দিনাজপুরে পরীক্ষার হলে কাশির ফাঁদে ফেঁসে গেলেন প্রতারক পরীক্ষার্থী
প্রকাশের তারিখ : ২৫ অক্টোবর ২০২৫
দিনাজপুরে পরীক্ষার হলে কাশির ফাঁদে ফেঁসে গেলেন প্রতারক পরীক্ষার্থী! ডিভাইসসহ গ্রেপ্তার ৩
দিনাজপুরে খাদ্য অধিদপ্তরের চাকরির পরীক্ষার হলে কাশির শব্দেই ধরা পড়লেন এক পরীক্ষার্থী! তার কাছে থেকে মিলেছে দুটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস। শনিবার (২৫ অক্টোবর) দিনাজপুর সরকারি কলেজ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ‘উপখাদ্য পরিদর্শক’ পদে লিখিত পরীক্ষায় এ ঘটনা ঘটে।
পরে ওই পরীক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ চক্রের আরও দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করে।
কাশিই ফাঁস করল কৌশল!
পুলিশ জানায়, আটক পরীক্ষার্থীর নাম কৃষ্ণকান্ত রায়, তিনি দিনাজপুরের বিরল উপজেলার বাসিন্দা। পরীক্ষার সময় বারবার কাশি দিতে থাকেন তিনি। বিষয়টি invigilator-এর সন্দেহ জাগায়। তল্লাশি চালিয়ে কৃষ্ণকান্তের শরীরে লুকানো দুটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন, চক্রের নির্দেশ ছিল—প্রশ্নের সেট যদি ‘পদ্মা’ হয়, তবে কাশি দিতে হবে। তার কাশির সংকেত শুনেই চক্রের সদস্যরা বাইরে থেকে প্রশ্ন সমাধান পাঠানোর কথা ছিল। কিন্তু অতিরিক্ত কাশি দিতে গিয়ে ধরা পড়ে যান কৃষ্ণকান্ত!
ছাত্রাবাসে অভিযান, উদ্ধার ডিভাইস ও নকল স্ট্যাম্প
কৃষ্ণকান্তের স্বীকারোক্তির পর পুলিশ অভিযান চালায় দিনাজপুর শহরের স্বপ্নচূড়া ছাত্রাবাসে। সেখান থেকে আরও দুইজন—মো. সবুজ ও মামুনুর রশিদ মামুন—কে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযানে উদ্ধার করা হয় ৫টি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, বহু সিম কার্ড, বিভিন্ন ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড এবং নকল সরকারি স্ট্যাম্প।
চতুর কৌশল, কিন্তু ব্যর্থ জালিয়াতি
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন জানান, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা আগে থেকেই প্রস্তুত ছিলাম। কৃষ্ণকান্তের পোশাকের ভেতরে গোপনে ডিভাইস লাগানো ছিল। কৌশলটা ছিল বেশ পরিকল্পিত, কিন্তু সতর্কতার কারণে ধরা পড়ে যায়।”
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত সবুজ ও মামুন দুজনেই স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, এবং তারা চাকরির প্রশ্নফাঁস চক্রের সক্রিয় সদস্য।
বর্তমানে ঘটনাটি তদন্তাধীন, এবং চক্রের সঙ্গে যুক্ত আরও কয়েকজনকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
চেয়ারম্যান ও সম্পাদকঃ সামসুল আলমবার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আসআদ
কপিরাইট © ২০২৫ ডি এস কে টিভি চ্যানেল
আপনার মতামত লিখুন