ডি এস কে টিভি চ্যানেল
প্রকাশ : রোববার, ২১ জুন ২০২৬

একই দিনে শিশু, বাবা ও দাদির মৃত্যু, শোকে স্তব্ধ একটি পরিবার

একই দিনে শিশু, বাবা ও দাদির মৃত্যু, শোকে স্তব্ধ একটি পরিবার

মাথায় গুরুতর আ'ঘাত নিয়ে হাসপাতালে শিশু, জীবন বাঁচাতে জরুরি অস্ত্রোপচার—

মাথায় গুরুতর আ'ঘাত নিয়ে হাসপাতালে শিশু, জীবন বাঁচাতে জরুরি অস্ত্রোপচার—

এক রাতের মাহফিলে লাখ টাকা, অথচ সারা বছর ইমামের ন্যায্য বেতন দিতে অনীহা! প্রশ্ন তুললেন ফাতেমা আয়াত

এক রাতের মাহফিলে লাখ টাকা, অথচ সারা বছর ইমামের ন্যায্য বেতন দিতে অনীহা! প্রশ্ন তুললেন ফাতেমা আয়াত

চোখের আলো কমলেও স্বপ্ন থামেনি, যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি অর্জন তানভীরের

চোখের আলো কমলেও স্বপ্ন থামেনি, যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি অর্জন তানভীরের

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এইচআরডিএসের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এইচআরডিএসের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

দুই হাতের আঙুল নেই, পা দিয়ে লিখে স্বপ্নের পথে কলি

দুই হাতের আঙুল নেই, পা দিয়ে লিখে স্বপ্নের পথে কলি

এইচএসসিতে ৩০০ পরীক্ষার্থীর ২৪৭ জনই ফেল, শিক্ষকদের ফুল দিয়ে ছাত্রদলের অভিনব প্রতিবাদ

এইচএসসিতে ৩০০ পরীক্ষার্থীর ২৪৭ জনই ফেল, শিক্ষকদের ফুল দিয়ে ছাত্রদলের অভিনব প্রতিবাদ

দুর্ঘটনায় পা ভেঙে অসহায় বাবা, মায়ের সঙ্গে যায়নি ছোট্ট মেয়ে! বাবার সেবায় দিন কাটছে শিশুটির

দুর্ঘটনায় পা ভেঙে অসহায় বাবা, মায়ের সঙ্গে যায়নি ছোট্ট মেয়ে! বাবার সেবায় দিন কাটছে শিশুটির

তাদের বৃদ্ধ দাদা হাসেন আলী ও দাদী বেলী খাতুন।

একদিন খেয়ে, একদিন না খেয়ে—চরাঞ্চলে তিন শিশুর বেঁচে থাকার লড়াই

একদিন খেয়ে, একদিন না খেয়ে—চরাঞ্চলে তিন শিশুর বেঁচে থাকার লড়াই

একদিন খেয়ে, একদিন না খেয়ে—চরাঞ্চলে তিন শিশুর বেঁচে থাকার লড়াই—

বাবা নেই, মা ছেড়ে চলে গেছেন—শাক-আলু ভর্তা খেয়ে তিন ভাইবোনের বেঁচে থাকার সংগ্রাম, সহায়তায় মিলল ১ লাখ টাকা ও একটি গরু

সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার মাইজবাড়ী ইউনিয়নের নতুন মাইজবাড়ী চরাঞ্চলে তিন অসহায় শিশুর জীবনসংগ্রামের গল্প অনেকের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। বাবা মারা গেছেন দুই বছর আগে, আর তার কিছুদিন পরই মা সন্তানদের ছেড়ে চলে যান। এরপর থেকে ১২ বছরের আছিয়া, ৯ বছরের জিহাদ ও ৩ বছরের হালিমার দেখাশোনা করছেন তাদের বৃদ্ধ দাদা হাসেন আলী ও দাদী বেলী খাতুন।

চরম দারিদ্র্যের মধ্যে দিন কাটছে পরিবারটির। অনেক সময় একবেলা খাবার জুটলেও আরেকবেলা না খেয়েই থাকতে হয়। শাক ও আলু ভর্তা খেয়েই অধিকাংশ দিন পার করে তারা। স্থানীয় স্কুলে পড়াশোনা করছে আছিয়া ও জিহাদ, তবে অভাবের কারণে তাদের শিক্ষাজীবনও অনিশ্চয়তার মুখে।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে আছিয়া বলে, “বাবা বেঁচে থাকলে আমাদের খাবারের কষ্ট হতো না। মা-ও চলে গেছে, কোনো খবর নেয় না। একদিন খেলে আরেকদিন না খেয়ে থাকতে হয়। ঈদে দাদা আমাদের একটা জামাও কিনে দিতে পারেননি।”

বৃদ্ধ দাদা হাসেন আলী জানান, ছেলের মৃত্যুর পর তিন নাতি-নাতনিকে নিয়ে অত্যন্ত কষ্টে দিন পার করছেন তিনি। বয়সের ভারে কাজ করার শক্তিও কমে গেছে। তারপরও যতটুকু পারেন, নাতি-নাতনিদের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার চেষ্টা করেন।

তিনি বলেন, “ভালো খাবার দিতে পারি না। ঈদে নতুন কাপড় কিনে দিতে পারিনি। চরাঞ্চলে ওদের নিয়ে খুব কষ্টে আছি। সমাজের বিত্তবান মানুষদের কাছে আমার অনুরোধ, তারা যেন আমার নাতি-নাতনিদের পাশে দাঁড়ান।”

তিন ভাইবোনের এই করুণ গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এগিয়ে আসেন অনেক সহৃদয় মানুষ। সবার সহযোগিতায় তাদের জন্য ১ লাখ টাকার সহায়তা তহবিল গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি একটি গরু এবং প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীও তুলে দেওয়া হয়েছে পরিবারটির হাতে।

সহায়তা পেয়ে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে পরিবারটিতে। স্থানীয়রা আশা করছেন, সমাজের আরও বিত্তবান ও মানবিক মানুষ এগিয়ে এলে আছিয়া, জিহাদ ও হালিমার ভবিষ্যৎ আরও নিরাপদ হবে এবং তারা নতুন করে স্বপ্ন দেখার সুযোগ পাবে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডি এস কে টিভি চ্যানেল

বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬


একদিন খেয়ে, একদিন না খেয়ে—চরাঞ্চলে তিন শিশুর বেঁচে থাকার লড়াই

প্রকাশের তারিখ : ২১ জুন ২০২৬

featured Image

একদিন খেয়ে, একদিন না খেয়ে—চরাঞ্চলে তিন শিশুর বেঁচে থাকার লড়াই—

বাবা নেই, মা ছেড়ে চলে গেছেন—শাক-আলু ভর্তা খেয়ে তিন ভাইবোনের বেঁচে থাকার সংগ্রাম, সহায়তায় মিলল ১ লাখ টাকা ও একটি গরু

সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার মাইজবাড়ী ইউনিয়নের নতুন মাইজবাড়ী চরাঞ্চলে তিন অসহায় শিশুর জীবনসংগ্রামের গল্প অনেকের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। বাবা মারা গেছেন দুই বছর আগে, আর তার কিছুদিন পরই মা সন্তানদের ছেড়ে চলে যান। এরপর থেকে ১২ বছরের আছিয়া, ৯ বছরের জিহাদ ও ৩ বছরের হালিমার দেখাশোনা করছেন তাদের বৃদ্ধ দাদা হাসেন আলী ও দাদী বেলী খাতুন।

চরম দারিদ্র্যের মধ্যে দিন কাটছে পরিবারটির। অনেক সময় একবেলা খাবার জুটলেও আরেকবেলা না খেয়েই থাকতে হয়। শাক ও আলু ভর্তা খেয়েই অধিকাংশ দিন পার করে তারা। স্থানীয় স্কুলে পড়াশোনা করছে আছিয়া ও জিহাদ, তবে অভাবের কারণে তাদের শিক্ষাজীবনও অনিশ্চয়তার মুখে।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে আছিয়া বলে, “বাবা বেঁচে থাকলে আমাদের খাবারের কষ্ট হতো না। মা-ও চলে গেছে, কোনো খবর নেয় না। একদিন খেলে আরেকদিন না খেয়ে থাকতে হয়। ঈদে দাদা আমাদের একটা জামাও কিনে দিতে পারেননি।”

বৃদ্ধ দাদা হাসেন আলী জানান, ছেলের মৃত্যুর পর তিন নাতি-নাতনিকে নিয়ে অত্যন্ত কষ্টে দিন পার করছেন তিনি। বয়সের ভারে কাজ করার শক্তিও কমে গেছে। তারপরও যতটুকু পারেন, নাতি-নাতনিদের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার চেষ্টা করেন।

তিনি বলেন, “ভালো খাবার দিতে পারি না। ঈদে নতুন কাপড় কিনে দিতে পারিনি। চরাঞ্চলে ওদের নিয়ে খুব কষ্টে আছি। সমাজের বিত্তবান মানুষদের কাছে আমার অনুরোধ, তারা যেন আমার নাতি-নাতনিদের পাশে দাঁড়ান।”

তিন ভাইবোনের এই করুণ গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এগিয়ে আসেন অনেক সহৃদয় মানুষ। সবার সহযোগিতায় তাদের জন্য ১ লাখ টাকার সহায়তা তহবিল গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি একটি গরু এবং প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীও তুলে দেওয়া হয়েছে পরিবারটির হাতে।

সহায়তা পেয়ে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে পরিবারটিতে। স্থানীয়রা আশা করছেন, সমাজের আরও বিত্তবান ও মানবিক মানুষ এগিয়ে এলে আছিয়া, জিহাদ ও হালিমার ভবিষ্যৎ আরও নিরাপদ হবে এবং তারা নতুন করে স্বপ্ন দেখার সুযোগ পাবে।


ডি এস কে টিভি চ্যানেল

চেয়ারম্যান ও সম্পাদকঃ সামসুল আলম
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আসআদ

কপিরাইট © ২০২৫ ডি এস কে টিভি চ্যানেল