যুক্তরাষ্ট্রকে পাশে না রেখেই হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার একটি পরিকল্পনা করছে ইউরোপের দেশগুলো—এমনই তথ্য দিয়েছে প্রভাবশালী মার্কিন গণমাধ্যম দ্যা ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি শেষ হলে একটি আন্তর্জাতিক জোট গঠন করে প্রণালিটি পুনরায় নিরাপদ করার উদ্যোগ নিচ্ছে ইউরোপীয় শক্তিগুলো।
পরিকল্পনাটির নেতৃত্ব দিচ্ছে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স। তাদের লক্ষ্য হচ্ছে যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে একটি প্রতিরক্ষামূলক মিশন গঠন করা, যেখানে সমুদ্রের মাইন অপসারণ, আটকে পড়া জাহাজ উদ্ধার এবং বাণিজ্যিক জাহাজকে নিরাপদে চলাচলের জন্য সামরিক এসকর্ট দেওয়া হবে।
তবে এই উদ্যোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—এতে যুক্তরাষ্ট্রকে অন্তর্ভুক্ত না করার চিন্তা। ফ্রান্সসহ ইউরোপের কিছু দেশ মনে করছে, যুক্তরাষ্ট্রকে বাদ দিলে ইরানের সঙ্গে সমঝোতা সহজ হবে এবং উত্তেজনা আরও না বাড়িয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই জোটে জার্মানির অংশগ্রহণের সম্ভাবনাও রয়েছে। যদিও দেশটি সাধারণত বিদেশে সামরিক মিশনে অংশ নিতে সতর্ক থাকে, তবুও মাইন অপসারণ ও নজরদারিতে তাদের সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এই উদ্যোগের পেছনে মূল কারণ হচ্ছে হরমুজ প্রণালির কৌশলগত গুরুত্ব। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের তেল ও গ্যাস এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, কিন্তু সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে প্রণালিটি কার্যত অচল হয়ে পড়ে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ভিন্ন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে প্রণালি খুলে দেওয়ার পক্ষে, এমনকি ইরানি বন্দর অবরোধের মতো পদক্ষেপও নিয়েছে। তবে ইউরোপীয় দেশগুলো সরাসরি সংঘাতে জড়াতে অনাগ্রহী এবং তারা যুদ্ধ-পরবর্তী একটি নিরপেক্ষ, প্রতিরক্ষামূলক সমাধান খুঁজছে
সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে এই পরিকল্পনা পশ্চিমা জোটের ভেতরেই একটি নতুন বিভাজনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল থেকে আলাদা পথে হেঁটে ইউরোপ নিজেদের নিরাপত্তা ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে চাইছে—যা ভবিষ্যতের ভূরাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রকে পাশে না রেখেই হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার একটি পরিকল্পনা করছে ইউরোপের দেশগুলো—এমনই তথ্য দিয়েছে প্রভাবশালী মার্কিন গণমাধ্যম দ্যা ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি শেষ হলে একটি আন্তর্জাতিক জোট গঠন করে প্রণালিটি পুনরায় নিরাপদ করার উদ্যোগ নিচ্ছে ইউরোপীয় শক্তিগুলো।
পরিকল্পনাটির নেতৃত্ব দিচ্ছে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স। তাদের লক্ষ্য হচ্ছে যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে একটি প্রতিরক্ষামূলক মিশন গঠন করা, যেখানে সমুদ্রের মাইন অপসারণ, আটকে পড়া জাহাজ উদ্ধার এবং বাণিজ্যিক জাহাজকে নিরাপদে চলাচলের জন্য সামরিক এসকর্ট দেওয়া হবে।
তবে এই উদ্যোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—এতে যুক্তরাষ্ট্রকে অন্তর্ভুক্ত না করার চিন্তা। ফ্রান্সসহ ইউরোপের কিছু দেশ মনে করছে, যুক্তরাষ্ট্রকে বাদ দিলে ইরানের সঙ্গে সমঝোতা সহজ হবে এবং উত্তেজনা আরও না বাড়িয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই জোটে জার্মানির অংশগ্রহণের সম্ভাবনাও রয়েছে। যদিও দেশটি সাধারণত বিদেশে সামরিক মিশনে অংশ নিতে সতর্ক থাকে, তবুও মাইন অপসারণ ও নজরদারিতে তাদের সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এই উদ্যোগের পেছনে মূল কারণ হচ্ছে হরমুজ প্রণালির কৌশলগত গুরুত্ব। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের তেল ও গ্যাস এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, কিন্তু সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে প্রণালিটি কার্যত অচল হয়ে পড়ে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ভিন্ন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে প্রণালি খুলে দেওয়ার পক্ষে, এমনকি ইরানি বন্দর অবরোধের মতো পদক্ষেপও নিয়েছে। তবে ইউরোপীয় দেশগুলো সরাসরি সংঘাতে জড়াতে অনাগ্রহী এবং তারা যুদ্ধ-পরবর্তী একটি নিরপেক্ষ, প্রতিরক্ষামূলক সমাধান খুঁজছে
সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে এই পরিকল্পনা পশ্চিমা জোটের ভেতরেই একটি নতুন বিভাজনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল থেকে আলাদা পথে হেঁটে ইউরোপ নিজেদের নিরাপত্তা ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে চাইছে—যা ভবিষ্যতের ভূরাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন