ডি এস কে টিভি চ্যানেল
প্রকাশ : বুধবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

আফগানিস্তানে ভয়াবহ ভূমিকম্প: পাহাড়চূড়াতেই হচ্ছে দাফন

আফগানিস্তানে ভয়াবহ ভূমিকম্প: পাহাড়চূড়াতেই হচ্ছে দাফন
আফগানিস্তানে ভয়াবহ ভূমিকম্প: পাহাড়চূড়াতেই হচ্ছে দাফন আফগানিস্তানের দুর্গম পাহাড়ি কুনার প্রদেশে ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিহতদের লাশ সমাহিত করতে হচ্ছে পাহাড়চূড়াতেই। কঠিন ভৌগোলিক অবস্থার কারণে মৃতদেহগুলো নিচে নামিয়ে আনা সম্ভব না হওয়ায় স্থানীয়রাই তাৎক্ষণিকভাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। খবরটি নিশ্চিত করেছে বিবিসি। গত রোববার (৩১ আগস্ট) গভীর রাতে কুনার প্রদেশে ৬ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে ঘরবাড়ি ভেঙে পড়ার পাশাপাশি ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী এ পর্যন্ত মারা গেছেন ১ হাজার ৪১১ জন, আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩ হাজার ১২৪ জন। অনেকে এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন। দুর্গম গ্রামাঞ্চলে পৌঁছাতে না পারায় উদ্ধার তৎপরতা সীমিত হয়ে পড়েছে। কুনারের নুরগাল জেলায় পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ। স্থানীয় কর্মকর্তা ইজাজ উলহাক ইয়াদ জানিয়েছেন, অনেক গ্রামে এখনো কোনো সরকারি সাহায্য পৌঁছায়নি। এ অবস্থায় লোকজন খালি হাতে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের খুঁজছেন। এর মাঝেই মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) আবারও ৫.২ মাত্রার আফটারশক আঘাত হানে, যা পরিস্থিতি আরও কঠিন করে তুলেছে। বিবিসির প্রতিবেদক ইয়ামা বারিজ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, দেবগুল উপত্যকায় কিছু পরিবার পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পাহাড়ি পথে লাশ নামানো অসম্ভব হয়ে পড়ায় সেগুলোকে কোদাল দিয়ে খনন করা গর্তে পাহাড়ের চূড়াতেই দাফন করা হচ্ছে। নাসরাল্লাহ খান নামে এক বাসিন্দা জানান, তিনি একাই পাঁচটি মরদেহ সমাহিত করেছেন—এর মধ্যে ছিল তিন শিশু ও দুজন যুবক। নাসরাল্লাহ নিজে কুনার শহরে চাকরি করেন, কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সহায়তা করতে ছয় ঘণ্টা পথ হেঁটে দেবগুলে পৌঁছান। তিনি বলেন, “প্রথম যাঁর সঙ্গে দেখা হয়, তাঁর পরিবারে ১৮ জন মারা গেছেন। আহত আর মৃতদেহগুলো চারদিকে পড়ে ছিল, সাহায্যের কেউ ছিল না।” তিনি আরও জানান, কিছু গ্রামে প্রতিটি পরিবার থেকে মাত্র দুই-তিনজন বেঁচে আছে। বাকিরা সবাই মারা গেছে। গ্রামবাসীরা বেতের তৈরি অস্থায়ী স্ট্রেচারে মরদেহ বহন করছেন, তারপর কম্বলে মুড়ে পাহাড়চূড়াতেই কবর দিচ্ছেন। তিনটি গ্রামে গিয়ে তিনি নিজে প্রায় ৪১টি লাশ দাফনে সহায়তা করেছেন। তবে আফটারশকের আতঙ্কে সব মরদেহকে সঠিকভাবে দাফন করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয়দের ভাষ্যে, এই দৃশ্যের ভয়াবহতা কল্পনাকেও হার মানায়—যেখানে পাহাড়চূড়াতেই মৃত্যু আর সমাধি এক হয়ে গেছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডি এস কে টিভি চ্যানেল

রোববার, ৩১ মে ২০২৬


আফগানিস্তানে ভয়াবহ ভূমিকম্প: পাহাড়চূড়াতেই হচ্ছে দাফন

প্রকাশের তারিখ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

featured Image
আফগানিস্তানে ভয়াবহ ভূমিকম্প: পাহাড়চূড়াতেই হচ্ছে দাফন আফগানিস্তানের দুর্গম পাহাড়ি কুনার প্রদেশে ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিহতদের লাশ সমাহিত করতে হচ্ছে পাহাড়চূড়াতেই। কঠিন ভৌগোলিক অবস্থার কারণে মৃতদেহগুলো নিচে নামিয়ে আনা সম্ভব না হওয়ায় স্থানীয়রাই তাৎক্ষণিকভাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। খবরটি নিশ্চিত করেছে বিবিসি। গত রোববার (৩১ আগস্ট) গভীর রাতে কুনার প্রদেশে ৬ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে ঘরবাড়ি ভেঙে পড়ার পাশাপাশি ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী এ পর্যন্ত মারা গেছেন ১ হাজার ৪১১ জন, আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩ হাজার ১২৪ জন। অনেকে এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন। দুর্গম গ্রামাঞ্চলে পৌঁছাতে না পারায় উদ্ধার তৎপরতা সীমিত হয়ে পড়েছে। কুনারের নুরগাল জেলায় পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ। স্থানীয় কর্মকর্তা ইজাজ উলহাক ইয়াদ জানিয়েছেন, অনেক গ্রামে এখনো কোনো সরকারি সাহায্য পৌঁছায়নি। এ অবস্থায় লোকজন খালি হাতে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের খুঁজছেন। এর মাঝেই মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) আবারও ৫.২ মাত্রার আফটারশক আঘাত হানে, যা পরিস্থিতি আরও কঠিন করে তুলেছে। বিবিসির প্রতিবেদক ইয়ামা বারিজ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, দেবগুল উপত্যকায় কিছু পরিবার পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পাহাড়ি পথে লাশ নামানো অসম্ভব হয়ে পড়ায় সেগুলোকে কোদাল দিয়ে খনন করা গর্তে পাহাড়ের চূড়াতেই দাফন করা হচ্ছে। নাসরাল্লাহ খান নামে এক বাসিন্দা জানান, তিনি একাই পাঁচটি মরদেহ সমাহিত করেছেন—এর মধ্যে ছিল তিন শিশু ও দুজন যুবক। নাসরাল্লাহ নিজে কুনার শহরে চাকরি করেন, কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সহায়তা করতে ছয় ঘণ্টা পথ হেঁটে দেবগুলে পৌঁছান। তিনি বলেন, “প্রথম যাঁর সঙ্গে দেখা হয়, তাঁর পরিবারে ১৮ জন মারা গেছেন। আহত আর মৃতদেহগুলো চারদিকে পড়ে ছিল, সাহায্যের কেউ ছিল না।” তিনি আরও জানান, কিছু গ্রামে প্রতিটি পরিবার থেকে মাত্র দুই-তিনজন বেঁচে আছে। বাকিরা সবাই মারা গেছে। গ্রামবাসীরা বেতের তৈরি অস্থায়ী স্ট্রেচারে মরদেহ বহন করছেন, তারপর কম্বলে মুড়ে পাহাড়চূড়াতেই কবর দিচ্ছেন। তিনটি গ্রামে গিয়ে তিনি নিজে প্রায় ৪১টি লাশ দাফনে সহায়তা করেছেন। তবে আফটারশকের আতঙ্কে সব মরদেহকে সঠিকভাবে দাফন করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয়দের ভাষ্যে, এই দৃশ্যের ভয়াবহতা কল্পনাকেও হার মানায়—যেখানে পাহাড়চূড়াতেই মৃত্যু আর সমাধি এক হয়ে গেছে।

ডি এস কে টিভি চ্যানেল

চেয়ারম্যান ও সম্পাদকঃ সামসুল আলম
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আসআদ

কপিরাইট © ২০২৫ ডি এস কে টিভি চ্যানেল