হাসান মাহমুদ জয়, ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
জন্ম থেকেই দুই পা অচল। যাতায়াতের একমাত্র সম্বল সরকারিভাবে পাওয়া একটি ট্রাই-সাইকেল। কিন্তু এই শারীরিক সীমাবদ্ধতা দমাতে পারেনি কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার মেধাবী তরুণ মোশাররফ হোসেনকে (২৬)। সব বাধা জয় করে তিনি এখন ফাজিল প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। তবে দারিদ্র্য এখন তার উচ্চশিক্ষার পথে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
লড়াকু এক জীবনের গল্প:
উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাগভাণ্ডার গ্রামের ক্বারী মো. নুরুল ইসলামের ছেলে মোশাররফ হোসেন। বাবা স্থানীয় মসজিদের মোয়াজ্জেম। অভাবের সংসারে মোশাররফ কখনো নিজেকে বোঝা মনে করেননি। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি ছিল তার তীব্র ঝোঁক। হুইলচেয়ারে বসেই মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়ে এখন তিনি কুড়িগ্রাম ভূরুঙ্গামারী ফাজিল মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত।
বিশ্রামহীন পথচলা:
মোশাররফের দিন শুরু হয় সকাল ১০টা পর্যন্ত নিজের বাড়ির সামনের ছোট একটি মুদির দোকানে বসে। এরপর মাদ্রাসা থাকলে সেখানে ছুটে যান। পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের খরচ চালাতে তিনি ভূরুঙ্গামারী কলেজ মোড়ে একটি কম্পিউটারের দোকানে কাজ করেন। সেখানে তিনি অনলাইন আবেদন, ই-টিন রেজিস্ট্রেশন, পাসপোর্ট ও ভোটার আইডি কার্ডের কাজসহ যাবতীয় ইন্টারনেট ব্রাউজিংয়ে দারুণ দক্ষ। কাজ শেষে আবারও রাতে দোকানে বসে সংসারের হাল ধরার চেষ্টা করেন।
অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও মেধার স্বাক্ষর:
মোশাররফ হোসেন বলেন, "আমার জীবনটা সাধারণ মানুষের মতো সহজ নয়। অনেক কষ্ট ও ইচ্ছাশক্তিতে আজ এই পর্যন্ত এসেছি। আমি কারো করুণা চাই না, বরং মেধার জোরে স্বাবলম্বী হয়ে অন্য প্রতিবন্ধীদের জন্য অনুপ্রেরণা হতে চাই। সরকারি বা বেসরকারি কোনো প্রজেক্টে যদি কাজ করার সুযোগ পাই, তবে আমি আমার লক্ষ্য পূরণ করতে পারব।"
আর্থিক সংকটে উচ্চশিক্ষা:
তার বাবা ক্বারী মো. নুরুল ইসলাম জানান, মসজিদের সামান্য আয়ে পরিবারের ভরণপোষণ ও ছেলের পড়াশোনা চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। মাদ্রাসার অধ্যক্ষের মতে, মোশাররফ অত্যন্ত মেধাবী ও নিয়মিত ছাত্র। প্রতিষ্ঠান থেকে তাকে ছাড় দেওয়া হলেও তার ওষুধ ও শিক্ষা উপকরণের জন্য বিশেষ আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা:
স্থানীয়রা জানান, মোশাররফ শারীরিক প্রতিবন্ধী হলেও তার মেধা ও পরিশ্রম প্রশংসনীয়। একটু সরকারি বা বিত্তবানদের সহযোগিতা পেলে এই ছেলেটি অনেক দূর এগিয়ে যাবে এবং সমাজের সম্পদে পরিণত হবে।
শিক্ষা জীবন সচল রাখতে মোশাররফ হোসেন এখন সমাজ ও রাষ্ট্রের হৃদয়বান ব্যক্তিদের সহযোগিতার পথ চেয়ে আছেন।
প্রতিবেদক: হাসান মাহমুদ জয়
তারিখ: ৭ মে, ২০২৬
স্থান: ভূরুঙ্গামারী, কুড়িগ্রাম।

বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ মে ২০২৬
হাসান মাহমুদ জয়, ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
জন্ম থেকেই দুই পা অচল। যাতায়াতের একমাত্র সম্বল সরকারিভাবে পাওয়া একটি ট্রাই-সাইকেল। কিন্তু এই শারীরিক সীমাবদ্ধতা দমাতে পারেনি কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার মেধাবী তরুণ মোশাররফ হোসেনকে (২৬)। সব বাধা জয় করে তিনি এখন ফাজিল প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। তবে দারিদ্র্য এখন তার উচ্চশিক্ষার পথে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
লড়াকু এক জীবনের গল্প:
উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাগভাণ্ডার গ্রামের ক্বারী মো. নুরুল ইসলামের ছেলে মোশাররফ হোসেন। বাবা স্থানীয় মসজিদের মোয়াজ্জেম। অভাবের সংসারে মোশাররফ কখনো নিজেকে বোঝা মনে করেননি। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি ছিল তার তীব্র ঝোঁক। হুইলচেয়ারে বসেই মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়ে এখন তিনি কুড়িগ্রাম ভূরুঙ্গামারী ফাজিল মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত।
বিশ্রামহীন পথচলা:
মোশাররফের দিন শুরু হয় সকাল ১০টা পর্যন্ত নিজের বাড়ির সামনের ছোট একটি মুদির দোকানে বসে। এরপর মাদ্রাসা থাকলে সেখানে ছুটে যান। পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের খরচ চালাতে তিনি ভূরুঙ্গামারী কলেজ মোড়ে একটি কম্পিউটারের দোকানে কাজ করেন। সেখানে তিনি অনলাইন আবেদন, ই-টিন রেজিস্ট্রেশন, পাসপোর্ট ও ভোটার আইডি কার্ডের কাজসহ যাবতীয় ইন্টারনেট ব্রাউজিংয়ে দারুণ দক্ষ। কাজ শেষে আবারও রাতে দোকানে বসে সংসারের হাল ধরার চেষ্টা করেন।
অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও মেধার স্বাক্ষর:
মোশাররফ হোসেন বলেন, "আমার জীবনটা সাধারণ মানুষের মতো সহজ নয়। অনেক কষ্ট ও ইচ্ছাশক্তিতে আজ এই পর্যন্ত এসেছি। আমি কারো করুণা চাই না, বরং মেধার জোরে স্বাবলম্বী হয়ে অন্য প্রতিবন্ধীদের জন্য অনুপ্রেরণা হতে চাই। সরকারি বা বেসরকারি কোনো প্রজেক্টে যদি কাজ করার সুযোগ পাই, তবে আমি আমার লক্ষ্য পূরণ করতে পারব।"
আর্থিক সংকটে উচ্চশিক্ষা:
তার বাবা ক্বারী মো. নুরুল ইসলাম জানান, মসজিদের সামান্য আয়ে পরিবারের ভরণপোষণ ও ছেলের পড়াশোনা চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। মাদ্রাসার অধ্যক্ষের মতে, মোশাররফ অত্যন্ত মেধাবী ও নিয়মিত ছাত্র। প্রতিষ্ঠান থেকে তাকে ছাড় দেওয়া হলেও তার ওষুধ ও শিক্ষা উপকরণের জন্য বিশেষ আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা:
স্থানীয়রা জানান, মোশাররফ শারীরিক প্রতিবন্ধী হলেও তার মেধা ও পরিশ্রম প্রশংসনীয়। একটু সরকারি বা বিত্তবানদের সহযোগিতা পেলে এই ছেলেটি অনেক দূর এগিয়ে যাবে এবং সমাজের সম্পদে পরিণত হবে।
শিক্ষা জীবন সচল রাখতে মোশাররফ হোসেন এখন সমাজ ও রাষ্ট্রের হৃদয়বান ব্যক্তিদের সহযোগিতার পথ চেয়ে আছেন।
প্রতিবেদক: হাসান মাহমুদ জয়
তারিখ: ৭ মে, ২০২৬
স্থান: ভূরুঙ্গামারী, কুড়িগ্রাম।

আপনার মতামত লিখুন