ডি এস কে টিভি চ্যানেল
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

বিভিন্ন দিক থেকে হু'ম'কি র শিকার কমান্ডার মেহেদী হাসান

বিভিন্ন দিক থেকে হু'ম'কি র শিকার কমান্ডার মেহেদী হাসান
যে মানুষটা দেশের জন্য বন্দুক তুলেছিল, সেই দেশেই আজ চারপাশ থেকে ছুরি উঁকি দিচ্ছে। লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মেহেদী হাসান—নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত অফিসার—নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করতেই কেন তার জীবন ঝুঁকির মুখে? কার চোখে তিনি এতটা বিষ? ২০২৩-এর জুনে বাংলাদেশ   রিপাবলিক পার্টি” নামে নতুন দলের ঘোষণা আসে। স্লোগান ছিল সহজ—‘সবার উপরে দেশ’। সভাপতি মেহেদী হাসান। সমুদ্রসীমা রক্ষা করেছেন সেনাবাহিনীতে থাকতে, এবার চান দেশে সুশাসন। কিন্তু দলের জন্মের পর থেকেই তিনি চারদিকের চাপে নিঃশ্বাস ফেলছেন। আজ আমরা দেখব কোন চার দিক থেকে হুমকি আসছে, আর কেনই বা আসছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ঘর** প্রথম হুমকি আসে প্রতিপক্ষের কুঠুরি থেকে। নতুন দল মাঠে নামলে ভোটব্যাংক কাঁপে; পুরনো দলগুলোর মনে ভয়—‘সেনাবেকারুনের ছায়া’ যেন জনতার কাছে নৈতিক ভরসা হয়ে দাঁড়ায়। বিশ্লেষকরা বলেন, সাবেক সামরিক কর্মকর্তারা যখন রাজনীতিতে নামেন, তখন তাদের ডিসিপ্লিন ইমেজই বড় হুমকি হয়ে যায়। ফলে সোশাল মিডিয়ায় সূত্রবিহীন ক্যাম্পেইন, জনসভায় বাধা, এমনকি পরিবারের সদস্যদের ফোনেও হুমকি। এই চাপটা সবচেয়ে স্পষ্ট—তিনি যে পথে হাঁটছেন, তা অনেকের চোখে বিষ। দুর্নীতির ফ্যাক্টর** দ্বিতীয় হুমকি আসে দুর্নীতিবাজ চক্রের কাছ থেকে। মেহেদীর লক্ষ্য—সমান অধিকার ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ। এই কথাটা যারা টেন্ডারবাজি, চোরাই চ্যানেল, বা সরকারি খরচের ফাঁকফোঁকড়ে স্বার্থ দেখে, তারা সহজেই বুঝে—এই দল যদি শক্তিশালী হয়, তাদের খেলা শেষ। তাই ছদ্মবেশী ব্রিফিং, প্রেস ক্লাবে গুজব, এমনকি দলের নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার চেষ্টা। সাবেক এক দুদক কর্মকর্তা চ্যানেল টোয়েন্টিফোর-কে বলেছিলেন, “নতুন শুদ্ধ ধারার আগমনই পুরনো দূষিত চক্রের টনক নড়ায়”—এ কথা ফাঁস হতেই তারাও চাপে পড়েন প্রশাসনিক ব্যারিকেড** তৃতীয় চাপ প্রশাসনিক মহলে। নতুন দলের জন্মের পর অনেক জায়গায় সমাবেশের অনুমতি মিলছে না; মাঠ ভাড়া হঠাৎ বাতিল, হলরুমে ‘বৈদ্যুতিক ত্রুটি’ দেখানো হয়। এসব ক্ষেত্রে সরাসরি মেহেদীর নামে নয়, কিন্তু তার কর্মীদের বিরুদ্ধে। এতে দলের গতি স্লথ হয়, আর সময়ক্ষেপণে সাংগঠনিক ব্যয় বাড়ে। বিশ্লেষকরা বলেন, এ ধরনের ‘সাইলেন্ট বয়কট’ সাবেক সামরিক নেতাদের রাজনীতিতে আসার সময়েই দেখা যায়—১৯৮০-র দশকের পর এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এর উদাহরণ আছে। অভ্যন্তরীণ ঐক্যের ঝুঁকি** চতুর্থ দিকটা ভেতরের—দল গঠনের তাড়াহুড়ায় বিভিন্ন পেশার মানুষ এসেছেন; কেউ কেউ পুরনো দল থেকে পাল্টে আসা। ফলে আদর্শের চেয়ে ব্যক্তিস্বার্থের সংঘাত দেখা দেয়। মেহেদীর কঠোর সামরিক অভ্যাস—সময়নিষ্ঠ, তথ্যভিত্তিক, কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ—এতে কেউ কেউ ‘অতিরিক্ত কঠোর’ মনে করেন। এই ভেতরের দ্বন্দ্ব গোপনে শত্রুপক্ষের হাত শক্ত করে; ফাঁস হওয়া মেসেজ লিক বা কাউন্সিলে ভাঙনের গুজব ছড়ায়। ভেতরের হুমকি ঠেকাতে তাকে সপ্তাহে তিন রাত পর্যন্ত জেলা প্রতিনিধিদের সঙ্গে জুম কলে বসতে হয়। এতে তার নিজের স্বাস্থ্যও ঝুঁকিতে পড়ে—বিশ্রাম কম, রক্তচাপ বাড়ে, চিকিৎসক বিশ্রামের পরামর্শ দিলেও তিনি মাঠ ছাড়েন না। ইতিহাসের পাতা** আমরা যদি বাংলাদেশের আগের দুটি উদাহরণ দেখি—১৯৮০-তে এক সাবেক সেনা কর্মকর্তা রাজনীতিতে আসতেই তৎকালীন শাসকদলের ভেতরে ভীষণ কাঁপুনি হয়; ২০০০-এর দশকে আরেকজন অবসরপ্রাপ্ত মেজর নতুন দল খুলে বলেছিলেন, ‘বিদেশে অর্থ পাচারকারীরা যত শক্তিশালীই হোক, আমি তাদের লাগব।’ এরপর তার বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা, সমাবেশে বোমা হামলা চেষ্টা—সবই ঘটেছিল। এবার মেহেদী যখন একই পথে হাঁটছেন, তখন মানুষের মনে স্বাভাবিক প্রশ্ন—ইতিহাস না কি পুনরাবৃত্তি হচ্ছে? কেন তিনি ঘুরে দাঁড়াতে পারেন** তার পক্ষে তিনটি শক্তি কাজ করছে। এক—সামরিক ব্যাকগ্রাউন্ডের কারণে সাধারণ মানুষের আস্থা; দুই—স্পষ্ট মিশন স্টেটমেন্ট: দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র; তিন—তরুণ সমর্থকদের নেটওয়ার্ক, যারা স্বেচ্ছায় পোস্টার ছাপায়, অনলাইনে ক্যাম্পেইন চালায়। ফলে চাপ বাড়লেও দলের সদস্য সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে গত চার মাসে। এই ‘গ্রাসরুট মোমেন্টাম’ যদি টিকে থাকে, তাহলে শুধু হুমকি নয়, মেরুদণ্ডও তৈরি হবে।,  

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডি এস কে টিভি চ্যানেল

বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬


বিভিন্ন দিক থেকে হু'ম'কি র শিকার কমান্ডার মেহেদী হাসান

প্রকাশের তারিখ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

featured Image
যে মানুষটা দেশের জন্য বন্দুক তুলেছিল, সেই দেশেই আজ চারপাশ থেকে ছুরি উঁকি দিচ্ছে। লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মেহেদী হাসান—নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত অফিসার—নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করতেই কেন তার জীবন ঝুঁকির মুখে? কার চোখে তিনি এতটা বিষ? ২০২৩-এর জুনে বাংলাদেশ   রিপাবলিক পার্টি” নামে নতুন দলের ঘোষণা আসে। স্লোগান ছিল সহজ—‘সবার উপরে দেশ’। সভাপতি মেহেদী হাসান। সমুদ্রসীমা রক্ষা করেছেন সেনাবাহিনীতে থাকতে, এবার চান দেশে সুশাসন। কিন্তু দলের জন্মের পর থেকেই তিনি চারদিকের চাপে নিঃশ্বাস ফেলছেন। আজ আমরা দেখব কোন চার দিক থেকে হুমকি আসছে, আর কেনই বা আসছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ঘর** প্রথম হুমকি আসে প্রতিপক্ষের কুঠুরি থেকে। নতুন দল মাঠে নামলে ভোটব্যাংক কাঁপে; পুরনো দলগুলোর মনে ভয়—‘সেনাবেকারুনের ছায়া’ যেন জনতার কাছে নৈতিক ভরসা হয়ে দাঁড়ায়। বিশ্লেষকরা বলেন, সাবেক সামরিক কর্মকর্তারা যখন রাজনীতিতে নামেন, তখন তাদের ডিসিপ্লিন ইমেজই বড় হুমকি হয়ে যায়। ফলে সোশাল মিডিয়ায় সূত্রবিহীন ক্যাম্পেইন, জনসভায় বাধা, এমনকি পরিবারের সদস্যদের ফোনেও হুমকি। এই চাপটা সবচেয়ে স্পষ্ট—তিনি যে পথে হাঁটছেন, তা অনেকের চোখে বিষ। দুর্নীতির ফ্যাক্টর** দ্বিতীয় হুমকি আসে দুর্নীতিবাজ চক্রের কাছ থেকে। মেহেদীর লক্ষ্য—সমান অধিকার ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ। এই কথাটা যারা টেন্ডারবাজি, চোরাই চ্যানেল, বা সরকারি খরচের ফাঁকফোঁকড়ে স্বার্থ দেখে, তারা সহজেই বুঝে—এই দল যদি শক্তিশালী হয়, তাদের খেলা শেষ। তাই ছদ্মবেশী ব্রিফিং, প্রেস ক্লাবে গুজব, এমনকি দলের নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার চেষ্টা। সাবেক এক দুদক কর্মকর্তা চ্যানেল টোয়েন্টিফোর-কে বলেছিলেন, “নতুন শুদ্ধ ধারার আগমনই পুরনো দূষিত চক্রের টনক নড়ায়”—এ কথা ফাঁস হতেই তারাও চাপে পড়েন প্রশাসনিক ব্যারিকেড** তৃতীয় চাপ প্রশাসনিক মহলে। নতুন দলের জন্মের পর অনেক জায়গায় সমাবেশের অনুমতি মিলছে না; মাঠ ভাড়া হঠাৎ বাতিল, হলরুমে ‘বৈদ্যুতিক ত্রুটি’ দেখানো হয়। এসব ক্ষেত্রে সরাসরি মেহেদীর নামে নয়, কিন্তু তার কর্মীদের বিরুদ্ধে। এতে দলের গতি স্লথ হয়, আর সময়ক্ষেপণে সাংগঠনিক ব্যয় বাড়ে। বিশ্লেষকরা বলেন, এ ধরনের ‘সাইলেন্ট বয়কট’ সাবেক সামরিক নেতাদের রাজনীতিতে আসার সময়েই দেখা যায়—১৯৮০-র দশকের পর এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এর উদাহরণ আছে। অভ্যন্তরীণ ঐক্যের ঝুঁকি** চতুর্থ দিকটা ভেতরের—দল গঠনের তাড়াহুড়ায় বিভিন্ন পেশার মানুষ এসেছেন; কেউ কেউ পুরনো দল থেকে পাল্টে আসা। ফলে আদর্শের চেয়ে ব্যক্তিস্বার্থের সংঘাত দেখা দেয়। মেহেদীর কঠোর সামরিক অভ্যাস—সময়নিষ্ঠ, তথ্যভিত্তিক, কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ—এতে কেউ কেউ ‘অতিরিক্ত কঠোর’ মনে করেন। এই ভেতরের দ্বন্দ্ব গোপনে শত্রুপক্ষের হাত শক্ত করে; ফাঁস হওয়া মেসেজ লিক বা কাউন্সিলে ভাঙনের গুজব ছড়ায়। ভেতরের হুমকি ঠেকাতে তাকে সপ্তাহে তিন রাত পর্যন্ত জেলা প্রতিনিধিদের সঙ্গে জুম কলে বসতে হয়। এতে তার নিজের স্বাস্থ্যও ঝুঁকিতে পড়ে—বিশ্রাম কম, রক্তচাপ বাড়ে, চিকিৎসক বিশ্রামের পরামর্শ দিলেও তিনি মাঠ ছাড়েন না। ইতিহাসের পাতা** আমরা যদি বাংলাদেশের আগের দুটি উদাহরণ দেখি—১৯৮০-তে এক সাবেক সেনা কর্মকর্তা রাজনীতিতে আসতেই তৎকালীন শাসকদলের ভেতরে ভীষণ কাঁপুনি হয়; ২০০০-এর দশকে আরেকজন অবসরপ্রাপ্ত মেজর নতুন দল খুলে বলেছিলেন, ‘বিদেশে অর্থ পাচারকারীরা যত শক্তিশালীই হোক, আমি তাদের লাগব।’ এরপর তার বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা, সমাবেশে বোমা হামলা চেষ্টা—সবই ঘটেছিল। এবার মেহেদী যখন একই পথে হাঁটছেন, তখন মানুষের মনে স্বাভাবিক প্রশ্ন—ইতিহাস না কি পুনরাবৃত্তি হচ্ছে? কেন তিনি ঘুরে দাঁড়াতে পারেন** তার পক্ষে তিনটি শক্তি কাজ করছে। এক—সামরিক ব্যাকগ্রাউন্ডের কারণে সাধারণ মানুষের আস্থা; দুই—স্পষ্ট মিশন স্টেটমেন্ট: দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র; তিন—তরুণ সমর্থকদের নেটওয়ার্ক, যারা স্বেচ্ছায় পোস্টার ছাপায়, অনলাইনে ক্যাম্পেইন চালায়। ফলে চাপ বাড়লেও দলের সদস্য সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে গত চার মাসে। এই ‘গ্রাসরুট মোমেন্টাম’ যদি টিকে থাকে, তাহলে শুধু হুমকি নয়, মেরুদণ্ডও তৈরি হবে।,  

ডি এস কে টিভি চ্যানেল

চেয়ারম্যান ও সম্পাদকঃ সামসুল আলম
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আসআদ

কপিরাইট © ২০২৫ ডি এস কে টিভি চ্যানেল