ডি এস কে টিভি চ্যানেল
আপডেট : শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

আখ্যায়িত করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ

ভুরুঙ্গামারীতে আদালতের রায় ও মাউশির আদেশ অবমাননা: শিক্ষকদের যোগদান ঠেকাতে &lsquoরাজনৈতিক নাটক&rsquo সাজানোর অভিযোগ

ভুরুঙ্গামারীতে আদালতের রায় ও মাউশির আদেশ অবমাননা: শিক্ষকদের যোগদান ঠেকাতে &lsquoরাজনৈতিক নাটক&rsquo সাজানোর অভিযোগ
ভূরুঙ্গামারী নেহাল উদ্দিন পাইলোট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়


ভুরুঙ্গামারীতে আদালতের রায় ও মাউশির আদেশ অবমাননা: শিক্ষকদের যোগদান ঠেকাতে ‘রাজনৈতিক নাটক’ সাজানোর অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুড়িগ্রাম:

কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলায় বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক সন্দেহাতীতভাবে নির্দোষ ও বেকসুর খালাস এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) কর্তৃক পুনর্বহালের আদেশ পাওয়ার পরও শিক্ষকদের কর্মস্থলে যোগদানে বাধা সৃষ্টির গভীর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উঠেছে। গত সোমবার (৬ এপ্রিল) বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে যে মানববন্ধন করা হয়েছে, তাকে একটি মহলের সাজানো ‘রাজনৈতিক নাটক’ এবং আদালতের রায়ের প্রতি চরম অবমাননা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ।

আদালতের রায় ও নির্দোষ প্রমাণ

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২২ সালের এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে সাময়িকভাবে বরখাস্ত হওয়া ৬ জন শিক্ষক ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে কুড়িগ্রামের অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত গত ২০/১১/২০২৫ তারিখে চূড়ান্ত রায় প্রদান করেন। রায়ে বিজ্ঞ আদালত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের মামলার দায় হতে বেকসুর খালাস প্রদান করা হলো।

খালাসপ্রাপ্ত শিক্ষক ও কর্মচারীবৃন্দ হলেন: প্রধান শিক্ষক (সাময়িক বরখাস্ত) মোঃ লুৎফর রহমান, সহকারী শিক্ষক মোঃ আমিনুর রহমান, সহকারী শিক্ষক মোঃ হামিদুর রহমান, সহকারী শিক্ষক মোঃ সোহেল আল মামুন, অফিস সহকারী মোঃ আবু হানিফ এবং নিরাপত্তা কর্মী মোঃ সুজন।

মাউশির পুনর্বহাল ও বেতন প্রাপ্তি

আদালতের রায়ের প্রেক্ষিতে গত ০৪/০৩/২০২৬ তারিখে মাউশি, ঢাকা এক আদেশের মাধ্যমে উক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করে। একই সাথে তাদের পূর্ণাঙ্গ বেতন-ভাতা প্রদান ও স্ব-স্ব পদে অর্পিত দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা প্রদান করা হয়। মাউশির এই আদেশের পর তারা গত মার্চ মাসের পূর্ণাঙ্গ বেতন ইএফটি (EFT)-এর মাধ্যমে প্রাপ্ত হয়েছেন। অর্থাৎ সরকারি ও আইনগতভাবে তাদের পদে বহাল থাকার বিষয়টি চূড়ান্ত।

ভুক্তভোগী শিক্ষকদের বক্তব্য ও লাঞ্ছনার বিবরণ

ভুক্তভোগী শিক্ষকরা জানান, ২০২২ সালে তাদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছিল। আদালতের রায়ে নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার পর তারা বিধি মোতাবেক কর্মস্থলে যোগদানের চেষ্টা করেন। তারা বলেন:

"আদালত ও মাউশির নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা গত ২৯ মার্চ বিদ্যালয়ে উপস্থিত হই। কিন্তু ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক খলিলুর রহমান আমাদের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর দিতে বাধা দেন এবং স্কুল থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। আমরা বের হতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি তার নিজস্ব লোকজন ডেকে এনে আমাদের অকথ্য ভাষায় গালাগালি শুরু করেন এবং প্রাণনাশের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। একপর্যায়ে চরম নিরাপত্তাহীনতার মুখে আমরা বিদ্যালয় ত্যাগ করতে বাধ্য হই।"

গদি রক্ষার লড়াই ও রাজনৈতিক প্রভাব

অভিযোগ উঠেছে, নেহাল উদ্দিন পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক, যিনি স্থানীয় রাজনীতির প্রভাবশালী পদে রয়েছেন, তিনি নিজের পদ ও ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। আইনিভাবে খালাস পাওয়া শিক্ষকরা যোগদান করলে তিনি তার বর্তমান নিয়ন্ত্রণ হারাবেন—এমন ব্যক্তি-স্বার্থ থেকেই শিক্ষার্থীদের ভুল বুঝিয়ে রাস্তায় নামিয়েছেন। মানববন্ধনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের চেয়ে বহিরাগত রাজনৈতিক কর্মীদের সক্রিয় উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, এটি একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক এজেন্ডা।

আইনগত অবস্থান ও প্রশাসনের ভূমিকা

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আদালতের রায় এবং মাউশির পুনর্বহালের আদেশের পর শিক্ষকদের যোগদান করতে না দেওয়া 'আদালত অবমাননা' (Contempt of Court) এবং সরকারি আদেশ লঙ্ঘনের শামিল। যেখানে সরকার তাদের বেতন-ভাতা চালু করেছে, সেখানে তাদের যোগদান ঠেকাতে শিশুদের ব্যবহার করা আইনত ও নৈতিকভাবে দণ্ডনীয় অপরাধ।

সচেতন মহলের প্রতিক্রিয়া

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে গিয়ে একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুনাম ও শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করা হচ্ছে। অবিলম্বে এই ‘নোংরা রাজনীতি’ বন্ধ করে শিক্ষকদের সসম্মানে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকরা। তারা এই সংকটের স্থায়ী সমাধানে স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত ও কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডি এস কে টিভি চ্যানেল

শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬


ভুরুঙ্গামারীতে আদালতের রায় ও মাউশির আদেশ অবমাননা: শিক্ষকদের যোগদান ঠেকাতে &lsquoরাজনৈতিক নাটক&rsquo সাজানোর অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬

featured Image


ভুরুঙ্গামারীতে আদালতের রায় ও মাউশির আদেশ অবমাননা: শিক্ষকদের যোগদান ঠেকাতে ‘রাজনৈতিক নাটক’ সাজানোর অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুড়িগ্রাম:

কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলায় বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক সন্দেহাতীতভাবে নির্দোষ ও বেকসুর খালাস এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) কর্তৃক পুনর্বহালের আদেশ পাওয়ার পরও শিক্ষকদের কর্মস্থলে যোগদানে বাধা সৃষ্টির গভীর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উঠেছে। গত সোমবার (৬ এপ্রিল) বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে যে মানববন্ধন করা হয়েছে, তাকে একটি মহলের সাজানো ‘রাজনৈতিক নাটক’ এবং আদালতের রায়ের প্রতি চরম অবমাননা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ।

আদালতের রায় ও নির্দোষ প্রমাণ

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২২ সালের এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে সাময়িকভাবে বরখাস্ত হওয়া ৬ জন শিক্ষক ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে কুড়িগ্রামের অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত গত ২০/১১/২০২৫ তারিখে চূড়ান্ত রায় প্রদান করেন। রায়ে বিজ্ঞ আদালত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের মামলার দায় হতে বেকসুর খালাস প্রদান করা হলো।

খালাসপ্রাপ্ত শিক্ষক ও কর্মচারীবৃন্দ হলেন: প্রধান শিক্ষক (সাময়িক বরখাস্ত) মোঃ লুৎফর রহমান, সহকারী শিক্ষক মোঃ আমিনুর রহমান, সহকারী শিক্ষক মোঃ হামিদুর রহমান, সহকারী শিক্ষক মোঃ সোহেল আল মামুন, অফিস সহকারী মোঃ আবু হানিফ এবং নিরাপত্তা কর্মী মোঃ সুজন।

মাউশির পুনর্বহাল ও বেতন প্রাপ্তি

আদালতের রায়ের প্রেক্ষিতে গত ০৪/০৩/২০২৬ তারিখে মাউশি, ঢাকা এক আদেশের মাধ্যমে উক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করে। একই সাথে তাদের পূর্ণাঙ্গ বেতন-ভাতা প্রদান ও স্ব-স্ব পদে অর্পিত দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা প্রদান করা হয়। মাউশির এই আদেশের পর তারা গত মার্চ মাসের পূর্ণাঙ্গ বেতন ইএফটি (EFT)-এর মাধ্যমে প্রাপ্ত হয়েছেন। অর্থাৎ সরকারি ও আইনগতভাবে তাদের পদে বহাল থাকার বিষয়টি চূড়ান্ত।

ভুক্তভোগী শিক্ষকদের বক্তব্য ও লাঞ্ছনার বিবরণ

ভুক্তভোগী শিক্ষকরা জানান, ২০২২ সালে তাদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছিল। আদালতের রায়ে নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার পর তারা বিধি মোতাবেক কর্মস্থলে যোগদানের চেষ্টা করেন। তারা বলেন:

"আদালত ও মাউশির নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা গত ২৯ মার্চ বিদ্যালয়ে উপস্থিত হই। কিন্তু ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক খলিলুর রহমান আমাদের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর দিতে বাধা দেন এবং স্কুল থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। আমরা বের হতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি তার নিজস্ব লোকজন ডেকে এনে আমাদের অকথ্য ভাষায় গালাগালি শুরু করেন এবং প্রাণনাশের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। একপর্যায়ে চরম নিরাপত্তাহীনতার মুখে আমরা বিদ্যালয় ত্যাগ করতে বাধ্য হই।"

গদি রক্ষার লড়াই ও রাজনৈতিক প্রভাব

অভিযোগ উঠেছে, নেহাল উদ্দিন পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক, যিনি স্থানীয় রাজনীতির প্রভাবশালী পদে রয়েছেন, তিনি নিজের পদ ও ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। আইনিভাবে খালাস পাওয়া শিক্ষকরা যোগদান করলে তিনি তার বর্তমান নিয়ন্ত্রণ হারাবেন—এমন ব্যক্তি-স্বার্থ থেকেই শিক্ষার্থীদের ভুল বুঝিয়ে রাস্তায় নামিয়েছেন। মানববন্ধনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের চেয়ে বহিরাগত রাজনৈতিক কর্মীদের সক্রিয় উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, এটি একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক এজেন্ডা।

আইনগত অবস্থান ও প্রশাসনের ভূমিকা

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আদালতের রায় এবং মাউশির পুনর্বহালের আদেশের পর শিক্ষকদের যোগদান করতে না দেওয়া 'আদালত অবমাননা' (Contempt of Court) এবং সরকারি আদেশ লঙ্ঘনের শামিল। যেখানে সরকার তাদের বেতন-ভাতা চালু করেছে, সেখানে তাদের যোগদান ঠেকাতে শিশুদের ব্যবহার করা আইনত ও নৈতিকভাবে দণ্ডনীয় অপরাধ।

সচেতন মহলের প্রতিক্রিয়া

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে গিয়ে একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুনাম ও শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করা হচ্ছে। অবিলম্বে এই ‘নোংরা রাজনীতি’ বন্ধ করে শিক্ষকদের সসম্মানে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকরা। তারা এই সংকটের স্থায়ী সমাধানে স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত ও কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।



ডি এস কে টিভি চ্যানেল

চেয়ারম্যান ও সম্পাদকঃ সামসুল আলম
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আসআদ

কপিরাইট © ২০২৫ ডি এস কে টিভি চ্যানেল