জ্বালানি সংকট, বিদ্যুৎ খাতের পরিস্থিতি, সরকারি খাদ্য মজুত এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারদর নিয়ে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে নোয়াখালীর মাইজদী পৌর বাজারে প্রচারপত্র বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মোঃ শাহজাহানের উপস্থিতিতে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
কর্মসূচিতে বাজারের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিতরণ করা লিফলেটে ২০২৪, ২০২৫ ও বর্তমান সময়ের বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা, জ্বালানি সংকট, সরকারি খাদ্য মজুত, বোরো ধান-চাল সংগ্রহ এবং খোলাবাজারে খাদ্যপণ্য বিক্রির কার্যক্রম নিয়েও তথ্য ও বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়।
আয়োজকদের দাবি, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার মধ্যেও দেশের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার পরিস্থিতি তুলে ধরা এবং সরকারের কার্যক্রম সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করাই এ কর্মসূচির উদ্দেশ্য। তবে লিফলেটে থাকা রাজনৈতিক বক্তব্য ও পরিসংখ্যানকে সংশ্লিষ্ট প্রচারপত্রের দাবি হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
লিফলেটে উল্লেখিত নিত্যপণ্যের দাম
লিফলেটের ‘নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল’ শিরোনামের অংশে ২০২৪ ও ২০২৫ সালের সঙ্গে বর্তমান সময়ের বিভিন্ন পণ্যের দাম তুলনা করা হয়েছে। সেখানে উল্লেখিত দামগুলো নিচে তুলে ধরা হলো।
চাল ও ডাল:
- মোটা চাল: ২০২৪ সালে প্রতি কেজি ৫৫–৬০ টাকা, ২০২৫ সালেও ৫৫–৬০ টাকা; বর্তমানে ৫২–৬০ টাকা।
- মসুর ডাল: ২০২৪ সালে প্রতি কেজি ১০৯–১১০ টাকা, ২০২৫ সালে ৯৫–১০০ টাকা; বর্তমানে ৯০–১০০ টাকা।
মসলা ও অন্যান্য নিত্যপণ্য:
- পেঁয়াজ: ২০২৪ সালে প্রতি কেজি ১১০–১২০ টাকা, ২০২৫ সালে ৭৫–৮০ টাকা; বর্তমানে ৪০–৫০ টাকা।
- রসুন: ২০২৪ সালে প্রতি কেজি ২২০–২৩০ টাকা, ২০২৫ সালে ৯০–১৩০ টাকা; বর্তমানে ৭০–১২০ টাকা।
- আদা: ২০২৪ সালে প্রতি কেজি ২৮০–৩০০ টাকা, ২০২৫ সালে ১৩০–১৮০ টাকা; বর্তমানে ১২০–১৭০ টাকা।
- কাঁচামরিচ: ২০২৪ সালে প্রতি কেজি ২৪০–৩০০ টাকা, ২০২৫ সালে ১৬০–১৮০ টাকা; বর্তমানে ৬০–১৪০ টাকা।
- চিনি: ২০২৪ সালে প্রতি কেজি ১৩০–১৩৫ টাকা, ২০২৫ সালে ১০৫–১১০ টাকা; বর্তমানে ১০৫–১১০ টাকা।
- আলু: ২০২৪ সালে প্রতি কেজি ৬০–৭০ টাকা, ২০২৫ সালে ২৫–৩০ টাকা; বর্তমানে ২০–৩০ টাকা।
মাছ, মাংস ও ডিম:
- রুই মাছ: ২০২৪ সালে প্রতি কেজি ৪০০–৬০০ টাকা, ২০২৫ সালে ৪০০–৪৭০ টাকা; বর্তমানে ৩০০–৫০০ টাকা।
- পাঙ্গাস মাছ: ২০২৪ সালে প্রতি কেজি ২০০–২৫০ টাকা, ২০২৫ সালে ২০০–৩০০ টাকা; বর্তমানে ১৮০–২৫০ টাকা।
- গরুর মাংস: ২০২৪ সালে প্রতি কেজি ৮০০–৮৫০ টাকা, ২০২৫ সালে ৭৫০–৮০০ টাকা; বর্তমানে ৭৫০–৮০০ টাকা।
- খাসির মাংস: ২০২৪ সালে প্রতি কেজি ১ হাজার–১ হাজার ১৫০ টাকা; লিফলেটে বর্তমান দাম ১ হাজার ১০০–১ হাজার ২০০ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের অঙ্কটি ছবিতে স্পষ্ট নয়।
- ব্রয়লার মুরগি: ২০২৪ সালে প্রতি কেজি ১৭০–১৮০ টাকা, ২০২৫ সালে ১৮০–১৯০ টাকা; বর্তমানে ১৭০–১৯০ টাকা।
- ডিম: ২০২৪ সালে প্রতি ডজন ১৪০–১৫০ টাকা; ২০২৫ সালে ১৩৫–১৪০ টাকা; বর্তমানে ১২০–১৫০ টাকা।
লিফলেটে এসব দামের তুলনা দিয়ে দাবি করা হয়েছে, কয়েকটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আগের সময়ের তুলনায় কমেছে এবং কিছু পণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। তবে এগুলো প্রচারপত্রে উল্লেখিত তুলনামূলক দাম। কোন বাজারে এবং কোন তারিখে বর্তমান দাম সংগ্রহ করা হয়েছে, তা ছবিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই। তাই এসব দামকে একই সময়ের সারা দেশের সরকারি গড় বাজারদর হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।
খাদ্য মজুত নিয়ে লিফলেটের দাবি
লিফলেটের দ্বিতীয় অংশে ‘রেকর্ড খাদ্য মজুত’ শিরোনামে সরকারি খাদ্যগুদামে খাদ্যশস্যের মজুতের কথা তুলে ধরা হয়েছে। এতে দাবি করা হয়েছে, ২০২৬ সালের ১৯ আগস্ট প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দেশে সরকারি গুদামে ২৪ লাখ টনের বেশি খাদ্যশস্য মজুত ছিল।
লিফলেটে মজুতের বিস্তারিত হিসাব হিসেবে প্রায় ২০ লাখ ৮৪ হাজার ৭৮১ টন চাল, ২ লাখ ৪৮ হাজার ৪৮১ টন গম এবং ১ লাখ ৮ হাজার ১৯৭ টন ধানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই সংখ্যাগুলোর যোগফল ও সংশ্লিষ্ট তারিখের সরকারি হিসাবের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১২ অক্টোবর পর্যন্ত সরকারি গুদামে চাল, গম ও ধান মিলিয়ে খাদ্যশস্যের মজুত ছিল ২২ লাখ ৮৫ হাজার ৬২ মেট্রিক টন। ভাসমান মজুতসহ মোট পরিমাণ ছিল ২৩ লাখ ৬৬ হাজার ৯৮৫ মেট্রিক টন। ফলে লিফলেটে উল্লেখ করা ২৪ লাখ টনের বেশি মজুতের দাবি এবং পরবর্তী সময়ের সরকারি হিসাব এক নয়। তারিখ ও হিসাবের আওতা উল্লেখ না করে এ দুই তথ্যকে একই সময়ের পরিসংখ্যান হিসেবে প্রকাশ করা ঠিক হবে না।
বোরো ধান ও চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা
লিফলেটে ২০২৬ সালের বোরো মৌসুমে সরকারি সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এতে পাঁচ লাখ মেট্রিক টন ধান, ১২ লাখ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল এবং এক লাখ মেট্রিক টন আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে।
সরকারি সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ এবং বাস্তবে কতটুকু ধান-চাল সংগ্রহ করা হয়েছে, তা আলাদা বিষয়। তাই লক্ষ্যমাত্রার তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি ঘোষণা এবং সংগ্রহের অগ্রগতির হিসাব পৃথকভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
ওএমএস কার্যক্রম ও খাদ্যপণ্যের দাম
সাধারণ মানুষের ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ কমানো এবং বাজারে খাদ্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার উদ্যোগ হিসেবে লিফলেটে খোলাবাজারে খাদ্যপণ্য বিক্রি বা ওএমএস কার্যক্রমের কথা তুলে ধরা হয়েছে।
লিফলেটে প্রতি কেজি চাল ৩০ টাকা, খোলা আটা ২৪ টাকা এবং দুই কেজির প্যাকেটজাত আটা ৫৫ টাকায় বিক্রির কথা উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি দেশজুড়ে ১ হাজার ১১১টি কেন্দ্রে ওএমএস কার্যক্রম পরিচালনার দাবি করা হয়েছে। লিফলেটে প্রতিদিন ১ হাজার ১৯৫ টন চাল ও ১ হাজার ৪৪৩ টন আটা বিক্রির তথ্যও দেওয়া হয়েছে।
তবে ১৮ অক্টোবর ২০২৬-এ প্রকাশিত দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের এক প্রতিবেদনে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যের বরাতে বলা হয়েছে, ২০২৬–২৭ অর্থবছরে ওএমএসের আওতায় ২ লাখ ৪০ হাজার টন চাল ও ৩ লাখ ৫০ হাজার টন আটা বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং দেশজুড়ে ১ হাজার ১২৫টি বিক্রয়কেন্দ্র রয়েছে। ওই প্রতিবেদনে চাল, খোলা আটা ও প্যাকেটজাত আটার দামও লিফলেটে উল্লিখিত দামের সঙ্গে মিলে যায়।
এ ছাড়া লিফলেটে টিসিবির মাধ্যমে প্রতি মাসে ৬৭ লাখের বেশি ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের কাছে ৩০ টাকা কেজি দরে চাল সরবরাহ এবং জরুরি খাদ্যসহায়তার অংশ হিসেবে ৮৬৩টি উপজেলা বিক্রয়কেন্দ্রে প্রতিদিন ৪০৬ টন চাল বিতরণের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। এসব পরিসংখ্যানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির সময়কাল ও সরকারি উৎস যাচাই করা প্রয়োজন।
বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ও সংকটের প্রসঙ্গ
লিফলেটের প্রথম অংশে ‘বিদ্যুৎ সংকট: আওয়ামী লীগ-ই দায়ী’ শিরোনামে বিদ্যুৎ খাতের অতীত নীতি ও ব্যবস্থাপনার সমালোচনা করা হয়েছে। এতে দাবি করা হয়েছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়লেও জ্বালানি ও অর্থায়নের সীমাবদ্ধতার কারণে সেই সক্ষমতা অনুযায়ী উৎপাদন বাড়েনি। বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন, কেন্দ্রভাড়া ও ক্যাপাসিটি চার্জ নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
লিফলেটে ২০২৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত দৈনিক প্রথম আলোর একটি প্রতিবেদনের উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ২০০৯ সালের পর দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা পাঁচ গুণের বেশি বেড়েছে, কিন্তু প্রকৃত উৎপাদন বেড়েছে ৩ দশমিক ৬ গুণ। একই সঙ্গে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভাড়া বা ক্যাপাসিটি চার্জ বেড়েছে প্রায় ১৬ গুণ বলে দাবি করা হয়েছে।
প্রচারপত্রে আরও বলা হয়েছে, একসময় দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ছিল প্রায় ছয় হাজার মেগাওয়াট; পরে তা বেড়ে প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছায়। কিন্তু এই সক্ষমতার পুরোটা ব্যবহার করা যায়নি বলে লিফলেটে উল্লেখ রয়েছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা, নির্দিষ্ট সময়ে প্রকৃত উৎপাদন এবং কেন্দ্রভাড়া বা ক্যাপাসিটি চার্জ আলাদা সূচক। এসব তুলনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সময়ের সরকারি পরিসংখ্যান ও প্রতিবেদনের মূল তথ্য মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। লিফলেটে উত্থাপিত বক্তব্যগুলো তাই আয়োজকদের রাজনৈতিক মূল্যায়ন হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।
২০২২ সাল থেকে জ্বালানি সংকট ও লোডশেডিংয়ের দাবি
লিফলেটে বলা হয়েছে, ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাস, তেলসহ বিভিন্ন জ্বালানির দাম বেড়ে যায়। একই সময়ে দেশে ডলারের সংকট, জ্বালানি আমদানির ব্যয় বৃদ্ধি এবং বিদ্যুৎ খাতের বকেয়া বাড়ার বিষয়গুলো সংকটকে আরও জটিল করে তোলে বলে প্রচারপত্রে দাবি করা হয়েছে।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২০ ও ২০২১ সালে করোনা মহামারির কারণে অফিস-আদালত ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সীমিত থাকায় বিদ্যুতের চাহিদা তুলনামূলক কম ছিল। পরবর্তী সময়ে চাহিদা বাড়ার সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহের সীমাবদ্ধতা বিদ্যুৎ খাতে চাপ তৈরি করে বলে লিফলেটের বক্তব্য।
প্রচারপত্রে ২০২২ সালের জুলাই মাসে পরিকল্পিত লোডশেডিংয়ের ঘোষণা এবং বাস্তবে বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগও তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি ২০২৪ ও ২০২৫ সালেও একই ধরনের লোডশেডিংয়ের পরিস্থিতি ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
লিফলেটে অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকাও সমালোচনা করা হয়েছে। তবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণ নির্ধারণে আন্তর্জাতিক বাজার, আমদানির সক্ষমতা, বৈদেশিক মুদ্রার প্রাপ্যতা, উৎপাদন সক্ষমতা ও বিদ্যুতের চাহিদাসহ একাধিক বিষয় বিবেচনায় নিতে হয়। তাই রাজনৈতিক প্রচারপত্রে দেওয়া মূল্যায়নকে স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা তথ্যের সঙ্গে এক করে দেখা যাবে না।
বাজার স্থিতিশীল রাখার দাবি
লিফলেটের ‘নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল’ অংশে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার মধ্যেও দেশের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হয়েছে। এতে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) তথ্য এবং খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমার প্রসঙ্গও উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রচারপত্রে দাবি করা হয়েছে, বাজার ব্যবস্থাপনা, সরবরাহ পর্যবেক্ষণ, সরকারি উদ্যোগ ও অর্থনৈতিক পদক্ষেপের ফলে কিছু পণ্যের দাম কমেছে। তবে কোনো নির্দিষ্ট সময়ের খাদ্য মূল্যস্ফীতি বা বাজারদরের পরিবর্তন মূল্যায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন, পরিসংখ্যানের সময়কাল এবং পণ্যের ধরন যাচাই করা প্রয়োজন।
লিফলেটে দেওয়া পণ্যমূল্যের তুলনা থেকে বোঝা যায়, আয়োজকেরা আগের বছরগুলোর সঙ্গে বর্তমান সময়ের দাম মিলিয়ে বাজার পরিস্থিতির একটি চিত্র তুলে ধরতে চেয়েছেন। কিন্তু দামের পরিবর্তন সব পণ্যে সমান নয় এবং বাজার, মান ও সময়ভেদে পার্থক্য হতে পারে।
ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রচারপত্র বিতরণ
নোয়াখালীর মাইজদী পৌর বাজারে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বাজারের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের হাতে লিফলেট তুলে দেওয়া হয়। কর্মসূচিতে নোয়াখালী জেলা বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকদের বক্তব্য, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট, খাদ্য মজুত এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো এবং সরকারের কার্যক্রম সম্পর্কে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ অক্টোবর ২০২৬
জ্বালানি সংকট, বিদ্যুৎ খাতের পরিস্থিতি, সরকারি খাদ্য মজুত এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারদর নিয়ে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে নোয়াখালীর মাইজদী পৌর বাজারে প্রচারপত্র বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মোঃ শাহজাহানের উপস্থিতিতে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
কর্মসূচিতে বাজারের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিতরণ করা লিফলেটে ২০২৪, ২০২৫ ও বর্তমান সময়ের বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা, জ্বালানি সংকট, সরকারি খাদ্য মজুত, বোরো ধান-চাল সংগ্রহ এবং খোলাবাজারে খাদ্যপণ্য বিক্রির কার্যক্রম নিয়েও তথ্য ও বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়।
আয়োজকদের দাবি, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার মধ্যেও দেশের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার পরিস্থিতি তুলে ধরা এবং সরকারের কার্যক্রম সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করাই এ কর্মসূচির উদ্দেশ্য। তবে লিফলেটে থাকা রাজনৈতিক বক্তব্য ও পরিসংখ্যানকে সংশ্লিষ্ট প্রচারপত্রের দাবি হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
লিফলেটে উল্লেখিত নিত্যপণ্যের দাম
লিফলেটের ‘নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল’ শিরোনামের অংশে ২০২৪ ও ২০২৫ সালের সঙ্গে বর্তমান সময়ের বিভিন্ন পণ্যের দাম তুলনা করা হয়েছে। সেখানে উল্লেখিত দামগুলো নিচে তুলে ধরা হলো।
চাল ও ডাল:
- মোটা চাল: ২০২৪ সালে প্রতি কেজি ৫৫–৬০ টাকা, ২০২৫ সালেও ৫৫–৬০ টাকা; বর্তমানে ৫২–৬০ টাকা।
- মসুর ডাল: ২০২৪ সালে প্রতি কেজি ১০৯–১১০ টাকা, ২০২৫ সালে ৯৫–১০০ টাকা; বর্তমানে ৯০–১০০ টাকা।
মসলা ও অন্যান্য নিত্যপণ্য:
- পেঁয়াজ: ২০২৪ সালে প্রতি কেজি ১১০–১২০ টাকা, ২০২৫ সালে ৭৫–৮০ টাকা; বর্তমানে ৪০–৫০ টাকা।
- রসুন: ২০২৪ সালে প্রতি কেজি ২২০–২৩০ টাকা, ২০২৫ সালে ৯০–১৩০ টাকা; বর্তমানে ৭০–১২০ টাকা।
- আদা: ২০২৪ সালে প্রতি কেজি ২৮০–৩০০ টাকা, ২০২৫ সালে ১৩০–১৮০ টাকা; বর্তমানে ১২০–১৭০ টাকা।
- কাঁচামরিচ: ২০২৪ সালে প্রতি কেজি ২৪০–৩০০ টাকা, ২০২৫ সালে ১৬০–১৮০ টাকা; বর্তমানে ৬০–১৪০ টাকা।
- চিনি: ২০২৪ সালে প্রতি কেজি ১৩০–১৩৫ টাকা, ২০২৫ সালে ১০৫–১১০ টাকা; বর্তমানে ১০৫–১১০ টাকা।
- আলু: ২০২৪ সালে প্রতি কেজি ৬০–৭০ টাকা, ২০২৫ সালে ২৫–৩০ টাকা; বর্তমানে ২০–৩০ টাকা।
মাছ, মাংস ও ডিম:
- রুই মাছ: ২০২৪ সালে প্রতি কেজি ৪০০–৬০০ টাকা, ২০২৫ সালে ৪০০–৪৭০ টাকা; বর্তমানে ৩০০–৫০০ টাকা।
- পাঙ্গাস মাছ: ২০২৪ সালে প্রতি কেজি ২০০–২৫০ টাকা, ২০২৫ সালে ২০০–৩০০ টাকা; বর্তমানে ১৮০–২৫০ টাকা।
- গরুর মাংস: ২০২৪ সালে প্রতি কেজি ৮০০–৮৫০ টাকা, ২০২৫ সালে ৭৫০–৮০০ টাকা; বর্তমানে ৭৫০–৮০০ টাকা।
- খাসির মাংস: ২০২৪ সালে প্রতি কেজি ১ হাজার–১ হাজার ১৫০ টাকা; লিফলেটে বর্তমান দাম ১ হাজার ১০০–১ হাজার ২০০ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের অঙ্কটি ছবিতে স্পষ্ট নয়।
- ব্রয়লার মুরগি: ২০২৪ সালে প্রতি কেজি ১৭০–১৮০ টাকা, ২০২৫ সালে ১৮০–১৯০ টাকা; বর্তমানে ১৭০–১৯০ টাকা।
- ডিম: ২০২৪ সালে প্রতি ডজন ১৪০–১৫০ টাকা; ২০২৫ সালে ১৩৫–১৪০ টাকা; বর্তমানে ১২০–১৫০ টাকা।
লিফলেটে এসব দামের তুলনা দিয়ে দাবি করা হয়েছে, কয়েকটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আগের সময়ের তুলনায় কমেছে এবং কিছু পণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। তবে এগুলো প্রচারপত্রে উল্লেখিত তুলনামূলক দাম। কোন বাজারে এবং কোন তারিখে বর্তমান দাম সংগ্রহ করা হয়েছে, তা ছবিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই। তাই এসব দামকে একই সময়ের সারা দেশের সরকারি গড় বাজারদর হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।
খাদ্য মজুত নিয়ে লিফলেটের দাবি
লিফলেটের দ্বিতীয় অংশে ‘রেকর্ড খাদ্য মজুত’ শিরোনামে সরকারি খাদ্যগুদামে খাদ্যশস্যের মজুতের কথা তুলে ধরা হয়েছে। এতে দাবি করা হয়েছে, ২০২৬ সালের ১৯ আগস্ট প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দেশে সরকারি গুদামে ২৪ লাখ টনের বেশি খাদ্যশস্য মজুত ছিল।
লিফলেটে মজুতের বিস্তারিত হিসাব হিসেবে প্রায় ২০ লাখ ৮৪ হাজার ৭৮১ টন চাল, ২ লাখ ৪৮ হাজার ৪৮১ টন গম এবং ১ লাখ ৮ হাজার ১৯৭ টন ধানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই সংখ্যাগুলোর যোগফল ও সংশ্লিষ্ট তারিখের সরকারি হিসাবের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১২ অক্টোবর পর্যন্ত সরকারি গুদামে চাল, গম ও ধান মিলিয়ে খাদ্যশস্যের মজুত ছিল ২২ লাখ ৮৫ হাজার ৬২ মেট্রিক টন। ভাসমান মজুতসহ মোট পরিমাণ ছিল ২৩ লাখ ৬৬ হাজার ৯৮৫ মেট্রিক টন। ফলে লিফলেটে উল্লেখ করা ২৪ লাখ টনের বেশি মজুতের দাবি এবং পরবর্তী সময়ের সরকারি হিসাব এক নয়। তারিখ ও হিসাবের আওতা উল্লেখ না করে এ দুই তথ্যকে একই সময়ের পরিসংখ্যান হিসেবে প্রকাশ করা ঠিক হবে না।
বোরো ধান ও চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা
লিফলেটে ২০২৬ সালের বোরো মৌসুমে সরকারি সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এতে পাঁচ লাখ মেট্রিক টন ধান, ১২ লাখ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল এবং এক লাখ মেট্রিক টন আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে।
সরকারি সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ এবং বাস্তবে কতটুকু ধান-চাল সংগ্রহ করা হয়েছে, তা আলাদা বিষয়। তাই লক্ষ্যমাত্রার তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি ঘোষণা এবং সংগ্রহের অগ্রগতির হিসাব পৃথকভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
ওএমএস কার্যক্রম ও খাদ্যপণ্যের দাম
সাধারণ মানুষের ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ কমানো এবং বাজারে খাদ্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার উদ্যোগ হিসেবে লিফলেটে খোলাবাজারে খাদ্যপণ্য বিক্রি বা ওএমএস কার্যক্রমের কথা তুলে ধরা হয়েছে।
লিফলেটে প্রতি কেজি চাল ৩০ টাকা, খোলা আটা ২৪ টাকা এবং দুই কেজির প্যাকেটজাত আটা ৫৫ টাকায় বিক্রির কথা উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি দেশজুড়ে ১ হাজার ১১১টি কেন্দ্রে ওএমএস কার্যক্রম পরিচালনার দাবি করা হয়েছে। লিফলেটে প্রতিদিন ১ হাজার ১৯৫ টন চাল ও ১ হাজার ৪৪৩ টন আটা বিক্রির তথ্যও দেওয়া হয়েছে।
তবে ১৮ অক্টোবর ২০২৬-এ প্রকাশিত দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের এক প্রতিবেদনে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যের বরাতে বলা হয়েছে, ২০২৬–২৭ অর্থবছরে ওএমএসের আওতায় ২ লাখ ৪০ হাজার টন চাল ও ৩ লাখ ৫০ হাজার টন আটা বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং দেশজুড়ে ১ হাজার ১২৫টি বিক্রয়কেন্দ্র রয়েছে। ওই প্রতিবেদনে চাল, খোলা আটা ও প্যাকেটজাত আটার দামও লিফলেটে উল্লিখিত দামের সঙ্গে মিলে যায়।
এ ছাড়া লিফলেটে টিসিবির মাধ্যমে প্রতি মাসে ৬৭ লাখের বেশি ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের কাছে ৩০ টাকা কেজি দরে চাল সরবরাহ এবং জরুরি খাদ্যসহায়তার অংশ হিসেবে ৮৬৩টি উপজেলা বিক্রয়কেন্দ্রে প্রতিদিন ৪০৬ টন চাল বিতরণের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। এসব পরিসংখ্যানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির সময়কাল ও সরকারি উৎস যাচাই করা প্রয়োজন।
বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ও সংকটের প্রসঙ্গ
লিফলেটের প্রথম অংশে ‘বিদ্যুৎ সংকট: আওয়ামী লীগ-ই দায়ী’ শিরোনামে বিদ্যুৎ খাতের অতীত নীতি ও ব্যবস্থাপনার সমালোচনা করা হয়েছে। এতে দাবি করা হয়েছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়লেও জ্বালানি ও অর্থায়নের সীমাবদ্ধতার কারণে সেই সক্ষমতা অনুযায়ী উৎপাদন বাড়েনি। বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন, কেন্দ্রভাড়া ও ক্যাপাসিটি চার্জ নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
লিফলেটে ২০২৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত দৈনিক প্রথম আলোর একটি প্রতিবেদনের উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ২০০৯ সালের পর দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা পাঁচ গুণের বেশি বেড়েছে, কিন্তু প্রকৃত উৎপাদন বেড়েছে ৩ দশমিক ৬ গুণ। একই সঙ্গে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভাড়া বা ক্যাপাসিটি চার্জ বেড়েছে প্রায় ১৬ গুণ বলে দাবি করা হয়েছে।
প্রচারপত্রে আরও বলা হয়েছে, একসময় দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ছিল প্রায় ছয় হাজার মেগাওয়াট; পরে তা বেড়ে প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছায়। কিন্তু এই সক্ষমতার পুরোটা ব্যবহার করা যায়নি বলে লিফলেটে উল্লেখ রয়েছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা, নির্দিষ্ট সময়ে প্রকৃত উৎপাদন এবং কেন্দ্রভাড়া বা ক্যাপাসিটি চার্জ আলাদা সূচক। এসব তুলনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সময়ের সরকারি পরিসংখ্যান ও প্রতিবেদনের মূল তথ্য মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। লিফলেটে উত্থাপিত বক্তব্যগুলো তাই আয়োজকদের রাজনৈতিক মূল্যায়ন হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।
২০২২ সাল থেকে জ্বালানি সংকট ও লোডশেডিংয়ের দাবি
লিফলেটে বলা হয়েছে, ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাস, তেলসহ বিভিন্ন জ্বালানির দাম বেড়ে যায়। একই সময়ে দেশে ডলারের সংকট, জ্বালানি আমদানির ব্যয় বৃদ্ধি এবং বিদ্যুৎ খাতের বকেয়া বাড়ার বিষয়গুলো সংকটকে আরও জটিল করে তোলে বলে প্রচারপত্রে দাবি করা হয়েছে।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২০ ও ২০২১ সালে করোনা মহামারির কারণে অফিস-আদালত ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সীমিত থাকায় বিদ্যুতের চাহিদা তুলনামূলক কম ছিল। পরবর্তী সময়ে চাহিদা বাড়ার সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহের সীমাবদ্ধতা বিদ্যুৎ খাতে চাপ তৈরি করে বলে লিফলেটের বক্তব্য।
প্রচারপত্রে ২০২২ সালের জুলাই মাসে পরিকল্পিত লোডশেডিংয়ের ঘোষণা এবং বাস্তবে বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগও তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি ২০২৪ ও ২০২৫ সালেও একই ধরনের লোডশেডিংয়ের পরিস্থিতি ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
লিফলেটে অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকাও সমালোচনা করা হয়েছে। তবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণ নির্ধারণে আন্তর্জাতিক বাজার, আমদানির সক্ষমতা, বৈদেশিক মুদ্রার প্রাপ্যতা, উৎপাদন সক্ষমতা ও বিদ্যুতের চাহিদাসহ একাধিক বিষয় বিবেচনায় নিতে হয়। তাই রাজনৈতিক প্রচারপত্রে দেওয়া মূল্যায়নকে স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা তথ্যের সঙ্গে এক করে দেখা যাবে না।
বাজার স্থিতিশীল রাখার দাবি
লিফলেটের ‘নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল’ অংশে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার মধ্যেও দেশের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হয়েছে। এতে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) তথ্য এবং খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমার প্রসঙ্গও উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রচারপত্রে দাবি করা হয়েছে, বাজার ব্যবস্থাপনা, সরবরাহ পর্যবেক্ষণ, সরকারি উদ্যোগ ও অর্থনৈতিক পদক্ষেপের ফলে কিছু পণ্যের দাম কমেছে। তবে কোনো নির্দিষ্ট সময়ের খাদ্য মূল্যস্ফীতি বা বাজারদরের পরিবর্তন মূল্যায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন, পরিসংখ্যানের সময়কাল এবং পণ্যের ধরন যাচাই করা প্রয়োজন।
লিফলেটে দেওয়া পণ্যমূল্যের তুলনা থেকে বোঝা যায়, আয়োজকেরা আগের বছরগুলোর সঙ্গে বর্তমান সময়ের দাম মিলিয়ে বাজার পরিস্থিতির একটি চিত্র তুলে ধরতে চেয়েছেন। কিন্তু দামের পরিবর্তন সব পণ্যে সমান নয় এবং বাজার, মান ও সময়ভেদে পার্থক্য হতে পারে।
ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রচারপত্র বিতরণ
নোয়াখালীর মাইজদী পৌর বাজারে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বাজারের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের হাতে লিফলেট তুলে দেওয়া হয়। কর্মসূচিতে নোয়াখালী জেলা বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকদের বক্তব্য, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট, খাদ্য মজুত এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো এবং সরকারের কার্যক্রম সম্পর্কে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন