।
নিজস্ব প্রতিবেদক, কুড়িগ্রাম | ১৯ এপ্রিল, ২০২৬
কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে একটি আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের মূল হোতাসহ ৯ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে চুরি হওয়া ১০টি মোটরসাইকেল। সিসিটিভি ফুটেজ ও আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে গাজীপুর, লালমনিরহাট এবং কুড়িগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে জানুয়ারি ২০২৬-এর মধ্যে কুড়িগ্রাম সদর থানা এলাকার কোর্ট চত্বর, নিউরন ডায়াগনস্টিক সেন্টার, সদর হাসপাতাল ও জিয়া বাজার এলাকা থেকে বেশ কিছু মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে গত ১৭ জানুয়ারি হাসপাতাল পাড়ার 'নিউরন ক্লিনিক' থেকে একটি নীল রঙের টিভিএস অ্যাপাচি ১৬০ সিসি বাইক চুরির প্রেক্ষিতে মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী মোঃ নাজমুল ইসলাম।
কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি, পিপিএম-এর নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোঃ মাসুদ রানার তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ টিম তদন্ত শুরু করে।
গাজীপুর থেকে শুরু: এসআই মোঃ নওসাদ আলী ও তার টিম প্রথমে গাজীপুরের কাশিমপুর থেকে মূল চোর শাহজামাল ওরফে বাবু ও নুর ইসলামকে গ্রেফতার করে।
সহযোগী গ্রেফতার: তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন: মিঠুল পাশা, আনিছুর রহমান, খাইরুল ইসলাম বাবু, রফিকুল মাস্টার, আঃ বারেক, আজিজুল হক এবং খাইরুল আলম।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, বাবু মিয়া ও নুর ইসলামসহ চক্রের মাঠ পর্যায়ের সদস্যরা বিভিন্ন শহর থেকে বাইক চুরি করে নাগেশ্বরীর রফিকুল মাস্টার ও লালমনিরহাটের মিঠুল পাশার কাছে কম দামে বিক্রি করত। পরবর্তীতে রফিকুল ও মিঠুল চক্রের অন্য সদস্যদের সহযোগিতায় ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে সাধারণ মানুষের কাছে চুরির বাইকগুলো বেশি দামে বিক্রি করে আসছিল। এ বিষয়ে গ্রেফতারকৃত আসামী শাহজামাল, রফিকুল ও খাইরুল আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পুলিশ মোট ১০টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে, যার মধ্যে রয়েছে:
বাজাজ ডিসকভার (১১০ ও ১২৫ সিসি): ৫টি
পালসার (১৫০ সিসি): ৩টি
টিভিএস অ্যাপাচি আরটিআর: ২টি
উদ্ধারকৃত বাইকগুলোর মধ্যে ইতিমধ্যে ২টির মালিকানা যাচাই শেষে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। একটি বাইক মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের হেফাজতে রয়েছে এবং অবশিষ্ট ৭টি বাইক বর্তমানে কুড়িগ্রাম থানা হেফাজতে আছে। প্রকৃত মালিকানা যাচাই সাপেক্ষে আইনগত প্রক্রিয়ায় এগুলো হস্তান্তর করা হবে।
কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশ জানিয়েছে, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। এই চক্রের সাথে জড়িত অন্যান্যদের খুঁজে বের করার কাজও চলছে।
সংক্ষেপে গ্রেফতারকৃতদের তালিকা:
চোর চক্র: শাহজামাল ওরফে বাবু (রাজারহাট), নুর ইসলাম (জামালপুর), খাইরুল ইসলাম বাবু (উলিপুর), আঃ বারেক (নাগেশ্বরী)।
ক্রয়-বিক্রয় ও জালিয়াতি চক্র: রফিকুল ইসলাম (নাগেশ্বরী), মিঠুল পাশা (লালমনিরহাট), খায়রুল আলম (ফুলবাড়ী), আজিজুল হক (নাগেশ্বরী) ও আনিছুর রহমান (লালমনিরহাট)।

রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬
।
নিজস্ব প্রতিবেদক, কুড়িগ্রাম | ১৯ এপ্রিল, ২০২৬
কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে একটি আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের মূল হোতাসহ ৯ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে চুরি হওয়া ১০টি মোটরসাইকেল। সিসিটিভি ফুটেজ ও আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে গাজীপুর, লালমনিরহাট এবং কুড়িগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে জানুয়ারি ২০২৬-এর মধ্যে কুড়িগ্রাম সদর থানা এলাকার কোর্ট চত্বর, নিউরন ডায়াগনস্টিক সেন্টার, সদর হাসপাতাল ও জিয়া বাজার এলাকা থেকে বেশ কিছু মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে গত ১৭ জানুয়ারি হাসপাতাল পাড়ার 'নিউরন ক্লিনিক' থেকে একটি নীল রঙের টিভিএস অ্যাপাচি ১৬০ সিসি বাইক চুরির প্রেক্ষিতে মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী মোঃ নাজমুল ইসলাম।
কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি, পিপিএম-এর নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোঃ মাসুদ রানার তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ টিম তদন্ত শুরু করে।
গাজীপুর থেকে শুরু: এসআই মোঃ নওসাদ আলী ও তার টিম প্রথমে গাজীপুরের কাশিমপুর থেকে মূল চোর শাহজামাল ওরফে বাবু ও নুর ইসলামকে গ্রেফতার করে।
সহযোগী গ্রেফতার: তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন: মিঠুল পাশা, আনিছুর রহমান, খাইরুল ইসলাম বাবু, রফিকুল মাস্টার, আঃ বারেক, আজিজুল হক এবং খাইরুল আলম।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, বাবু মিয়া ও নুর ইসলামসহ চক্রের মাঠ পর্যায়ের সদস্যরা বিভিন্ন শহর থেকে বাইক চুরি করে নাগেশ্বরীর রফিকুল মাস্টার ও লালমনিরহাটের মিঠুল পাশার কাছে কম দামে বিক্রি করত। পরবর্তীতে রফিকুল ও মিঠুল চক্রের অন্য সদস্যদের সহযোগিতায় ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে সাধারণ মানুষের কাছে চুরির বাইকগুলো বেশি দামে বিক্রি করে আসছিল। এ বিষয়ে গ্রেফতারকৃত আসামী শাহজামাল, রফিকুল ও খাইরুল আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পুলিশ মোট ১০টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে, যার মধ্যে রয়েছে:
বাজাজ ডিসকভার (১১০ ও ১২৫ সিসি): ৫টি
পালসার (১৫০ সিসি): ৩টি
টিভিএস অ্যাপাচি আরটিআর: ২টি
উদ্ধারকৃত বাইকগুলোর মধ্যে ইতিমধ্যে ২টির মালিকানা যাচাই শেষে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। একটি বাইক মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের হেফাজতে রয়েছে এবং অবশিষ্ট ৭টি বাইক বর্তমানে কুড়িগ্রাম থানা হেফাজতে আছে। প্রকৃত মালিকানা যাচাই সাপেক্ষে আইনগত প্রক্রিয়ায় এগুলো হস্তান্তর করা হবে।
কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশ জানিয়েছে, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। এই চক্রের সাথে জড়িত অন্যান্যদের খুঁজে বের করার কাজও চলছে।
সংক্ষেপে গ্রেফতারকৃতদের তালিকা:
চোর চক্র: শাহজামাল ওরফে বাবু (রাজারহাট), নুর ইসলাম (জামালপুর), খাইরুল ইসলাম বাবু (উলিপুর), আঃ বারেক (নাগেশ্বরী)।
ক্রয়-বিক্রয় ও জালিয়াতি চক্র: রফিকুল ইসলাম (নাগেশ্বরী), মিঠুল পাশা (লালমনিরহাট), খায়রুল আলম (ফুলবাড়ী), আজিজুল হক (নাগেশ্বরী) ও আনিছুর রহমান (লালমনিরহাট)।

আপনার মতামত লিখুন