ডি এস কে টিভি চ্যানেল
প্রকাশ : রোববার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫

শেখ হাসিনার রায়ের তারিখ ঘোষণা হতে পারে আজ

শেখ হাসিনার রায়ের তারিখ ঘোষণা হতে পারে আজ
মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলা: শেখ হাসিনার রায়ের তারিখ ঘোষণা হতে পারে আজ   মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং পুলিশের সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিচারকাজ আজ (বৃহস্পতিবার) শেষ হচ্ছে। মামলাটির রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করা হতে পারে আজই—জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর সূত্র।   বিচার প্রক্রিয়ার শেষ ধাপ   গত বছরের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণহত্যার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় যুক্তিতর্কের সব পর্ব শেষ হয়েছে বুধবার (২২ অক্টোবর)। বৃহস্পতিবার চিফ প্রসিকিউটর ও অ্যাটর্নি জেনারেল সমাপনী বক্তব্য রাখবেন বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল সংশ্লিষ্টরা। এরপরই রায়ের দিন ঘোষণা করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।   প্রসিকিউশন ও ডিফেন্সের অবস্থান   বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয় চলতি বছরের ৩ আগস্ট। ২৮ কার্যদিবসে ৫৪ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ এবং ছয় কার্যদিবসে প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। শেখ হাসিনা ও কামালের পক্ষে তিন দিন ধরে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়, যা শেষ হয় বুধবার। তাদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন দাবি করেন—“শেখ হাসিনা কোনো হত্যার নির্দেশ দেননি, প্রসিকিউশন অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে।” তিনি উভয়ের খালাসের আবেদন জানান।   অন্যদিকে, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের রাজসাক্ষী (state witness) হওয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আমির হোসেন। তার দাবি, “দায় এড়াতেই মামুন রাজসাক্ষী হয়েছেন।”   প্রসিকিউশনের পাল্টা বক্তব্য   চিফ প্রসিকিউটর যুক্তিতর্কে শেখ হাসিনা ও কামালের সর্বোচ্চ শাস্তি (মৃত্যুদণ্ড) দাবি করেছেন। পাশাপাশি শহীদ ও আহতদের ক্ষতিপূরণ দিতে আসামিদের সম্পত্তি বিক্রির আবেদন করেন। তবে রাজসাক্ষী হিসেবে ভূমিকা রাখায় সাবেক আইজিপির বিরুদ্ধে কোনো সাজার আবেদন করা হয়নি।   দলিল ও সাক্ষ্যপ্রমাণ   প্রসিকিউশন সূত্রে জানা যায়, মামলায় ৮৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ৫৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। অভিযোগের নথিপত্র ৮,৭৪৭ পৃষ্ঠার—যার মধ্যে তথ্যসূত্র ২,০১৮ পৃষ্ঠা, জব্দতালিকা ও প্রমাণাদি ৪,০০৫ পৃষ্ঠা এবং শহীদদের তালিকার বিবরণ ২,৭২৪ পৃষ্ঠা।   পলাতক আসামিদের পক্ষে যুক্তিতর্ক শেষ   বুধবার বিকেলে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের জানান প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম—“পলাতক আসামি শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী যুক্তি শেষ করেছেন। রাজসাক্ষী মামুনের পক্ষেও যুক্তি উপস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার চিফ প্রসিকিউটর ও অ্যাটর্নি জেনারেল চূড়ান্ত বক্তব্য দেবেন, এরপর রায়ের দিন নির্ধারণ করা হবে।”   পটভূমি   গত ১০ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা, কামাল ও মামুনের বিরুদ্ধে পাঁচটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর আদেশ দেন। এর আগে তদন্ত সংস্থা গত ১২ মে মামলার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেয় চিফ প্রসিকিউটরের কাছে।   প্রসিকিউশন আশা করছে—রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ সাজা (মৃত্যুদণ্ড) ঘোষণা করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডি এস কে টিভি চ্যানেল

বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬


শেখ হাসিনার রায়ের তারিখ ঘোষণা হতে পারে আজ

প্রকাশের তারিখ : ২৩ নভেম্বর ২০২৫

featured Image
মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলা: শেখ হাসিনার রায়ের তারিখ ঘোষণা হতে পারে আজ   মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং পুলিশের সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিচারকাজ আজ (বৃহস্পতিবার) শেষ হচ্ছে। মামলাটির রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করা হতে পারে আজই—জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর সূত্র।   বিচার প্রক্রিয়ার শেষ ধাপ   গত বছরের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণহত্যার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় যুক্তিতর্কের সব পর্ব শেষ হয়েছে বুধবার (২২ অক্টোবর)। বৃহস্পতিবার চিফ প্রসিকিউটর ও অ্যাটর্নি জেনারেল সমাপনী বক্তব্য রাখবেন বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল সংশ্লিষ্টরা। এরপরই রায়ের দিন ঘোষণা করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।   প্রসিকিউশন ও ডিফেন্সের অবস্থান   বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয় চলতি বছরের ৩ আগস্ট। ২৮ কার্যদিবসে ৫৪ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ এবং ছয় কার্যদিবসে প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। শেখ হাসিনা ও কামালের পক্ষে তিন দিন ধরে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়, যা শেষ হয় বুধবার। তাদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন দাবি করেন—“শেখ হাসিনা কোনো হত্যার নির্দেশ দেননি, প্রসিকিউশন অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে।” তিনি উভয়ের খালাসের আবেদন জানান।   অন্যদিকে, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের রাজসাক্ষী (state witness) হওয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আমির হোসেন। তার দাবি, “দায় এড়াতেই মামুন রাজসাক্ষী হয়েছেন।”   প্রসিকিউশনের পাল্টা বক্তব্য   চিফ প্রসিকিউটর যুক্তিতর্কে শেখ হাসিনা ও কামালের সর্বোচ্চ শাস্তি (মৃত্যুদণ্ড) দাবি করেছেন। পাশাপাশি শহীদ ও আহতদের ক্ষতিপূরণ দিতে আসামিদের সম্পত্তি বিক্রির আবেদন করেন। তবে রাজসাক্ষী হিসেবে ভূমিকা রাখায় সাবেক আইজিপির বিরুদ্ধে কোনো সাজার আবেদন করা হয়নি।   দলিল ও সাক্ষ্যপ্রমাণ   প্রসিকিউশন সূত্রে জানা যায়, মামলায় ৮৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ৫৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। অভিযোগের নথিপত্র ৮,৭৪৭ পৃষ্ঠার—যার মধ্যে তথ্যসূত্র ২,০১৮ পৃষ্ঠা, জব্দতালিকা ও প্রমাণাদি ৪,০০৫ পৃষ্ঠা এবং শহীদদের তালিকার বিবরণ ২,৭২৪ পৃষ্ঠা।   পলাতক আসামিদের পক্ষে যুক্তিতর্ক শেষ   বুধবার বিকেলে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের জানান প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম—“পলাতক আসামি শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী যুক্তি শেষ করেছেন। রাজসাক্ষী মামুনের পক্ষেও যুক্তি উপস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার চিফ প্রসিকিউটর ও অ্যাটর্নি জেনারেল চূড়ান্ত বক্তব্য দেবেন, এরপর রায়ের দিন নির্ধারণ করা হবে।”   পটভূমি   গত ১০ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা, কামাল ও মামুনের বিরুদ্ধে পাঁচটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর আদেশ দেন। এর আগে তদন্ত সংস্থা গত ১২ মে মামলার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেয় চিফ প্রসিকিউটরের কাছে।   প্রসিকিউশন আশা করছে—রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ সাজা (মৃত্যুদণ্ড) ঘোষণা করা হবে।

ডি এস কে টিভি চ্যানেল

চেয়ারম্যান ও সম্পাদকঃ সামসুল আলম
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আসআদ

কপিরাইট © ২০২৫ ডি এস কে টিভি চ্যানেল