হত্যার চেষ্টা মামলায় শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ
পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে সমালোচনার ঝড়
ঢাকা: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত একটি হত্যার চেষ্টা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ১১৩ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্ত সংস্থাটির এমন সুপারিশকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গন ও নাগরিক সমাজে শুরু হয়েছে ব্যাপক সমালোচনা।
গত বছরের জুলাইয়ে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় আন্দোলনের সময় কয়েকজন ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হওয়ার অভিযোগে একটি হত্যার চেষ্টা মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা এবং আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের আসামি করা হয়।
পিবিআইয়ের তদন্ত ও সুপারিশ
দীর্ঘ তদন্ত শেষে পিবিআই আদালতে দাখিল করা চূড়ান্ত প্রতিবেদনে জানায়, মামলায় যাদের আহত বা ভুক্তভোগী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের নির্ভরযোগ্য পরিচয়, ঠিকানা, চিকিৎসার নথি কিংবা হাসপাতালের কোনো রেকর্ড পাওয়া যায়নি।
তদন্তে আরও বলা হয়—
কথিত ভুক্তভোগীদের অস্তিত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি
আহত হওয়ার বিষয়ে কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ মেলেনি
মামলার অভিযোগে গুরুতর তথ্যগত অসঙ্গতি রয়েছে
এই প্রেক্ষাপটে পিবিআই মনে করে, মামলাটি চালিয়ে নেওয়ার মতো যথেষ্ট আইনি ও বাস্তব ভিত্তি নেই। ফলে শেখ হাসিনাসহ মোট ১১৩ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।
জনমত ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
পিবিআইয়ের এই সুপারিশ প্রকাশের পরপরই বিভিন্ন মহল থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। সমালোচকরা বলছেন—
তদন্তে প্রয়োজনীয় আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের ঘাটতি রয়েছে
ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করতে ব্যর্থ হওয়াকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে
রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তদন্তের ফলাফল প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে
মানবাধিকার সংগঠন ও আইন বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ মামলায় আরও গভীর ও স্বচ্ছ তদন্ত প্রয়োজন ছিল।
পিবিআইয়ের অবস্থান
পিবিআই জানিয়েছে, ভবিষ্যতে যদি ভুক্তভোগীদের সঠিক তথ্য, চিকিৎসার নথি বা নতুন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে পুনরায় অভিযোগপত্র দাখিলের সুযোগ থাকবে।

বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ জানুয়ারি ২০২৬
হত্যার চেষ্টা মামলায় শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ
পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে সমালোচনার ঝড়
ঢাকা: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত একটি হত্যার চেষ্টা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ১১৩ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্ত সংস্থাটির এমন সুপারিশকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গন ও নাগরিক সমাজে শুরু হয়েছে ব্যাপক সমালোচনা।
গত বছরের জুলাইয়ে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় আন্দোলনের সময় কয়েকজন ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হওয়ার অভিযোগে একটি হত্যার চেষ্টা মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা এবং আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের আসামি করা হয়।
পিবিআইয়ের তদন্ত ও সুপারিশ
দীর্ঘ তদন্ত শেষে পিবিআই আদালতে দাখিল করা চূড়ান্ত প্রতিবেদনে জানায়, মামলায় যাদের আহত বা ভুক্তভোগী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের নির্ভরযোগ্য পরিচয়, ঠিকানা, চিকিৎসার নথি কিংবা হাসপাতালের কোনো রেকর্ড পাওয়া যায়নি।
তদন্তে আরও বলা হয়—
কথিত ভুক্তভোগীদের অস্তিত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি
আহত হওয়ার বিষয়ে কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ মেলেনি
মামলার অভিযোগে গুরুতর তথ্যগত অসঙ্গতি রয়েছে
এই প্রেক্ষাপটে পিবিআই মনে করে, মামলাটি চালিয়ে নেওয়ার মতো যথেষ্ট আইনি ও বাস্তব ভিত্তি নেই। ফলে শেখ হাসিনাসহ মোট ১১৩ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।
জনমত ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
পিবিআইয়ের এই সুপারিশ প্রকাশের পরপরই বিভিন্ন মহল থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। সমালোচকরা বলছেন—
তদন্তে প্রয়োজনীয় আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের ঘাটতি রয়েছে
ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করতে ব্যর্থ হওয়াকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে
রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তদন্তের ফলাফল প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে
মানবাধিকার সংগঠন ও আইন বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ মামলায় আরও গভীর ও স্বচ্ছ তদন্ত প্রয়োজন ছিল।
পিবিআইয়ের অবস্থান
পিবিআই জানিয়েছে, ভবিষ্যতে যদি ভুক্তভোগীদের সঠিক তথ্য, চিকিৎসার নথি বা নতুন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে পুনরায় অভিযোগপত্র দাখিলের সুযোগ থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন