বহুদিন পর গাজায় নেমেছে শান্তির পরশ: থেমেছে ড্রোন ও যুদ্ধবিমানের গর্জন
প্রকাশের তারিখ : ০৯ অক্টোবর ২০২৫
বহুদিন পর গাজায় নেমেছে শান্তির পরশ: থেমেছে ড্রোন ও যুদ্ধবিমানের গর্জন
ইসরাইল ও হামাসের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর গাজায় থেমে গেছে ইসরাইলি ড্রোন, যুদ্ধবিমান ও কামানের গর্জন। দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর অবশেষে একটু স্বস্তি ফিরে পেয়েছেন গাজার মানুষ। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে—বহুদিন পর শান্তিতে ঘুমাতে পারছেন তারা।
মধ্য গাজার নুসাইরাত শরণার্থী শিবিরের খোলা আকাশের নিচে এখনও রয়েছে অসংখ্য বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি পরিবার। তবে যুদ্ধবিরতির পর প্রথমবারের মতো তাঁদের মুখে ফুটেছে স্বস্তির ছাপ।
মিশরের রাজধানী কায়রোতে সোমবার থেকে শুরু হয়েছিল ইসরাইল ও হামাসের পরোক্ষ আলোচনা। টানা তিন দিনের আলোচনার পর বুধবার (৮ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় প্রথম ধাপের শান্তিচুক্তিতে সম্মত হয় উভয় পক্ষ। রাতেই যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও মিশর বিষয়টি নিশ্চিত করে।
যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরও গাজার আকাশে কিছু সময় বোমা বর্ষণ চলতে থাকে। ইসরাইলি যুদ্ধবিমান গাজা সিটির পশ্চিমাঞ্চলে বোমা হামলা চালায়, যার একটি আঘাত হানে আল শাতি শরণার্থী শিবিরের একটি বাড়িতে। এছাড়া সাবরা পাড়ার কাছে ইসরাইলি বাহিনী বিস্ফোরকভর্তি একটি সাঁজোয়া যান উড়িয়ে দেয়। সৌভাগ্যবশত এসব হামলায় কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। এরপর গভীর রাতে পুরোপুরি থেমে যায় সব হামলা।
আল জাজিরার গাজা প্রতিনিধি হানি মাহমুদ জানান, “মঙ্গলবার রাতের তুলনায় বুধবারের রাত ছিল একেবারেই ভিন্ন। আমরা যখন তাঁবুতে ভরা শরণার্থী এলাকায় গাড়ি নিয়ে ঘুরছিলাম, তখন দেখলাম রাস্তায় কোনো মানুষ নেই। সবাই তাঁবুর ভেতরে ঘুমাচ্ছে।”
তিনি আরও লিখেছেন, “গত কয়েক সপ্তাহ ধরে গাজার মানুষ এমন শান্ত রাত পায়নি। ড্রোনের গুঞ্জন, যুদ্ধবিমানের তাণ্ডব আর কামানের শব্দে তাদের প্রতিটি রাত কাটতো ভয়ে আর অনিদ্রায়। কিন্তু আজ রাতে সেই ভয় নেই। কেউ জেগে নেই—সবাই শান্তিতে ঘুমাচ্ছে।”
হানি মাহমুদের ভাষায়, “আজকের রাত যেন গাজার মানুষের জন্য নতুন ভোরের বার্তা। আকাশে নেই কোনো ড্রোন, নেই যুদ্ধবিমান কিংবা কামানের গর্জন। বহুদিন পর তারা ঘুমোচ্ছে নিশ্চিন্তে—যেন এই নীরবতাই তাদের প্রাপ্য শান্তির ঘুম।”
চেয়ারম্যান ও সম্পাদকঃ সামসুল আলমবার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আসআদ
কপিরাইট © ২০২৫ ডি এস কে টিভি চ্যানেল
আপনার মতামত লিখুন