ডি এস কে টিভি চ্যানেল
প্রকাশ : বুধবার, ১৬ জুলাই ২০২৫

পুলিশ সুপারের মানবিকতায় নতুন জীবন পেল কিশোরী সামিয়া

পুলিশ সুপারের মানবিকতায় নতুন জীবন পেল কিশোরী সামিয়া
আচ্ছা, নিয়তির কাছে হেরে যাওয়াটা কি এতটাই সহজ? মাত্র ১২ বছর বয়সে একটা ফুটফুটে বাচ্চার জীবন কি নিভে যাবে শুধুমাত্র টাকার অভাবে? চোখের সামনে ঝলমল করছে জল, বুকে অসহ্য ব্যথা—জন্মের পর থেকেই হৃদপিণ্ডের ছিদ্র নিয়ে বেড়ে ওঠা কিশোরী সামিয়ার জীবনটা ছিল এমনই এক অসম লড়াই। যে বয়সে ওর বন্ধুদের সাথে খেলার মাঠে থাকার কথা, ও তখন লড়ছিল মৃত্যুর সাথে। চিকিৎসার টাকা জোগাড় করতে না পেরে যখন একটা পরিবার পুরোপুরি হাল ছেড়ে দিয়েছিল, ঠিক তখনই দেবদূতের মতো কে বাড়িয়ে দিয়েছিল সাহায্যের হাত? কীভাবে একজন পুলিশ কর্মকর্তার মানবিকতায় একটা প্রায় নিভে যাওয়া জীবন নতুন করে জ্বলে উঠলো? আজ সেই গল্পটাই আপনাদের বলব। **(পরিচয় এবং সংকট)** গাজীপুরের কাশিমপুর এলাকার খুব সাধারণ একটি পরিবারে সামিয়ার জন্ম। বাবা শামীম হোসেন সামান্য বেতনে একটা পোশাক কারখানায় কাজ করেন, আর মা রীমা আক্তার সংসার সামলান। চার ভাইবোনের মধ্যে সামিয়া দ্বিতীয়। ছয়জনের এই সংসার চালাতেই যেখানে তার বাবার হিমশিম অবস্থা, সেখানে মেয়ের এমন জটিল রোগের চিকিৎসা করানোটা তাদের জন্য ছিল এক আকাশ-কুসুম কল্পনার মতো। ছোটবেলা থেকেই সামিয়া আর দশটা বাচ্চার মতো স্বাভাবিক ছিল না। সে জন্মেছিল হৃদপিণ্ডে একটি ছিদ্র নিয়ে, যা দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছিল। ফুসফুসের রক্তনালী সরু হয়ে যাওয়ায় রক্ত চলাচলে মারাত্মক সমস্যা হচ্ছিল। এর ফলে যখন-তখন তীব্র শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, আর মাথা ঘোরানোর মতো যন্ত্রণায় কাতরাত মেয়েটা। প্রায়ই জ্ঞান হারাতো, যা দেখে বাবা-মায়ের বুকটা কেঁপে উঠত। মেয়ের এই কষ্ট দেখে বাবা-মা নিজেদের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু সামান্য আয়ে এই বিশাল চিকিৎসার খরচ চালানো প্রায় অসম্ভব ছিল। চিকিৎসকরা আগেই জানিয়েছিলেন, সামিয়াকে বাঁচাতে হলে যত দ্রুত সম্ভব ওপেন হার্ট সার্জারি দরকার। এর জন্য লাগবে প্রায় তিন-চার লক্ষ টাকা! একজন পোশাক শ্রমিকের পক্ষে এত টাকা জোগাড় করা যে কতটা কঠিন, তা আমরা সবাই জানি। কান্নাভেজা গলায় সামিয়ার মা বলেন, "মেয়েটা আমার চোখের সামনে শেষ হয়ে যাচ্ছিল। ওর কষ্ট দেখে বুকটা ফাইট্টা যাইত, কিন্তু কিছুই করতে পারতেছিলাম না। ডাক্তার যখন অপারেশনের কথা বলল, মাথায় যেন আকাশ ভাইঙা পড়ল। কই পামু এত টাকা? আমরা তো গরিব মানুষ। মনে হইতেছিল, টাকার অভাবে বুঝি মেয়েটারে আর বাঁচাইতে পারমু না।" বাবা শামীম হোসেন বলেন, "যতটুকু জমানো টাকা ছিল, সব দিয়া চিকিৎসা করাইছি। কিন্তু আর তো পারতেছিলাম না। মানুষের কাছে হাত পাততেও লজ্জা লাগে। নীরবে মাইয়াটার মৃত্যুর অপেক্ষা করা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা ছিল না।" **(আশার আলো)** দিন দিন সামিয়ার অবস্থা যখন আরও খারাপের দিকে যাচ্ছিল, যখন পরিবারটা প্রায় মেনেই নিয়েছিল যে নিয়তির কাছে তাদের হারতেই হবে, ঠিক তখনই একটা ঘটনা গল্পের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। গণমাধ্যমে "অভাবে চিকিৎসা বন্ধ শিশু সামিয়ার" শিরোনামে একটি খবর প্রকাশিত হয়। এই একটি খবরই যেন কান্নার শব্দ ছাপিয়ে পৌঁছে যায় এমন একজন মানুষের কানে, যার পরিচয় শুধু একজন আইনরক্ষক হিসেবেই নয়, বরং যার মনটা মানুষের জন্য কাঁদে। **(পুলিশ সুপারের আগমন)** খবরটি চোখে পড়ে তৎকালীন ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুজ্জামানের। তিনি এবং তাঁর সহধর্মিণী রিফাত জাহান দুজনই সামিয়ার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। এসপি আনিসুজ্জামান ভাবলেন, তাঁর দায়িত্ব শুধু অপরাধ দমন নয়, বিপদে পড়া মানুষের জীবন বাঁচানোও তাঁর কর্তব্যের অংশ। তাই কোনো প্রচার বা আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই, তিনি নীরবে পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। তিনি সাথে সাথে ঢাকা জেলার (উত্তর) ট্র্যাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) মো. গোলাম সরোয়ারকে দায়িত্ব দেন সামিয়ার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে চিকিৎসার সব ব্যবস্থা করার জন্য। টিআই গোলাম সরোয়ারের কথায়, "স্যার (এসপি আনিসুজ্জামান) বরাবরই পর্দার আড়াল থেকে মানুষের জন্য কাজ করতে ভালোবাসেন। স্যারের এই মানবিকতার জন্য আমরা সবাই তাঁকে মন থেকে শ্রদ্ধা করি।" এই উদ্যোগটা শুধু আর্থিক সাহায্য ছিল না, এটা ছিল একটা দিশেহারা পরিবারকে দেওয়া মানসিক আশ্রয়। যে বাবা-মা মেয়ের জীবন নিয়ে সব আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন, তাঁরা যেন নতুন করে স্বপ্ন দেখার সাহস পেলেন। **(সমাধানের পথে যাত্রা)** পুলিশ সুপারের নির্দেশনা পাওয়ার পর সব অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে এগোতে থাকে। ট্র্যাফিক ইন্সপেক্টর গোলাম সরোয়ারের মাধ্যমে সামিয়া ও তার পরিবারকে ঢাকার স্বনামধন্য ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দেশের সেরা হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে শুরু হয় সামিয়ার চিকিৎসা। হাসপাতালে ভর্তির পর তার সব প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। এই পুরো সময়টায় পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান নিজে প্রতিটা মুহূর্তের খোঁজখবর নিয়েছেন। তিনি নিশ্চিত করেছেন যেন সামিয়ার চিকিৎসায় বিন্দুমাত্র কোনো ত্রুটি না থাকে। তাঁর এই ব্যক্তিগত তদারকি অসহায় পরিবারটিকে যে কী পরিমাণ মানসিক জোর দিয়েছিল, তা বলার মতো নয়। অবশেষে সেই দিনটি আসে। অধ্যাপক ডা. মো. শরিফুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি দক্ষ মেডিকেল টিম সামিয়ার ওপেন হার্ট সার্জারি শুরু করে। দীর্ঘ সাত ঘণ্টার এক শ্বাসরুদ্ধকর এবং জটিল অস্ত্রোপচার। হাসপাতালের করিডোরে সামিয়ার বাবা-মায়ের প্রতিটি সেকেন্ড কাটছিল উদ্বেগ আর প্রার্থনায়। একদিকে মেয়ের জীবন ফিরে পাওয়ার তীব্র আশা, অন্যদিকে অজানা ভয়। **(চূড়ান্ত পরিণতি)** দীর্ঘ সাত ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষার পর অপারেশন থিয়েটার থেকে খবর আসে—অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে! এই একটা কথাই যেন সামিয়ার বাবা-মায়ের কানে অমৃতের মতো শোনাল। মুহূর্তে তাদের সব দুশ্চিন্তা, সব হতাশা উধাও হয়ে যায়। কয়েকদিন পর, সামিয়া যখন প্রথম চোখ মেলে দুর্বল গলায় বাবা-মাকে ডেকে ওঠে, সেই মুহূর্তটা কোনো শব্দ দিয়ে প্রকাশ করা সম্ভব না। হাসপাতাল থেকে মেয়েকে নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে বাবা শামীম হোসেনের চোখে ছিল আনন্দাশ্রু। তিনি বলেন, "আমরা তো মাইয়াডার বাঁচার আশাই ছাইড়া দিছিলাম। চোখের সামনে দেখছিলাম ও শেষ হইয়া যাইতাছে। আর আজকে তারে সুস্থ কইরা বাড়ি নিয়া যাইতাছি, এইটা যে কীসের আনন্দ, ভাষায় কইতে পারুম না। পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান স্যার আর তাঁর স্ত্রী আমাদের জন্য যা করছেন, সেই ঋণ কোনোদিন শোধ করতে পারুম না। আল্লাহই যেন ফেরেশতা পাঠাইছিল।" সুস্থ হয়ে ওঠা সামিয়ার মুখেও ছিল কৃতজ্ঞতার একরাশ হাসি। সে বলে, "আমি তো হয়তো মারাই যেতাম। আল্লাহ পুলিশ আঙ্কেলকে পাঠাইছে আমাকে বাঁচানোর জন্য। আমি আর আমার পুরো পরিবার তাঁর জন্য সবসময় দোয়া করব।" এই ঘটনাটা শুধু একটা পরিবারকেই নতুন জীবন দেয়নি, এটা পুরো সমাজে একটা দারুণ বার্তা দিয়েছে। এটা প্রমাণ করেছে যে, পুলিশের উর্দির ভেতরেও একটা মানবিক মন থাকে। পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের বিশ্বাস আর ভালোবাসাকে এই একটা ঘটনাই অনেকখানি বাড়িয়ে দিয়েছে। **(শেষ কথা)** পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের এই অসাধারণ উদ্যোগ একটা নিভে যাওয়া জীবনকে নতুন করে আলো দিয়েছে। এই গল্পটা আমাদের শেখায়, পুলিশ শুধু আইনের রক্ষকই নয়, তারা বিপদে পড়া মানুষের বন্ধুও হতে পারে। হয়তো আমাদের চারপাশে এমন আরও অনেক সামিয়া আছে, যাদের সামান্য একটু সাহায্যই পারে জীবনটা বদলে দিতে। এসপি আনিসুজ্জামানের মতো মানুষরাই আমাদের সমাজের বাতিঘর। তাঁদের আলোতেই মানবতা টিকে থাকে। আসুন, আমরা সবাই এই অসাধারণ মানবিক গল্পটা অন্যদের কাছে পৌঁছে দিই। এই ভিডিওটি শেয়ার করে অন্যদেরকেও এমন ভালো কাজে উৎসাহ দিই। পুলিশ আর সাধারণ মানুষের মধ্যে信頼ের এই সম্পর্ক আরও মজবুত হোক। এমন আরও অনুপ্রেরণার গল্প দেখতে আমাদের সাথেই থাকুন। কারণ, একটা ভালো কাজই পারে হাজারো মানুষের জীবনে আলো জ্বালাতে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডি এস কে টিভি চ্যানেল

বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬


পুলিশ সুপারের মানবিকতায় নতুন জীবন পেল কিশোরী সামিয়া

প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুলাই ২০২৫

featured Image
আচ্ছা, নিয়তির কাছে হেরে যাওয়াটা কি এতটাই সহজ? মাত্র ১২ বছর বয়সে একটা ফুটফুটে বাচ্চার জীবন কি নিভে যাবে শুধুমাত্র টাকার অভাবে? চোখের সামনে ঝলমল করছে জল, বুকে অসহ্য ব্যথা—জন্মের পর থেকেই হৃদপিণ্ডের ছিদ্র নিয়ে বেড়ে ওঠা কিশোরী সামিয়ার জীবনটা ছিল এমনই এক অসম লড়াই। যে বয়সে ওর বন্ধুদের সাথে খেলার মাঠে থাকার কথা, ও তখন লড়ছিল মৃত্যুর সাথে। চিকিৎসার টাকা জোগাড় করতে না পেরে যখন একটা পরিবার পুরোপুরি হাল ছেড়ে দিয়েছিল, ঠিক তখনই দেবদূতের মতো কে বাড়িয়ে দিয়েছিল সাহায্যের হাত? কীভাবে একজন পুলিশ কর্মকর্তার মানবিকতায় একটা প্রায় নিভে যাওয়া জীবন নতুন করে জ্বলে উঠলো? আজ সেই গল্পটাই আপনাদের বলব। **(পরিচয় এবং সংকট)** গাজীপুরের কাশিমপুর এলাকার খুব সাধারণ একটি পরিবারে সামিয়ার জন্ম। বাবা শামীম হোসেন সামান্য বেতনে একটা পোশাক কারখানায় কাজ করেন, আর মা রীমা আক্তার সংসার সামলান। চার ভাইবোনের মধ্যে সামিয়া দ্বিতীয়। ছয়জনের এই সংসার চালাতেই যেখানে তার বাবার হিমশিম অবস্থা, সেখানে মেয়ের এমন জটিল রোগের চিকিৎসা করানোটা তাদের জন্য ছিল এক আকাশ-কুসুম কল্পনার মতো। ছোটবেলা থেকেই সামিয়া আর দশটা বাচ্চার মতো স্বাভাবিক ছিল না। সে জন্মেছিল হৃদপিণ্ডে একটি ছিদ্র নিয়ে, যা দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছিল। ফুসফুসের রক্তনালী সরু হয়ে যাওয়ায় রক্ত চলাচলে মারাত্মক সমস্যা হচ্ছিল। এর ফলে যখন-তখন তীব্র শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, আর মাথা ঘোরানোর মতো যন্ত্রণায় কাতরাত মেয়েটা। প্রায়ই জ্ঞান হারাতো, যা দেখে বাবা-মায়ের বুকটা কেঁপে উঠত। মেয়ের এই কষ্ট দেখে বাবা-মা নিজেদের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু সামান্য আয়ে এই বিশাল চিকিৎসার খরচ চালানো প্রায় অসম্ভব ছিল। চিকিৎসকরা আগেই জানিয়েছিলেন, সামিয়াকে বাঁচাতে হলে যত দ্রুত সম্ভব ওপেন হার্ট সার্জারি দরকার। এর জন্য লাগবে প্রায় তিন-চার লক্ষ টাকা! একজন পোশাক শ্রমিকের পক্ষে এত টাকা জোগাড় করা যে কতটা কঠিন, তা আমরা সবাই জানি। কান্নাভেজা গলায় সামিয়ার মা বলেন, "মেয়েটা আমার চোখের সামনে শেষ হয়ে যাচ্ছিল। ওর কষ্ট দেখে বুকটা ফাইট্টা যাইত, কিন্তু কিছুই করতে পারতেছিলাম না। ডাক্তার যখন অপারেশনের কথা বলল, মাথায় যেন আকাশ ভাইঙা পড়ল। কই পামু এত টাকা? আমরা তো গরিব মানুষ। মনে হইতেছিল, টাকার অভাবে বুঝি মেয়েটারে আর বাঁচাইতে পারমু না।" বাবা শামীম হোসেন বলেন, "যতটুকু জমানো টাকা ছিল, সব দিয়া চিকিৎসা করাইছি। কিন্তু আর তো পারতেছিলাম না। মানুষের কাছে হাত পাততেও লজ্জা লাগে। নীরবে মাইয়াটার মৃত্যুর অপেক্ষা করা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা ছিল না।" **(আশার আলো)** দিন দিন সামিয়ার অবস্থা যখন আরও খারাপের দিকে যাচ্ছিল, যখন পরিবারটা প্রায় মেনেই নিয়েছিল যে নিয়তির কাছে তাদের হারতেই হবে, ঠিক তখনই একটা ঘটনা গল্পের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। গণমাধ্যমে "অভাবে চিকিৎসা বন্ধ শিশু সামিয়ার" শিরোনামে একটি খবর প্রকাশিত হয়। এই একটি খবরই যেন কান্নার শব্দ ছাপিয়ে পৌঁছে যায় এমন একজন মানুষের কানে, যার পরিচয় শুধু একজন আইনরক্ষক হিসেবেই নয়, বরং যার মনটা মানুষের জন্য কাঁদে। **(পুলিশ সুপারের আগমন)** খবরটি চোখে পড়ে তৎকালীন ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুজ্জামানের। তিনি এবং তাঁর সহধর্মিণী রিফাত জাহান দুজনই সামিয়ার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। এসপি আনিসুজ্জামান ভাবলেন, তাঁর দায়িত্ব শুধু অপরাধ দমন নয়, বিপদে পড়া মানুষের জীবন বাঁচানোও তাঁর কর্তব্যের অংশ। তাই কোনো প্রচার বা আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই, তিনি নীরবে পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। তিনি সাথে সাথে ঢাকা জেলার (উত্তর) ট্র্যাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) মো. গোলাম সরোয়ারকে দায়িত্ব দেন সামিয়ার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে চিকিৎসার সব ব্যবস্থা করার জন্য। টিআই গোলাম সরোয়ারের কথায়, "স্যার (এসপি আনিসুজ্জামান) বরাবরই পর্দার আড়াল থেকে মানুষের জন্য কাজ করতে ভালোবাসেন। স্যারের এই মানবিকতার জন্য আমরা সবাই তাঁকে মন থেকে শ্রদ্ধা করি।" এই উদ্যোগটা শুধু আর্থিক সাহায্য ছিল না, এটা ছিল একটা দিশেহারা পরিবারকে দেওয়া মানসিক আশ্রয়। যে বাবা-মা মেয়ের জীবন নিয়ে সব আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন, তাঁরা যেন নতুন করে স্বপ্ন দেখার সাহস পেলেন। **(সমাধানের পথে যাত্রা)** পুলিশ সুপারের নির্দেশনা পাওয়ার পর সব অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে এগোতে থাকে। ট্র্যাফিক ইন্সপেক্টর গোলাম সরোয়ারের মাধ্যমে সামিয়া ও তার পরিবারকে ঢাকার স্বনামধন্য ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দেশের সেরা হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে শুরু হয় সামিয়ার চিকিৎসা। হাসপাতালে ভর্তির পর তার সব প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। এই পুরো সময়টায় পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান নিজে প্রতিটা মুহূর্তের খোঁজখবর নিয়েছেন। তিনি নিশ্চিত করেছেন যেন সামিয়ার চিকিৎসায় বিন্দুমাত্র কোনো ত্রুটি না থাকে। তাঁর এই ব্যক্তিগত তদারকি অসহায় পরিবারটিকে যে কী পরিমাণ মানসিক জোর দিয়েছিল, তা বলার মতো নয়। অবশেষে সেই দিনটি আসে। অধ্যাপক ডা. মো. শরিফুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি দক্ষ মেডিকেল টিম সামিয়ার ওপেন হার্ট সার্জারি শুরু করে। দীর্ঘ সাত ঘণ্টার এক শ্বাসরুদ্ধকর এবং জটিল অস্ত্রোপচার। হাসপাতালের করিডোরে সামিয়ার বাবা-মায়ের প্রতিটি সেকেন্ড কাটছিল উদ্বেগ আর প্রার্থনায়। একদিকে মেয়ের জীবন ফিরে পাওয়ার তীব্র আশা, অন্যদিকে অজানা ভয়। **(চূড়ান্ত পরিণতি)** দীর্ঘ সাত ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষার পর অপারেশন থিয়েটার থেকে খবর আসে—অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে! এই একটা কথাই যেন সামিয়ার বাবা-মায়ের কানে অমৃতের মতো শোনাল। মুহূর্তে তাদের সব দুশ্চিন্তা, সব হতাশা উধাও হয়ে যায়। কয়েকদিন পর, সামিয়া যখন প্রথম চোখ মেলে দুর্বল গলায় বাবা-মাকে ডেকে ওঠে, সেই মুহূর্তটা কোনো শব্দ দিয়ে প্রকাশ করা সম্ভব না। হাসপাতাল থেকে মেয়েকে নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে বাবা শামীম হোসেনের চোখে ছিল আনন্দাশ্রু। তিনি বলেন, "আমরা তো মাইয়াডার বাঁচার আশাই ছাইড়া দিছিলাম। চোখের সামনে দেখছিলাম ও শেষ হইয়া যাইতাছে। আর আজকে তারে সুস্থ কইরা বাড়ি নিয়া যাইতাছি, এইটা যে কীসের আনন্দ, ভাষায় কইতে পারুম না। পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান স্যার আর তাঁর স্ত্রী আমাদের জন্য যা করছেন, সেই ঋণ কোনোদিন শোধ করতে পারুম না। আল্লাহই যেন ফেরেশতা পাঠাইছিল।" সুস্থ হয়ে ওঠা সামিয়ার মুখেও ছিল কৃতজ্ঞতার একরাশ হাসি। সে বলে, "আমি তো হয়তো মারাই যেতাম। আল্লাহ পুলিশ আঙ্কেলকে পাঠাইছে আমাকে বাঁচানোর জন্য। আমি আর আমার পুরো পরিবার তাঁর জন্য সবসময় দোয়া করব।" এই ঘটনাটা শুধু একটা পরিবারকেই নতুন জীবন দেয়নি, এটা পুরো সমাজে একটা দারুণ বার্তা দিয়েছে। এটা প্রমাণ করেছে যে, পুলিশের উর্দির ভেতরেও একটা মানবিক মন থাকে। পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের বিশ্বাস আর ভালোবাসাকে এই একটা ঘটনাই অনেকখানি বাড়িয়ে দিয়েছে। **(শেষ কথা)** পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের এই অসাধারণ উদ্যোগ একটা নিভে যাওয়া জীবনকে নতুন করে আলো দিয়েছে। এই গল্পটা আমাদের শেখায়, পুলিশ শুধু আইনের রক্ষকই নয়, তারা বিপদে পড়া মানুষের বন্ধুও হতে পারে। হয়তো আমাদের চারপাশে এমন আরও অনেক সামিয়া আছে, যাদের সামান্য একটু সাহায্যই পারে জীবনটা বদলে দিতে। এসপি আনিসুজ্জামানের মতো মানুষরাই আমাদের সমাজের বাতিঘর। তাঁদের আলোতেই মানবতা টিকে থাকে। আসুন, আমরা সবাই এই অসাধারণ মানবিক গল্পটা অন্যদের কাছে পৌঁছে দিই। এই ভিডিওটি শেয়ার করে অন্যদেরকেও এমন ভালো কাজে উৎসাহ দিই। পুলিশ আর সাধারণ মানুষের মধ্যে信頼ের এই সম্পর্ক আরও মজবুত হোক। এমন আরও অনুপ্রেরণার গল্প দেখতে আমাদের সাথেই থাকুন। কারণ, একটা ভালো কাজই পারে হাজারো মানুষের জীবনে আলো জ্বালাতে।

ডি এস কে টিভি চ্যানেল

চেয়ারম্যান ও সম্পাদকঃ সামসুল আলম
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আসআদ

কপিরাইট © ২০২৫ ডি এস কে টিভি চ্যানেল