ডি এস কে টিভি চ্যানেল
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরলেও নির্বাচন হবে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরলেও নির্বাচন হবে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরলেও নির্বাচন হবে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে’ — শিশির মনির তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে শুনানি শেষে জামায়াতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির জানিয়েছেন, এ ব্যবস্থা ফিরে এলেও আসন্ন জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে। মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে গঠিত আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে চতুর্থ দিনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে শিশির মনির বলেন, “তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি অনন্য উদাহরণ। কিন্তু রাজনৈতিক দূরদর্শিতার অভাব ও পরিকল্পিত উদ্যোগের কারণে এ ব্যবস্থা বাতিল করা হয়েছিল।” এর আগে ২৩ অক্টোবর তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের আপিলের তৃতীয় দিনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। সেদিন ইন্টারভেনর হিসেবে শুনানিতে অংশ নেন ব্যারিস্টার এহসান এ সিদ্দিকী। এরও আগে ২২ অক্টোবর দ্বিতীয় দিনের শুনানিতে রিটকারী বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া। প্রথম দিনের শুনানি শুরু হয় ২১ অক্টোবর। গত ২৭ আগস্ট আপিল বিভাগ তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন (রিভিউ) শুনানি শেষে আপিলের অনুমতি দেয়। এর পর ড. বদিউল আলম মজুমদার, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ পাঁচজন আবেদন করেন। ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ১৯৯৮ সালে আইনজীবী এম সলিম উল্লাহসহ তিনজন এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। ২০০৪ সালের ৪ আগস্ট হাইকোর্ট রায় দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে বৈধ ঘোষণা করে রিট খারিজ করে দেয়। এরপর ২০০৫ সালে আপিল করা হয়, যা আপিল বিভাগ গ্রহণ করে। দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০১১ সালের ১০ মে আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করে। রায়ের পর জাতীয় সংসদ ২০১১ সালের ৩০ জুন সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পাস করে, যার মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে বিলোপ পায়। এর গেজেট প্রকাশিত হয় ৩ জুলাই। পরে ২০২4 সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচ বিশিষ্ট ব্যক্তি রায়ের পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন। আবেদনকারীদের মধ্যে আছেন তোফায়েল আহমেদ, এম হাফিজউদ্দিন খান, জোবাইরুল হক ভূঁইয়া ও জাহরা রহমান। এছাড়া বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ১৬ অক্টোবর আরেকটি পুনর্বিবেচনা আবেদন করেন, এবং জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারও গত বছরের ২৩ অক্টোবর একই আবেদন করেন। একই সঙ্গে নওগাঁর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোফাজ্জল হোসেনও আপিল বিভাগের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন জানান।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডি এস কে টিভি চ্যানেল

বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬


তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরলেও নির্বাচন হবে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে

প্রকাশের তারিখ : ২৮ অক্টোবর ২০২৫

featured Image
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরলেও নির্বাচন হবে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে’ — শিশির মনির তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে শুনানি শেষে জামায়াতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির জানিয়েছেন, এ ব্যবস্থা ফিরে এলেও আসন্ন জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে। মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে গঠিত আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে চতুর্থ দিনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে শিশির মনির বলেন, “তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি অনন্য উদাহরণ। কিন্তু রাজনৈতিক দূরদর্শিতার অভাব ও পরিকল্পিত উদ্যোগের কারণে এ ব্যবস্থা বাতিল করা হয়েছিল।” এর আগে ২৩ অক্টোবর তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের আপিলের তৃতীয় দিনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। সেদিন ইন্টারভেনর হিসেবে শুনানিতে অংশ নেন ব্যারিস্টার এহসান এ সিদ্দিকী। এরও আগে ২২ অক্টোবর দ্বিতীয় দিনের শুনানিতে রিটকারী বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া। প্রথম দিনের শুনানি শুরু হয় ২১ অক্টোবর। গত ২৭ আগস্ট আপিল বিভাগ তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন (রিভিউ) শুনানি শেষে আপিলের অনুমতি দেয়। এর পর ড. বদিউল আলম মজুমদার, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ পাঁচজন আবেদন করেন। ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ১৯৯৮ সালে আইনজীবী এম সলিম উল্লাহসহ তিনজন এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। ২০০৪ সালের ৪ আগস্ট হাইকোর্ট রায় দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে বৈধ ঘোষণা করে রিট খারিজ করে দেয়। এরপর ২০০৫ সালে আপিল করা হয়, যা আপিল বিভাগ গ্রহণ করে। দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০১১ সালের ১০ মে আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করে। রায়ের পর জাতীয় সংসদ ২০১১ সালের ৩০ জুন সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পাস করে, যার মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে বিলোপ পায়। এর গেজেট প্রকাশিত হয় ৩ জুলাই। পরে ২০২4 সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচ বিশিষ্ট ব্যক্তি রায়ের পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন। আবেদনকারীদের মধ্যে আছেন তোফায়েল আহমেদ, এম হাফিজউদ্দিন খান, জোবাইরুল হক ভূঁইয়া ও জাহরা রহমান। এছাড়া বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ১৬ অক্টোবর আরেকটি পুনর্বিবেচনা আবেদন করেন, এবং জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারও গত বছরের ২৩ অক্টোবর একই আবেদন করেন। একই সঙ্গে নওগাঁর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোফাজ্জল হোসেনও আপিল বিভাগের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন জানান।

ডি এস কে টিভি চ্যানেল

চেয়ারম্যান ও সম্পাদকঃ সামসুল আলম
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আসআদ

কপিরাইট © ২০২৫ ডি এস কে টিভি চ্যানেল