হাসান মাহমুদ জয়, বিশেষ প্রতিনিধি:
কুষ্টিয়ায় পড়াশোনা করতে গিয়ে ‘জাস্ট ফ্রেন্ড’ সম্পর্কের আড়ালে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে এক কলেজছাত্রী ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় বিয়ের দাবিতে অভিযুক্ত যুবকের বাড়িতে গেলে ভুক্তভোগী তরুণীকে মারধর ও নির্যাতন করে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছেলের পরিবারের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মেয়েটিকে পড়াশোনার জন্য শহরে পাঠিয়েছিলেন তার অভিভাবকরা। সেখানে অবস্থানকালে এক যুবকের সাথে তার ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। দীর্ঘ ৮ মাস যাবৎ ‘জাস্ট ফ্রেন্ড’ পরিচয়ে তাদের মধ্যে অনৈতিক সম্পর্ক বজায় থাকে। বিষয়টি তরুণীর সহপাঠী ও বান্ধবীরা জানতে পেরে তার পরিবারকে অবহিত করেন এবং প্রমাণ হিসেবে কিছু ছবি ও ভিডিও পাঠান। তবে সে সময় মেয়েটি চতুরতার আশ্রয় নিয়ে বাবা-মাকে বোঝায় যে, ছবি ও ভিডিওগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’ (AI) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা ভুয়া কনটেন্ট। মেয়ের কথায় বিশ্বাস করে পরিবার তখন কোনো আইনি বা সামাজিক পদক্ষেপ নেয়নি।
সম্প্রতি কলেজ পাস করে ওই তরুণী বাড়ি ফিরে আসার পর পরিবার থেকে তার বিয়ের তোড়জোড় শুরু হয়। এই পর্যায়ে মেয়েটি তার পরিবারকে জানায় যে, সে অলরেডি ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এবং এই সন্তানের পিতা শহরের সেই কথিত বন্ধু।
চরম সত্যটি সামনে আসার পর তরুণীর পরিবার তাকে নিয়ে ওই যুবকের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে যান। কিন্তু উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত যুবক বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। অভিযোগ উঠেছে, যুবকের অনুপস্থিতিতে তার পরিবারের সদস্যরা ভুক্তভোগী তরুণীকে সামাজিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়
সমাজবিজ্ঞানীদের উদ্বেগ ও অভিভাবকদের প্রতি সচেতনতার আহ্বান
এই ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে সচেতন মহল এবং সমাজবিজ্ঞানীরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, বর্তমান সময়ে ‘জাস্ট ফ্রেন্ড’ সংস্কৃতি এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সস্তা কনটেন্ট ক্রিয়েশনের আড়ালে তরুণ সমাজের একটি বড় অংশ নৈতিক অবক্ষয়ের শিকার হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে রাতের অন্ধকারে তরুণ-তরুণীদের এমন অনৈতিক কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা আশঙ্কাজনকহারে বাড়ছে, যা পরবর্তীতে বহু মানুষের পারিবারিক ও দাম্পত্য জীবন ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সন্তান যতই মেধাবী বা ভালো চরিত্রের হোক না কেন, পরিবেশ ও সঙ্গদোষ মানুষের মানসিকতা পরিবর্তন করতে পারে। বিশেষ করে হোস্টেল বা মেসে থাকার ক্ষেত্রে রুমমেটদের আচরণ ও চরিত্র সন্তানের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে।
তাই সন্তানদের উচ্চশিক্ষার জন্য শহরে পাঠানোর ক্ষেত্রে অভিভাবকদের অন্ধ বিশ্বাস না করে নিয়মিত তদারকি করা, সম্ভব হলে অভিভাবকসহ থাকা এবং প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে কঠোর নজরদারি রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এই বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।

শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ মে ২০২৬
হাসান মাহমুদ জয়, বিশেষ প্রতিনিধি:
কুষ্টিয়ায় পড়াশোনা করতে গিয়ে ‘জাস্ট ফ্রেন্ড’ সম্পর্কের আড়ালে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে এক কলেজছাত্রী ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় বিয়ের দাবিতে অভিযুক্ত যুবকের বাড়িতে গেলে ভুক্তভোগী তরুণীকে মারধর ও নির্যাতন করে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছেলের পরিবারের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মেয়েটিকে পড়াশোনার জন্য শহরে পাঠিয়েছিলেন তার অভিভাবকরা। সেখানে অবস্থানকালে এক যুবকের সাথে তার ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। দীর্ঘ ৮ মাস যাবৎ ‘জাস্ট ফ্রেন্ড’ পরিচয়ে তাদের মধ্যে অনৈতিক সম্পর্ক বজায় থাকে। বিষয়টি তরুণীর সহপাঠী ও বান্ধবীরা জানতে পেরে তার পরিবারকে অবহিত করেন এবং প্রমাণ হিসেবে কিছু ছবি ও ভিডিও পাঠান। তবে সে সময় মেয়েটি চতুরতার আশ্রয় নিয়ে বাবা-মাকে বোঝায় যে, ছবি ও ভিডিওগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’ (AI) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা ভুয়া কনটেন্ট। মেয়ের কথায় বিশ্বাস করে পরিবার তখন কোনো আইনি বা সামাজিক পদক্ষেপ নেয়নি।
সম্প্রতি কলেজ পাস করে ওই তরুণী বাড়ি ফিরে আসার পর পরিবার থেকে তার বিয়ের তোড়জোড় শুরু হয়। এই পর্যায়ে মেয়েটি তার পরিবারকে জানায় যে, সে অলরেডি ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এবং এই সন্তানের পিতা শহরের সেই কথিত বন্ধু।
চরম সত্যটি সামনে আসার পর তরুণীর পরিবার তাকে নিয়ে ওই যুবকের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে যান। কিন্তু উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত যুবক বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। অভিযোগ উঠেছে, যুবকের অনুপস্থিতিতে তার পরিবারের সদস্যরা ভুক্তভোগী তরুণীকে সামাজিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়
সমাজবিজ্ঞানীদের উদ্বেগ ও অভিভাবকদের প্রতি সচেতনতার আহ্বান
এই ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে সচেতন মহল এবং সমাজবিজ্ঞানীরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, বর্তমান সময়ে ‘জাস্ট ফ্রেন্ড’ সংস্কৃতি এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সস্তা কনটেন্ট ক্রিয়েশনের আড়ালে তরুণ সমাজের একটি বড় অংশ নৈতিক অবক্ষয়ের শিকার হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে রাতের অন্ধকারে তরুণ-তরুণীদের এমন অনৈতিক কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা আশঙ্কাজনকহারে বাড়ছে, যা পরবর্তীতে বহু মানুষের পারিবারিক ও দাম্পত্য জীবন ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সন্তান যতই মেধাবী বা ভালো চরিত্রের হোক না কেন, পরিবেশ ও সঙ্গদোষ মানুষের মানসিকতা পরিবর্তন করতে পারে। বিশেষ করে হোস্টেল বা মেসে থাকার ক্ষেত্রে রুমমেটদের আচরণ ও চরিত্র সন্তানের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে।
তাই সন্তানদের উচ্চশিক্ষার জন্য শহরে পাঠানোর ক্ষেত্রে অভিভাবকদের অন্ধ বিশ্বাস না করে নিয়মিত তদারকি করা, সম্ভব হলে অভিভাবকসহ থাকা এবং প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে কঠোর নজরদারি রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এই বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।

আপনার মতামত লিখুন