মৃত ভেবে নদীতে ফেলে দেয় ঢাকা উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি রিয়াজ মাহমুদ কে
প্রকাশের তারিখ : ০৭ আগস্ট ২০২৫
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি রিয়াজ মাহমুদ তার জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ রাতের স্মৃতিচারণ করেছেন। ২০২৪ সালের ৬ আগস্টের সেই ভয়াল রাতের বর্ণনায় উঠে এসেছে অপহরণ, অমানবিক নির্যাতন এবং হত্যা চেষ্টা—যার সবই ঘটে একটি বিশেষ বাহিনীর হাতে, এমনই অভিযোগ রিয়াজের।
এক দীর্ঘ ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান, ওই রাতে দেশত্যাগের উদ্দেশ্যে তিনি ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। ফ্লাইট বিলম্ব হওয়ায় দীর্ঘ সময় বিমানবন্দরে অবস্থানকালে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের নামে আটক করা হয়। এরপর এক পর্যায়ে তাকে ও ছাত্রলীগের আরেক নেতা সৈকতকে আটক করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।
রিয়াজের দাবি অনুযায়ী, তাকে লাইফ জ্যাকেট ও হেলমেট পরিয়ে একটি গাড়িতে তোলা হয় এবং বলা হয় নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়া হবে। কিন্তু ৩০০ ফিট রোডের পাশে একটি নির্জন নদীর তীরে গাড়ি থামিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। জীবনের শেষ মুহূর্ত ভেবে তিনি পরিবারকে “তোমরা ভালো থেকো” লিখে একটি বার্তা পাঠান।
নির্যাতনের পর, তাকে মৃত ভেবে পাসপোর্ট ছিঁড়ে, মোবাইল ভেঙে পাশের নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। ভাগ্যক্রমে স্থানীয় কয়েকজন যুবক তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জানা যায়, তার পাঁজরের একটি হাড় ভেঙে গেছে এবং সারা শরীরে গুরুতর জখম রয়েছে।
রিয়াজ অভিযোগ করেন, তাকে তুলে নেওয়ার সময় তিনি সাবেক তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককেও ইমিগ্রেশন রুমে দেখেছেন, যাকে সেনা সদস্যরা নিয়ে যায়।
হাসপাতাল থেকে নিরাপত্তার কারণে তিনি গোপনে চলে যান এবং দীর্ঘ এক মাস বন্ধুর বাসায় চিকিৎসা নিয়ে কিছুটা সুস্থ হন।
এই ঘটনার জন্য মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে রিয়াজ লেখেন, “আল্লাহ না চাইলে, কেউ কাউকে মারতে পারে না।”
তিনি বলেন, ছাত্রলীগে দায়িত্ব পালনকালীন তিনি কখনও কারও ক্ষতি করেননি, তবুও তার ওপর এই নির্মমতা চালানো হয়েছে। রিয়াজ মনে করেন, এটি তার জীবনের তৃতীয় বারের মতো নতুন করে ফিরে পাওয়া।
ঘটনাটির যথাযথ তদন্ত ও জবাবদিহিতা দাবি করেছেন তিনি
চেয়ারম্যান ও সম্পাদকঃ সামসুল আলমবার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আসআদ
কপিরাইট © ২০২৫ ডি এস কে টিভি চ্যানেল
আপনার মতামত লিখুন