আপনার সংগৃহীত তথ্যগুলো ব্যবহার করে নিউজের জন্য একটি মার্জিত এবং বস্তুনিষ্ঠ খসড়া নিচে দেওয়া হলো:
নিজস্ব প্রতিবেদক, কুড়িগ্রাম কুড়িগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নতুন সদস্যভুক্তির ফি নজিরবিহীনভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। ২০২৬ সালে বার কাউন্সিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ আইনজীবীদের জন্য বয়স ও পেশাগত প্রেক্ষাপট ভেদে এই ফি আড়াই লাখ থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করেছে সমিতি। দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম বার হিসেবে পরিচিত ঢাকা আইনজীবী সমিতিতে যেখানে এই ফি সর্বোচ্চ সাড়ে ২৯ হাজার টাকা, সেখানে কুড়িগ্রামের মতো একটি জেলা বারে এমন চড়া ফি নির্ধারণকে ‘অন্যায্য’ ও ‘স্বেচ্ছাচারী’ বলছেন নবাগতরা।
গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সরদার তাজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নতুন ফি’র বিষয়ে জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নতুন সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে ফির হার নিম্নরূপ:
৪০ বছরের নিচে: ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
৪০ বছরের ঊর্ধ্বে: ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
বেসরকারি চাকরি থেকে আসা ব্যক্তি: ৪ লাখ টাকা।
সরকারি চাকরি থেকে আসা ব্যক্তি: ৫ লাখ টাকা।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ২০১৩ সালে এই সমিতিতে ভর্তি ফি ছিল মাত্র ২৯ হাজার টাকা। গত বছরও এটি ছিল এক লাখ টাকার সামান্য বেশি। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে সেই ফি কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া বর্তমানে প্রতিটি ওকালতনামার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০০ টাকা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নবাগত আইনজীবী জানান, আইন পেশার শুরুতে এই বিশাল অঙ্কের টাকা জোগাড় করা অনেকের জন্য অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেককে জমি বন্ধক রেখে বা চড়া সুদে ঋণ নিয়ে সদস্যপদের টাকা জমা দিতে হচ্ছে। তাদের দাবি, এটি মেধাবী নবাগতদের আইন পেশায় আসার পথ রুদ্ধ করার শামিল। এই ফি কমানোর বিষয়ে তারা বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ফি বৃদ্ধির বিষয়ে সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সরদার তাজুল ইসলাম বলেন, "এটি সমিতির সাধারণ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত সিদ্ধান্ত। কুড়িগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি তার সদস্যদের অন্যান্য বারের তুলনায় অনেক বেশি সুযোগ-সুবিধা প্রদান করে।"
তিনি আরও জানান, সমিতির সদস্যরা বর্তমানে বছরে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা উৎসব ভাতা, প্রতি মাসে ২ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা এবং ডিপিএস বাবদ আরও ২ হাজার টাকা সুবিধা পেয়ে থাকেন। নতুন সদস্যরাও যোগদানের পর থেকে এসব সুবিধার আওতাভুক্ত হবেন বলেই এই ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।
বর্তমানে কুড়িগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য সংখ্যা প্রায় ৩০০ জন। চলতি বছর আরও প্রায় অর্ধশতাধিক নতুন সদস্য এই সমিতিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে উচ্চহারের এই ফি নিয়ে আইনজীবী মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬
আপনার সংগৃহীত তথ্যগুলো ব্যবহার করে নিউজের জন্য একটি মার্জিত এবং বস্তুনিষ্ঠ খসড়া নিচে দেওয়া হলো:
নিজস্ব প্রতিবেদক, কুড়িগ্রাম কুড়িগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নতুন সদস্যভুক্তির ফি নজিরবিহীনভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। ২০২৬ সালে বার কাউন্সিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ আইনজীবীদের জন্য বয়স ও পেশাগত প্রেক্ষাপট ভেদে এই ফি আড়াই লাখ থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করেছে সমিতি। দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম বার হিসেবে পরিচিত ঢাকা আইনজীবী সমিতিতে যেখানে এই ফি সর্বোচ্চ সাড়ে ২৯ হাজার টাকা, সেখানে কুড়িগ্রামের মতো একটি জেলা বারে এমন চড়া ফি নির্ধারণকে ‘অন্যায্য’ ও ‘স্বেচ্ছাচারী’ বলছেন নবাগতরা।
গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সরদার তাজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নতুন ফি’র বিষয়ে জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নতুন সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে ফির হার নিম্নরূপ:
৪০ বছরের নিচে: ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
৪০ বছরের ঊর্ধ্বে: ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
বেসরকারি চাকরি থেকে আসা ব্যক্তি: ৪ লাখ টাকা।
সরকারি চাকরি থেকে আসা ব্যক্তি: ৫ লাখ টাকা।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ২০১৩ সালে এই সমিতিতে ভর্তি ফি ছিল মাত্র ২৯ হাজার টাকা। গত বছরও এটি ছিল এক লাখ টাকার সামান্য বেশি। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে সেই ফি কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া বর্তমানে প্রতিটি ওকালতনামার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০০ টাকা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নবাগত আইনজীবী জানান, আইন পেশার শুরুতে এই বিশাল অঙ্কের টাকা জোগাড় করা অনেকের জন্য অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেককে জমি বন্ধক রেখে বা চড়া সুদে ঋণ নিয়ে সদস্যপদের টাকা জমা দিতে হচ্ছে। তাদের দাবি, এটি মেধাবী নবাগতদের আইন পেশায় আসার পথ রুদ্ধ করার শামিল। এই ফি কমানোর বিষয়ে তারা বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ফি বৃদ্ধির বিষয়ে সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সরদার তাজুল ইসলাম বলেন, "এটি সমিতির সাধারণ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত সিদ্ধান্ত। কুড়িগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি তার সদস্যদের অন্যান্য বারের তুলনায় অনেক বেশি সুযোগ-সুবিধা প্রদান করে।"
তিনি আরও জানান, সমিতির সদস্যরা বর্তমানে বছরে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা উৎসব ভাতা, প্রতি মাসে ২ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা এবং ডিপিএস বাবদ আরও ২ হাজার টাকা সুবিধা পেয়ে থাকেন। নতুন সদস্যরাও যোগদানের পর থেকে এসব সুবিধার আওতাভুক্ত হবেন বলেই এই ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।
বর্তমানে কুড়িগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য সংখ্যা প্রায় ৩০০ জন। চলতি বছর আরও প্রায় অর্ধশতাধিক নতুন সদস্য এই সমিতিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে উচ্চহারের এই ফি নিয়ে আইনজীবী মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন