ডাকসুতে নারী অংশগ্রহণের বাস্তবতা
প্রকাশের তারিখ : ২৯ আগস্ট ২০২৫
ডাকসুতে নারী অংশগ্রহণের বাস্তবতা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতিতে নারী শিক্ষার্থীরা বরাবরই আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানেও তাদের সরব উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। অথচ এক বছর পর অনুষ্ঠিতব্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে সেই নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা ভোট ও প্রার্থিতা—দুটো জায়গাতেই সমানভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে না।
সংখ্যায় নারীরা, নেতৃত্বে পিছিয়ে
ডাকসুর আসন্ন নির্বাচনে মোট ভোটার ৩৯ হাজার ৭৭৫ জন। এর মধ্যে নারী শিক্ষার্থী আছেন ১৮ হাজার ৯০২ জন, অর্থাৎ প্রায় অর্ধেক (৪৭.৫২ শতাংশ)। কিন্তু প্রার্থী তালিকায় এ ভারসাম্য নেই। ভিপি পদে মাত্র পাঁচজন নারী, জিএসে একজন এবং এজিএসে চারজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ২৮টি পদের মধ্যে আন্তর্জাতিক ও পরিবহন সম্পাদকীয় আসনে কোনো নারী নেই।
পুরো নির্বাচনে মোট প্রার্থী ৪৭১ জন হলেও নারী প্রার্থীর সংখ্যা ৬২—শুধু ১৩.১৬ শতাংশ। প্রশ্ন থেকে যায়, যোগ্যতা ও আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও কেন এত কম সংখ্যক নারী এগিয়ে আসছেন?
বাধা কোথায়?
অনেকের অভিজ্ঞতা বলছে—অনলাইন বা ক্যাম্পাসে নারীরা নিয়মিত হেনস্তার মুখে পড়েন। সাইবার বুলিং ও অপমানজনক আচরণে কেউ কেউ রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ান। আবার ছাত্র সংগঠনের প্যানেলে নারীদের রাখা হলেও অনেকে মনে করেন, তা কেবল নামসর্বস্ব উপস্থিতি; বাস্তবে সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের ভূমিকা সীমিত।
স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য প্যানেলের ভিপি প্রার্থী উমামা ফাতেমা অভিযোগ করেন, নারীরা হেনস্তার শিকার হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও কার্যকর সহায়তা দিতে পারে না। তার ভাষায়, “নারীদের নিয়ে কারও আসলেই মাথাব্যথা নেই। তবে নির্বাচন ঘনালে সবাই নারী-বন্ধুত্বের ভান করে।”
সামনে নির্বাচন
তফসিল অনুযায়ী, আগামী ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ডাকসুর ভোট। আটটি কেন্দ্রে প্রায় চল্লিশ হাজার শিক্ষার্থী তাদের মতামত দেবেন। নারী শিক্ষার্থীরা এবার প্রার্থী ও ভোটার—দুই ভূমিকাতেই আগের চেয়ে দৃশ্যমান হলেও সমানতালে পুরুষ নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করতে পারছেন না। তবুও অনেকে আশাবাদী—সময়ের সঙ্গে পাল্টাবে এই সমীকরণ।
চেয়ারম্যান ও সম্পাদকঃ সামসুল আলমবার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আসআদ
কপিরাইট © ২০২৫ ডি এস কে টিভি চ্যানেল
আপনার মতামত লিখুন