এক প্লেট ভাতের জন্য এমন পরিণতি! খুলনায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের মৃত্যু।
মেসে কাউকে না জানিয়ে ভাত খাওয়ার অভিযোগ—আর সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্মম নির্যাতনের পর প্রাণ গেল ২১ বছরের এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর!
ঘটনাটি ঘটেছে খুলনার ইসলামনগর রোডের একটি ছাত্রমেসে। নিহত আজমুল হোসেন চুয়াডাঙ্গার দর্শনা এলাকার বাসিন্দা এবং খুলনা নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের প্রথম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার মাত্র ১০ দিন পরই তার জীবনের এমন করুণ পরিণতি হলো।
স্থানীয় ও গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে মেসে অন্যের ভাত খাওয়াকে কেন্দ্র করে আজমুলের সঙ্গে কয়েকজনের বিরোধ হয়। অভিযোগ রয়েছে, মেসের ম্যানেজারসহ কয়েকজন তাকে চারতলার ছাদে নিয়ে মারধর করেন। পরে ছাদ থেকে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন আজমুল। তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন এবং দুই পা ভাঙা ছিল বলে হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে।
সবচেয়ে হৃদয়বিদারক অভিযোগ এসেছে আজমুলের বাবার কাছ থেকে। তাঁর দাবি, রাত ১২টার পর ছেলের মোবাইল থেকে একজন ফোন করে এক লাখ টাকা নিয়ে আসতে বলা হয়। টাকা না দিলে ছেলেকে পাওয়া যাবে না বলেও জানানো হয়। তবে এই দাবির বিস্তারিত বিষয় পুলিশ তদন্ত করছে।
কান্নায় ভেঙে পড়ে আজমুলের বাবা বলেন,
“আমি কার কাছে এ বিচার দিব? আমি কারো কাছে বিচার দিব না। আমরা গরিব মানুষ, বাড়ি অনেক দূরে। আল্লাহর কাছে বিচার দিলাম।”
এ ঘটনায় নিহতের বাবা থানায় মামলা করেছেন এবং চারজনকে আসামি করা হয়েছে বলে আজকের প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একজন তরুণের ভুল হয়ে থাকলে তার সমাধান হতে পারত কথা বলে, নিয়ম বুঝিয়ে কিংবা প্রয়োজন হলে মেস কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে। কিন্তু অভিযোগ সত্য হলে, একটি খাবারকে কেন্দ্র করে কাউকে মারধর করে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ নিঃসন্দেহে অত্যন্ত গুরুতর।
আজমুলের পরিবারের কাছে এখন একটাই প্রশ্ন—তাদের সন্তানের মৃত্যুর সঠিক তদন্ত এবং ন্যায়বিচার কি তারা পাবেন?
আহা, মাত্র ২১ বছরের একটি জীবন। স্বপ্ন ছিল পড়াশোনা করে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।

রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
এক প্লেট ভাতের জন্য এমন পরিণতি! খুলনায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের মৃত্যু।
মেসে কাউকে না জানিয়ে ভাত খাওয়ার অভিযোগ—আর সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্মম নির্যাতনের পর প্রাণ গেল ২১ বছরের এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর!
ঘটনাটি ঘটেছে খুলনার ইসলামনগর রোডের একটি ছাত্রমেসে। নিহত আজমুল হোসেন চুয়াডাঙ্গার দর্শনা এলাকার বাসিন্দা এবং খুলনা নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের প্রথম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার মাত্র ১০ দিন পরই তার জীবনের এমন করুণ পরিণতি হলো।
স্থানীয় ও গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে মেসে অন্যের ভাত খাওয়াকে কেন্দ্র করে আজমুলের সঙ্গে কয়েকজনের বিরোধ হয়। অভিযোগ রয়েছে, মেসের ম্যানেজারসহ কয়েকজন তাকে চারতলার ছাদে নিয়ে মারধর করেন। পরে ছাদ থেকে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন আজমুল। তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন এবং দুই পা ভাঙা ছিল বলে হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে।
সবচেয়ে হৃদয়বিদারক অভিযোগ এসেছে আজমুলের বাবার কাছ থেকে। তাঁর দাবি, রাত ১২টার পর ছেলের মোবাইল থেকে একজন ফোন করে এক লাখ টাকা নিয়ে আসতে বলা হয়। টাকা না দিলে ছেলেকে পাওয়া যাবে না বলেও জানানো হয়। তবে এই দাবির বিস্তারিত বিষয় পুলিশ তদন্ত করছে।
কান্নায় ভেঙে পড়ে আজমুলের বাবা বলেন,
“আমি কার কাছে এ বিচার দিব? আমি কারো কাছে বিচার দিব না। আমরা গরিব মানুষ, বাড়ি অনেক দূরে। আল্লাহর কাছে বিচার দিলাম।”
এ ঘটনায় নিহতের বাবা থানায় মামলা করেছেন এবং চারজনকে আসামি করা হয়েছে বলে আজকের প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একজন তরুণের ভুল হয়ে থাকলে তার সমাধান হতে পারত কথা বলে, নিয়ম বুঝিয়ে কিংবা প্রয়োজন হলে মেস কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে। কিন্তু অভিযোগ সত্য হলে, একটি খাবারকে কেন্দ্র করে কাউকে মারধর করে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ নিঃসন্দেহে অত্যন্ত গুরুতর।
আজমুলের পরিবারের কাছে এখন একটাই প্রশ্ন—তাদের সন্তানের মৃত্যুর সঠিক তদন্ত এবং ন্যায়বিচার কি তারা পাবেন?
আহা, মাত্র ২১ বছরের একটি জীবন। স্বপ্ন ছিল পড়াশোনা করে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।

আপনার মতামত লিখুন