ডি এস কে টিভি চ্যানেল
আপডেট : শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বঙ্গভবন-এ অনুষ্ঠিত হবে মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান।

সোমবার বিকেলে মন্ত্রিসভার শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি

সোমবার বিকেলে মন্ত্রিসভার শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি
ছবি সংগৃহীত

সোমবার বিকেলে মন্ত্রিসভার শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকারের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে আগামী সোমবার। দিনটির প্রথমার্ধে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন, আর বিকেলে গঠিত হবে নতুন মন্ত্রিসভা। সংবিধান অনুযায়ী মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে নবনির্বাচিত এমপিদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। শপথ বাক্য পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার অথবা তাঁর মনোনীত প্রতিনিধি। এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করবেন নতুন সদস্যরা। পরে বিকেলে রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন বঙ্গভবন-এ অনুষ্ঠিত হবে মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান।

সংবিধান অনুযায়ী শপথ প্রক্রিয়া

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী দলের নেতা বা জোটপ্রধানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি। এরপর প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যদের নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী—সকলেই রাষ্ট্রপতির সামনে শপথ গ্রহণ করেন।

শপথ অনুষ্ঠানে সংবিধানের নির্ধারিত শপথ বাক্য পাঠ করা হয়, যেখানে রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য, সংবিধান রক্ষা এবং নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার করা হয়। শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে নতুন মন্ত্রিসভা আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করে।

সংসদ সদস্যদের শপথ

এর আগে সকালে নবনির্বাচিত সদস্যরা বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ-এর সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন। শপথ গ্রহণ ছাড়া কোনো সদস্য সংসদের কার্যক্রমে অংশ নিতে পারেন না। শপথের পরপরই সংসদ সচিবালয় তাদের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করার অনুমতি দেয়।

নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন সাধারণত শপথের কিছুদিনের মধ্যেই আহ্বান করা হয়। প্রথম অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

রাজনৈতিক গুরুত্ব

নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেট বাস্তবায়নের দায়িত্ব এখন নতুন সরকারের হাতে। অর্থনীতি, আইনশৃঙ্খলা, উন্নয়ন প্রকল্প, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাত—সব ক্ষেত্রে নতুন নীতিনির্ধারণ ও পরিকল্পনার ঘোষণা আসতে পারে শিগগিরই।

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকারের প্রথম কয়েকটি সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে তাদের অগ্রাধিকার ও নীতিগত অবস্থান। বিশেষ করে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন, প্রশাসনিক সংস্কার এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন সরকারের পদক্ষেপ গুরুত্ব পাবে।

বঙ্গভবনে প্রস্তুতি

শপথ অনুষ্ঠান উপলক্ষে বঙ্গভবনে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকায় থাকবেন জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ, বিচারপতি, কূটনীতিক, সামরিক ও বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা। অনুষ্ঠানটি রাষ্ট্রীয় আচার-অনুষ্ঠানের নিয়ম মেনে সম্পন্ন হবে।

নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বলে জানা গেছে।

নতুন সরকারের সামনে চ্যালেঞ্জ

নতুন মন্ত্রিসভা দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন—এসব ইস্যুতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছে সাধারণ মানুষ।

এছাড়া সংসদকে কার্যকর ও প্রাণবন্ত রাখার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। বিরোধী দলের ভূমিকা, সংসদীয় বিতর্কের মান এবং গণতান্ত্রিক চর্চা—সবকিছু মিলিয়ে নতুন সংসদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে থাকবে দেশবাসী।

আনুষ্ঠানিক যাত্রা

সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলে সোমবার বিকেল থেকেই কার্যত শুরু হবে নতুন সরকারের পথচলা। রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে গঠিত মন্ত্রিসভা দেশের নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করবে এবং সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবে।

নির্বাচনের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে যে প্রত্যাশা ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে, তার বাস্তব রূপ দেখা যাবে নতুন সরকারের কর্মকাণ্ডে। এখন নজর সোমবারের শপথ অনুষ্ঠানের দিকে—যেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে নতুন

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডি এস কে টিভি চ্যানেল

বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬


সোমবার বিকেলে মন্ত্রিসভার শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি

প্রকাশের তারিখ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

সোমবার বিকেলে মন্ত্রিসভার শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকারের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে আগামী সোমবার। দিনটির প্রথমার্ধে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন, আর বিকেলে গঠিত হবে নতুন মন্ত্রিসভা। সংবিধান অনুযায়ী মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে নবনির্বাচিত এমপিদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। শপথ বাক্য পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার অথবা তাঁর মনোনীত প্রতিনিধি। এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করবেন নতুন সদস্যরা। পরে বিকেলে রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন বঙ্গভবন-এ অনুষ্ঠিত হবে মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান।

সংবিধান অনুযায়ী শপথ প্রক্রিয়া

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী দলের নেতা বা জোটপ্রধানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি। এরপর প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যদের নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী—সকলেই রাষ্ট্রপতির সামনে শপথ গ্রহণ করেন।

শপথ অনুষ্ঠানে সংবিধানের নির্ধারিত শপথ বাক্য পাঠ করা হয়, যেখানে রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য, সংবিধান রক্ষা এবং নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার করা হয়। শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে নতুন মন্ত্রিসভা আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করে।

সংসদ সদস্যদের শপথ

এর আগে সকালে নবনির্বাচিত সদস্যরা বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ-এর সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন। শপথ গ্রহণ ছাড়া কোনো সদস্য সংসদের কার্যক্রমে অংশ নিতে পারেন না। শপথের পরপরই সংসদ সচিবালয় তাদের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করার অনুমতি দেয়।

নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন সাধারণত শপথের কিছুদিনের মধ্যেই আহ্বান করা হয়। প্রথম অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

রাজনৈতিক গুরুত্ব

নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেট বাস্তবায়নের দায়িত্ব এখন নতুন সরকারের হাতে। অর্থনীতি, আইনশৃঙ্খলা, উন্নয়ন প্রকল্প, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাত—সব ক্ষেত্রে নতুন নীতিনির্ধারণ ও পরিকল্পনার ঘোষণা আসতে পারে শিগগিরই।

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকারের প্রথম কয়েকটি সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে তাদের অগ্রাধিকার ও নীতিগত অবস্থান। বিশেষ করে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন, প্রশাসনিক সংস্কার এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন সরকারের পদক্ষেপ গুরুত্ব পাবে।

বঙ্গভবনে প্রস্তুতি

শপথ অনুষ্ঠান উপলক্ষে বঙ্গভবনে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকায় থাকবেন জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ, বিচারপতি, কূটনীতিক, সামরিক ও বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা। অনুষ্ঠানটি রাষ্ট্রীয় আচার-অনুষ্ঠানের নিয়ম মেনে সম্পন্ন হবে।

নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বলে জানা গেছে।

নতুন সরকারের সামনে চ্যালেঞ্জ

নতুন মন্ত্রিসভা দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন—এসব ইস্যুতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছে সাধারণ মানুষ।

এছাড়া সংসদকে কার্যকর ও প্রাণবন্ত রাখার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। বিরোধী দলের ভূমিকা, সংসদীয় বিতর্কের মান এবং গণতান্ত্রিক চর্চা—সবকিছু মিলিয়ে নতুন সংসদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে থাকবে দেশবাসী।

আনুষ্ঠানিক যাত্রা

সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলে সোমবার বিকেল থেকেই কার্যত শুরু হবে নতুন সরকারের পথচলা। রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে গঠিত মন্ত্রিসভা দেশের নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করবে এবং সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবে।

নির্বাচনের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে যে প্রত্যাশা ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে, তার বাস্তব রূপ দেখা যাবে নতুন সরকারের কর্মকাণ্ডে। এখন নজর সোমবারের শপথ অনুষ্ঠানের দিকে—যেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে নতুন


ডি এস কে টিভি চ্যানেল

চেয়ারম্যান ও সম্পাদকঃ সামসুল আলম
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আসআদ

কপিরাইট © ২০২৫ ডি এস কে টিভি চ্যানেল