৭–৮টার দিকে কাজের জন্য বের হয়ে রাত ১০টার দিকে বাসায় ফেরে। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে কাজ করতে হয়। বৃষ্টির দিনে কাজ না থাকলে ঠিকমতো খাবারও জোটে না। একসময় পুরোনো রিকশার টায়ার দিয়ে খেললেও এখন খেলাধুলার সুযোগ নেই। ছোট্ট একটি খেলনার ইচ্ছাও তার কাছে বড় স্বপ্নের মতো।
জীবনের কঠিন বাস্তবতা বুঝে ফেলা সুজনের শেষ কথাগুলো যেন সবার জন্য এক গভীর বার্তা—“টাকা দিয়ে সবকিছু হয় না। মানুষ কোটি কোটি টাকা আয় করলেও মৃত্যুর সময় কিছুই সঙ্গে নিয়ে যেতে পারে না। তাই অর্থ নিয়ে অহংকার না করে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো উচিত।”
বাবার প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা, ধর্মীয় অনুভূতি এবং নিষ্পাপ স্বপ্নে ভরা এই শিশুর গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাজারো মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। অনেকেই দোয়া করছেন, আল্লাহ যেন ছোট্ট সুজনের এই নেক ইচ্ছাটি একদিন পূরণ করে দেন। ????

শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুলাই ২০২৬
অভাবের সংসারে বড় স্বপ্ন, বাবার জন্য হজের টাকা জমানোর আশা।
গরিব শিশুর সবচেয়ে বড় স্বপ্ন—‘একদিন আব্বুকে হজে পাঠাব’
দারিদ্র্য তার স্বপ্নকে থামাতে পারেনি। কঠোর পরিশ্রম আর সীমাহীন কষ্টের মাঝেও ছোট্ট সুজন বুকে লালন করে এক অসাধারণ স্বপ্ন—একদিন সামর্থ্য হলে সবার আগে নিজের বাবাকে হজে পাঠাবে।
সুজন জানায়, তার বাবা-মা প্রায়ই বলেন, হজ করতে অনেক টাকা লাগে, তাই তাদের পক্ষে তা সম্ভব নয়। কিন্তু সে বিশ্বাস করে, আল্লাহ একদিন সামর্থ্য দিলে বাবার হজের ব্যবস্থাই হবে তার জীবনের প্রথম বড় কাজ।
শুধু এটুকুই নয়, সুজনের আরেকটি ছোট্ট ইচ্ছা হলো স্কুটি বা ছোট একটি গাড়ি চালানো শেখা। কিন্তু দারিদ্র্যের কারণে সেই স্বপ্নও এখন অধরাই রয়ে গেছে। তার ভাষায়, “একটা স্কুটির দামই ৮–১০ হাজার টাকা। আমরা গরিব মানুষ, তাই ইচ্ছা থাকলেও সবকিছু করা সম্ভব হয় না। তবু আশা ছাড়ি না। আল্লাহ চাইলে একদিন আমরাও ভালো থাকব।”
ধনী-গরিবের পার্থক্য নিয়েও শিশুসুলভ সরলতায় নিজের উপলব্ধি তুলে ধরে সুজন। সে বলে, “অনেক ধনী মানুষ আছেন, যারা কাউকে সাহায্য করেন না। আবার অনেকেই আছেন, যারা অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান। মানুষের উচিত কৃপণ না হয়ে গরিবদের সহযোগিতা করা।”
নিজের কঠিন বাস্তবতার কথাও জানায় সে। প্রতিদিন সকাল ৭–৮টার দিকে কাজের জন্য বের হয়ে রাত ১০টার দিকে বাসায় ফেরে। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে কাজ করতে হয়। বৃষ্টির দিনে কাজ না থাকলে ঠিকমতো খাবারও জোটে না। একসময় পুরোনো রিকশার টায়ার দিয়ে খেললেও এখন খেলাধুলার সুযোগ নেই। ছোট্ট একটি খেলনার ইচ্ছাও তার কাছে বড় স্বপ্নের মতো।
জীবনের কঠিন বাস্তবতা বুঝে ফেলা সুজনের শেষ কথাগুলো যেন সবার জন্য এক গভীর বার্তা—“টাকা দিয়ে সবকিছু হয় না। মানুষ কোটি কোটি টাকা আয় করলেও মৃত্যুর সময় কিছুই সঙ্গে নিয়ে যেতে পারে না। তাই অর্থ নিয়ে অহংকার না করে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো উচিত।”
বাবার প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা, ধর্মীয় অনুভূতি এবং নিষ্পাপ স্বপ্নে ভরা এই শিশুর গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাজারো মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। অনেকেই দোয়া করছেন, আল্লাহ যেন ছোট্ট সুজনের এই নেক ইচ্ছাটি একদিন পূরণ করে দেন। ????

আপনার মতামত লিখুন