বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬
বছরের শেষ ভাগে বাংলাদেশ অর্থনীতি শক্ত অবস্থানে ফিরেছে
প্রকাশের তারিখ : ০৮ অক্টোবর ২০২৫
২০২৫ অর্থবছরের প্রথমার্ধের ধাক্কা কাটিয়ে বছরের শেষ ভাগে বাংলাদেশ অর্থনীতি শক্ত অবস্থানে ফিরেছে। রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স উভয়ই বেড়েছে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক অবস্থা, সম্ভাবনা এবং নীতিগত চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাজারভিত্তিক বিনিময় হার নীতি গ্রহণের ফলে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমেছে, রিজার্ভ স্থিতিশীলতা ফিরে পেয়েছে এবং চলতি হিসাবের ঘাটতিও হ্রাস পেয়েছে। রপ্তানি আয়ে এসেছে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি।
অন্যদিকে, কঠোর মুদ্রানীতি, খাদ্যপণ্যে শুল্ক ছাড় এবং কৃষিতে ভালো ফলনের কারণে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে রাজস্ব আদায়ে দুর্বলতা, ভর্তুকি ব্যয় বৃদ্ধি এবং ঋণ পরিশোধের চাপের কারণে বাজেট ঘাটতি কিছুটা বেড়েছে। পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত থাকলেও দারিদ্র্য ও কর্মসংস্থানের অবস্থা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে দারিদ্র্যের হার বেড়েছে এবং শ্রমবাজারে অংশগ্রহণ কমে ৬০ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে ৫৮ দশমিক ৯ শতাংশে নেমে এসেছে। এতে নারীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। প্রায় ৩০ লাখ নতুন কর্মক্ষম মানুষের মধ্যে ২৪ লাখই নারী—যারা এখনো শ্রমবাজারের বাইরে রয়ে গেছেন।
বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানবিষয়ক পরিচালক জ্যঁ পেম বলেন, “বাংলাদেশ অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা দেখিয়েছে, তবে এটিকে স্থায়ী ধরে নেওয়া যাবে না। টেকসই প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান বাড়াতে এখনই সাহসী সংস্কার বাস্তবায়ন জরুরি।” তিনি অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যাংক খাতের দুর্বলতা নিরসন, জ্বালানি ভর্তুকি হ্রাস, পরিকল্পিত নগরায়ণ এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার পরামর্শ দেন।
প্রতিবেদন আরও জানায়, গত দুই দশকে শিল্পখাতের চাকরি প্রধানত ঢাকা ও চট্টগ্রামে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। এটি আঞ্চলিক বৈষম্য কমাতে এবং সারাদেশে কর্মসংস্থান বাড়াতে স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে।
একই সঙ্গে প্রকাশিত ‘চাকরি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও বাণিজ্য’ শীর্ষক সহ-প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি অর্থবছরে দক্ষিণ এশিয়ার প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৬ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। তবে কাঠামোগত দুর্বলতা ও বৈশ্বিক ঝুঁকি এখনও চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট জোহানেস জুট বলেন, “দক্ষিণ এশিয়া বিশাল অর্থনৈতিক সম্ভাবনাময় অঞ্চল। কিন্তু এই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে দেশগুলোকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়াতে হবে এবং বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা কমাতে হবে।” তাঁর মতে, এতে উৎপাদনশীলতা বাড়বে, বিনিয়োগ উৎসাহিত হবে এবং ক্রমবর্ধমান শ্রমশক্তির জন্য নতুন চাকরির সুযোগ সৃষ্টি হবে।
প্রতিবেদনটি আরও উল্লেখ করে, দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতি এখনো বিদেশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগের জন্য পর্যাপ্তভাবে উন্মুক্ত নয়। উচ্চ শুল্কের কারণে কিছু খাতে চাকরি হ্রাস পাচ্ছে, অথচ কম শুল্কযুক্ত সেবা খাতগুলো দ্রুত নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করছে।
এ ছাড়া, উৎপাদনশীলতা ও আয়ের উন্নয়নে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বিপুল সম্ভাবনার দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার বড় অংশের শ্রমশক্তি কৃষিনির্ভর ও স্বল্পদক্ষ হলেও, এআই মানবশ্রমের পরিপূরক হিসেবে নতুন খাতে কর্মসংস্থানের পথ খুলে দিতে পারে।
বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের প্রধান অর্থনীতিবিদ ফ্রানজিস্কা ওন্সর্গ বলেন, “বাণিজ্য উন্মুক্ততা এবং এআই গ্রহণের গতি বাড়ানো এই অঞ্চলের জন্য গেমচেঞ্জার হতে পারে। কর্মীদের শিল্প, খাত ও অঞ্চলের মধ্যে সহজ স্থানান্তর নিশ্চিত করা গেলে উৎপাদনশীলতা, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান—সবই বাড়বে।”
চেয়ারম্যান ও সম্পাদকঃ সামসুল আলমবার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আসআদ
কপিরাইট © ২০২৫ ডি এস কে টিভি চ্যানেল
আপনার মতামত লিখুন