ডি এস কে টিভি চ্যানেল
প্রকাশ : শুক্রবার, ১১ জুলাই ২০২৫

মেক্সিকোতে শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো পুলিশ কর্মকর্তার পদোন্নতি

মেক্সিকোতে শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো পুলিশ কর্মকর্তার পদোন্নতি

ছেলে নেই, তাই জামাইকেই দত্তক নেয় জাপানি পরিবার

ছেলে নেই, তাই জামাইকেই দত্তক নেয় জাপানি পরিবার

ধ্বংসস্তূপে ক্ষুধার্ত শিশুর কান্না, নিজের বুকের দুধ খাওয়ালেন পুলিশ কর্মকর্তা

ধ্বংসস্তূপে ক্ষুধার্ত শিশুর কান্না, নিজের বুকের দুধ খাওয়ালেন পুলিশ কর্মকর্তা

নেপালে ভ'য়াবহ বন্যার মধ্যেও অলৌকিক উদ্ধার, ৪৫ দিনের শিশুকে জীবিত উদ্ধার

নেপালে ভ'য়াবহ বন্যার মধ্যেও অলৌকিক উদ্ধার, ৪৫ দিনের শিশুকে জীবিত উদ্ধার

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে অবৈধভাবে সার মজুত রাখার অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে দুই ব্যবসায়ীকে মোট ৪ লাখ ৫ হাজার টাকা জরিমানা

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে অবৈধভাবে সার মজুত রাখার অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে দুই ব্যবসায়ীকে মোট ৪ লাখ ৫ হাজার টাকা জরিমানা

ভয়াবহ বন্যার মুখে প্রধান শিক্ষকের সাহসী সিদ্ধান্ত, বাঁচল ১,৬৪৩ শিক্ষার্থীর প্রাণ

ভয়াবহ বন্যার মুখে প্রধান শিক্ষকের সাহসী সিদ্ধান্ত, বাঁচল ১,৬৪৩ শিক্ষার্থীর প্রাণ

বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াচ্ছে চীন ও পাকিস্তান

বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াচ্ছে চীন ও পাকিস্তান

নেপালে ভয়া'বহ বন্যা-ভূমিধসে প্রাণহানির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর শোক

নেপালে ভয়া'বহ বন্যা-ভূমিধসে প্রাণহানির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর শোক

জাতিসংঘের পরমাণু সংস্থাকে দ্বিচারিতা ছাড়তে হবে ইরানের কড়া হুঁশিয়ার

জাতিসংঘের পরমাণু সংস্থাকে দ্বিচারিতা ছাড়তে হবে ইরানের কড়া হুঁশিয়ার
ইরানের নতুন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের এক ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। তিনি জাতিসংঘের পরমাণু সংস্থা বা আইএইএ-কে যে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, তা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে এক নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে। এই ঘোষণার পর ইরান আইএইএ-এর সাথে সহযোগিতা স্থগিত করার কথা জানায়। তবে পরিদর্শকদের বর্তমান অবস্থা ঠিক কী, তা এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কেন একজন মধ্যপন্থী এবং সংস্কারবাদী নেতা হিসেবে পরিচিত পেজেশকিয়ান হঠাৎ এত কঠোর অবস্থান নিলেন? এর পেছনে আসল কারণগুলো কী কী? চলুন, বিষয়টা একটু তলিয়ে দেখা যাক। (প্রথম পর্ব: যে ঘটনাগুলো ইরানকে কঠোর হতে বাধ্য করেছে) ইরানের এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে গত জুনে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনাকে। ১৩ জুন ইসরায়েলি ও মার্কিন হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের দাবি, এই হামলায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বেশ ক্ষতি হয়েছে, বিশেষ করে নাতানজ কেন্দ্রটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ইরান ফোরদো বা ইসফাহান স্থাপনায় হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। ফরাসি গোয়েন্দা সংস্থার মতে, এই হামলায় ইরানের কর্মসূচি কয়েক মাস পিছিয়ে গেলেও, তাদের মজুত থাকা ইউরেনিয়ামের একটি ছোট অংশই কেবল ধ্বংস হয়েছে এবং বাকিটার সমৃদ্ধির মাত্রা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। ইরানের ক্ষোভের মূল কারণ হলো, এই হামলার বিষয়ে জাতিসংঘের পরমাণু সংস্থা আইএইএ সরাসরি কোনো নিন্দা জানায়নি, যদিও সংস্থাটির প্রধান রাফায়েল গ্রোসি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। ইরানের চোখে, হামলার ঠিক আগের দিন, ১২ জুন, আইএইএ-এর বোর্ড অফ গভর্নরসে ইরানের বিরুদ্ধে যে প্রস্তাব পাস করা হয়, সেটি ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তেহরান মনে করে এটি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে হামলার সুযোগ করে দিয়েছে। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ বলেছেন, আইএইএ আন্তর্জাতিক মহলে তার বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে। এরই প্রতিক্রিয়ায় ইরান একটি আইন পাস করে, যেখানে বলা হয় যে দেশের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন ছাড়া আইএইএ পরিদর্শকরা আর দেশের পারমাণবিক স্থাপনায় ঢুকতে পারবে না। (দ্বিতীয় পর্ব: ‘দ্বিচারিতা’র অভিযোগের আসল অর্থ কী?) প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের 'দ্বিচারিতা'র অভিযোগটি ইরানের দীর্ঘদিনের ক্ষোভের কথাই আবার মনে করিয়ে দেয়। তেহরানের মূল বক্তব্য হলো, আইএইএ এবং পশ্চিমা বিশ্ব মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই ধরনের নীতি নিয়ে চলে। একদিকে, ইসরায়েলের কাছে পারমাণবিক বোমা থাকার কথা শোনা গেলেও দেশটি পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি বা এনপিটি-তে স্বাক্ষর করেনি। তাই তাদের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো আন্তর্জাতিক পরিদর্শনের বাইরেই রয়ে গেছে। যদিও এটা ঠিক যে, এনপিটি চুক্তিতে স্বাক্ষর না করা দেশের ওপর আইএইএ-এর ক্ষমতা সীমিত। অন্যদিকে, ইরান এনপিটি চুক্তির স্বাক্ষরকারী দেশ এবং বারবার তাদের কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ বললেও, সংস্থাটি কেবল ইরানের ওপরই চাপ প্রয়োগ করে চলেছে বলে তারা মনে করে। ইরানের মতে, এই দ্বিমুখী আচরণই প্রমাণ করে যে আইএইএ নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে না, বরং পশ্চিমা শক্তি, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের নিন্দা না করে উল্টো ইরানকে দোষারোপ করার মধ্য দিয়ে আইএইএ তার নিরপেক্ষ চরিত্র হারিয়েছে বলে তেহরান মনে করে। এই 'দ্বিচারিতা' বন্ধ না হলে কোনো অর্থপূর্ণ সহযোগিতা সম্ভব নয়—এটাই এখন তেহরানের চূড়ান্ত অবস্থান। (তৃতীয় পর্ব: বিশ্ব রাজনীতির নতুন সমীকরণ) ইরানের এই সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক পরিদর্শনের সুযোগ অনেকটাই সীমিত হয়ে গেছে, যা বিশ্ব রাজনীতিতে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে স্বচ্ছতার অভাব দেখা দিয়েছে। যদিও গোয়েন্দা সংস্থা বা স্যাটেলাইটের মাধ্যমে কিছু তথ্য পাওয়া সম্ভব, সরাসরি পরিদর্শনের অভাবে অনেক প্রশ্নেরই উত্তর পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। আইএইএ প্রধান রাফায়েল গ্রোসি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, এই পরিস্থিতি বিশ্বকে একটি নতুন সংকটের দিকে ঠেলে দিতে পারে। এই পরিস্থিতিতে প্রধান বিশ্বশক্তিগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়েছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার ইউরোপীয় মিত্ররা ইরানের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করছে। তাদের আশঙ্কা, ইরান এই সুযোগে গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে হাঁটতে পারে। অন্যদিকে, রাশিয়া ও চীন এই সংকটের জন্য পশ্চিমা দেশগুলোর একপেশে নীতি এবং ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাকেই দায়ী করছে এবং তারা একটি কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে যেকোনো ধরনের বড় আকারের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হলেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে, আর এই পরিস্থিতি সেই আশঙ্কাকে আরও উস্কে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সামনে দুটি পথ খোলা থাকতে পারে। হয় ইরান এবং পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হবে, যেখানে ইরানের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিয়ে একটি নতুন সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করা হবে। অথবা, এই পারমাণবিক অনিশ্চয়তা এবং পারস্পরিক অবিশ্বাস মধ্যপ্রাচ্যকে একটি বিধ্বংসী যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেবে। (আপনার মতামত কী?) বিশ্ব এখন একটি টানটান উত্তেজনার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। ইরানের নতুন প্রেসিডেন্টের এই পদক্ষেপ কি কেবলই আত্মরক্ষার কৌশল, নাকি আরও বড় কোনো পরিকল্পনার অংশ? আপনার কী মনে হয়? ইরানের এই পদক্ষেপ কি নতুন কোনো আলোচনার দরজা খুলবে, নাকি মধ্যপ্রাচ্যকে আরও বড় সংঘাতের দিকে ঠেলে দেবে? (উপসংহার) সব মিলিয়ে, ইরানের এই সিদ্ধান্ত হঠাৎ করে নেওয়া কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি বছরের পর বছর ধরে চলা আন্তর্জাতিক চাপ, নিষেধাজ্ঞা আর হামলার প্রতিক্রিয়ারই বহিঃপ্রকাশ। মাসুদ পেজেশকিয়ানের মতো একজন মধ্যপন্থী নেতার কাছ থেকে এমন কঠোর অবস্থান এটাই বুঝিয়ে দেয় যে, ইরানের ধৈর্যের সীমা হয়তো পেরিয়ে গেছে। এখন বল আইএইএ এবং পশ্চিমা বিশ্বের কোর্টে। তারা কি ইরানের অভিযোগগুলো গুরুত্ব দিয়ে একটি সম্মানজনক সমাধানের পথে হাঁটবে, নাকি পুরোনো চাপ প্রয়োগের নীতিতেই অটল থাকবে? এর উত্তরের ওপরই হয়তো নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যসহ পুরো বিশ্বের ভবিষ্যৎ শান্তি ও স্থিতিশীলতা।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডি এস কে টিভি চ্যানেল

সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬


জাতিসংঘের পরমাণু সংস্থাকে দ্বিচারিতা ছাড়তে হবে ইরানের কড়া হুঁশিয়ার

প্রকাশের তারিখ : ১১ জুলাই ২০২৫

featured Image
ইরানের নতুন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের এক ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। তিনি জাতিসংঘের পরমাণু সংস্থা বা আইএইএ-কে যে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, তা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে এক নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে। এই ঘোষণার পর ইরান আইএইএ-এর সাথে সহযোগিতা স্থগিত করার কথা জানায়। তবে পরিদর্শকদের বর্তমান অবস্থা ঠিক কী, তা এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কেন একজন মধ্যপন্থী এবং সংস্কারবাদী নেতা হিসেবে পরিচিত পেজেশকিয়ান হঠাৎ এত কঠোর অবস্থান নিলেন? এর পেছনে আসল কারণগুলো কী কী? চলুন, বিষয়টা একটু তলিয়ে দেখা যাক। (প্রথম পর্ব: যে ঘটনাগুলো ইরানকে কঠোর হতে বাধ্য করেছে) ইরানের এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে গত জুনে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনাকে। ১৩ জুন ইসরায়েলি ও মার্কিন হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের দাবি, এই হামলায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বেশ ক্ষতি হয়েছে, বিশেষ করে নাতানজ কেন্দ্রটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ইরান ফোরদো বা ইসফাহান স্থাপনায় হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। ফরাসি গোয়েন্দা সংস্থার মতে, এই হামলায় ইরানের কর্মসূচি কয়েক মাস পিছিয়ে গেলেও, তাদের মজুত থাকা ইউরেনিয়ামের একটি ছোট অংশই কেবল ধ্বংস হয়েছে এবং বাকিটার সমৃদ্ধির মাত্রা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। ইরানের ক্ষোভের মূল কারণ হলো, এই হামলার বিষয়ে জাতিসংঘের পরমাণু সংস্থা আইএইএ সরাসরি কোনো নিন্দা জানায়নি, যদিও সংস্থাটির প্রধান রাফায়েল গ্রোসি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। ইরানের চোখে, হামলার ঠিক আগের দিন, ১২ জুন, আইএইএ-এর বোর্ড অফ গভর্নরসে ইরানের বিরুদ্ধে যে প্রস্তাব পাস করা হয়, সেটি ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তেহরান মনে করে এটি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে হামলার সুযোগ করে দিয়েছে। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ বলেছেন, আইএইএ আন্তর্জাতিক মহলে তার বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে। এরই প্রতিক্রিয়ায় ইরান একটি আইন পাস করে, যেখানে বলা হয় যে দেশের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন ছাড়া আইএইএ পরিদর্শকরা আর দেশের পারমাণবিক স্থাপনায় ঢুকতে পারবে না। (দ্বিতীয় পর্ব: ‘দ্বিচারিতা’র অভিযোগের আসল অর্থ কী?) প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের 'দ্বিচারিতা'র অভিযোগটি ইরানের দীর্ঘদিনের ক্ষোভের কথাই আবার মনে করিয়ে দেয়। তেহরানের মূল বক্তব্য হলো, আইএইএ এবং পশ্চিমা বিশ্ব মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই ধরনের নীতি নিয়ে চলে। একদিকে, ইসরায়েলের কাছে পারমাণবিক বোমা থাকার কথা শোনা গেলেও দেশটি পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি বা এনপিটি-তে স্বাক্ষর করেনি। তাই তাদের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো আন্তর্জাতিক পরিদর্শনের বাইরেই রয়ে গেছে। যদিও এটা ঠিক যে, এনপিটি চুক্তিতে স্বাক্ষর না করা দেশের ওপর আইএইএ-এর ক্ষমতা সীমিত। অন্যদিকে, ইরান এনপিটি চুক্তির স্বাক্ষরকারী দেশ এবং বারবার তাদের কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ বললেও, সংস্থাটি কেবল ইরানের ওপরই চাপ প্রয়োগ করে চলেছে বলে তারা মনে করে। ইরানের মতে, এই দ্বিমুখী আচরণই প্রমাণ করে যে আইএইএ নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে না, বরং পশ্চিমা শক্তি, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের নিন্দা না করে উল্টো ইরানকে দোষারোপ করার মধ্য দিয়ে আইএইএ তার নিরপেক্ষ চরিত্র হারিয়েছে বলে তেহরান মনে করে। এই 'দ্বিচারিতা' বন্ধ না হলে কোনো অর্থপূর্ণ সহযোগিতা সম্ভব নয়—এটাই এখন তেহরানের চূড়ান্ত অবস্থান। (তৃতীয় পর্ব: বিশ্ব রাজনীতির নতুন সমীকরণ) ইরানের এই সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক পরিদর্শনের সুযোগ অনেকটাই সীমিত হয়ে গেছে, যা বিশ্ব রাজনীতিতে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে স্বচ্ছতার অভাব দেখা দিয়েছে। যদিও গোয়েন্দা সংস্থা বা স্যাটেলাইটের মাধ্যমে কিছু তথ্য পাওয়া সম্ভব, সরাসরি পরিদর্শনের অভাবে অনেক প্রশ্নেরই উত্তর পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। আইএইএ প্রধান রাফায়েল গ্রোসি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, এই পরিস্থিতি বিশ্বকে একটি নতুন সংকটের দিকে ঠেলে দিতে পারে। এই পরিস্থিতিতে প্রধান বিশ্বশক্তিগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়েছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার ইউরোপীয় মিত্ররা ইরানের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করছে। তাদের আশঙ্কা, ইরান এই সুযোগে গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে হাঁটতে পারে। অন্যদিকে, রাশিয়া ও চীন এই সংকটের জন্য পশ্চিমা দেশগুলোর একপেশে নীতি এবং ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাকেই দায়ী করছে এবং তারা একটি কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে যেকোনো ধরনের বড় আকারের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হলেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে, আর এই পরিস্থিতি সেই আশঙ্কাকে আরও উস্কে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সামনে দুটি পথ খোলা থাকতে পারে। হয় ইরান এবং পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হবে, যেখানে ইরানের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিয়ে একটি নতুন সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করা হবে। অথবা, এই পারমাণবিক অনিশ্চয়তা এবং পারস্পরিক অবিশ্বাস মধ্যপ্রাচ্যকে একটি বিধ্বংসী যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেবে। (আপনার মতামত কী?) বিশ্ব এখন একটি টানটান উত্তেজনার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। ইরানের নতুন প্রেসিডেন্টের এই পদক্ষেপ কি কেবলই আত্মরক্ষার কৌশল, নাকি আরও বড় কোনো পরিকল্পনার অংশ? আপনার কী মনে হয়? ইরানের এই পদক্ষেপ কি নতুন কোনো আলোচনার দরজা খুলবে, নাকি মধ্যপ্রাচ্যকে আরও বড় সংঘাতের দিকে ঠেলে দেবে? (উপসংহার) সব মিলিয়ে, ইরানের এই সিদ্ধান্ত হঠাৎ করে নেওয়া কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি বছরের পর বছর ধরে চলা আন্তর্জাতিক চাপ, নিষেধাজ্ঞা আর হামলার প্রতিক্রিয়ারই বহিঃপ্রকাশ। মাসুদ পেজেশকিয়ানের মতো একজন মধ্যপন্থী নেতার কাছ থেকে এমন কঠোর অবস্থান এটাই বুঝিয়ে দেয় যে, ইরানের ধৈর্যের সীমা হয়তো পেরিয়ে গেছে। এখন বল আইএইএ এবং পশ্চিমা বিশ্বের কোর্টে। তারা কি ইরানের অভিযোগগুলো গুরুত্ব দিয়ে একটি সম্মানজনক সমাধানের পথে হাঁটবে, নাকি পুরোনো চাপ প্রয়োগের নীতিতেই অটল থাকবে? এর উত্তরের ওপরই হয়তো নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যসহ পুরো বিশ্বের ভবিষ্যৎ শান্তি ও স্থিতিশীলতা।

ডি এস কে টিভি চ্যানেল

চেয়ারম্যান ও সম্পাদকঃ সামসুল আলম
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আসআদ

কপিরাইট © ২০২৫ ডি এস কে টিভি চ্যানেল