১৪ বছর ধরে ঝুঁকির সাঁকো—মঠবাড়িয়ায় ভাঙা সেতুর ওপরে ১০ হাজার মানুষের জীবনযাত্রা
প্রকাশের তারিখ : ১৪ নভেম্বর ২০২৫
১৪ বছর ধরে ঝুঁকির সাঁকো—মঠবাড়িয়ায় ভাঙা সেতুর ওপরে ১০ হাজার মানুষের জীবনযাত্রা
---পিরোপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার গোলবুনিয়া ও জানখালী গ্রামের সীমান্তে সাংরাইল খালের ওপর নির্মিত সংযোগ সেতুটি এখন মৃত্যু ফাঁদ। ৩১ বছর আগে নির্মিত লোহার এই সেতুর পাটাতন ১৪ বছর আগে ভেঙে গেলেও আজ পর্যন্ত হয়নি সংস্কার। বাধ্য হয়ে স্থানীয়রা লোহার বিমের ওপর সুপারিগাছ ও বাঁশ বেঁধে বানিয়েছেন সরু সাঁকো। এভাবেই ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন ৬ গ্রামের অন্তত ৮-১০ হাজার মানুষ পার হচ্ছেন খালটি।
স্থানীয়রা জানান, ২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় সিডরে সেতুটির পাটাতন ভেঙে যায়। এরপর ধীরে ধীরে সব স্ল্যাব খসে পড়ে। সরকারি উদ্যোগ না থাকায় বাধ্য হয়ে নিজেরাই সাঁকো বানিয়ে চলাচলের ব্যবস্থা করেছেন তারা। ফলে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, রোগী ও কৃষকসহ সকলকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন চলাচল করতে হচ্ছে।
সারেজমিনে দেখা যায়, সেতুর লোহার খুঁটি ও বিমে মরিচা ধরেছে ব্যাপকভাবে। স্ল্যাব না থাকায় পুরো কাঠামো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই পথে জানখালী উলুবাড়িয়া হামিদিয়া দাখিল মাদরাসা, জানখালী সম্মিলিত মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৭৮ নম্বর জানখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ কয়েকটি এলাকার হাজারো মানুষ যাতায়াত করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান মীর বলেন, “সিডরের পরে বারবার সেতু নির্মাণের দাবি জানালেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বাধ্য হয়ে আমরা নিজেরাই বাঁশ-সুপারিগাছ দিয়ে সাঁকো বানিয়েছি।”
কৃষক সিদ্দিকুর রহমান জানান, ঝুঁকিপূর্ণ এই সেতুতে পড়ে শিশু ও বৃদ্ধসহ একাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। কৃষিজ পণ্য ঘাড়ে-মাথায় নিয়ে খাল পার হওয়া এখন তাদের নিত্যদিনের রুটিন।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী জিয়ারুল ইসলাম বলেন, জরাজীর্ণ সেতুর তালিকা প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন এলে আরসিসি সেতু নির্মাণ করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল কাইয়ূম জানান, সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় চলাচলের উপযোগী করা সম্ভব হয়নি। ডিপিপি প্রকল্পে তালিকা পাঠানো হয়েছে, অনুমোদন মিললে দ্রুত কাজ শুরু হবে।
চেয়ারম্যান ও সম্পাদকঃ সামসুল আলমবার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আসআদ
কপিরাইট © ২০২৫ ডি এস কে টিভি চ্যানেল
আপনার মতামত লিখুন