ইরানের ‘সুইসাইড ড্রোনে’ দিশেহারা মার্কিনিরা, বাড়ছে ক্ষয়ক্ষতি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের চতুর্থ ও পঞ্চম দিনে নতুন এক রণকৌশল প্রয়োগ করেছে ইরান। দেশটির শক্তিশালী সামরিক বাহিনী Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি) উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ‘সুইসাইড ড্রোন’ বা আত্মঘাতী ড্রোন ব্যবহার করে ধারাবাহিক হামলা চালাচ্ছে। এতে মার্কিন বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতি বাড়ছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে।
নতুন কৌশল: সস্তা কিন্তু কার্যকর অস্ত্র
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) যুদ্ধের চতুর্থ দিনে আইআরজিসি জানায়, তাদের অ্যারোস্পেস ফোর্স ইসরায়েলের মূল ভূখণ্ড এবং দূরবর্তী মার্কিন কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রাখবে। একই সঙ্গে আইআরজিসির নৌবাহিনীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ওপর ড্রোন ও স্বল্পপাল্লার হামলা পরিচালনার।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান এই যুদ্ধে অত্যন্ত কম খরচের কিন্তু কার্যকর অস্ত্র হিসেবে আত্মঘাতী ড্রোন ব্যবহার করছে। এই ধরনের ড্রোন সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করে বিস্ফোরিত হয়, ফলে প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় অনেক কম খরচে বড় ধরনের ক্ষতি করা সম্ভব হয়।
ধারাবাহিক ‘ড্রোন ঢেউ’
আইআরজিসি নৌবাহিনীর কাছে এই ধরনের ড্রোনের বড় মজুদ রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। ইরানি সামরিক সূত্র জানিয়েছে, ইতোমধ্যে অভিযানের ১৪তম ও ১৫তম “ড্রোন ঢেউ” সফলভাবে পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে একাধিক মার্কিন ঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, স্বল্পমূল্যের বিপুল সংখ্যক ড্রোন একসঙ্গে আক্রমণ করলে উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্যও তা প্রতিহত করা কঠিন হয়ে পড়ে। প্রতিটি ড্রোন ধ্বংস করতে উচ্চমূল্যের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে হওয়ায় প্রতিরক্ষা খরচও দ্রুত বেড়ে যায়।
আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি
মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। সেখানে ধারাবাহিক ড্রোন হামলা হলে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে এই সংঘাত বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলেও সতর্ক করছেন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।

শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ মার্চ ২০২৬
ইরানের ‘সুইসাইড ড্রোনে’ দিশেহারা মার্কিনিরা, বাড়ছে ক্ষয়ক্ষতি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের চতুর্থ ও পঞ্চম দিনে নতুন এক রণকৌশল প্রয়োগ করেছে ইরান। দেশটির শক্তিশালী সামরিক বাহিনী Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি) উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ‘সুইসাইড ড্রোন’ বা আত্মঘাতী ড্রোন ব্যবহার করে ধারাবাহিক হামলা চালাচ্ছে। এতে মার্কিন বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতি বাড়ছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে।
নতুন কৌশল: সস্তা কিন্তু কার্যকর অস্ত্র
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) যুদ্ধের চতুর্থ দিনে আইআরজিসি জানায়, তাদের অ্যারোস্পেস ফোর্স ইসরায়েলের মূল ভূখণ্ড এবং দূরবর্তী মার্কিন কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রাখবে। একই সঙ্গে আইআরজিসির নৌবাহিনীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ওপর ড্রোন ও স্বল্পপাল্লার হামলা পরিচালনার।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান এই যুদ্ধে অত্যন্ত কম খরচের কিন্তু কার্যকর অস্ত্র হিসেবে আত্মঘাতী ড্রোন ব্যবহার করছে। এই ধরনের ড্রোন সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করে বিস্ফোরিত হয়, ফলে প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় অনেক কম খরচে বড় ধরনের ক্ষতি করা সম্ভব হয়।
ধারাবাহিক ‘ড্রোন ঢেউ’
আইআরজিসি নৌবাহিনীর কাছে এই ধরনের ড্রোনের বড় মজুদ রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। ইরানি সামরিক সূত্র জানিয়েছে, ইতোমধ্যে অভিযানের ১৪তম ও ১৫তম “ড্রোন ঢেউ” সফলভাবে পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে একাধিক মার্কিন ঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, স্বল্পমূল্যের বিপুল সংখ্যক ড্রোন একসঙ্গে আক্রমণ করলে উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্যও তা প্রতিহত করা কঠিন হয়ে পড়ে। প্রতিটি ড্রোন ধ্বংস করতে উচ্চমূল্যের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে হওয়ায় প্রতিরক্ষা খরচও দ্রুত বেড়ে যায়।
আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি
মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। সেখানে ধারাবাহিক ড্রোন হামলা হলে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে এই সংঘাত বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলেও সতর্ক করছেন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।

আপনার মতামত লিখুন