বিএনপির জনসভায় এবিএম মোশাররফ হোসেনের বক্তব্য
প্রকাশের তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৫
বিএনপির জনসভায় এবিএম মোশাররফ হোসেনের বক্তব্য
বিগত ১৫ বছরের শাসনামলে আওয়ামী লীগ জনগণের মৌলিক অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠন করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, বিএনপি সবসময় জনগণের অধিকার রক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। যদি অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়—তবে ইনশাল্লাহ বিএনপি জনগণের ভোটে আবারও রাষ্ট্রক্ষমতায় আসবে।
শনিবার (১ নভেম্বর) বিকেলে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলা পরিষদ মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে এ সভার আয়োজন করা হয়।
এ সময় এবিএম মোশাররফ হোসেন বলেন, “আজকে অনেকেই ভোট চাইতে আসে, কিন্তু ইতিহাস বলে—জামায়াতে ইসলামী একা কখনও বড় সাফল্য পায়নি। ১৯৯১ সালে তারা ১৮টি ও ২০০১ সালে ১৭টি আসন পেয়েছিল বিএনপির জোটে নির্বাচনে অংশ নিয়ে। কিন্তু বিএনপি ছাড়া ১৯৯৬ সালে মাত্র তিনটি ও ২০০৮ সালে দুটি আসনেই সীমাবদ্ধ ছিল। ইসলামি আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীক নিয়ে আজ পর্যন্ত তারা একটি আসনও জিততে পারেনি।”
তিনি আরও বলেন, “৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর বিএনপির নেতাকর্মীরাই জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দির ও দোকানপাট রক্ষা করেছে আমাদের কর্মীরা। যে কোনো বিপর্যয়ে আমরা মানুষের পাশে ছিলাম, ভবিষ্যতেও থাকব।”চাকরিপ্রত্যাশী তরুণদের বিষয়ে বিএনপির অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, “বিএনপি ক্ষমতায় গেলে লেখাপড়া শেষ করার পর এক বছর পর্যন্ত তরুণদের জন্য বেকার ভাতা চালু করা হবে।”
রাঙ্গাবালীর মতো দুর্গম অঞ্চলে এখনো সরকারি হাসপাতাল না থাকার বিষয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই আসনে আওয়ামী লীগের দুইজন প্রতিমন্ত্রী থাকা সত্ত্বেও কেউ হাসপাতালের কার্যক্রম চালু করতে পারেননি। তারা জনগণের নয়, নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের চেষ্টা করেছেন।”
তিনি আরও বলেন, “আগামী দিনে উন্নয়ন দেখতে হলে জনগণের কল্যাণে যারা কাজ করে তাদেরই ভোট দিতে হবে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানই হবেন দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী—এ বিষয়ে দলের সিদ্ধান্ত স্পষ্ট।”
আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে তিনি যোগ করেন, “তাদের আমলে কখনোই জনগণ সুষ্ঠু ভোট দিতে পারেনি। কখনো প্রার্থীবিহীন নির্বাচন, কখনো রাতের ভোট দিনে—এভাবেই জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। আগামী নির্বাচনে আমরা দলীয় সরকারের অধীনে নয়, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন চাই।”
রাঙ্গাবালী উপজেলা বিএনপি আয়োজিত এ জনসভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর রহমান ফরাজী এবং সঞ্চালনা করেন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ হাওলাদার।
জনসভাকে কেন্দ্র করে উপজেলা সদর ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টারে সাজানো হয়। ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ের হাজারো নেতা-কর্মী এতে অংশগ্রহণ করেন।
চেয়ারম্যান ও সম্পাদকঃ সামসুল আলমবার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আসআদ
কপিরাইট © ২০২৫ ডি এস কে টিভি চ্যানেল
আপনার মতামত লিখুন