ডি এস কে টিভি চ্যানেল
প্রকাশ : রোববার, ২১ জুন ২০২৬

যে ডকুমেন্টারিতে আবু সাঈদের ছবি নেই, সেটা কোনো ডকুমেন্টারি নয়: ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি

যে ডকুমেন্টারিতে আবু সাঈদের ছবি নেই, সেটা কোনো ডকুমেন্টারি নয়: ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি

নোয়াখালীতে প্রবাসীর স্ত্রীকে পি'প্তল ঠেকিয়ে চাঁ'দাবাজি, গ্রেপ্তার-১

নোয়াখালীতে প্রবাসীর স্ত্রীকে পি'প্তল ঠেকিয়ে চাঁ'দাবাজি, গ্রেপ্তার-১

দেশজুড়ে বিদ্যুৎ ও গ্যাস অফিসের সামনে অবস্থান নেবে ১১ দলীয় জোট

দেশজুড়ে বিদ্যুৎ ও গ্যাস অফিসের সামনে অবস্থান নেবে ১১ দলীয় জোট

যানজটে আটকে হাসপাতালে পৌঁছাতে না পেরে সড়কেই সন্তান প্রসব, নবজাতক এনআইসিইউতে

যানজটে আটকে হাসপাতালে পৌঁছাতে না পেরে সড়কেই সন্তান প্রসব, নবজাতক এনআইসিইউতে

১০০ টাকা ঘুষে মাত্র ১২০ টাকার গ্যাস, ধুঁকছে সিএনজি স্টেশন

১০০ টাকা ঘুষে মাত্র ১২০ টাকার গ্যাস, ধুঁকছে সিএনজি স্টেশন

আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউটের উদ্বোধন করলেন সেনাপ্রধান

আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউটের উদ্বোধন করলেন সেনাপ্রধান

পিকআপের ধাক্কায় প্রাণ গেল মসজিদের খতিব ও মুয়াজ্জিনের

পিকআপের ধাক্কায় প্রাণ গেল মসজিদের খতিব ও মুয়াজ্জিনের

বাউবি ছাত্র অ্যাসোসিয়েশন গাজীপুর জেলা কমিটির, গাজীপুর উপ-আঞ্চলিক পরিচালকের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ

বাউবি ছাত্র অ্যাসোসিয়েশন গাজীপুর জেলা কমিটির, গাজীপুর উপ-আঞ্চলিক পরিচালকের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ

তাদের বৃদ্ধ দাদা হাসেন আলী ও দাদী বেলী খাতুন।

একদিন খেয়ে, একদিন না খেয়ে—চরাঞ্চলে তিন শিশুর বেঁচে থাকার লড়াই

একদিন খেয়ে, একদিন না খেয়ে—চরাঞ্চলে তিন শিশুর বেঁচে থাকার লড়াই

একদিন খেয়ে, একদিন না খেয়ে—চরাঞ্চলে তিন শিশুর বেঁচে থাকার লড়াই—

বাবা নেই, মা ছেড়ে চলে গেছেন—শাক-আলু ভর্তা খেয়ে তিন ভাইবোনের বেঁচে থাকার সংগ্রাম, সহায়তায় মিলল ১ লাখ টাকা ও একটি গরু

সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার মাইজবাড়ী ইউনিয়নের নতুন মাইজবাড়ী চরাঞ্চলে তিন অসহায় শিশুর জীবনসংগ্রামের গল্প অনেকের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। বাবা মারা গেছেন দুই বছর আগে, আর তার কিছুদিন পরই মা সন্তানদের ছেড়ে চলে যান। এরপর থেকে ১২ বছরের আছিয়া, ৯ বছরের জিহাদ ও ৩ বছরের হালিমার দেখাশোনা করছেন তাদের বৃদ্ধ দাদা হাসেন আলী ও দাদী বেলী খাতুন।

চরম দারিদ্র্যের মধ্যে দিন কাটছে পরিবারটির। অনেক সময় একবেলা খাবার জুটলেও আরেকবেলা না খেয়েই থাকতে হয়। শাক ও আলু ভর্তা খেয়েই অধিকাংশ দিন পার করে তারা। স্থানীয় স্কুলে পড়াশোনা করছে আছিয়া ও জিহাদ, তবে অভাবের কারণে তাদের শিক্ষাজীবনও অনিশ্চয়তার মুখে।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে আছিয়া বলে, “বাবা বেঁচে থাকলে আমাদের খাবারের কষ্ট হতো না। মা-ও চলে গেছে, কোনো খবর নেয় না। একদিন খেলে আরেকদিন না খেয়ে থাকতে হয়। ঈদে দাদা আমাদের একটা জামাও কিনে দিতে পারেননি।”

বৃদ্ধ দাদা হাসেন আলী জানান, ছেলের মৃত্যুর পর তিন নাতি-নাতনিকে নিয়ে অত্যন্ত কষ্টে দিন পার করছেন তিনি। বয়সের ভারে কাজ করার শক্তিও কমে গেছে। তারপরও যতটুকু পারেন, নাতি-নাতনিদের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার চেষ্টা করেন।

তিনি বলেন, “ভালো খাবার দিতে পারি না। ঈদে নতুন কাপড় কিনে দিতে পারিনি। চরাঞ্চলে ওদের নিয়ে খুব কষ্টে আছি। সমাজের বিত্তবান মানুষদের কাছে আমার অনুরোধ, তারা যেন আমার নাতি-নাতনিদের পাশে দাঁড়ান।”

তিন ভাইবোনের এই করুণ গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এগিয়ে আসেন অনেক সহৃদয় মানুষ। সবার সহযোগিতায় তাদের জন্য ১ লাখ টাকার সহায়তা তহবিল গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি একটি গরু এবং প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীও তুলে দেওয়া হয়েছে পরিবারটির হাতে।

সহায়তা পেয়ে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে পরিবারটিতে। স্থানীয়রা আশা করছেন, সমাজের আরও বিত্তবান ও মানবিক মানুষ এগিয়ে এলে আছিয়া, জিহাদ ও হালিমার ভবিষ্যৎ আরও নিরাপদ হবে এবং তারা নতুন করে স্বপ্ন দেখার সুযোগ পাবে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডি এস কে টিভি চ্যানেল

বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬


একদিন খেয়ে, একদিন না খেয়ে—চরাঞ্চলে তিন শিশুর বেঁচে থাকার লড়াই

প্রকাশের তারিখ : ২১ জুন ২০২৬

featured Image

একদিন খেয়ে, একদিন না খেয়ে—চরাঞ্চলে তিন শিশুর বেঁচে থাকার লড়াই—

বাবা নেই, মা ছেড়ে চলে গেছেন—শাক-আলু ভর্তা খেয়ে তিন ভাইবোনের বেঁচে থাকার সংগ্রাম, সহায়তায় মিলল ১ লাখ টাকা ও একটি গরু

সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার মাইজবাড়ী ইউনিয়নের নতুন মাইজবাড়ী চরাঞ্চলে তিন অসহায় শিশুর জীবনসংগ্রামের গল্প অনেকের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। বাবা মারা গেছেন দুই বছর আগে, আর তার কিছুদিন পরই মা সন্তানদের ছেড়ে চলে যান। এরপর থেকে ১২ বছরের আছিয়া, ৯ বছরের জিহাদ ও ৩ বছরের হালিমার দেখাশোনা করছেন তাদের বৃদ্ধ দাদা হাসেন আলী ও দাদী বেলী খাতুন।

চরম দারিদ্র্যের মধ্যে দিন কাটছে পরিবারটির। অনেক সময় একবেলা খাবার জুটলেও আরেকবেলা না খেয়েই থাকতে হয়। শাক ও আলু ভর্তা খেয়েই অধিকাংশ দিন পার করে তারা। স্থানীয় স্কুলে পড়াশোনা করছে আছিয়া ও জিহাদ, তবে অভাবের কারণে তাদের শিক্ষাজীবনও অনিশ্চয়তার মুখে।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে আছিয়া বলে, “বাবা বেঁচে থাকলে আমাদের খাবারের কষ্ট হতো না। মা-ও চলে গেছে, কোনো খবর নেয় না। একদিন খেলে আরেকদিন না খেয়ে থাকতে হয়। ঈদে দাদা আমাদের একটা জামাও কিনে দিতে পারেননি।”

বৃদ্ধ দাদা হাসেন আলী জানান, ছেলের মৃত্যুর পর তিন নাতি-নাতনিকে নিয়ে অত্যন্ত কষ্টে দিন পার করছেন তিনি। বয়সের ভারে কাজ করার শক্তিও কমে গেছে। তারপরও যতটুকু পারেন, নাতি-নাতনিদের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার চেষ্টা করেন।

তিনি বলেন, “ভালো খাবার দিতে পারি না। ঈদে নতুন কাপড় কিনে দিতে পারিনি। চরাঞ্চলে ওদের নিয়ে খুব কষ্টে আছি। সমাজের বিত্তবান মানুষদের কাছে আমার অনুরোধ, তারা যেন আমার নাতি-নাতনিদের পাশে দাঁড়ান।”

তিন ভাইবোনের এই করুণ গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এগিয়ে আসেন অনেক সহৃদয় মানুষ। সবার সহযোগিতায় তাদের জন্য ১ লাখ টাকার সহায়তা তহবিল গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি একটি গরু এবং প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীও তুলে দেওয়া হয়েছে পরিবারটির হাতে।

সহায়তা পেয়ে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে পরিবারটিতে। স্থানীয়রা আশা করছেন, সমাজের আরও বিত্তবান ও মানবিক মানুষ এগিয়ে এলে আছিয়া, জিহাদ ও হালিমার ভবিষ্যৎ আরও নিরাপদ হবে এবং তারা নতুন করে স্বপ্ন দেখার সুযোগ পাবে।


ডি এস কে টিভি চ্যানেল

চেয়ারম্যান ও সম্পাদকঃ সামসুল আলম
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আসআদ

কপিরাইট © ২০২৫ ডি এস কে টিভি চ্যানেল