"ক্ষমতার হাতিয়ার নয়, জকসু হোক শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর" - মাহমুদুর রহমান মান্না, সাবেক ডাকসুর দুইবারের ভিপি ও চাকসুর জিএস
আসন্ন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু)–২০২৫ নির্বাচন উপলক্ষে জিএস (সাধারণ সম্পাদক) পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ইশতেহার ঘোষণা করেছেন শাহ আহমাদ রেজা (ব্যালট নম্বর: B-3)। তিনি ডাকসুর সাবেক ভিপি ও চাকসুর সাবেক জিএস মাহমুদুর রহমান মান্না–এর সমর্থনে নির্বাচন করছেন।
ইশতেহারে তিনি একটি নিরাপদ, শিক্ষার্থী–বান্ধব, আধুনিক ও গবেষণামুখী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
১. নিরাপদ ও শিক্ষার্থী–বান্ধব ক্যাম্পাস
ইভটিজিং, সিট–ক্রাইসিস, সেশনজট ও রাজনৈতিক চাপের কারণে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষাজীবন ব্যাহত হয়। নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি এবং অনিয়ন্ত্রিত শব্দদূষণ ক্লাস ও পরীক্ষার পরিবেশকে নষ্ট করে।
আমার অঙ্গীকার:
ইভটিজিং, সিট–সংকট ও রাজনৈতিক চাপমুক্ত ক্যাম্পাস নিশ্চিতে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগ।
ডেডিকেটেড নিরাপত্তা কর্মী, কার্যকর হটলাইন ও নিয়মিত সিসিটিভি টহল ব্যবস্থা জোরদার করা।
Noise-Free Campus Policy প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন: ক্লাস ও পরীক্ষা চলাকালে উচ্চ শব্দ, মাইক ও মিছিল সীমিত করা।
জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সহায়তার জন্য শিক্ষার্থীবান্ধব Quick Response App চালুর উদ্যোগ।
লক্ষ্য:
ক্যাম্পাস হোক ভয়মুক্ত, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও পড়াশোনার উপযোগী, যেখানে শিক্ষার্থী নিরাপত্তা ও সম্মানের সঙ্গে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে।
২. আবাসন ও দ্বিতীয় ক্যাম্পাস
দ্বিতীয় ক্যাম্পাস দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণাধীন থাকলেও কাজের গতি ধীর। আবাসন সংকট ও বেদখলকৃত হল শিক্ষার্থীদের জন্য বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আমার অঙ্গীকার:
দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের চলমান ফেজ দ্রুত সম্পন্ন করতে নিয়মিত তদারকি ও মাসিক অগ্রগতি প্রকাশ।
নির্মাণাধীন হলগুলোর কাজের গতি, গুণগত মান ও নির্ধারিত সময়সীমা কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ।
পরবর্তী নির্মাণ ফেজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের জন্য জোরালো দাবি ও ধারাবাহিক প্রচেষ্টা।
বেদখলকৃত হল আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উদ্ধার ও দখলমুক্ত করার উদ্যোগ।
লক্ষ্য:
আবাসন ও দ্বিতীয় ক্যাম্পাস, দুটোই যেন প্রতিশ্রুতিতে নয়, বাস্তবে শিক্ষার্থীর জীবনমান বদলাতে পারে।
৩. অবকাঠামো ও ভবন ব্যবস্থাপনা
কলাভবন, বিজ্ঞান ভবন, রফিক ভবন, অবকাশ ভবন ও সাজিদ ভবনের অবকাঠামোগত অবস্থা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। লিফট বিকল থাকা, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধার অভাব এবং গেইট ও টিএসসির অপ্রতুল ব্যবস্থাপনা শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে।
আমার অঙ্গীকার:
কলাভবন, বিজ্ঞান ভবন, রফিক ভবন, অবকাশ ভবন ও সাজিদ ভবনের পূর্ণাঙ্গ সংস্কার।
সাজিদ ভবনে নতুন কার্গো ও সাধারণ লিফট সংযোজন; প্রতিটি ভবনের লিফট কার্যকর রাখা।
JnU Lift Monitoring Cell গঠন করে লিফট ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
যেকোনো বিকল লিফট সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মেরামতের বাধ্যবাধকতা।
প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য র্যাম্প ও কার্যকর লিফট নিশ্চিত করা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ও অভ্যন্তরীণ গেইট সংস্কার।
টিএসসি উন্নয়ন ও স্থায়ী সমাধান (ভূমি লিজ/ক্রয়), সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা এবং মসজিদ সংস্কার।
লক্ষ্য:
একটি নিরাপদ, সহজপ্রবেশযোগ্য ও আধুনিক ক্যাম্পাস, যেখানে অবকাঠামো শিক্ষার্থীর প্রতিবন্ধক নয়, বরং সহায়ক শক্তি হবে।
৪. শিক্ষক নিয়োগ ও একাডেমিক মান
শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা ও যোগ্যতার প্রশ্নে শিক্ষার্থীদের আস্থার ঘাটতি রয়েছে। পাঠদানের মান, নিয়মিত মূল্যায়ন ও শিক্ষার্থীর মতামত গ্রহণে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর অভাব একাডেমিক মান উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করছে।
আমার অঙ্গীকার:
শিক্ষক নিয়োগে যোগ্যতা, মেধা ও একাডেমিক দক্ষতাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য প্রদান।
যোগ্য জবিয়ানদের ক্ষেত্রে ন্যায্য অগ্রাধিকার নিশ্চিত করার দাবি।
পাঠদান, শিক্ষার্থীর ফিডব্যাক ও একাডেমিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য Teachers’ Monitoring Cell গঠন।
মেধাবী ও নিষ্ঠাবান শিক্ষকদের উৎসাহিত করতে Best Teacher Award চালু।
লক্ষ্য:
একটি মানসম্মত, স্বচ্ছ ও শিক্ষার্থী–কেন্দ্রিক একাডেমিক পরিবেশ, যেখানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়েই সম্মান ও অনুপ্রেরণায় এগিয়ে যাবে।
৬. শিক্ষা ও ব্লেন্ডেড (Hybrid) ক্লাসরুম
প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, স্মার্ট শ্রেণিকক্ষ ও হাইব্রিড ক্লাস ব্যবস্থার ঘাটতির কারণে শিক্ষার্থীরা আধুনিক শেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। লাইব্রেরির সীমিত সময়, ডিজিটাল রিসোর্সের অভাব এবং অনলাইন একাডেমিক সেবার ধীরগতি শিক্ষার মানকে প্রভাবিত করছে।
আমার অঙ্গীকার:
Blended/Hybrid Classroom চালু: লাইভ ও রেকর্ডেড ক্লাস, স্মার্ট বোর্ড ও প্রজেকশন সুবিধা।
নিয়মিত টিউটোরিয়াল, রিভিশন ক্লাস ও একাডেমিক সাপোর্ট প্রোগ্রাম।
সেমিনার ও প্রেজেন্টেশনের জন্য আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন শ্রেণিকক্ষ ও হল।
সেমিনার লাইব্রেরি অন্তত রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখা; নতুন বই সংযোজন, রিডিং জোন ও গ্রুপ স্টাডি রুম।
ই–বুক ও আন্তর্জাতিক একাডেমিক ডাটাবেসে অ্যাক্সেস নিশ্চিত করা।
সকল পরীক্ষার ফল দ্রুততম সময়ে অনলাইনে প্রকাশ।
লক্ষ্য:
শিক্ষা হোক সহজলভ্য, প্রযুক্তিনির্ভর ও সময়োপযোগী, যাতে প্রত্যেক শিক্ষার্থী সমান সুযোগে শেখার পরিবেশ পায়।
৬. গবেষণার মানোন্নয়ন ও উদ্ভাবন
গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা ও উদ্ভাবনী চর্চার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন, কাঠামো ও প্রশিক্ষণের ঘাটতি রয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীদের গবেষণায় আগ্রহ থাকলেও পর্যাপ্ত সুযোগ ও দিকনির্দেশনা পাওয়া যায় না।
আমার অঙ্গীকার:
শিক্ষার্থীদের গবেষণায় উৎসাহ দিতে Students’ Research Fund চালু।
Teaching Assistantship এর মাধ্যমে মেধাবী শিক্ষার্থীদের একাডেমিক গবেষণায় যুক্ত করা।
গবেষণা ও উদ্ভাবনী পরিবেশ গড়তে JnU Research Forum প্রতিষ্ঠা।
আধুনিক গবেষণা দক্ষতার জন্য AI Tools Workshop ও গবেষণা প্রশিক্ষণ।
উদ্ভাবনী ও গবেষণাভিত্তিক কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ “JnU Excellent Innovation Award” প্রবর্তন।
নিয়মিত Paper Presentation, Research Seminar & Innovation Week আয়োজন।
লক্ষ্য:
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি গবেষণাবান্ধব ও উদ্ভাবনী ক্যাম্পাসে রূপান্তর, যেখানে শিক্ষার্থীর চিন্তা, গবেষণা ও সৃজনশীলতা আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছায়।
৭. স্বাস্থ্যসেবা ও ক্যাফেটেরিয়া
বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার কার্যত একটি “নাপা সেন্টারে” পরিণত হয়েছে—যেখানে নাপা ছাড়া প্রয়োজনীয় ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম কিংবা কার্যকর সেবা প্রায় অনুপস্থিত। জরুরি পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পায় না। একই সঙ্গে ক্যাফেটেরিয়ার খাবারের মান, বৈচিত্র্য ও মূল্য নির্ধারণে স্বচ্ছতার অভাব শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
আমার অঙ্গীকার:
মেডিকেল সেন্টারকে পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রে রূপান্তর; প্রয়োজনীয় ওষুধ, প্রাথমিক চিকিৎসা সামগ্রী ও আধুনিক যন্ত্রপাতি নিশ্চিত করা।
নিয়মিত প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা ও স্বাস্থ্য সচেতনতা কর্মশালা আয়োজন।
ক্যাফেটেরিয়ায় স্বাস্থ্যসম্মত, নিরাপদ ও বৈচিত্র্যময় খাবার নিশ্চিত করা।
খাবারের মান ও মূল্য নির্ধারণে স্বচ্ছ নীতিমালা প্রণয়ন ও নিয়মিত তদারকি।
লক্ষ্য:
অসুস্থ হলে শিক্ষার্থী যেন আতঙ্কে নয়, বিশ্বাসের সঙ্গে ক্যাম্পাসেই চিকিৎসা পায়, এমন একটি সুস্থ ও মানবিক ক্যাম্পাস গড়ে তোলা।
৮. ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট ও আর্থিক নিরাপত্তা
অধিকাংশ শিক্ষার্থী পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশন বা পার্টটাইম কাজের ওপর নির্ভরশীল হলেও নিরাপদ, সংগঠিত ও বিশ্ববিদ্যালয়–সমর্থিত প্ল্যাটফর্মের অভাবে প্রতারণা, সময়ের অপচয় এবং একাডেমিক ব্যাঘাতের শিকার হয়।
আমার অঙ্গীকার:
Smart Tuition Media / Tuition Bank চালু করে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও যাচাইকৃত টিউশন প্ল্যাটফর্ম তৈরি।
শিক্ষার্থীরা যেন নিরাপদভাবে ও সহজে টিউশন খুঁজতে পারে তা নিশ্চিত করা।
বিশ্ববিদ্যালয়, স্টার্টআপ ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সমন্বয়ে শিক্ষার্থীবান্ধব পার্টটাইম জবের সুযোগ সৃষ্টি।
পড়াশোনার সময়সূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কাজ নিশ্চিত করা, যাতে একাডেমিক ক্ষতি না হয়।
সব কার্যক্রম স্বচ্ছ, নিরাপদ ও শিক্ষার্থী–কেন্দ্রিকভাবে পরিচালনা।
লক্ষ্য:
শিক্ষার্থীর আর্থিক নিরাপত্তা ও ক্যারিয়ার প্রস্তুতি, দুটোই একসাথে নিশ্চিত করা, যাতে কেউ পড়াশোনা ছেড়ে বাঁচার লড়াইয়ে হারিয়ে না যায়।
৯. মেধাবী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের সাপোর্ট
অর্থনৈতিক সংকটের কারণে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হিমশিম খায়। স্কলারশিপ, ফি–মওকুফ ও জরুরি সহায়তা ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নয় এবং জকসু ফান্ড ব্যবহারে স্বচ্ছতা ও নিয়মিততার ঘাটতি রয়েছে।
আমার অঙ্গীকার:
মেধাবী ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপ, ফি মওকুফ ও জরুরি আর্থিক সহায়তার উদ্যোগ।
একটি সক্রিয়, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক জকসু ফান্ড পরিচালনা, যেখানে আয়ের উৎস ও ব্যয়ের হিসাব নিয়মিত প্রকাশ করা হবে।
লক্ষ্য: অর্থাভাবে কোনো মেধা যেন ঝরে না পড়ে, শিক্ষা হোক সামর্থ্যের নয়, যোগ্যতার ওপর নির্ভরশীল।
১০. ক্যারিয়ার, উচ্চশিক্ষা, স্কিল ডেভেলপমেন্ট ও ইন্টার্নশিপ
ক্যারিয়ার প্রস্তুতি, স্কিল ডেভেলপমেন্ট ও উচ্চশিক্ষা বিষয়ে শিক্ষার্থীদের নির্ভরযোগ্য তথ্য, প্রশিক্ষণ ও দিকনির্দেশনার অভাব রয়েছে। ফলে অনেক শিক্ষার্থী সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও সুযোগ থেকে পিছিয়ে পড়ে।
আমার অঙ্গীকার:
BCC, NACTAR ও Youth Development–এর সঙ্গে সমন্বয়ে প্রশিক্ষণ কোর্স চালু।
অ্যাডমিশন ফেয়ার, কর্পোরেট সেমিনার ও ক্যারিয়ার টক আয়োজন।
স্কিল কোর্স: Digital Marketing, Freelancing, Graphics Design ও Office Skills।
দেশি ও বিদেশি স্কলারশিপ ও উচ্চশিক্ষার তথ্য সেল প্রতিষ্ঠা।
বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য গাইডলাইন, ওয়ার্কশপ, রেকমেন্ডেশন ও ডকুমেন্টেশন সাপোর্ট।
IML-এর উদ্যোগে ভাষা ও ডিপ্লোমা কোর্স (English, Arabic, Persian, German, Japanese)।
ক্যারিয়ারমুখী ডিপ্লোমা ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রোগ্রাম।
লক্ষ্য:ডিগ্রির পাশাপাশি দক্ষতা ও দিকনির্দেশনা, যাতে শিক্ষার্থী চাকরি ও উচ্চশিক্ষায় আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যেতে পারে।
১১. একাডেমিক ক্যালেন্ডার ও প্রশাসনিক আধুনিকীকরণ
সুস্পষ্ট একাডেমিক ক্যালেন্ডারের অভাব, প্রশাসনিক জটিলতা ও অপ্রয়োজনীয় কাগজপত্র শিক্ষার্থীদের সময়, অর্থ ও মানসিক শক্তি নষ্ট করছে। ডিজিটাল সেবার সীমাবদ্ধতার কারণে ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়।
আমার অঙ্গীকার:
বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি সুপরিকল্পিত ও বাস্তবসম্মত একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রণয়ন।
জকসুকে এই ক্যালেন্ডারের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত করে সমন্বিত কার্যক্রম।
একাডেমিক সময়সূচি অনুযায়ী পড়াশোনা, গবেষণা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে সহায়তা।
সকল প্রশাসনিক সেবা ডিজিটালাইজ: ক্লাস রুটিন, রেজাল্ট, ফর্ম ফিলাপ, টিউশন ফি, হল আবেদন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম ও পরিবহন ব্যবস্থার জন্য Smart Campus App চালু।
শিক্ষার্থীদের জন্য একাডেমিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের রিয়েল–টাইম আপডেট নিশ্চিত করা।
লক্ষ্য: ভোগান্তিহীন, সময়নিষ্ঠ ও প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্ববিদ্যালয়, যেখানে প্রশাসন শিক্ষার্থীর বাধা নয়, সহযোগী শক্তি হবে।
১২. প্রশাসন–শিক্ষার্থী যোগাযোগ সহজীকরণ
বর্তমানে শিক্ষার্থীর অভিযোগ গ্রহণ ও সমাধানে নিয়মিত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার অভাব রয়েছে। সেশনজট, রাজনৈতিক চাপ এবং ভীতিকর পরিবেশ শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ পড়াশোনা ও অংশগ্রহণকে ব্যাহত করে।
আমার অঙ্গীকার:
Complaint & Support Cell স্থাপন: শিক্ষার্থীর অভিযোগ গ্রহণ, সমাধান ও মাসিক রিপোর্ট প্রকাশ।
শিক্ষার্থী ও প্রশাসনের মধ্যে সরাসরি ফিডব্যাক ও স্বচ্ছ যোগাযোগ নিশ্চিত।
সেশনজট, রাজনৈতিক চাপ ও ভীতি-মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা।
লক্ষ্য:
একটি জবাবদিহিমূলক প্রশাসন, যেখানে শিক্ষার্থী কেবল অভিযোগ করতে পারে না, বরং নিরাপদ ও সম্মানজনক শিক্ষাজীবন উপভোগ করবে।
১৩. এ্যালামনাই ও সমাবর্তন
এ্যালামনাই সংযোগ ও সমাবর্তনের কার্যক্রম অনেক ক্ষেত্রে অপ্রতুল, যার কারণে শিক্ষার্থীরা অভিজ্ঞ ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীর সঙ্গে মেন্টরশিপ, ইন্টার্নশিপ বা ক্যারিয়ার সহায়তার সুযোগ হারায়।
আমার অঙ্গীকার:
দ্রুত ও কার্যকর এ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠন।
শিক্ষার্থী-এ্যালামনাই সংযোগ স্থাপন: মেন্টরশিপ, ইন্টার্নশিপ ও ক্যারিয়ার সহায়তা।
নিয়মিত সমাবর্তন আয়োজন, শিক্ষার্থীদের মর্যাদা ও স্বীকৃতি নিশ্চিত করা।
লক্ষ্য: শিক্ষার্থী ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীর মধ্যে শক্তিশালী সম্পর্ক গড়ে তোলা, যা ক্যারিয়ার ও সামাজিক সংযোগে সমর্থক ভূমিকা রাখবে।
১৪. পরিবহন
ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত বাস, নির্ধারিত ভাড়া ও সুষ্ঠু পরিবহন ব্যবস্থার অভাব শিক্ষার্থীদের যাতায়াতকে ঝুঁকিপূর্ণ ও অসুবিধাজনক করে তোলে।
আমার অঙ্গীকার:
শিক্ষার্থীদের জন্য বাস সংখ্যা ও রুট বৃদ্ধি, পরীক্ষার সময় ও সন্ধ্যায় বিশেষ বাস সার্ভিস।
আশেপাশের এলাকায় নির্দিষ্ট ভাড়ায় গাড়ির ব্যবস্থা।
রায়সাহেববাজার থেকে ক্যাম্পাস পর্যন্ত বৈদ্যুতিক শাটল সার্ভিস।
পরিবহন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও কার্যকরী নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত।
লক্ষ্য: নিরাপদ, সহজলভ্য ও নির্ভরযোগ্য পরিবহন, যাতে শিক্ষার্থীরা সময়মতো ও স্বাচ্ছন্দ্যে পড়াশোনায় অংশগ্রহণ করতে পারে।
১৫. মেয়েদের হল ও নারী বান্ধব সুবিধা
মেয়েদের হল ও ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা, হাইজিন এবং বিশ্রামাগারের প্রাপ্যতা অপর্যাপ্ত, যা শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক জীবন ও পড়াশোনাকে প্রভাবিত করছে।
আমার অঙ্গীকার:
মেয়েদের জন্য নিরাপদ, সুপরিস্কার ও পর্যাপ্ত আলোযুক্ত হল, হাইজিন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত।
নারীদের জন্য নিরাপদ বিশ্রামাগার, হাইজিন রুম এবং নির্ভরযোগ্য অভিযোগ সেল।
বিবাহিত শিক্ষার্থী বা সন্তানসহ শিক্ষার্থীদের জন্য ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন।
লক্ষ্য: মেয়েদের জন্য নিরাপদ, সম্মানজনক ও শিক্ষার্থী–বান্ধব পরিবেশ, যেখানে নারী শিক্ষার্থী স্বাধীন ও স্বাচ্ছন্দ্যে পড়াশোনা করতে পারে।ইশতেহার ঘোষণায় শাহ আহমাদ রেজা বলেন,
“আমি জকসুকে ক্ষমতার নয়, শিক্ষার্থীর সেবার জায়গা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। নিরাপদ ক্যাম্পাস, মানসম্মত শিক্ষা ও সম্মানজনক শিক্ষাজীবন- এই তিনটি ভিত্তির ওপর একটি নতুন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় গড়াই আমার লক্ষ্য।”
প্রার্থী: শাহ আহমাদ রেজা
পদ: সাধারণ সম্পাদক (জিএস)- স্বতন্ত্র
ব্যালট নম্বর: B-3
সকল ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট ও মাল্টিমিডিয়া সংবাদমাধ্যমে সংবাদটি প্রকাশ ও প্রচারের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হলো।
বার্তা প্রেরক,
তানভীর ইসলাম স্বাধীন
সদস্য সচিব
নাগরিক ছাত্র ঐক্য

সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫
"ক্ষমতার হাতিয়ার নয়, জকসু হোক শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর" - মাহমুদুর রহমান মান্না, সাবেক ডাকসুর দুইবারের ভিপি ও চাকসুর জিএস
আসন্ন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু)–২০২৫ নির্বাচন উপলক্ষে জিএস (সাধারণ সম্পাদক) পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ইশতেহার ঘোষণা করেছেন শাহ আহমাদ রেজা (ব্যালট নম্বর: B-3)। তিনি ডাকসুর সাবেক ভিপি ও চাকসুর সাবেক জিএস মাহমুদুর রহমান মান্না–এর সমর্থনে নির্বাচন করছেন।
ইশতেহারে তিনি একটি নিরাপদ, শিক্ষার্থী–বান্ধব, আধুনিক ও গবেষণামুখী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
১. নিরাপদ ও শিক্ষার্থী–বান্ধব ক্যাম্পাস
ইভটিজিং, সিট–ক্রাইসিস, সেশনজট ও রাজনৈতিক চাপের কারণে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষাজীবন ব্যাহত হয়। নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি এবং অনিয়ন্ত্রিত শব্দদূষণ ক্লাস ও পরীক্ষার পরিবেশকে নষ্ট করে।
আমার অঙ্গীকার:
ইভটিজিং, সিট–সংকট ও রাজনৈতিক চাপমুক্ত ক্যাম্পাস নিশ্চিতে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগ।
ডেডিকেটেড নিরাপত্তা কর্মী, কার্যকর হটলাইন ও নিয়মিত সিসিটিভি টহল ব্যবস্থা জোরদার করা।
Noise-Free Campus Policy প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন: ক্লাস ও পরীক্ষা চলাকালে উচ্চ শব্দ, মাইক ও মিছিল সীমিত করা।
জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সহায়তার জন্য শিক্ষার্থীবান্ধব Quick Response App চালুর উদ্যোগ।
লক্ষ্য:
ক্যাম্পাস হোক ভয়মুক্ত, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও পড়াশোনার উপযোগী, যেখানে শিক্ষার্থী নিরাপত্তা ও সম্মানের সঙ্গে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে।
২. আবাসন ও দ্বিতীয় ক্যাম্পাস
দ্বিতীয় ক্যাম্পাস দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণাধীন থাকলেও কাজের গতি ধীর। আবাসন সংকট ও বেদখলকৃত হল শিক্ষার্থীদের জন্য বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আমার অঙ্গীকার:
দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের চলমান ফেজ দ্রুত সম্পন্ন করতে নিয়মিত তদারকি ও মাসিক অগ্রগতি প্রকাশ।
নির্মাণাধীন হলগুলোর কাজের গতি, গুণগত মান ও নির্ধারিত সময়সীমা কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ।
পরবর্তী নির্মাণ ফেজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের জন্য জোরালো দাবি ও ধারাবাহিক প্রচেষ্টা।
বেদখলকৃত হল আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উদ্ধার ও দখলমুক্ত করার উদ্যোগ।
লক্ষ্য:
আবাসন ও দ্বিতীয় ক্যাম্পাস, দুটোই যেন প্রতিশ্রুতিতে নয়, বাস্তবে শিক্ষার্থীর জীবনমান বদলাতে পারে।
৩. অবকাঠামো ও ভবন ব্যবস্থাপনা
কলাভবন, বিজ্ঞান ভবন, রফিক ভবন, অবকাশ ভবন ও সাজিদ ভবনের অবকাঠামোগত অবস্থা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। লিফট বিকল থাকা, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধার অভাব এবং গেইট ও টিএসসির অপ্রতুল ব্যবস্থাপনা শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে।
আমার অঙ্গীকার:
কলাভবন, বিজ্ঞান ভবন, রফিক ভবন, অবকাশ ভবন ও সাজিদ ভবনের পূর্ণাঙ্গ সংস্কার।
সাজিদ ভবনে নতুন কার্গো ও সাধারণ লিফট সংযোজন; প্রতিটি ভবনের লিফট কার্যকর রাখা।
JnU Lift Monitoring Cell গঠন করে লিফট ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
যেকোনো বিকল লিফট সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মেরামতের বাধ্যবাধকতা।
প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য র্যাম্প ও কার্যকর লিফট নিশ্চিত করা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ও অভ্যন্তরীণ গেইট সংস্কার।
টিএসসি উন্নয়ন ও স্থায়ী সমাধান (ভূমি লিজ/ক্রয়), সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা এবং মসজিদ সংস্কার।
লক্ষ্য:
একটি নিরাপদ, সহজপ্রবেশযোগ্য ও আধুনিক ক্যাম্পাস, যেখানে অবকাঠামো শিক্ষার্থীর প্রতিবন্ধক নয়, বরং সহায়ক শক্তি হবে।
৪. শিক্ষক নিয়োগ ও একাডেমিক মান
শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা ও যোগ্যতার প্রশ্নে শিক্ষার্থীদের আস্থার ঘাটতি রয়েছে। পাঠদানের মান, নিয়মিত মূল্যায়ন ও শিক্ষার্থীর মতামত গ্রহণে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর অভাব একাডেমিক মান উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করছে।
আমার অঙ্গীকার:
শিক্ষক নিয়োগে যোগ্যতা, মেধা ও একাডেমিক দক্ষতাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য প্রদান।
যোগ্য জবিয়ানদের ক্ষেত্রে ন্যায্য অগ্রাধিকার নিশ্চিত করার দাবি।
পাঠদান, শিক্ষার্থীর ফিডব্যাক ও একাডেমিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য Teachers’ Monitoring Cell গঠন।
মেধাবী ও নিষ্ঠাবান শিক্ষকদের উৎসাহিত করতে Best Teacher Award চালু।
লক্ষ্য:
একটি মানসম্মত, স্বচ্ছ ও শিক্ষার্থী–কেন্দ্রিক একাডেমিক পরিবেশ, যেখানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়েই সম্মান ও অনুপ্রেরণায় এগিয়ে যাবে।
৬. শিক্ষা ও ব্লেন্ডেড (Hybrid) ক্লাসরুম
প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, স্মার্ট শ্রেণিকক্ষ ও হাইব্রিড ক্লাস ব্যবস্থার ঘাটতির কারণে শিক্ষার্থীরা আধুনিক শেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। লাইব্রেরির সীমিত সময়, ডিজিটাল রিসোর্সের অভাব এবং অনলাইন একাডেমিক সেবার ধীরগতি শিক্ষার মানকে প্রভাবিত করছে।
আমার অঙ্গীকার:
Blended/Hybrid Classroom চালু: লাইভ ও রেকর্ডেড ক্লাস, স্মার্ট বোর্ড ও প্রজেকশন সুবিধা।
নিয়মিত টিউটোরিয়াল, রিভিশন ক্লাস ও একাডেমিক সাপোর্ট প্রোগ্রাম।
সেমিনার ও প্রেজেন্টেশনের জন্য আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন শ্রেণিকক্ষ ও হল।
সেমিনার লাইব্রেরি অন্তত রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখা; নতুন বই সংযোজন, রিডিং জোন ও গ্রুপ স্টাডি রুম।
ই–বুক ও আন্তর্জাতিক একাডেমিক ডাটাবেসে অ্যাক্সেস নিশ্চিত করা।
সকল পরীক্ষার ফল দ্রুততম সময়ে অনলাইনে প্রকাশ।
লক্ষ্য:
শিক্ষা হোক সহজলভ্য, প্রযুক্তিনির্ভর ও সময়োপযোগী, যাতে প্রত্যেক শিক্ষার্থী সমান সুযোগে শেখার পরিবেশ পায়।
৬. গবেষণার মানোন্নয়ন ও উদ্ভাবন
গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা ও উদ্ভাবনী চর্চার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন, কাঠামো ও প্রশিক্ষণের ঘাটতি রয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীদের গবেষণায় আগ্রহ থাকলেও পর্যাপ্ত সুযোগ ও দিকনির্দেশনা পাওয়া যায় না।
আমার অঙ্গীকার:
শিক্ষার্থীদের গবেষণায় উৎসাহ দিতে Students’ Research Fund চালু।
Teaching Assistantship এর মাধ্যমে মেধাবী শিক্ষার্থীদের একাডেমিক গবেষণায় যুক্ত করা।
গবেষণা ও উদ্ভাবনী পরিবেশ গড়তে JnU Research Forum প্রতিষ্ঠা।
আধুনিক গবেষণা দক্ষতার জন্য AI Tools Workshop ও গবেষণা প্রশিক্ষণ।
উদ্ভাবনী ও গবেষণাভিত্তিক কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ “JnU Excellent Innovation Award” প্রবর্তন।
নিয়মিত Paper Presentation, Research Seminar & Innovation Week আয়োজন।
লক্ষ্য:
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি গবেষণাবান্ধব ও উদ্ভাবনী ক্যাম্পাসে রূপান্তর, যেখানে শিক্ষার্থীর চিন্তা, গবেষণা ও সৃজনশীলতা আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছায়।
৭. স্বাস্থ্যসেবা ও ক্যাফেটেরিয়া
বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার কার্যত একটি “নাপা সেন্টারে” পরিণত হয়েছে—যেখানে নাপা ছাড়া প্রয়োজনীয় ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম কিংবা কার্যকর সেবা প্রায় অনুপস্থিত। জরুরি পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পায় না। একই সঙ্গে ক্যাফেটেরিয়ার খাবারের মান, বৈচিত্র্য ও মূল্য নির্ধারণে স্বচ্ছতার অভাব শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
আমার অঙ্গীকার:
মেডিকেল সেন্টারকে পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রে রূপান্তর; প্রয়োজনীয় ওষুধ, প্রাথমিক চিকিৎসা সামগ্রী ও আধুনিক যন্ত্রপাতি নিশ্চিত করা।
নিয়মিত প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা ও স্বাস্থ্য সচেতনতা কর্মশালা আয়োজন।
ক্যাফেটেরিয়ায় স্বাস্থ্যসম্মত, নিরাপদ ও বৈচিত্র্যময় খাবার নিশ্চিত করা।
খাবারের মান ও মূল্য নির্ধারণে স্বচ্ছ নীতিমালা প্রণয়ন ও নিয়মিত তদারকি।
লক্ষ্য:
অসুস্থ হলে শিক্ষার্থী যেন আতঙ্কে নয়, বিশ্বাসের সঙ্গে ক্যাম্পাসেই চিকিৎসা পায়, এমন একটি সুস্থ ও মানবিক ক্যাম্পাস গড়ে তোলা।
৮. ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট ও আর্থিক নিরাপত্তা
অধিকাংশ শিক্ষার্থী পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশন বা পার্টটাইম কাজের ওপর নির্ভরশীল হলেও নিরাপদ, সংগঠিত ও বিশ্ববিদ্যালয়–সমর্থিত প্ল্যাটফর্মের অভাবে প্রতারণা, সময়ের অপচয় এবং একাডেমিক ব্যাঘাতের শিকার হয়।
আমার অঙ্গীকার:
Smart Tuition Media / Tuition Bank চালু করে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও যাচাইকৃত টিউশন প্ল্যাটফর্ম তৈরি।
শিক্ষার্থীরা যেন নিরাপদভাবে ও সহজে টিউশন খুঁজতে পারে তা নিশ্চিত করা।
বিশ্ববিদ্যালয়, স্টার্টআপ ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সমন্বয়ে শিক্ষার্থীবান্ধব পার্টটাইম জবের সুযোগ সৃষ্টি।
পড়াশোনার সময়সূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কাজ নিশ্চিত করা, যাতে একাডেমিক ক্ষতি না হয়।
সব কার্যক্রম স্বচ্ছ, নিরাপদ ও শিক্ষার্থী–কেন্দ্রিকভাবে পরিচালনা।
লক্ষ্য:
শিক্ষার্থীর আর্থিক নিরাপত্তা ও ক্যারিয়ার প্রস্তুতি, দুটোই একসাথে নিশ্চিত করা, যাতে কেউ পড়াশোনা ছেড়ে বাঁচার লড়াইয়ে হারিয়ে না যায়।
৯. মেধাবী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের সাপোর্ট
অর্থনৈতিক সংকটের কারণে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হিমশিম খায়। স্কলারশিপ, ফি–মওকুফ ও জরুরি সহায়তা ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নয় এবং জকসু ফান্ড ব্যবহারে স্বচ্ছতা ও নিয়মিততার ঘাটতি রয়েছে।
আমার অঙ্গীকার:
মেধাবী ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপ, ফি মওকুফ ও জরুরি আর্থিক সহায়তার উদ্যোগ।
একটি সক্রিয়, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক জকসু ফান্ড পরিচালনা, যেখানে আয়ের উৎস ও ব্যয়ের হিসাব নিয়মিত প্রকাশ করা হবে।
লক্ষ্য: অর্থাভাবে কোনো মেধা যেন ঝরে না পড়ে, শিক্ষা হোক সামর্থ্যের নয়, যোগ্যতার ওপর নির্ভরশীল।
১০. ক্যারিয়ার, উচ্চশিক্ষা, স্কিল ডেভেলপমেন্ট ও ইন্টার্নশিপ
ক্যারিয়ার প্রস্তুতি, স্কিল ডেভেলপমেন্ট ও উচ্চশিক্ষা বিষয়ে শিক্ষার্থীদের নির্ভরযোগ্য তথ্য, প্রশিক্ষণ ও দিকনির্দেশনার অভাব রয়েছে। ফলে অনেক শিক্ষার্থী সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও সুযোগ থেকে পিছিয়ে পড়ে।
আমার অঙ্গীকার:
BCC, NACTAR ও Youth Development–এর সঙ্গে সমন্বয়ে প্রশিক্ষণ কোর্স চালু।
অ্যাডমিশন ফেয়ার, কর্পোরেট সেমিনার ও ক্যারিয়ার টক আয়োজন।
স্কিল কোর্স: Digital Marketing, Freelancing, Graphics Design ও Office Skills।
দেশি ও বিদেশি স্কলারশিপ ও উচ্চশিক্ষার তথ্য সেল প্রতিষ্ঠা।
বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য গাইডলাইন, ওয়ার্কশপ, রেকমেন্ডেশন ও ডকুমেন্টেশন সাপোর্ট।
IML-এর উদ্যোগে ভাষা ও ডিপ্লোমা কোর্স (English, Arabic, Persian, German, Japanese)।
ক্যারিয়ারমুখী ডিপ্লোমা ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রোগ্রাম।
লক্ষ্য:ডিগ্রির পাশাপাশি দক্ষতা ও দিকনির্দেশনা, যাতে শিক্ষার্থী চাকরি ও উচ্চশিক্ষায় আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যেতে পারে।
১১. একাডেমিক ক্যালেন্ডার ও প্রশাসনিক আধুনিকীকরণ
সুস্পষ্ট একাডেমিক ক্যালেন্ডারের অভাব, প্রশাসনিক জটিলতা ও অপ্রয়োজনীয় কাগজপত্র শিক্ষার্থীদের সময়, অর্থ ও মানসিক শক্তি নষ্ট করছে। ডিজিটাল সেবার সীমাবদ্ধতার কারণে ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়।
আমার অঙ্গীকার:
বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি সুপরিকল্পিত ও বাস্তবসম্মত একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রণয়ন।
জকসুকে এই ক্যালেন্ডারের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত করে সমন্বিত কার্যক্রম।
একাডেমিক সময়সূচি অনুযায়ী পড়াশোনা, গবেষণা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে সহায়তা।
সকল প্রশাসনিক সেবা ডিজিটালাইজ: ক্লাস রুটিন, রেজাল্ট, ফর্ম ফিলাপ, টিউশন ফি, হল আবেদন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম ও পরিবহন ব্যবস্থার জন্য Smart Campus App চালু।
শিক্ষার্থীদের জন্য একাডেমিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের রিয়েল–টাইম আপডেট নিশ্চিত করা।
লক্ষ্য: ভোগান্তিহীন, সময়নিষ্ঠ ও প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্ববিদ্যালয়, যেখানে প্রশাসন শিক্ষার্থীর বাধা নয়, সহযোগী শক্তি হবে।
১২. প্রশাসন–শিক্ষার্থী যোগাযোগ সহজীকরণ
বর্তমানে শিক্ষার্থীর অভিযোগ গ্রহণ ও সমাধানে নিয়মিত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার অভাব রয়েছে। সেশনজট, রাজনৈতিক চাপ এবং ভীতিকর পরিবেশ শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ পড়াশোনা ও অংশগ্রহণকে ব্যাহত করে।
আমার অঙ্গীকার:
Complaint & Support Cell স্থাপন: শিক্ষার্থীর অভিযোগ গ্রহণ, সমাধান ও মাসিক রিপোর্ট প্রকাশ।
শিক্ষার্থী ও প্রশাসনের মধ্যে সরাসরি ফিডব্যাক ও স্বচ্ছ যোগাযোগ নিশ্চিত।
সেশনজট, রাজনৈতিক চাপ ও ভীতি-মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা।
লক্ষ্য:
একটি জবাবদিহিমূলক প্রশাসন, যেখানে শিক্ষার্থী কেবল অভিযোগ করতে পারে না, বরং নিরাপদ ও সম্মানজনক শিক্ষাজীবন উপভোগ করবে।
১৩. এ্যালামনাই ও সমাবর্তন
এ্যালামনাই সংযোগ ও সমাবর্তনের কার্যক্রম অনেক ক্ষেত্রে অপ্রতুল, যার কারণে শিক্ষার্থীরা অভিজ্ঞ ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীর সঙ্গে মেন্টরশিপ, ইন্টার্নশিপ বা ক্যারিয়ার সহায়তার সুযোগ হারায়।
আমার অঙ্গীকার:
দ্রুত ও কার্যকর এ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠন।
শিক্ষার্থী-এ্যালামনাই সংযোগ স্থাপন: মেন্টরশিপ, ইন্টার্নশিপ ও ক্যারিয়ার সহায়তা।
নিয়মিত সমাবর্তন আয়োজন, শিক্ষার্থীদের মর্যাদা ও স্বীকৃতি নিশ্চিত করা।
লক্ষ্য: শিক্ষার্থী ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীর মধ্যে শক্তিশালী সম্পর্ক গড়ে তোলা, যা ক্যারিয়ার ও সামাজিক সংযোগে সমর্থক ভূমিকা রাখবে।
১৪. পরিবহন
ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত বাস, নির্ধারিত ভাড়া ও সুষ্ঠু পরিবহন ব্যবস্থার অভাব শিক্ষার্থীদের যাতায়াতকে ঝুঁকিপূর্ণ ও অসুবিধাজনক করে তোলে।
আমার অঙ্গীকার:
শিক্ষার্থীদের জন্য বাস সংখ্যা ও রুট বৃদ্ধি, পরীক্ষার সময় ও সন্ধ্যায় বিশেষ বাস সার্ভিস।
আশেপাশের এলাকায় নির্দিষ্ট ভাড়ায় গাড়ির ব্যবস্থা।
রায়সাহেববাজার থেকে ক্যাম্পাস পর্যন্ত বৈদ্যুতিক শাটল সার্ভিস।
পরিবহন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও কার্যকরী নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত।
লক্ষ্য: নিরাপদ, সহজলভ্য ও নির্ভরযোগ্য পরিবহন, যাতে শিক্ষার্থীরা সময়মতো ও স্বাচ্ছন্দ্যে পড়াশোনায় অংশগ্রহণ করতে পারে।
১৫. মেয়েদের হল ও নারী বান্ধব সুবিধা
মেয়েদের হল ও ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা, হাইজিন এবং বিশ্রামাগারের প্রাপ্যতা অপর্যাপ্ত, যা শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক জীবন ও পড়াশোনাকে প্রভাবিত করছে।
আমার অঙ্গীকার:
মেয়েদের জন্য নিরাপদ, সুপরিস্কার ও পর্যাপ্ত আলোযুক্ত হল, হাইজিন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত।
নারীদের জন্য নিরাপদ বিশ্রামাগার, হাইজিন রুম এবং নির্ভরযোগ্য অভিযোগ সেল।
বিবাহিত শিক্ষার্থী বা সন্তানসহ শিক্ষার্থীদের জন্য ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন।
লক্ষ্য: মেয়েদের জন্য নিরাপদ, সম্মানজনক ও শিক্ষার্থী–বান্ধব পরিবেশ, যেখানে নারী শিক্ষার্থী স্বাধীন ও স্বাচ্ছন্দ্যে পড়াশোনা করতে পারে।ইশতেহার ঘোষণায় শাহ আহমাদ রেজা বলেন,
“আমি জকসুকে ক্ষমতার নয়, শিক্ষার্থীর সেবার জায়গা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। নিরাপদ ক্যাম্পাস, মানসম্মত শিক্ষা ও সম্মানজনক শিক্ষাজীবন- এই তিনটি ভিত্তির ওপর একটি নতুন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় গড়াই আমার লক্ষ্য।”
প্রার্থী: শাহ আহমাদ রেজা
পদ: সাধারণ সম্পাদক (জিএস)- স্বতন্ত্র
ব্যালট নম্বর: B-3
সকল ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট ও মাল্টিমিডিয়া সংবাদমাধ্যমে সংবাদটি প্রকাশ ও প্রচারের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হলো।
বার্তা প্রেরক,
তানভীর ইসলাম স্বাধীন
সদস্য সচিব
নাগরিক ছাত্র ঐক্য

আপনার মতামত লিখুন