ডি এস কে টিভি চ্যানেল
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

৩৫ বছরের শিক্ষকতা শেষে বিদায়, আবেগঘন সিদ্ধার্থ স্যারের শেষ কর্মদিবস

৩৫ বছরের শিক্ষকতা শেষে বিদায়, আবেগঘন সিদ্ধার্থ স্যারের শেষ কর্মদিবস

৩৫ বছর জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে অসংখ্য শিক্ষার্থীর স্বপ্ন গড়ার পর শিক্ষকতা জীবন থেকে বিদায় নিলেন পিরোজপুরের পাড়েরহাট সম্মিলিত বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সিদ্ধার্থ শংকর হালদার। 

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ছিল তাঁর শিক্ষকতা জীবনের শেষ কর্মদিবস।

দীর্ঘ কর্মজীবনের শেষ দিনে বিদ্যালয়ের স্বাক্ষর বহিতে শেষ সাক্ষর করার সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। সেই মুহূর্তের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন সিদ্ধার্থ শংকর হালদার। ছবিতে ফুটে ওঠে দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি, দায়িত্ব পালনের তৃপ্তি আর অসংখ্য স্মৃতির আবেগ।

নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, “আজ আমার শিক্ষকতা জীবনের দীর্ঘ পঁয়ত্রিশ বছর পাঁচ মাসের শেষ কর্মদিবস। অশ্রুসিক্ত নয়নে কর্মজীবনের সমাপ্তি। দীর্ঘ শিক্ষকতা পেশা থেকে বিদায় এবং ছাত্রীদের কাছ থেকে বিদায়ের মুহূর্ত খুবই বেদনাদায়ক।”

১৯৮২ সালে এসএসসি পাস করার পর বিএসসি সম্পন্ন করেন সিদ্ধার্থ শংকর হালদার । এরপর ১৯৯১ সালের ২২ মে পাড়েরহাট সম্মিলিত বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগদানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় তাঁর দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবন।

এরপর পেরিয়ে গেছে ৩৫ বছর ৫ মাস। দীর্ঘ এই সময়ে অসংখ্য শিক্ষার্থী তাঁর শ্রেণিকক্ষে বসে জ্ঞান ও জীবনের নানা শিক্ষা গ্রহণ করেছে। তাঁদের অনেকেই আজ সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। শিক্ষার্থীদের কাছে সিদ্বার্থ স্যার শুধু একজন শিক্ষক নন, বরং জীবনের পথ দেখানো একজন প্রিয় মানুষ।

শিক্ষকতা জীবনে তিনি পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা, নৈতিকতা, মানবিকতা ও জীবনে এগিয়ে যাওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন। দীর্ঘ কর্মজীবনের প্রতিটি দিনই শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গড়ার কাজে নিবেদিত ছিল তাঁর।

শেষ কর্মদিবসে স্বাক্ষর বহিতে শেষ স্বাক্ষর করার মধ্য দিয়ে শেষ হলো তাঁর চাকরিজীবনের একটি দীর্ঘ অধ্যায়। তবে একজন শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের ইতি ঘটেনি। শ্রেণিকক্ষের পরিচিত কণ্ঠ, শাসন-স্নেহ, বিদ্যালয়ের আঙিনায় কাটানো অসংখ্য দিন ও স্মৃতি হয়তো বারবার ফিরে আসবে তাঁর মনে।

কর্মজীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে সিদ্ধার্থ স্যারের কণ্ঠে তাই তৃপ্তির পাশাপাশি রয়েছে স্রষ্টার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা। সুস্থ শরীরে ও সম্মানের সঙ্গে কর্মজীবন শেষ করতে পারায় তিনি সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

কর্মজীবনের শেষ দিনে তিনি তাঁর পরিবার ও আগামীর সুখময় জীবনের জন্য সবার কাছে দোয়া ও আশীর্বাদ কামনা করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডি এস কে টিভি চ্যানেল

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


৩৫ বছরের শিক্ষকতা শেষে বিদায়, আবেগঘন সিদ্ধার্থ স্যারের শেষ কর্মদিবস

প্রকাশের তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

৩৫ বছর জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে অসংখ্য শিক্ষার্থীর স্বপ্ন গড়ার পর শিক্ষকতা জীবন থেকে বিদায় নিলেন পিরোজপুরের পাড়েরহাট সম্মিলিত বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সিদ্ধার্থ শংকর হালদার। 

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ছিল তাঁর শিক্ষকতা জীবনের শেষ কর্মদিবস।

দীর্ঘ কর্মজীবনের শেষ দিনে বিদ্যালয়ের স্বাক্ষর বহিতে শেষ সাক্ষর করার সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। সেই মুহূর্তের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন সিদ্ধার্থ শংকর হালদার। ছবিতে ফুটে ওঠে দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি, দায়িত্ব পালনের তৃপ্তি আর অসংখ্য স্মৃতির আবেগ।

নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, “আজ আমার শিক্ষকতা জীবনের দীর্ঘ পঁয়ত্রিশ বছর পাঁচ মাসের শেষ কর্মদিবস। অশ্রুসিক্ত নয়নে কর্মজীবনের সমাপ্তি। দীর্ঘ শিক্ষকতা পেশা থেকে বিদায় এবং ছাত্রীদের কাছ থেকে বিদায়ের মুহূর্ত খুবই বেদনাদায়ক।”

১৯৮২ সালে এসএসসি পাস করার পর বিএসসি সম্পন্ন করেন সিদ্ধার্থ শংকর হালদার । এরপর ১৯৯১ সালের ২২ মে পাড়েরহাট সম্মিলিত বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগদানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় তাঁর দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবন।

এরপর পেরিয়ে গেছে ৩৫ বছর ৫ মাস। দীর্ঘ এই সময়ে অসংখ্য শিক্ষার্থী তাঁর শ্রেণিকক্ষে বসে জ্ঞান ও জীবনের নানা শিক্ষা গ্রহণ করেছে। তাঁদের অনেকেই আজ সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। শিক্ষার্থীদের কাছে সিদ্বার্থ স্যার শুধু একজন শিক্ষক নন, বরং জীবনের পথ দেখানো একজন প্রিয় মানুষ।

শিক্ষকতা জীবনে তিনি পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা, নৈতিকতা, মানবিকতা ও জীবনে এগিয়ে যাওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন। দীর্ঘ কর্মজীবনের প্রতিটি দিনই শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গড়ার কাজে নিবেদিত ছিল তাঁর।

শেষ কর্মদিবসে স্বাক্ষর বহিতে শেষ স্বাক্ষর করার মধ্য দিয়ে শেষ হলো তাঁর চাকরিজীবনের একটি দীর্ঘ অধ্যায়। তবে একজন শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের ইতি ঘটেনি। শ্রেণিকক্ষের পরিচিত কণ্ঠ, শাসন-স্নেহ, বিদ্যালয়ের আঙিনায় কাটানো অসংখ্য দিন ও স্মৃতি হয়তো বারবার ফিরে আসবে তাঁর মনে।

কর্মজীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে সিদ্ধার্থ স্যারের কণ্ঠে তাই তৃপ্তির পাশাপাশি রয়েছে স্রষ্টার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা। সুস্থ শরীরে ও সম্মানের সঙ্গে কর্মজীবন শেষ করতে পারায় তিনি সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

কর্মজীবনের শেষ দিনে তিনি তাঁর পরিবার ও আগামীর সুখময় জীবনের জন্য সবার কাছে দোয়া ও আশীর্বাদ কামনা করেছেন।


ডি এস কে টিভি চ্যানেল

চেয়ারম্যান ও সম্পাদকঃ সামসুল আলম
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আসআদ

কপিরাইট © ২০২৫ ডি এস কে টিভি চ্যানেল