সরকারি ব্যাংকে দেড় লাখ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ, সম্পদ মূল্যায়নে নামছে সরকার
প্রকাশের তারিখ : ২২ অক্টোবর ২০২৫
সরকারি ব্যাংকে দেড় লাখ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ, সম্পদ মূল্যায়নে নামছে সরকার
দেশের চারটি প্রধান রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে দেড় লাখ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার এবার এসব ব্যাংকের সম্পদ মূল্যায়নের (Asset Valuation) উদ্যোগ নিচ্ছে। এ কাজে কারিগরি সহায়তা দেবে বিশ্বব্যাংক।
অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানান, অন্তর্বর্তী সরকার সরকারি ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থা স্বচ্ছভাবে পর্যালোচনা করতে চায়। এজন্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে নিরপেক্ষ অডিট ফার্মের মাধ্যমে সম্পদ মূল্যায়ন সম্পন্ন করা হবে।
তিনি বলেন, “আমরা প্রথম পর্যায়ে সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকের সম্পদ ও দায়ের বাস্তব অবস্থা যাচাই করব। বিশ্বব্যাংক এই প্রক্রিয়ায় কারিগরি সহায়তা দেবে। পুরো প্রক্রিয়ায় কয়েক মাস সময় লাগবে।”
তবে ব্যাংকগুলো একীভূত করা বা বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের বিষয়ে তিনি বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে এমন বড় সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব নয়। এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার।”
খেলাপি ঋণের চিত্র
গত ডিসেম্বরে রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ছিল ১ লাখ ৩৩ হাজার ২৫ কোটি টাকা। ২০২৫ সালের জুন নাগাদ তা বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ৪৬ হাজার ৩৬২ কোটি টাকায়, অর্থাৎ মাত্র ছয় মাসে বেড়েছে ১৩ হাজার ৩৩৭ কোটি টাকা।
এর মধ্যে—
সোনালী ব্যাংক: ১৯,৮১৮ কোটি টাকা
জনতা ব্যাংক: ৭২,১০৭ কোটি টাকা
অন্যদিকে, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকেও অনিয়ম ও ঋণ খেলাপির পরিমাণ ক্রমবর্ধমান।
ব্যাংক খাতে সংকটের প্রেক্ষাপট
দেশে সরকারি-বেসরকারি ও বিদেশি মিলিয়ে ৬১টি তফসিলি ব্যাংকে প্রায় ২০ লাখ কোটি টাকার আমানত রয়েছে। তবে এর চারভাগের এক ভাগই নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও খেলাপির কারণে কার্যত বেহাত হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সরকার ইতোমধ্যে পাঁচটি দুর্বল বেসরকারি ব্যাংক একীভূত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে, পাশাপাশি কয়েকটির অডিটও চলছে।
তবে অর্থ উপদেষ্টা জানিয়েছেন, বেসিক ব্যাংক ও পদ্মা ব্যাংক নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের তৎক্ষণাৎ কোনো পদক্ষেপের পরিকল্পনা নেই
চেয়ারম্যান ও সম্পাদকঃ সামসুল আলমবার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আসআদ
কপিরাইট © ২০২৫ ডি এস কে টিভি চ্যানেল
আপনার মতামত লিখুন