ডি এস কে টিভি চ্যানেল
প্রকাশ : সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫

শত মানুষের ভিড়ে বাবাকে খুঁজছে ছোট্ট আব্দুল্লাহ আর পারিসা

শত মানুষের ভিড়ে বাবাকে খুঁজছে ছোট্ট আব্দুল্লাহ আর পারিসা
মেট্রোরেল দুর্ঘটনা শত মানুষের ভিড়ে বাবাকে খুঁজছে ছোট্ট আব্দুল্লাহ আর পারিসা ঢাকার ফার্মগেটের ব্যস্ত সড়কে রোববার দুপুরে ঘটে যায় এক মর্মান্তিক ঘটনা। এক মুহূর্তেই ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় একটি পরিবারের স্বপ্ন—পথচারী আবুল কালাম আজাদ হারিয়ে যান চিরতরে। এখন শত মানুষের ভিড়ের মাঝেও তাঁর ছোট ছেলে আব্দুল্লাহ (৫) আর মেয়ে পারিসা (৩) কেবল বাবাকে খুঁজছে। মায়ের চোখের কান্না দেখে শিশুরা বুঝে নিচ্ছে—কিছু একটা ভয়ংকর ঘটে গেছে। তবু তাদের সরল প্রশ্ন, “বাবা কবে আসবে?”—চারপাশের মানুষকে স্তব্ধ করে দিচ্ছে। রোববার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে ফার্মগেট এলাকায় মেট্রোরেলের একটি বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়ে পথচারী আবুল কালাম আজাদের মাথায় লাগে। ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। পুলিশ পরে মরদেহ উদ্ধার করে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে পাঠায়। নিহত আজাদের গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার মোক্তারের চর ইউনিয়নের ঈশ্বরকাঠী গ্রামে। তিনি স্ত্রী আইরিন আক্তার প্রিয়া ও দুই সন্তানকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জের পাঠানতলি এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি। ঢাকার একটি বেসরকারি এজেন্সিতে কাজ করতেন এবং প্রতি মাসে গ্রামের বাড়িতে টাকা পাঠাতেন। স্বামীর অকাল মৃত্যুর পর প্রিয়া এখন দিশেহারা। চোখে অনিশ্চয়তার ছায়া, হাতে দুটি অবুঝ মুখ। সাংবাদিকদের সামনে কেঁদে কেঁদে বলেন, > “আমার হাজবেন্ড ছাড়া এই পৃথিবীতে আমাদের কেউ নেই। এই ছোট বাচ্চাগুলো নিয়ে কীভাবে চলবো জানি না। আমি শুধু চাই—আমার স্বামীর মতো যেন আর কোনো পরিবারের এমন ক্ষতি না হয়।” সরকারের পক্ষ থেকে পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণের ঘোষণা দেওয়া হলেও এখনো সেই অর্থ পরিবারের হাতে পৌঁছায়নি বলে জানান তিনি। নিহতের চাচাতো ভাই আব্দুল গণি বলেন, > “পাঁচ লাখ টাকায় কি দুইটা বাচ্চার ভবিষ্যৎ গড়া সম্ভব? আমরা সরকারের কাছে অন্তত এক কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ চাই, যেন ওদের ভবিষ্যৎ নিরাপদ হয়।” আরেক আত্মীয় কাওসার আহমেদ বলেন, > “মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। আমরা সঠিক তদন্ত ও দায়ীদের কঠোর শাস্তি চাই।” এ বিষয়ে নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল কাইয়ুম খান জানান, > “বিষয়টি আমরা গণমাধ্যমের মাধ্যমে জেনেছি। মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা পেলে ক্ষতিপূরণের বিষয়টি নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এদিকে, এলাকাবাসীও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন—একজন পরিশ্রমী মানুষের জীবনহানির ঘটনায় শুধু দুঃখ প্রকাশ নয়, মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষকে দায় নিতে হবে। তারা সরকারের কাছে দাবি জানান, নিহতের পরিবারের জন্য স্থায়ী সহায়তার ব্যবস্থা করা হোক। ফার্মগেটের সেই দুর্ঘটনা এখন শুধু একটি খবর নয়, বরং এক মায়ের কান্না আর দুই সন্তানের শূন্য অপেক্ষার গল্প—যেখানে প্রত্যেকটি নিশ্বাসে লুকিয়ে আছে হারিয়ে যাওয়া এক বাবার স্মৃতি।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডি এস কে টিভি চ্যানেল

শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬


শত মানুষের ভিড়ে বাবাকে খুঁজছে ছোট্ট আব্দুল্লাহ আর পারিসা

প্রকাশের তারিখ : ২৭ অক্টোবর ২০২৫

featured Image
মেট্রোরেল দুর্ঘটনা শত মানুষের ভিড়ে বাবাকে খুঁজছে ছোট্ট আব্দুল্লাহ আর পারিসা ঢাকার ফার্মগেটের ব্যস্ত সড়কে রোববার দুপুরে ঘটে যায় এক মর্মান্তিক ঘটনা। এক মুহূর্তেই ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় একটি পরিবারের স্বপ্ন—পথচারী আবুল কালাম আজাদ হারিয়ে যান চিরতরে। এখন শত মানুষের ভিড়ের মাঝেও তাঁর ছোট ছেলে আব্দুল্লাহ (৫) আর মেয়ে পারিসা (৩) কেবল বাবাকে খুঁজছে। মায়ের চোখের কান্না দেখে শিশুরা বুঝে নিচ্ছে—কিছু একটা ভয়ংকর ঘটে গেছে। তবু তাদের সরল প্রশ্ন, “বাবা কবে আসবে?”—চারপাশের মানুষকে স্তব্ধ করে দিচ্ছে। রোববার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে ফার্মগেট এলাকায় মেট্রোরেলের একটি বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়ে পথচারী আবুল কালাম আজাদের মাথায় লাগে। ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। পুলিশ পরে মরদেহ উদ্ধার করে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে পাঠায়। নিহত আজাদের গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার মোক্তারের চর ইউনিয়নের ঈশ্বরকাঠী গ্রামে। তিনি স্ত্রী আইরিন আক্তার প্রিয়া ও দুই সন্তানকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জের পাঠানতলি এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি। ঢাকার একটি বেসরকারি এজেন্সিতে কাজ করতেন এবং প্রতি মাসে গ্রামের বাড়িতে টাকা পাঠাতেন। স্বামীর অকাল মৃত্যুর পর প্রিয়া এখন দিশেহারা। চোখে অনিশ্চয়তার ছায়া, হাতে দুটি অবুঝ মুখ। সাংবাদিকদের সামনে কেঁদে কেঁদে বলেন, > “আমার হাজবেন্ড ছাড়া এই পৃথিবীতে আমাদের কেউ নেই। এই ছোট বাচ্চাগুলো নিয়ে কীভাবে চলবো জানি না। আমি শুধু চাই—আমার স্বামীর মতো যেন আর কোনো পরিবারের এমন ক্ষতি না হয়।” সরকারের পক্ষ থেকে পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণের ঘোষণা দেওয়া হলেও এখনো সেই অর্থ পরিবারের হাতে পৌঁছায়নি বলে জানান তিনি। নিহতের চাচাতো ভাই আব্দুল গণি বলেন, > “পাঁচ লাখ টাকায় কি দুইটা বাচ্চার ভবিষ্যৎ গড়া সম্ভব? আমরা সরকারের কাছে অন্তত এক কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ চাই, যেন ওদের ভবিষ্যৎ নিরাপদ হয়।” আরেক আত্মীয় কাওসার আহমেদ বলেন, > “মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। আমরা সঠিক তদন্ত ও দায়ীদের কঠোর শাস্তি চাই।” এ বিষয়ে নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল কাইয়ুম খান জানান, > “বিষয়টি আমরা গণমাধ্যমের মাধ্যমে জেনেছি। মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা পেলে ক্ষতিপূরণের বিষয়টি নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এদিকে, এলাকাবাসীও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন—একজন পরিশ্রমী মানুষের জীবনহানির ঘটনায় শুধু দুঃখ প্রকাশ নয়, মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষকে দায় নিতে হবে। তারা সরকারের কাছে দাবি জানান, নিহতের পরিবারের জন্য স্থায়ী সহায়তার ব্যবস্থা করা হোক। ফার্মগেটের সেই দুর্ঘটনা এখন শুধু একটি খবর নয়, বরং এক মায়ের কান্না আর দুই সন্তানের শূন্য অপেক্ষার গল্প—যেখানে প্রত্যেকটি নিশ্বাসে লুকিয়ে আছে হারিয়ে যাওয়া এক বাবার স্মৃতি।

ডি এস কে টিভি চ্যানেল

চেয়ারম্যান ও সম্পাদকঃ সামসুল আলম
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আসআদ

কপিরাইট © ২০২৫ ডি এস কে টিভি চ্যানেল