ডি এস কে টিভি চ্যানেল

বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল মানববিহীন আকাশযান হিসেবে বিবেচিত করে।

হরমুজ প্রণালি এলাকায় নিখোঁজ ২০ কোটি ডলারের মার্কিন ড্রোন

হরমুজ প্রণালি এলাকায় নিখোঁজ ২০ কোটি ডলারের মার্কিন ড্রোন

হরমুজ প্রণালীর কাছাকাছি যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক নজরদারি ড্রোন MQ-4C Triton নিখোঁজ হওয়ার খবরটি সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে। এই ড্রোনটি মার্কিন নৌবাহিনীর সবচেয়ে উন্নত দীর্ঘপাল্লার নজরদারি ড্রোনগুলোর একটি, যা মূলত সমুদ্রপথে নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং আকাশ থেকে বিস্তৃত এলাকা পর্যবেক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হয়। এর আনুমানিক মূল্য ২০ কোটি ডলারের বেশি, যা এটিকে বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল মানববিহীন আকাশযান হিসেবে বিবেচিত করে।

ঘটনাটি ঘটেছে হরমুজ প্রণালীর কাছাকাছি এলাকায়, যা বিশ্বজুড়ে তেল ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সমুদ্রপথ। এই অঞ্চল দিয়ে প্রতিদিন বিশ্বের বড় একটি অংশের জ্বালানি সরবরাহ পরিবাহিত হয়, ফলে এখানে যেকোনো সামরিক বা প্রযুক্তিগত ঘটনা আন্তর্জাতিক বাজার ও রাজনীতিতে দ্রুত প্রভাব ফেলতে পারে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ড্রোনটি উড্ডয়নের সময় একটি জরুরি সতর্কতা (emergency alert) পাঠায়, যার কিছুক্ষণ পরই এর সঙ্গে যোগাযোগ সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর থেকেই ড্রোনটির অবস্থান অজানা।

এ ধরনের MQ-4C Triton ড্রোন সাধারণত দীর্ঘ সময় আকাশে থেকে সমুদ্রপথের বিশাল এলাকা স্ক্যান করতে পারে এবং এতে উন্নত রাডার, সেন্সর ও যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকে। তাই এর নিখোঁজ হওয়া শুধু প্রযুক্তিগত ক্ষতি নয়, বরং অপারেশনাল নিরাপত্তার দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তৈরি করেছে। তবে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী বা প্রতিরক্ষা বিভাগ থেকে এর কারণ নিয়ে নিশ্চিত কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। এটি যান্ত্রিক ত্রুটি, সিগন্যাল ব্যাঘাত, আবহাওয়াজনিত সমস্যা, কিংবা বাইরের কোনো হস্তক্ষেপ—কোনটি কারণে ঘটেছে, তা তদন্তের মাধ্যমে জানা যাবে।

হরমুজ প্রণালীর আশেপাশের অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই ভূরাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল। ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য আঞ্চলিক শক্তির সামরিক উপস্থিতির কারণে এখানে আকাশ ও সমুদ্র পর্যবেক্ষণ সবসময়ই কঠোর নজরদারির মধ্যে থাকে। ফলে এমন একটি উচ্চমূল্যের ড্রোনের নিখোঁজ হওয়া বিভিন্ন ধরনের জল্পনা-কল্পনার জন্ম দিচ্ছে, যদিও এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে দায় স্বীকার বা অভিযোগ করেনি।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী ড্রোনটির অবস্থান শনাক্ত করার জন্য অনুসন্ধান চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে এই ঘটনায় ভবিষ্যতে এ ধরনের ড্রোন পরিচালনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডি এস কে টিভি চ্যানেল

মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬


হরমুজ প্রণালি এলাকায় নিখোঁজ ২০ কোটি ডলারের মার্কিন ড্রোন

প্রকাশের তারিখ : ১০ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

হরমুজ প্রণালীর কাছাকাছি যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক নজরদারি ড্রোন MQ-4C Triton নিখোঁজ হওয়ার খবরটি সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে। এই ড্রোনটি মার্কিন নৌবাহিনীর সবচেয়ে উন্নত দীর্ঘপাল্লার নজরদারি ড্রোনগুলোর একটি, যা মূলত সমুদ্রপথে নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং আকাশ থেকে বিস্তৃত এলাকা পর্যবেক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হয়। এর আনুমানিক মূল্য ২০ কোটি ডলারের বেশি, যা এটিকে বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল মানববিহীন আকাশযান হিসেবে বিবেচিত করে।

ঘটনাটি ঘটেছে হরমুজ প্রণালীর কাছাকাছি এলাকায়, যা বিশ্বজুড়ে তেল ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সমুদ্রপথ। এই অঞ্চল দিয়ে প্রতিদিন বিশ্বের বড় একটি অংশের জ্বালানি সরবরাহ পরিবাহিত হয়, ফলে এখানে যেকোনো সামরিক বা প্রযুক্তিগত ঘটনা আন্তর্জাতিক বাজার ও রাজনীতিতে দ্রুত প্রভাব ফেলতে পারে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ড্রোনটি উড্ডয়নের সময় একটি জরুরি সতর্কতা (emergency alert) পাঠায়, যার কিছুক্ষণ পরই এর সঙ্গে যোগাযোগ সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর থেকেই ড্রোনটির অবস্থান অজানা।

এ ধরনের MQ-4C Triton ড্রোন সাধারণত দীর্ঘ সময় আকাশে থেকে সমুদ্রপথের বিশাল এলাকা স্ক্যান করতে পারে এবং এতে উন্নত রাডার, সেন্সর ও যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকে। তাই এর নিখোঁজ হওয়া শুধু প্রযুক্তিগত ক্ষতি নয়, বরং অপারেশনাল নিরাপত্তার দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তৈরি করেছে। তবে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী বা প্রতিরক্ষা বিভাগ থেকে এর কারণ নিয়ে নিশ্চিত কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। এটি যান্ত্রিক ত্রুটি, সিগন্যাল ব্যাঘাত, আবহাওয়াজনিত সমস্যা, কিংবা বাইরের কোনো হস্তক্ষেপ—কোনটি কারণে ঘটেছে, তা তদন্তের মাধ্যমে জানা যাবে।

হরমুজ প্রণালীর আশেপাশের অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই ভূরাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল। ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য আঞ্চলিক শক্তির সামরিক উপস্থিতির কারণে এখানে আকাশ ও সমুদ্র পর্যবেক্ষণ সবসময়ই কঠোর নজরদারির মধ্যে থাকে। ফলে এমন একটি উচ্চমূল্যের ড্রোনের নিখোঁজ হওয়া বিভিন্ন ধরনের জল্পনা-কল্পনার জন্ম দিচ্ছে, যদিও এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে দায় স্বীকার বা অভিযোগ করেনি।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী ড্রোনটির অবস্থান শনাক্ত করার জন্য অনুসন্ধান চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে এই ঘটনায় ভবিষ্যতে এ ধরনের ড্রোন পরিচালনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।


ডি এস কে টিভি চ্যানেল

চেয়ারম্যান ও সম্পাদকঃ সামসুল আলম
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আসআদ

কপিরাইট © ২০২৫ ডি এস কে টিভি চ্যানেল