ডি এস কে টিভি চ্যানেল
প্রকাশ : শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫

ভয়াবহ ভূমিকম্প: উৎপত্তিস্থল নরসিংদী হওয়ার কারণ জানালেন বিশেষজ্ঞরা

ভয়াবহ ভূমিকম্প: উৎপত্তিস্থল নরসিংদী হওয়ার কারণ জানালেন বিশেষজ্ঞরা
ভয়াবহ ভূমিকম্প: উৎপত্তিস্থল নরসিংদী হওয়ার কারণ জানালেন বিশেষজ্ঞরা রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে অনুভূত শক্তিশালী ভূমিকম্পে সারাদেশে দুশ্চিন্তা ও আতঙ্ক তৈরি হয়। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৭, যা কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী ছিল। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল শনাক্ত করা হয়েছে নরসিংদীর মাধবদী উপজেলা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল নরসিংদী হওয়াটা আকস্মিক নয়; বরং এর পেছনে রয়েছে ভূগঠনগত যৌক্তিক কারণ। আমেরিকার প্রাকৃতিক ইতিহাস জাদুঘরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক গবেষণা সারাংশে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত। দেশটি তিনটি টেকটোনিক প্লেট—ভারতীয় প্লেট, ইউরেশিয়ান প্লেট ও বার্মিজ প্লেটের মিলনস্থলে অবস্থান করায় এখানে ভূমিকম্পের ঝুঁকি সবসময়ই বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির ল্যামন্ট-ডোহার্টি আর্থ অবজারভেটরির অধ্যাপক মাইকেল স্টেকলার ও লিওনার্দো সিবারের নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণায়ও বলা হয়, বাংলাদেশের ভূপৃষ্ঠের নিচে সক্রিয় প্লেটগুলোর ক্রমাগত চাপ ও সঞ্চিত শক্তি যেকোনো সময় বড় মাত্রার ভূমিকম্প ঘটাতে পারে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, এবারকার ভূমিকম্পটি হয়েছে ভারতের প্লেটের গভীরে রিভার্স ফল্টিংয়ের কারণে। রিভার্স ফল্টে ভূপৃষ্ঠের দুই শিলা ব্লকের মধ্যে চাপ তৈরি হয়ে একটি অংশ ওপরের দিকে উঠে আসে, ফলে তীব্র কম্পন সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পূরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মেহেদি আহমেদ আনসারী বলেন, দেশে অন্তত পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ ফল্ট লাইন রয়েছে। এর মধ্যে নোয়াখালী–কক্সবাজার এবং নোয়াখালী–সিলেট ফল্ট সবচেয়ে সক্রিয়। তিনি ধারণা করছেন, নোয়াখালী থেকে সিলেট পর্যন্ত বিস্তৃত লাইনটির চাপ সঞ্চিত হওয়ার ফলেই শুক্রবারের ভূমিকম্পটি হতে পারে। এর আগে গত মার্চে ভারতীয় প্লেটের ঘর্ষণজনিত কারণে মিয়ানমারে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল। ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান জানায়, সেটি ঘটেছিল স্ট্রাইক–স্লিপ ফল্টিংয়ের কারণে, যেখানে দুটি টেকটোনিক প্লেট পাশাপাশি সরে গিয়ে ধাক্কা সৃষ্টি করে। শুক্রবারের ভূমিকম্পে দেশের বিভিন্ন স্থাপনা ও ভবন হেলে পড়া, ফাটল দেখা দেওয়া এবং ভেঙে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সারাদেশে এ পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন সাড়ে পাঁচ শতাধিক মানুষ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, শুক্রবার রাত ৮টা পর্যন্ত সরকারি হাসপাতালগুলোতে চার শতাধিক আহত রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৬৭ জনকে ভর্তি করা হয়েছে এবং গুরুতর ১৬ জনকে অন্য হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডি এস কে টিভি চ্যানেল

শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬


ভয়াবহ ভূমিকম্প: উৎপত্তিস্থল নরসিংদী হওয়ার কারণ জানালেন বিশেষজ্ঞরা

প্রকাশের তারিখ : ২২ নভেম্বর ২০২৫

featured Image
ভয়াবহ ভূমিকম্প: উৎপত্তিস্থল নরসিংদী হওয়ার কারণ জানালেন বিশেষজ্ঞরা রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে অনুভূত শক্তিশালী ভূমিকম্পে সারাদেশে দুশ্চিন্তা ও আতঙ্ক তৈরি হয়। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৭, যা কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী ছিল। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল শনাক্ত করা হয়েছে নরসিংদীর মাধবদী উপজেলা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল নরসিংদী হওয়াটা আকস্মিক নয়; বরং এর পেছনে রয়েছে ভূগঠনগত যৌক্তিক কারণ। আমেরিকার প্রাকৃতিক ইতিহাস জাদুঘরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক গবেষণা সারাংশে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত। দেশটি তিনটি টেকটোনিক প্লেট—ভারতীয় প্লেট, ইউরেশিয়ান প্লেট ও বার্মিজ প্লেটের মিলনস্থলে অবস্থান করায় এখানে ভূমিকম্পের ঝুঁকি সবসময়ই বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির ল্যামন্ট-ডোহার্টি আর্থ অবজারভেটরির অধ্যাপক মাইকেল স্টেকলার ও লিওনার্দো সিবারের নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণায়ও বলা হয়, বাংলাদেশের ভূপৃষ্ঠের নিচে সক্রিয় প্লেটগুলোর ক্রমাগত চাপ ও সঞ্চিত শক্তি যেকোনো সময় বড় মাত্রার ভূমিকম্প ঘটাতে পারে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, এবারকার ভূমিকম্পটি হয়েছে ভারতের প্লেটের গভীরে রিভার্স ফল্টিংয়ের কারণে। রিভার্স ফল্টে ভূপৃষ্ঠের দুই শিলা ব্লকের মধ্যে চাপ তৈরি হয়ে একটি অংশ ওপরের দিকে উঠে আসে, ফলে তীব্র কম্পন সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পূরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মেহেদি আহমেদ আনসারী বলেন, দেশে অন্তত পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ ফল্ট লাইন রয়েছে। এর মধ্যে নোয়াখালী–কক্সবাজার এবং নোয়াখালী–সিলেট ফল্ট সবচেয়ে সক্রিয়। তিনি ধারণা করছেন, নোয়াখালী থেকে সিলেট পর্যন্ত বিস্তৃত লাইনটির চাপ সঞ্চিত হওয়ার ফলেই শুক্রবারের ভূমিকম্পটি হতে পারে। এর আগে গত মার্চে ভারতীয় প্লেটের ঘর্ষণজনিত কারণে মিয়ানমারে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল। ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান জানায়, সেটি ঘটেছিল স্ট্রাইক–স্লিপ ফল্টিংয়ের কারণে, যেখানে দুটি টেকটোনিক প্লেট পাশাপাশি সরে গিয়ে ধাক্কা সৃষ্টি করে। শুক্রবারের ভূমিকম্পে দেশের বিভিন্ন স্থাপনা ও ভবন হেলে পড়া, ফাটল দেখা দেওয়া এবং ভেঙে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সারাদেশে এ পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন সাড়ে পাঁচ শতাধিক মানুষ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, শুক্রবার রাত ৮টা পর্যন্ত সরকারি হাসপাতালগুলোতে চার শতাধিক আহত রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৬৭ জনকে ভর্তি করা হয়েছে এবং গুরুতর ১৬ জনকে অন্য হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

ডি এস কে টিভি চ্যানেল

চেয়ারম্যান ও সম্পাদকঃ সামসুল আলম
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আসআদ

কপিরাইট © ২০২৫ ডি এস কে টিভি চ্যানেল