ডি এস কে টিভি চ্যানেল
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। সম্প্রতি পাকিস্তান ও সৌদি আরব একটি আনুষ্ঠানিক পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এতে বলা হয়েছে—যে কোনো রাষ্ট্র যদি এই দুই দেশের মধ্যে একটি দেশের ওপর আগ্রাসন চালায়, তবে সেটিকে উভয় দেশের বিরুদ্ধে আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে। চুক্তির ধারাটিকে ঘিরে ভারত বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জানায়, তারা জাতীয় নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার ওপর এর প্রভাব খতিয়ে দেখবে। ভারত স্পষ্ট করেছে, নিজেদের স্বার্থ সুরক্ষায় তারা সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। দিল্লি আরও জানায়, তারা আগে থেকেই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিল। সৌদি কর্তৃপক্ষ পাকিস্তানের সঙ্গে এই প্রতিরক্ষা চুক্তির অগ্রগতি নিয়ে ভারতকে নিয়মিত যোগাযোগের মধ্যে রেখেছিল বলে সূত্রে জানা যায়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, দীর্ঘদিন ধরে সাবেক পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তাদের অন্যতম কর্মক্ষেত্র সৌদি আরব। ২০১৭ সালে পাকিস্তানের সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল রাহিল শরিফকে সৌদি নেতৃত্বাধীন সন্ত্রাসবিরোধী জোটের প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়াও তার একটি দৃষ্টান্ত। দিল্লির দৃষ্টিতে এই চুক্তিকে ওয়াশিংটনের ভূমিকা সীমিত হওয়া, ইসরায়েলের হামাস নেতাদের ওপর দোহায় পরিচালিত হামলা এবং পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরান, লেবানন, সিরিয়া ও কাতারসহ বিভিন্ন দেশ ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডে শঙ্কিত। তাই সৌদি-পাকিস্তান প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বকে অনেকেই ইসরায়েলবিরোধী এক ধরনের সম্মিলিত নিরাপত্তা কাঠামোর সূচনা মনে করছেন। গত বুধবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের উপস্থিতিতে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তি স্বাক্ষর করেন। দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সৌদি প্রেস এজেন্সির বিবৃতিতে বলা হয়, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করা এবং বহিরাগত আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যৌথ প্রতিরোধ গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। এ বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “আমরা চুক্তি সম্পর্কে জানি এবং এটি দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে। এখন আমরা জাতীয় নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর এর প্রভাব মূল্যায়ন করব। ভারত সব ক্ষেত্রেই নিজের স্বার্থ রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” সৌদি-পাকিস্তানের সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে ঘনিষ্ঠ হলেও, গত এক দশকে সৌদি আরবের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কও দ্রুত ঘনীভূত হয়েছে। ষাটের দশকে ইয়েমেন সংকটের সময় প্রথম পাকিস্তানি সৈন্যরা সৌদি আরবে মোতায়েন হয় এবং ১৯৭৯ সালের মক্কা মসজিদ দখলের পর পাকিস্তানের বিশেষ বাহিনী সৌদি সেনাদের সহায়তা করে। ১৯৮২ সালে উভয় দেশ আনুষ্ঠানিক নিরাপত্তা চুক্তি করে, যার ফলে একসময় প্রায় ২০ হাজার পাকিস্তানি সেনা সৌদি আরবে অবস্থান করেছিল। অন্যদিকে, ২০০৬ সালে সৌদি বাদশাহ আবদুল্লাহর ভারত সফর থেকে শুরু করে ২০১০ সালে মনমোহন সিং ও ২০১৬ ও ২০১৯ সালে নরেন্দ্র মোদি এবং যুবরাজ সালমানের সফরের মাধ্যমে দিল্লি-রিয়াদ সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছায়। বর্তমানে সৌদি আরব ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার এবং ভারত সৌদির পঞ্চম বৃহত্তম। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৪৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সৌদি আরবে প্রায় ২৭ লাখ ভারতীয় কর্মরত আছেন, যাদের সুপ্রতিষ্ঠিত সুনাম রয়েছে। ভারতের দৃষ্টিতে, এই নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি তার কৌশলগত স্বার্থের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, একদিকে সৌদি আরব ভারতের ঘনিষ্ঠ অংশীদার, অন্যদিকে পাকিস্তানের সঙ্গে তাদের নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ছে। দিল্লি বিষয়টিকে সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সীমান্তে পাকিস্তানের সামরিক অবস্থান পুনর্মূল্যায়নের পাশাপাশি রিয়াদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চালিয়ে যাবে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডি এস কে টিভি চ্যানেল

রোববার, ৩১ মে ২০২৬


ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।

প্রকাশের তারিখ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

featured Image
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। সম্প্রতি পাকিস্তান ও সৌদি আরব একটি আনুষ্ঠানিক পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এতে বলা হয়েছে—যে কোনো রাষ্ট্র যদি এই দুই দেশের মধ্যে একটি দেশের ওপর আগ্রাসন চালায়, তবে সেটিকে উভয় দেশের বিরুদ্ধে আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে। চুক্তির ধারাটিকে ঘিরে ভারত বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জানায়, তারা জাতীয় নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার ওপর এর প্রভাব খতিয়ে দেখবে। ভারত স্পষ্ট করেছে, নিজেদের স্বার্থ সুরক্ষায় তারা সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। দিল্লি আরও জানায়, তারা আগে থেকেই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিল। সৌদি কর্তৃপক্ষ পাকিস্তানের সঙ্গে এই প্রতিরক্ষা চুক্তির অগ্রগতি নিয়ে ভারতকে নিয়মিত যোগাযোগের মধ্যে রেখেছিল বলে সূত্রে জানা যায়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, দীর্ঘদিন ধরে সাবেক পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তাদের অন্যতম কর্মক্ষেত্র সৌদি আরব। ২০১৭ সালে পাকিস্তানের সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল রাহিল শরিফকে সৌদি নেতৃত্বাধীন সন্ত্রাসবিরোধী জোটের প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়াও তার একটি দৃষ্টান্ত। দিল্লির দৃষ্টিতে এই চুক্তিকে ওয়াশিংটনের ভূমিকা সীমিত হওয়া, ইসরায়েলের হামাস নেতাদের ওপর দোহায় পরিচালিত হামলা এবং পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরান, লেবানন, সিরিয়া ও কাতারসহ বিভিন্ন দেশ ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডে শঙ্কিত। তাই সৌদি-পাকিস্তান প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বকে অনেকেই ইসরায়েলবিরোধী এক ধরনের সম্মিলিত নিরাপত্তা কাঠামোর সূচনা মনে করছেন। গত বুধবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের উপস্থিতিতে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তি স্বাক্ষর করেন। দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সৌদি প্রেস এজেন্সির বিবৃতিতে বলা হয়, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করা এবং বহিরাগত আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যৌথ প্রতিরোধ গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। এ বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “আমরা চুক্তি সম্পর্কে জানি এবং এটি দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে। এখন আমরা জাতীয় নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর এর প্রভাব মূল্যায়ন করব। ভারত সব ক্ষেত্রেই নিজের স্বার্থ রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” সৌদি-পাকিস্তানের সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে ঘনিষ্ঠ হলেও, গত এক দশকে সৌদি আরবের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কও দ্রুত ঘনীভূত হয়েছে। ষাটের দশকে ইয়েমেন সংকটের সময় প্রথম পাকিস্তানি সৈন্যরা সৌদি আরবে মোতায়েন হয় এবং ১৯৭৯ সালের মক্কা মসজিদ দখলের পর পাকিস্তানের বিশেষ বাহিনী সৌদি সেনাদের সহায়তা করে। ১৯৮২ সালে উভয় দেশ আনুষ্ঠানিক নিরাপত্তা চুক্তি করে, যার ফলে একসময় প্রায় ২০ হাজার পাকিস্তানি সেনা সৌদি আরবে অবস্থান করেছিল। অন্যদিকে, ২০০৬ সালে সৌদি বাদশাহ আবদুল্লাহর ভারত সফর থেকে শুরু করে ২০১০ সালে মনমোহন সিং ও ২০১৬ ও ২০১৯ সালে নরেন্দ্র মোদি এবং যুবরাজ সালমানের সফরের মাধ্যমে দিল্লি-রিয়াদ সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছায়। বর্তমানে সৌদি আরব ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার এবং ভারত সৌদির পঞ্চম বৃহত্তম। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৪৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সৌদি আরবে প্রায় ২৭ লাখ ভারতীয় কর্মরত আছেন, যাদের সুপ্রতিষ্ঠিত সুনাম রয়েছে। ভারতের দৃষ্টিতে, এই নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি তার কৌশলগত স্বার্থের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, একদিকে সৌদি আরব ভারতের ঘনিষ্ঠ অংশীদার, অন্যদিকে পাকিস্তানের সঙ্গে তাদের নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ছে। দিল্লি বিষয়টিকে সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সীমান্তে পাকিস্তানের সামরিক অবস্থান পুনর্মূল্যায়নের পাশাপাশি রিয়াদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চালিয়ে যাবে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে

ডি এস কে টিভি চ্যানেল

চেয়ারম্যান ও সম্পাদকঃ সামসুল আলম
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আসআদ

কপিরাইট © ২০২৫ ডি এস কে টিভি চ্যানেল