ডি এস কে টিভি চ্যানেল
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

ভুরুঙ্গামারীতে শাহা ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ, জরুরি প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ দাবি

ভুরুঙ্গামারীতে শাহা ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ, জরুরি প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ দাবি
DSK TV chanel সংগ্রীত

**নিজস্ব প্রতিবেদক (কুড়িগ্রাম):** কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় অবস্থিত **শাহা ফিলিং স্টেশনে** জ্বালানি তেল বিতরণে চরম অরাজকতা ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় এক প্রভাবশালী সিন্ডিকেট বারবার লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করে তা সরিয়ে ফেলছে এবং রাতের আঁধারে সাধারণ মানুষের কাছে **২৮০ থেকে ৩০০ টাকা লিটার** দরে বিক্রি করছে বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে।

**সিন্ডিকেটের অভিনব কারসাজি ও কালোবাজারি**

স্থানীয়দের অভিযোগ, পাম্প কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশে এক অভিনব পন্থায় তেল পাচার করা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী:

* **বারবার লাইনে দাঁড়ানো:** সিন্ডিকেটের সদস্যরা বিভিন্ন যানবাহন নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করছে। একবার তেল নিয়ে তা বাইরে সরিয়ে রেখে পুনরায় লাইনে দাঁড়িয়ে আবারও তেল উত্তোলন করছে। 

* **রাতের আঁধারে ব্যবসা:** পাম্প থেকে সংগৃহীত এই তেল দিনের বেলা মজুদ করে রাখা হয় এবং রাতের আঁধারে সাধারণ গ্রাহক ও জরুরি প্রয়োজনে আসা চালকদের কাছে প্রতি লিটার ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত উচ্চমূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে।

* **কৃত্রিম সংকট:** এই চক্রের বারবার তেল উত্তোলনের ফলে সাধারণ চালকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পাচ্ছেন না। এতে ভূরুঙ্গামারীর জ্বালানি বাজারে ভয়াবহ কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে।

 **গণমাধ্যম কর্মীর পর্যবেক্ষণ ও গ্রাহক হয়রানি**

ঘটনাস্থলে উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মী **আব্দুর রাজ্জাক সরকার** পাম্পের নিয়মিত বিশৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, "আমরা প্রায়ই এখানে এসে দেখি তেল নিয়ে অনিয়ম আর গ্রাহকদের মধ্যে গন্ডগোল লেগে আছে। সরকারি নিয়ম না মেনে তেল বিক্রি এবং ওজনে কম দেওয়ার কারণেই মূলত এই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।"

পাম্পে তেল নিতে আসা গ্রাহক **হাছিমুদ্দিন, সাব্বির হোসেন ও আজিজার রহমান বাবলা সরকার** জানান, সিন্ডিকেটের সদস্যদের আগে তেল দিতে গিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের দিনের পর দিন জিম্মি করে রাখা হচ্ছে। গ্রাহক হাছিমুদ্দিন অভিযোগ করেন, ৪০০ টাকার পেট্রোল কিনে তিনি মাত্র ৩৩৩ টাকার তেল পেয়েছেন; অর্থাৎ প্রতি ৪০০ টাকায় **৬৭ টাকার তেল কম** দেওয়া হচ্ছে।

 **জরুরি সেবা ও জনজীবন বিপর্যস্ত**

ভূরুঙ্গামারী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির **এজিএম শামসুল আলম** ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, পাম্প থেকে তেল সরিয়ে কালোবাজারে বিক্রি করায় বিদ্যুৎ, হাসপাতাল ও পুলিশের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের যানবাহনগুলো জ্বালানি সংকটে পড়ছে। এতে সরকারি জরুরি সেবা ব্যাহত হচ্ছে।

**প্রশাসনের অভিযান ও কড়া হুঁশিয়ারি**

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার খবর পেয়ে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) **শাহাদাত হোসেন** দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি পাম্প কর্তৃপক্ষকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন:

১. ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতি ছাড়া এক ফোঁটা তেলও বিক্রি করা যাবে না।

২. যারা বারবার লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিয়ে কালোবাজারি করছে, তাদের তালিকা তৈরি করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

৩. বিএসটিআই-এর মাধ্যমে ওজন যন্ত্রের কারচুপি প্রমাণিত হলে পাম্পের লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোর দণ্ড দেওয়া হবে।

ভূরুঙ্গামারী থানার **এসআই এনামুল হোসেন** জানান, তেল নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও বর্তমানে পুলিশি নজরদারিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কালোবাজারি চক্রটিকে ধরতে পুলিশ কাজ করছে।

 **জনসাধারণের দাবি**

এলাকার সচেতন মহলের দাবি, পাম্পের এই 'তেল সিন্ডিকেট' ও রাতের কালোবাজারি বন্ধ করতে নিয়মিত পুলিশি টহল ও আকস্মিক মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে হবে। সাধারণ মানুষের দাবি, এই অসাধু চক্রকে অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে ভূরুঙ্গামারীর জ্বালানি বাজারকে স্থিতিশীল করা হোক।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডি এস কে টিভি চ্যানেল

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬


ভুরুঙ্গামারীতে শাহা ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ, জরুরি প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ দাবি

প্রকাশের তারিখ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

**নিজস্ব প্রতিবেদক (কুড়িগ্রাম):** কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় অবস্থিত **শাহা ফিলিং স্টেশনে** জ্বালানি তেল বিতরণে চরম অরাজকতা ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় এক প্রভাবশালী সিন্ডিকেট বারবার লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করে তা সরিয়ে ফেলছে এবং রাতের আঁধারে সাধারণ মানুষের কাছে **২৮০ থেকে ৩০০ টাকা লিটার** দরে বিক্রি করছে বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে।

**সিন্ডিকেটের অভিনব কারসাজি ও কালোবাজারি**

স্থানীয়দের অভিযোগ, পাম্প কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশে এক অভিনব পন্থায় তেল পাচার করা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী:

* **বারবার লাইনে দাঁড়ানো:** সিন্ডিকেটের সদস্যরা বিভিন্ন যানবাহন নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করছে। একবার তেল নিয়ে তা বাইরে সরিয়ে রেখে পুনরায় লাইনে দাঁড়িয়ে আবারও তেল উত্তোলন করছে। 

* **রাতের আঁধারে ব্যবসা:** পাম্প থেকে সংগৃহীত এই তেল দিনের বেলা মজুদ করে রাখা হয় এবং রাতের আঁধারে সাধারণ গ্রাহক ও জরুরি প্রয়োজনে আসা চালকদের কাছে প্রতি লিটার ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত উচ্চমূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে।

* **কৃত্রিম সংকট:** এই চক্রের বারবার তেল উত্তোলনের ফলে সাধারণ চালকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পাচ্ছেন না। এতে ভূরুঙ্গামারীর জ্বালানি বাজারে ভয়াবহ কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে।

 **গণমাধ্যম কর্মীর পর্যবেক্ষণ ও গ্রাহক হয়রানি**

ঘটনাস্থলে উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মী **আব্দুর রাজ্জাক সরকার** পাম্পের নিয়মিত বিশৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, "আমরা প্রায়ই এখানে এসে দেখি তেল নিয়ে অনিয়ম আর গ্রাহকদের মধ্যে গন্ডগোল লেগে আছে। সরকারি নিয়ম না মেনে তেল বিক্রি এবং ওজনে কম দেওয়ার কারণেই মূলত এই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।"

পাম্পে তেল নিতে আসা গ্রাহক **হাছিমুদ্দিন, সাব্বির হোসেন ও আজিজার রহমান বাবলা সরকার** জানান, সিন্ডিকেটের সদস্যদের আগে তেল দিতে গিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের দিনের পর দিন জিম্মি করে রাখা হচ্ছে। গ্রাহক হাছিমুদ্দিন অভিযোগ করেন, ৪০০ টাকার পেট্রোল কিনে তিনি মাত্র ৩৩৩ টাকার তেল পেয়েছেন; অর্থাৎ প্রতি ৪০০ টাকায় **৬৭ টাকার তেল কম** দেওয়া হচ্ছে।

 **জরুরি সেবা ও জনজীবন বিপর্যস্ত**

ভূরুঙ্গামারী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির **এজিএম শামসুল আলম** ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, পাম্প থেকে তেল সরিয়ে কালোবাজারে বিক্রি করায় বিদ্যুৎ, হাসপাতাল ও পুলিশের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের যানবাহনগুলো জ্বালানি সংকটে পড়ছে। এতে সরকারি জরুরি সেবা ব্যাহত হচ্ছে।

**প্রশাসনের অভিযান ও কড়া হুঁশিয়ারি**

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার খবর পেয়ে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) **শাহাদাত হোসেন** দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি পাম্প কর্তৃপক্ষকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন:

১. ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতি ছাড়া এক ফোঁটা তেলও বিক্রি করা যাবে না।

২. যারা বারবার লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিয়ে কালোবাজারি করছে, তাদের তালিকা তৈরি করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

৩. বিএসটিআই-এর মাধ্যমে ওজন যন্ত্রের কারচুপি প্রমাণিত হলে পাম্পের লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোর দণ্ড দেওয়া হবে।

ভূরুঙ্গামারী থানার **এসআই এনামুল হোসেন** জানান, তেল নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও বর্তমানে পুলিশি নজরদারিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কালোবাজারি চক্রটিকে ধরতে পুলিশ কাজ করছে।

 **জনসাধারণের দাবি**

এলাকার সচেতন মহলের দাবি, পাম্পের এই 'তেল সিন্ডিকেট' ও রাতের কালোবাজারি বন্ধ করতে নিয়মিত পুলিশি টহল ও আকস্মিক মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে হবে। সাধারণ মানুষের দাবি, এই অসাধু চক্রকে অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে ভূরুঙ্গামারীর জ্বালানি বাজারকে স্থিতিশীল করা হোক।



ডি এস কে টিভি চ্যানেল

চেয়ারম্যান ও সম্পাদকঃ সামসুল আলম
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আসআদ

কপিরাইট © ২০২৫ ডি এস কে টিভি চ্যানেল