পহেলা বৈশাখের উৎসবমুখর দিনে টাঙ্গাইলের সন্তোষে ঐতিহাসিক আবহ তৈরি হয়, যখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিকেল পাঁচটার দিকে পৌঁছান মওলানা ভাসানীর মাজার প্রাঙ্গণে। নতুন বছরের শুরুতেই জাতির এক প্রখ্যাত নেতার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তার এই সফরকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ছিল বাড়তি আগ্রহ ও আবেগ। মাজারে প্রবেশের পর তিনি নীরবতা ও গভীর ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে মোনাজাতে অংশ নেন। সেখানে উপস্থিত দলীয় নেতাকর্মী, প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ সাধারণ মানুষও মহান আল্লাহর কাছে দোয়া প্রার্থনায় শামিল হন। এ সময় তিনি মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী-এর অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।[TECHTARANGA-POST:2852]মওলানা ভাসানী উপমহাদেশের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা হিসেবে আজও গণমানুষের কাছে প্রাসঙ্গিক। তার সংগ্রামী জীবন, কৃষক-শ্রমিকের অধিকার আদায়ে দৃঢ় অবস্থান এবং সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ভূমিকা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। প্রধানমন্ত্রীর এই মাজার জিয়ারত সেই ঐতিহ্য ও আদর্শের প্রতি রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শনেরই একটি প্রতীকী বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।জিয়ারত শেষে প্রধানমন্ত্রী যান মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে, যেখানে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত হয় বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান। শিক্ষার্থীদের আমন্ত্রণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন। ক্যাম্পাসজুড়ে তখন উৎসবের আমেজ—রঙিন সাজসজ্জা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, গান, কবিতা আর ঐতিহ্যবাহী আয়োজনের মাধ্যমে বরণ করা হয় নতুন বছরকে।অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে তরুণদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হতে হবে, যাতে তারা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশকে আরও শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করতে পারে। একই সঙ্গে তিনি বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য লালনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।সার্বিকভাবে, পহেলা বৈশাখের এই দিনে মাজার জিয়ারত ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ একদিকে যেমন অতীতের মহান নেতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, অন্যদিকে তেমনি নতুন প্রজন্মের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে ভবিষ্যতের পথচলার বার্তা দেওয়ার একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।