ডি এস কে টিভি চ্যানেল
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

শিক্ষক মা'রধরের জেরে ছাত্রদলের ৩ নেতা ব'হিষ্কার, সভাপতির পদ স্থগিত

শিক্ষক মা'রধরের জেরে ছাত্রদলের ৩ নেতা ব'হিষ্কার, সভাপতির পদ স্থগিত

নোয়াখালী সরকারি কলেজে শিক্ষকদের মারধর, লাঞ্ছনা, হত্যার হুমকি এবং অধ্যক্ষের কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনায় কলেজ শাখা ছাত্রদলের তিন নেতাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার এবং সভাপতির পদ স্থগিত করা হয়েছে। একইসঙ্গে এক নেতাকে শোকজ করা হয়েছে।

স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত নেতারা হলেন- সিনিয়র সহ-সভাপতি মুর্শিদুর রহমান রায়হান, সহ-সভাপতি আক্তারুজ্জামান বিশাল এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক তানভীর হোসেন শাওন।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, এদিকে বর্তমান সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগের সাংগঠনিক পদ দুই মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। একইসঙ্গে সাবেক সভাপতি আকবর হোসেনকে শোকজ করে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলমের সই করা পৃথক দুটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, বুধবার দুপুরে দুপুরে কলেজের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর জাকির হোসেন সস্ত্রীক দাপ্তরিক কাজে কলেজে আসেন।এ সময় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর এবিএম ছানা উল্লাহ এবং শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আফসার উদ্দিন জুয়েলসহ কয়েকজন শিক্ষক একসঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে বসলে কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী অতর্কিত হামলা চালায়। তারা অধ্যক্ষের কার্যালয়ের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং শিক্ষকদের খাবার খেতে বাধা দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে।

এ সময় বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুনশাদুর রহমানকে শারীরিকভাবে হেনস্তা এবং ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে নোয়াখালী সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক এবিএম ছানা উল্লাহ বলেন, আমার রুমে ভাঙচুর করা হয়েছে, আমাকে খাবার খেতেও দেওয়া হয়নি। ছাত্ররা এমন আচরণ করবে তা ভাবতেই পারিনি। প্রয়োজনে শিক্ষকতা ছেড়ে দেব, তবুও অন্যায়ের সঙ্গে আপস করবো না।

এদিকে এ ঘটনার পর শিক্ষক পরিষদ এক জরুরি সভা করে কর্মবিরতিসহ চার দফা দাবি ঘোষণা করে। দাবির মধ্যে রয়েছে- হামলাকারীদের ছাত্রত্ব বাতিল, কেন্দ্রীয় ও জেলা ছাত্রদল নেতাদের কাছে অভিযোগ দায়ের, থানায় মামলা এবং বিচার না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি।

জানা যায়, বর্তমানে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করছিলেন শিক্ষকরা। অপরদিকে আজ কলেজ ছাত্রদলে পক্ষ থেকে পাল্টা মানববন্ধন কর্মসূচ ঘোষণা হয়েছিল।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে হেনস্তার শিকার অধ্যাপক জাকির হোসেন বলেন, পিআরএল-সংক্রান্ত জরুরি কাগজপত্রের কাজ শেষ করতে দেরি হওয়ায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তাদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করেন। তারা খাবার শুরু করার আগেই একদল হামলাকারী ঢুকে ভাঙচুর চালায় এবং প্লেট-বাটি ছুড়ে ফেলে। পাশাপাশি বারান্দার ফুলের টবসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র নষ্ট করা হয়।

তিনি আরও বলেন, হামলাকারীরা অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে উদ্দেশ্য করে আগের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগ তোলে। তারা শিক্ষকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে গুরুতর ক্ষতির হুমকি দেয়। প্রতিবাদ করতে গেলে এক শিক্ষককে মারধর করে তার জামা ছিঁড়ে ফেলা হয় বলেও তিনি জানান।

হামলার কারণ হিসেবে অধ্যাপক জাকির হোসেন বলেন, মূলত অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যেই এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তাদের অভিযোগ, শিক্ষকদের কাছ থেকে নিয়মিত টাকা দাবি করা হচ্ছিল, যা না দেওয়ায় এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে।

তিনি জানান, ঘটনার সময় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রতিনিধিও উপস্থিত ছিলেন। বর্তমানে শিক্ষকরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন এবং নিরাপত্তাহীনতার কারণে দায়িত্ব পালন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। জেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হলেও শিক্ষকরা তা গ্রহণে অনীহা জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডি এস কে টিভি চ্যানেল

বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬


শিক্ষক মা'রধরের জেরে ছাত্রদলের ৩ নেতা ব'হিষ্কার, সভাপতির পদ স্থগিত

প্রকাশের তারিখ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

নোয়াখালী সরকারি কলেজে শিক্ষকদের মারধর, লাঞ্ছনা, হত্যার হুমকি এবং অধ্যক্ষের কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনায় কলেজ শাখা ছাত্রদলের তিন নেতাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার এবং সভাপতির পদ স্থগিত করা হয়েছে। একইসঙ্গে এক নেতাকে শোকজ করা হয়েছে।


স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত নেতারা হলেন- সিনিয়র সহ-সভাপতি মুর্শিদুর রহমান রায়হান, সহ-সভাপতি আক্তারুজ্জামান বিশাল এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক তানভীর হোসেন শাওন।


দলীয় সূত্রে জানা যায়, এদিকে বর্তমান সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগের সাংগঠনিক পদ দুই মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। একইসঙ্গে সাবেক সভাপতি আকবর হোসেনকে শোকজ করে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।


বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলমের সই করা পৃথক দুটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন।


অভিযোগপত্রে বলা হয়, বুধবার দুপুরে দুপুরে কলেজের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর জাকির হোসেন সস্ত্রীক দাপ্তরিক কাজে কলেজে আসেন।এ সময় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর এবিএম ছানা উল্লাহ এবং শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আফসার উদ্দিন জুয়েলসহ কয়েকজন শিক্ষক একসঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে বসলে কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী অতর্কিত হামলা চালায়। তারা অধ্যক্ষের কার্যালয়ের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং শিক্ষকদের খাবার খেতে বাধা দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে।


এ সময় বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুনশাদুর রহমানকে শারীরিকভাবে হেনস্তা এবং ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।


এ বিষয়ে নোয়াখালী সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক এবিএম ছানা উল্লাহ বলেন, আমার রুমে ভাঙচুর করা হয়েছে, আমাকে খাবার খেতেও দেওয়া হয়নি। ছাত্ররা এমন আচরণ করবে তা ভাবতেই পারিনি। প্রয়োজনে শিক্ষকতা ছেড়ে দেব, তবুও অন্যায়ের সঙ্গে আপস করবো না।


এদিকে এ ঘটনার পর শিক্ষক পরিষদ এক জরুরি সভা করে কর্মবিরতিসহ চার দফা দাবি ঘোষণা করে। দাবির মধ্যে রয়েছে- হামলাকারীদের ছাত্রত্ব বাতিল, কেন্দ্রীয় ও জেলা ছাত্রদল নেতাদের কাছে অভিযোগ দায়ের, থানায় মামলা এবং বিচার না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি।


জানা যায়, বর্তমানে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করছিলেন শিক্ষকরা। অপরদিকে আজ কলেজ ছাত্রদলে পক্ষ থেকে পাল্টা মানববন্ধন কর্মসূচ ঘোষণা হয়েছিল।


ঘটনার বর্ণনা দিয়ে হেনস্তার শিকার অধ্যাপক জাকির হোসেন বলেন, পিআরএল-সংক্রান্ত জরুরি কাগজপত্রের কাজ শেষ করতে দেরি হওয়ায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তাদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করেন। তারা খাবার শুরু করার আগেই একদল হামলাকারী ঢুকে ভাঙচুর চালায় এবং প্লেট-বাটি ছুড়ে ফেলে। পাশাপাশি বারান্দার ফুলের টবসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র নষ্ট করা হয়।


তিনি আরও বলেন, হামলাকারীরা অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে উদ্দেশ্য করে আগের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগ তোলে। তারা শিক্ষকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে গুরুতর ক্ষতির হুমকি দেয়। প্রতিবাদ করতে গেলে এক শিক্ষককে মারধর করে তার জামা ছিঁড়ে ফেলা হয় বলেও তিনি জানান।


হামলার কারণ হিসেবে অধ্যাপক জাকির হোসেন বলেন, মূলত অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যেই এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তাদের অভিযোগ, শিক্ষকদের কাছ থেকে নিয়মিত টাকা দাবি করা হচ্ছিল, যা না দেওয়ায় এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে।


তিনি জানান, ঘটনার সময় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রতিনিধিও উপস্থিত ছিলেন। বর্তমানে শিক্ষকরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন এবং নিরাপত্তাহীনতার কারণে দায়িত্ব পালন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। জেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হলেও শিক্ষকরা তা গ্রহণে অনীহা জানিয়েছেন।


ডি এস কে টিভি চ্যানেল

চেয়ারম্যান ও সম্পাদকঃ সামসুল আলম
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আসআদ

কপিরাইট © ২০২৫ ডি এস কে টিভি চ্যানেল