ইরানে সামরিক হামলা চালিয়ে দেশটির শাসকগোষ্ঠীকে উৎখাত করা সম্ভব— Donald Trump–এর প্রশাসনের এমন ধারণাকে প্রশ্নবিদ্ধ মনে করছেন মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষকরা। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় এই ধারণা অত্যন্ত সরলীকৃত।
লেবাননভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান
Malcolm H. Kerr Carnegie Middle East Center–এর পরিচালক Maha Yahya বলেন, ইরানে এমন কোনো সংগঠিত, ঐক্যবদ্ধ ও প্রস্তুত বিরোধী শক্তি নেই, যারা হঠাৎ করে রাষ্ট্রক্ষমতার দায়িত্ব নিতে পারে। তাঁর মতে, সরকারবিরোধী অসন্তোষ থাকলেও তা বিচ্ছিন্ন, খণ্ডিত এবং নেতৃত্বের অভাবে কেন্দ্রীয় রূপ পায়নি। ফলে বাইরের সামরিক চাপ শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করতে পারে, কিন্তু তা সরাসরি বিকল্প সরকারের উত্থান নিশ্চিত করে না।বিশ্লেষকরা মনে করেন, ইরানের রাজনৈতিক কাঠামো বহুস্তরবিশিষ্ট এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাও অত্যন্ত শক্তিশালী। দেশটির শাসনব্যবস্থা শুধু নির্বাচিত সরকার নয়; ধর্মীয় নেতৃত্ব, বিপ্লবী গার্ড ও বিভিন্ন প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে। এ কারণে বাইরের হামলা কেবল শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করলেই পুরো কাঠামো ভেঙে পড়বে— এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়।
এছাড়া অতীত অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করছেন পর্যবেক্ষকরা। মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে সামরিক হস্তক্ষেপের পর দেখা গেছে, ক্ষমতার শূন্যতা সৃষ্টি হলে তা দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতা, সহিংসতা ও গৃহসংঘাতে রূপ নিতে পারে। ফলে ইরানের ক্ষেত্রেও একই ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
মাহা ইয়াহইয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, বাহ্যিক সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে কূটনৈতিক চাপ, আঞ্চলিক সংলাপ ও অর্থনৈতিক আলোচনাই বেশি কার্যকর হতে পারে। কারণ রাজনৈতিক পরিবর্তন টেকসই হতে হলে তা অভ্যন্তরীণ শক্তির মাধ্যমে আসা প্রয়োজন।
সার্বিকভাবে বিশ্লেষকদের মত, ইরানে হামলা মানেই দ্রুত ক্ষমতার পালাবদল— এমন ধারণা বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বরং এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ মার্চ ২০২৬
ইরানে সামরিক হামলা চালিয়ে দেশটির শাসকগোষ্ঠীকে উৎখাত করা সম্ভব— Donald Trump–এর প্রশাসনের এমন ধারণাকে প্রশ্নবিদ্ধ মনে করছেন মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষকরা। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় এই ধারণা অত্যন্ত সরলীকৃত।
লেবাননভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান Malcolm H. Kerr Carnegie Middle East Center–এর পরিচালক Maha Yahya বলেন, ইরানে এমন কোনো সংগঠিত, ঐক্যবদ্ধ ও প্রস্তুত বিরোধী শক্তি নেই, যারা হঠাৎ করে রাষ্ট্রক্ষমতার দায়িত্ব নিতে পারে। তাঁর মতে, সরকারবিরোধী অসন্তোষ থাকলেও তা বিচ্ছিন্ন, খণ্ডিত এবং নেতৃত্বের অভাবে কেন্দ্রীয় রূপ পায়নি। ফলে বাইরের সামরিক চাপ শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করতে পারে, কিন্তু তা সরাসরি বিকল্প সরকারের উত্থান নিশ্চিত করে না।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, ইরানের রাজনৈতিক কাঠামো বহুস্তরবিশিষ্ট এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাও অত্যন্ত শক্তিশালী। দেশটির শাসনব্যবস্থা শুধু নির্বাচিত সরকার নয়; ধর্মীয় নেতৃত্ব, বিপ্লবী গার্ড ও বিভিন্ন প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে। এ কারণে বাইরের হামলা কেবল শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করলেই পুরো কাঠামো ভেঙে পড়বে— এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়।
এছাড়া অতীত অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করছেন পর্যবেক্ষকরা। মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে সামরিক হস্তক্ষেপের পর দেখা গেছে, ক্ষমতার শূন্যতা সৃষ্টি হলে তা দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতা, সহিংসতা ও গৃহসংঘাতে রূপ নিতে পারে। ফলে ইরানের ক্ষেত্রেও একই ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
মাহা ইয়াহইয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, বাহ্যিক সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে কূটনৈতিক চাপ, আঞ্চলিক সংলাপ ও অর্থনৈতিক আলোচনাই বেশি কার্যকর হতে পারে। কারণ রাজনৈতিক পরিবর্তন টেকসই হতে হলে তা অভ্যন্তরীণ শক্তির মাধ্যমে আসা প্রয়োজন।
সার্বিকভাবে বিশ্লেষকদের মত, ইরানে হামলা মানেই দ্রুত ক্ষমতার পালাবদল— এমন ধারণা বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বরং এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন