স্টাফ রিপোর্টার হাসান মাহমুদ জয়
৭ জুন, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ।কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার "সীমান্ত ক্লিনিক" নামক একটি বেসরকারি ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় এক নবজাতকের মাথার ডান পাশে কেটে ফেলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অসতর্কভাবে অস্ত্রোপচার, সুচিকিৎসার অভাব এবং ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলার শিকার হয়ে বর্তমানে নবজাতক ও মা আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন। এ ঘটনায় আজ রবিবার (৭ জুন) ভুক্তভোগী পরিবার ভূরুঙ্গামারী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
সরেজমিনে ও ভুক্তভোগী পরিবারের লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কুড়িগ্রাম জেলার কচাকাটা থানাধীন সদর ইউনিয়নের খামারটারী (০২নং ওয়ার্ড) এলাকার বাসিন্দা মোঃ আলম মিয়ার অন্তসত্ত্বা স্ত্রী মোছাঃ লাইলী বেগম (২৬) প্রসববেদনা নিয়ে গত শুক্রবার (০৫ জুন, ২০২৬) বিকেল আনুমানিক ৩:০০ ঘটিকায় ভূরুঙ্গামারী বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন "সীমান্ত ক্লিনিকে" ভর্তি হন। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ বলছে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জরুরি সিজারিয়ান অপারেশনের পরামর্শ দেওয়া হয় কিন্তু রোগী বলছে আল্ট্রাসনোগ্রাম করা হয়নি। রোগীর স্বামী ৯,৫০০/- (নয় হাজার পাঁচশত) টাকায় চুক্তিবদ্ধ হয়ে নির্দিষ্ট একজন অভিজ্ঞ ডাক্তারের মাধ্যমে সিজার করানোর অনুরোধ জানান।
অভিযোগ প্রকাশ, ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ পূর্বনির্ধারিত মহিলা চিকিৎসক শিশির ম্যাডামকে না এনে সম্পূর্ণ অনৈতিকভাবে পূরুষ চিকিৎসককে দিয়ে সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন করা হয়েছে। অস্ত্রোপচার চলাকালীন অসাবধানতাবশত নবজাতকের মাথার উপরে ডান পাশে প্রায় ১ ইঞ্চি লম্বা কাটা পড়ে এবং পরবর্তীতে তা ধামাচাপা দিতে তড়িঘড়ি করে সেখানে সেলাই দেওয়া হয়।
অপারেশনের পর নবজাতকের মাথায় ব্যান্ডেজ ও সেলাই দেখে স্বজনরা কারণ জানতে চাইলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ কোনো সদুত্তর না দিয়ে চুপ থাকে। এর কিছুক্ষণ পর নবজাতকের শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটলে বেডে কোনো নার্স বা ডাক্তারের তদারকি পাওয়া যায়নি। রোগীর অভিভাবকরা বাধ্য হয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য শিশু ও তার মাকে সরকারি হাসপাতালে রেফার করার অনুরোধ জানালে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে এবং উল্টো দ্রুত বিল পরিশোধের জন্য চাপ সৃষ্টি করে।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে আজ রবিবার নবজাতকের পিতা মোঃ আলম মিয়া ভূরুঙ্গামারী থানায় হাজির হয়ে একটি লিখিত অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগ প্রাপ্তির পর ভূরুঙ্গামারী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলী-উল-হোসেন তাৎক্ষণিকভাবে সরেজমিনে ক্লিনিক পরিদর্শন করেন। তিনি ক্লিনিকের মালিক মোঃ আব্দুল মজিদ এবং ভুক্তভোগী পরিবারের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেন। পরবর্তীতে পুলিশি হস্তক্ষেপে নবজাতক ও প্রসূতিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ক্লিনিক মালিকের জিম্মায় কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে ক্লিনিক মালিকের নিকট চিকিৎসকের নাম জানতে চাইলে ডাঃ কে. এম. রায়হান-উল-ইসলামের কথা বলেন। অভিযুক্ত চিকিৎসকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সিজারকালে নবজাতকের মাথা কাটার বিষয়টি প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেন। তবে কে ফোন করেছেন তা জানতে চেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে লাইনের সংযোগ কেটে দেন এবং পরবর্তীতে আর ফোন রিসিভ করেননি।
কিন্তু নবজাতকের পিতার দাবির সঙ্গে এই ডাক্তারের চেহারার মিল পাওয়া যচ্ছে না।
ভূরুঙ্গামারী থানার এসআই আলী-উল-হোসেন জানান, "অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা ক্লিনিক পরিদর্শন করে ভুক্তভোগী ও মালিক পক্ষের সাথে কথা বলেছি। বর্তমানে নবজাতকের সুচিকিৎসাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুন ২০২৬
স্টাফ রিপোর্টার হাসান মাহমুদ জয়
৭ জুন, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ।কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার "সীমান্ত ক্লিনিক" নামক একটি বেসরকারি ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় এক নবজাতকের মাথার ডান পাশে কেটে ফেলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অসতর্কভাবে অস্ত্রোপচার, সুচিকিৎসার অভাব এবং ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলার শিকার হয়ে বর্তমানে নবজাতক ও মা আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন। এ ঘটনায় আজ রবিবার (৭ জুন) ভুক্তভোগী পরিবার ভূরুঙ্গামারী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
সরেজমিনে ও ভুক্তভোগী পরিবারের লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কুড়িগ্রাম জেলার কচাকাটা থানাধীন সদর ইউনিয়নের খামারটারী (০২নং ওয়ার্ড) এলাকার বাসিন্দা মোঃ আলম মিয়ার অন্তসত্ত্বা স্ত্রী মোছাঃ লাইলী বেগম (২৬) প্রসববেদনা নিয়ে গত শুক্রবার (০৫ জুন, ২০২৬) বিকেল আনুমানিক ৩:০০ ঘটিকায় ভূরুঙ্গামারী বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন "সীমান্ত ক্লিনিকে" ভর্তি হন। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ বলছে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জরুরি সিজারিয়ান অপারেশনের পরামর্শ দেওয়া হয় কিন্তু রোগী বলছে আল্ট্রাসনোগ্রাম করা হয়নি। রোগীর স্বামী ৯,৫০০/- (নয় হাজার পাঁচশত) টাকায় চুক্তিবদ্ধ হয়ে নির্দিষ্ট একজন অভিজ্ঞ ডাক্তারের মাধ্যমে সিজার করানোর অনুরোধ জানান।
অভিযোগ প্রকাশ, ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ পূর্বনির্ধারিত মহিলা চিকিৎসক শিশির ম্যাডামকে না এনে সম্পূর্ণ অনৈতিকভাবে পূরুষ চিকিৎসককে দিয়ে সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন করা হয়েছে। অস্ত্রোপচার চলাকালীন অসাবধানতাবশত নবজাতকের মাথার উপরে ডান পাশে প্রায় ১ ইঞ্চি লম্বা কাটা পড়ে এবং পরবর্তীতে তা ধামাচাপা দিতে তড়িঘড়ি করে সেখানে সেলাই দেওয়া হয়।
অপারেশনের পর নবজাতকের মাথায় ব্যান্ডেজ ও সেলাই দেখে স্বজনরা কারণ জানতে চাইলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ কোনো সদুত্তর না দিয়ে চুপ থাকে। এর কিছুক্ষণ পর নবজাতকের শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটলে বেডে কোনো নার্স বা ডাক্তারের তদারকি পাওয়া যায়নি। রোগীর অভিভাবকরা বাধ্য হয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য শিশু ও তার মাকে সরকারি হাসপাতালে রেফার করার অনুরোধ জানালে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে এবং উল্টো দ্রুত বিল পরিশোধের জন্য চাপ সৃষ্টি করে।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে আজ রবিবার নবজাতকের পিতা মোঃ আলম মিয়া ভূরুঙ্গামারী থানায় হাজির হয়ে একটি লিখিত অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগ প্রাপ্তির পর ভূরুঙ্গামারী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলী-উল-হোসেন তাৎক্ষণিকভাবে সরেজমিনে ক্লিনিক পরিদর্শন করেন। তিনি ক্লিনিকের মালিক মোঃ আব্দুল মজিদ এবং ভুক্তভোগী পরিবারের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেন। পরবর্তীতে পুলিশি হস্তক্ষেপে নবজাতক ও প্রসূতিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ক্লিনিক মালিকের জিম্মায় কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে ক্লিনিক মালিকের নিকট চিকিৎসকের নাম জানতে চাইলে ডাঃ কে. এম. রায়হান-উল-ইসলামের কথা বলেন। অভিযুক্ত চিকিৎসকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সিজারকালে নবজাতকের মাথা কাটার বিষয়টি প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেন। তবে কে ফোন করেছেন তা জানতে চেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে লাইনের সংযোগ কেটে দেন এবং পরবর্তীতে আর ফোন রিসিভ করেননি।
কিন্তু নবজাতকের পিতার দাবির সঙ্গে এই ডাক্তারের চেহারার মিল পাওয়া যচ্ছে না।
ভূরুঙ্গামারী থানার এসআই আলী-উল-হোসেন জানান, "অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা ক্লিনিক পরিদর্শন করে ভুক্তভোগী ও মালিক পক্ষের সাথে কথা বলেছি। বর্তমানে নবজাতকের সুচিকিৎসাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

আপনার মতামত লিখুন