শেষ বিদায়েও মিলল না শান্তি, সম্পত্তি বিরোধে বাবার দাফন নিয়ে তুমুল উত্তেজনা
সম্পত্তি বিরোধে বাবার দাফন নিয়ে নাটকীয়তা, দুইবার কবর খুঁড়েও আটকে গেল শেষ বিদায়
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় সম্পত্তি সংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধের জেরে মৃত বাবার দাফন নিয়ে চরম অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। দুইবার কবর খোঁড়ার পরও পরিবারের সদস্যদের আপত্তির কারণে দাফন কার্যক্রম বিলম্বিত হয়, যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের জন্ম দেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রসুলপুর এলাকার বাসিন্দা জলিল পণ্ডিত মৃত্যুবরণ করলে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। এ জন্য প্রথমে কবরও খোঁড়া হয়। তবে সম্পত্তি বণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে তার কয়েকজন ছেলে-মেয়ে ওই স্থানে দাফনে আপত্তি জানান। ফলে সেখানে দাফন কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়।
পরবর্তীতে বাড়ির উঠানে দ্বিতীয়বার কবর খোঁড়া হলেও একই কারণে আবারও বাধার মুখে পড়ে দাফনের উদ্যোগ। এ সময় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা, ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে দীর্ঘ সময় মৃতদেহ বাড়ির উঠানেই পড়ে থাকে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর মধ্যস্থতায় বিরোধ নিরসনের চেষ্টা করা হয়। কয়েক ঘণ্টা আলোচনা শেষে সংক্ষিপ্ত জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং তড়িঘড়ি করে জলিল পণ্ডিতের দাফন সম্পন্ন করা হয়।
স্থানীয়দের দাবি, জীবদ্দশায় জলিল পণ্ডিত তার সম্পত্তির একটি বড় অংশ ছোট স্ত্রীর মেয়ে খাদিজা আক্তারের নামে লিখে দেওয়াকে কেন্দ্র করে পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। মৃত্যুর পর সেই বিরোধ আরও প্রকট হয়ে ওঠে এবং শেষ পর্যন্ত তার দাফন কার্যক্রমেও প্রভাব ফেলে।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধের সমাধান আদালত বা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হওয়া উচিত। কোনো অবস্থাতেই একজন মৃত ব্যক্তির দাফন-কাফনে বাধা দেওয়া সামাজিক, নৈতিক ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রহণযোগ্য নয়।
ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, সম্পত্তির বিরোধ কি এতটাই তীব্র হতে পারে যে একজন বাবার শেষ বিদায়ও সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে সম্পন্ন করা কঠিন হয়ে পড়ে? একই সঙ্গে জীবদ্দশায় সম্পত্তি বণ্টনের স্বচ্ছতা ও পারিবারিক সমঝোতার গুরুত্ব নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ জুন ২০২৬
শেষ বিদায়েও মিলল না শান্তি, সম্পত্তি বিরোধে বাবার দাফন নিয়ে তুমুল উত্তেজনা
সম্পত্তি বিরোধে বাবার দাফন নিয়ে নাটকীয়তা, দুইবার কবর খুঁড়েও আটকে গেল শেষ বিদায়
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় সম্পত্তি সংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধের জেরে মৃত বাবার দাফন নিয়ে চরম অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। দুইবার কবর খোঁড়ার পরও পরিবারের সদস্যদের আপত্তির কারণে দাফন কার্যক্রম বিলম্বিত হয়, যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের জন্ম দেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রসুলপুর এলাকার বাসিন্দা জলিল পণ্ডিত মৃত্যুবরণ করলে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। এ জন্য প্রথমে কবরও খোঁড়া হয়। তবে সম্পত্তি বণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে তার কয়েকজন ছেলে-মেয়ে ওই স্থানে দাফনে আপত্তি জানান। ফলে সেখানে দাফন কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়।
পরবর্তীতে বাড়ির উঠানে দ্বিতীয়বার কবর খোঁড়া হলেও একই কারণে আবারও বাধার মুখে পড়ে দাফনের উদ্যোগ। এ সময় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা, ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে দীর্ঘ সময় মৃতদেহ বাড়ির উঠানেই পড়ে থাকে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর মধ্যস্থতায় বিরোধ নিরসনের চেষ্টা করা হয়। কয়েক ঘণ্টা আলোচনা শেষে সংক্ষিপ্ত জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং তড়িঘড়ি করে জলিল পণ্ডিতের দাফন সম্পন্ন করা হয়।
স্থানীয়দের দাবি, জীবদ্দশায় জলিল পণ্ডিত তার সম্পত্তির একটি বড় অংশ ছোট স্ত্রীর মেয়ে খাদিজা আক্তারের নামে লিখে দেওয়াকে কেন্দ্র করে পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। মৃত্যুর পর সেই বিরোধ আরও প্রকট হয়ে ওঠে এবং শেষ পর্যন্ত তার দাফন কার্যক্রমেও প্রভাব ফেলে।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধের সমাধান আদালত বা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হওয়া উচিত। কোনো অবস্থাতেই একজন মৃত ব্যক্তির দাফন-কাফনে বাধা দেওয়া সামাজিক, নৈতিক ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রহণযোগ্য নয়।
ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, সম্পত্তির বিরোধ কি এতটাই তীব্র হতে পারে যে একজন বাবার শেষ বিদায়ও সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে সম্পন্ন করা কঠিন হয়ে পড়ে? একই সঙ্গে জীবদ্দশায় সম্পত্তি বণ্টনের স্বচ্ছতা ও পারিবারিক সমঝোতার গুরুত্ব নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন