স্টাফ রিপোর্টার
নিজের জীবন বাজি রেখে বাসের অর্ধশতাধিক যাত্রীর প্রাণ রক্ষা করতে গিয়ে নিহত হওয়া সাহসী হেলপার দুলাল মিয়ার শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন। আজ রোববার (৩১ মে) সকালে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারকে নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেবনাথ উপজেলার সদর ইউনিয়নের দেওয়ানের খামার গ্রামের কেজি স্কুলপাড়া এলাকায় দুলালের বাড়িতে যান। এ সময় তিনি নিহতের স্ত্রী ও স্বজনদের খোঁজখবর নেন, তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১০ হাজার টাকার আর্থিক অনুদান তুলে দেন।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার রাতে ‘আহসান পরিবহন’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাস ধলেশ্বরী টোল প্লাজার কাছে পৌঁছালে হঠাৎ সেটির ব্রেক বিকল হয়ে যায়। চালক বাসটি নিয়ন্ত্রণে আনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। একপর্যায়ে বাসের ভেতরে থাকা যাত্রীদের জীবন রক্ষায় নিজের জীবনের তোয়াক্কা না করে এক ঝুঁকিপূর্ণ ও বীরত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেন বাসের হেলপার দুলাল মিয়া। তিনি চলন্ত বাস থেকে দ্রুত নেমে একটি কাঠের গুঁড়ি ও ভারী বস্তু বাসের চাকার নিচে দিয়ে গাড়িটি থামানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেন। দুর্ভাগ্যবশত, এই চেষ্টা করতে গিয়ে তিনি বাসের চাকার নিচে পিষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হন এবং পরবর্তীতে তাঁর মৃত্যু হয়। তবে দুলালের এই অসম সাহসিকতায় বাসটি শেষ পর্যন্ত থেমে যায় এবং ভেতরে থাকা সমস্ত যাত্রী এক ভয়াবহ ও বড় ধরনের সড়ক দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পান।
দুলালের এই মহান আত্মত্যাগের ঘটনাকে একটি বিরল ও সাহসিকতার অনন্য উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ইউএনও অমৃত দেবনাথ। তিনি বলেন, অন্যের জীবন বাঁচাতে গিয়ে নিজের জীবন উৎসর্গ করার এমন ঘটনা সত্যিই বিরল। দুলালের এই ত্যাগ সমাজ ও দেশের মানুষ শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ রাখবে। ইউএনও আরও জানান, দুলালের পরিবারের পক্ষ থেকে পরবর্তীতে যেকোনো প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য আবেদন করা হলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে। তিনি পরিবারটিকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন। দুলালের এমন মর্মান্তিক অথচ বীরত্বপূর্ণ মৃত্যুতে গোটা এলাকায় যেমন শোকের ছায়া নেমে এসেছে, তেমনি যাত্রীদের প্রাণ বাঁচানোর জন্য তাঁর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করছেন সর্বস্তরের মানুষ।

সোমবার, ০১ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ মে ২০২৬
স্টাফ রিপোর্টার
নিজের জীবন বাজি রেখে বাসের অর্ধশতাধিক যাত্রীর প্রাণ রক্ষা করতে গিয়ে নিহত হওয়া সাহসী হেলপার দুলাল মিয়ার শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন। আজ রোববার (৩১ মে) সকালে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারকে নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেবনাথ উপজেলার সদর ইউনিয়নের দেওয়ানের খামার গ্রামের কেজি স্কুলপাড়া এলাকায় দুলালের বাড়িতে যান। এ সময় তিনি নিহতের স্ত্রী ও স্বজনদের খোঁজখবর নেন, তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১০ হাজার টাকার আর্থিক অনুদান তুলে দেন।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার রাতে ‘আহসান পরিবহন’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাস ধলেশ্বরী টোল প্লাজার কাছে পৌঁছালে হঠাৎ সেটির ব্রেক বিকল হয়ে যায়। চালক বাসটি নিয়ন্ত্রণে আনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। একপর্যায়ে বাসের ভেতরে থাকা যাত্রীদের জীবন রক্ষায় নিজের জীবনের তোয়াক্কা না করে এক ঝুঁকিপূর্ণ ও বীরত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেন বাসের হেলপার দুলাল মিয়া। তিনি চলন্ত বাস থেকে দ্রুত নেমে একটি কাঠের গুঁড়ি ও ভারী বস্তু বাসের চাকার নিচে দিয়ে গাড়িটি থামানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেন। দুর্ভাগ্যবশত, এই চেষ্টা করতে গিয়ে তিনি বাসের চাকার নিচে পিষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হন এবং পরবর্তীতে তাঁর মৃত্যু হয়। তবে দুলালের এই অসম সাহসিকতায় বাসটি শেষ পর্যন্ত থেমে যায় এবং ভেতরে থাকা সমস্ত যাত্রী এক ভয়াবহ ও বড় ধরনের সড়ক দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পান।
দুলালের এই মহান আত্মত্যাগের ঘটনাকে একটি বিরল ও সাহসিকতার অনন্য উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ইউএনও অমৃত দেবনাথ। তিনি বলেন, অন্যের জীবন বাঁচাতে গিয়ে নিজের জীবন উৎসর্গ করার এমন ঘটনা সত্যিই বিরল। দুলালের এই ত্যাগ সমাজ ও দেশের মানুষ শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ রাখবে। ইউএনও আরও জানান, দুলালের পরিবারের পক্ষ থেকে পরবর্তীতে যেকোনো প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য আবেদন করা হলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে। তিনি পরিবারটিকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন। দুলালের এমন মর্মান্তিক অথচ বীরত্বপূর্ণ মৃত্যুতে গোটা এলাকায় যেমন শোকের ছায়া নেমে এসেছে, তেমনি যাত্রীদের প্রাণ বাঁচানোর জন্য তাঁর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করছেন সর্বস্তরের মানুষ।

আপনার মতামত লিখুন