ডি এস কে টিভি চ্যানেল
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

জিয়ানগরে ফ্যামিলি কার্ডের জরিপ সংক্রান্ত দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শুরু

জিয়ানগরে ফ্যামিলি কার্ডের জরিপ সংক্রান্ত দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শুরু

জিয়ানগরে ফ্যামিলি কার্ডের জরিপ সংক্রান্ত দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শুরু

জিয়ানগরে ফ্যামিলি কার্ডের জরিপ সংক্রান্ত দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শুরু

জিয়ানগরে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে র‍্যালী ও সভা

জিয়ানগরে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে র‍্যালী ও সভা

কুড়িগ্রামের কচাকাটায় ১৩৬ বছর বয়সী শতবর্ষী হোসেন মন্ডল দম্পতির মানবেতর জীবনযাপনের খবর পেয়ে পাশে দাঁড়াল ‘মানবিক রশিদ মন্ডল ফাউন্ডেশন

কুড়িগ্রামের কচাকাটায় ১৩৬ বছর বয়সী শতবর্ষী হোসেন মন্ডল দম্পতির মানবেতর জীবনযাপনের খবর পেয়ে পাশে দাঁড়াল ‘মানবিক রশিদ মন্ডল ফাউন্ডেশন

জিয়ানগরে মা ইলিশ সংরক্ষণে উপজেলা টাস্কফোর্স কমিটির সভা

জিয়ানগরে মা ইলিশ সংরক্ষণে উপজেলা টাস্কফোর্স কমিটির সভা

জিয়ানগরে আন্তর্জাতিক প্রবীন দিবস উদযাপিত

জিয়ানগরে আন্তর্জাতিক প্রবীন দিবস উদযাপিত

জিয়ানগরে শহীদ জিয়া স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টে উদ্বোধনের সময় ভারপ্রাপ্ত ইউএনও অনুপস্থিত, ক্ষোভ বিএনপি নেতা ও আয়োজকদের

জিয়ানগরে শহীদ জিয়া স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টে উদ্বোধনের সময় ভারপ্রাপ্ত ইউএনও অনুপস্থিত, ক্ষোভ বিএনপি নেতা ও আয়োজকদের

নাসিরনগরে দেশবিরোধী পরিকল্পিত সন্ত্রা'সের প্রতিবাদে বিএনপির বি'ক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

নাসিরনগরে দেশবিরোধী পরিকল্পিত সন্ত্রা'সের প্রতিবাদে বিএনপির বি'ক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

চোখের আলো ফিরে পেতে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা চায় রাকিব

চোখের আলো ফিরে পেতে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা চায় রাকিব

মাত্র ২৩ বছর বয়সেই নেমে এসেছে ঘন অন্ধকার। একসময় যে তরুণের স্বপ্ন ছিল লেখাপড়া শেষ করে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর, আজ তিনি দুই চোখেই দৃষ্টিহীন। উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে আবারও পৃথিবীর আলো দেখার সম্ভাবনা থাকলেও অর্থের অভাবে সেই চিকিৎসা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তাই সরকারের সহায়তার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও মানবিক সংগঠনগুলোর সহযোগিতা কামনা করেছেন দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার রাকিব হোসেন।

রাকিব উপজেলার আলোকঝাড়ী ইউনিয়নের বাসুলী গ্রামের মাঝিপাড়ার বাসিন্দা মো. একরামুল হকের একমাত্র ছেলে। ২০২১ সালে তিনি খানসামা সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, ২০২১ সালে হঠাৎ রাকিবের ডান চোখ লাল হয়ে যায়। চোখ দিয়ে পানি পড়া ও তীব্র ব্যথা শুরু হলে প্রথমে তাকে বীরগঞ্জের বিবি কাঞ্চন চক্ষু হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ঢাকার ইস্পাহানী ইসলামিয়া চক্ষু ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই বছরের শেষ দিকে ডান চোখে অস্ত্রোপচার করা হলেও আট মাসের মাথায় একই সমস্যা দেখা দেয় বাম চোখেও।

এরপর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসাযাত্রা। দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর ২০২২ সালে তাকে ভারতের কলকাতার অ্যাপোলো মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতাল ও পরে শিলিগুড়ির হিমালয় আই ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকেরা উন্নত চিকিৎসার জন্য চেন্নাইয়ের শংকর নেত্রালয়া হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

পরিবারের দাবি, চেন্নাইয়ের চিকিৎসকেরা জানান, বাংলাদেশে পূর্বে দেওয়া চিকিৎসায় গুরুতর ত্রুটি ছিল। ঢাকার একটি বিশেষায়িত চক্ষু হাসপাতালের চিকিৎসকেরাও একই ধরনের মতামত দিয়েছেন। ইতোমধ্যে চিকিৎসার পেছনে পরিবারের সঞ্চয় শেষ হয়ে গেছে। সহায়-সম্বল বিক্রি, ধারদেনা ও আত্মীয়স্বজনের সহযোগিতার পরও শেষ পর্যন্ত রক্ষা করা যায়নি রাকিবের দৃষ্টিশক্তি।

বর্তমানে দুই চোখেই সম্পূর্ণ দৃষ্টিহীন রাকিব। তবে চিকিৎসকদের মতে, দ্রুত উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে তার দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ জন্য প্রয়োজন প্রায় ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা, যা পরিবারের পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব নয়।

রাকিব বলেন, “আমি বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, দানশীল মানুষ ও মানবিক সংগঠনগুলোর কাছে বিনীত আবেদন জানাই—আপনারা আমার পাশে দাঁড়ান। আপনাদের সহযোগিতা পেলে হয়তো আবারও এই সুন্দর পৃথিবীকে দেখতে পারব এবং নতুন করে জীবন শুরু করতে পারব।”

রাকিবের বাবা মো. একরামুল হক বলেন, “একজন বাবার জন্য এর চেয়ে বড় কষ্ট আর কিছু হতে পারে না। নিজের সন্তানের সামনে থেকেও সে আমাকে দেখতে পায় না। চিকিৎসার জন্য যা ছিল সব ব্যয় করেছি। এখন উন্নত চিকিৎসার জন্য আরও ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা প্রয়োজন। তাই সরকার, সমাজের বিত্তবান মানুষ, বিভিন্ন মানবিক সংগঠন ও দেশের সব হৃদয়বান মানুষের কাছে আমার সন্তানের জন্য সহযোগিতা চাই।”

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহনিমা তরফদার বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ঘটনা। সমাজের মানুষ সামর্থ্য অনুযায়ী এগিয়ে এলে রাকিবের চিকিৎসার ব্যয় বহন করা সম্ভব হতে পারে। মানবিক এই উদ্যোগে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুজ্জামান সরকার বলেন, “রাকিবের বিষয়টি অত্যন্ত মর্মস্পর্শী। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক সংগঠন এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই। সম্মিলিত উদ্যোগে প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা হলে তার উন্নত চিকিৎসার সুযোগ সৃষ্টি হবে।”

পরিবার জানায়, সময়মতো প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা করা গেলে দ্রুত বিদেশে উন্নত চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব। তাই সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, প্রবাসী বাংলাদেশি, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও দেশের মানবিক মানুষের প্রতি সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন তারা।

সহায়তার ঠিকানা

বিকাশ/নগদ: ০১৭৭৬-৯৬৯৭৭৯

প্রাপক: মো. একরামুল হক (রাকিব হোসেনের বাবা)

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডি এস কে টিভি চ্যানেল

সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬


চোখের আলো ফিরে পেতে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা চায় রাকিব

প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুলাই ২০২৬

featured Image

মাত্র ২৩ বছর বয়সেই নেমে এসেছে ঘন অন্ধকার। একসময় যে তরুণের স্বপ্ন ছিল লেখাপড়া শেষ করে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর, আজ তিনি দুই চোখেই দৃষ্টিহীন। উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে আবারও পৃথিবীর আলো দেখার সম্ভাবনা থাকলেও অর্থের অভাবে সেই চিকিৎসা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তাই সরকারের সহায়তার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও মানবিক সংগঠনগুলোর সহযোগিতা কামনা করেছেন দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার রাকিব হোসেন।

রাকিব উপজেলার আলোকঝাড়ী ইউনিয়নের বাসুলী গ্রামের মাঝিপাড়ার বাসিন্দা মো. একরামুল হকের একমাত্র ছেলে। ২০২১ সালে তিনি খানসামা সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, ২০২১ সালে হঠাৎ রাকিবের ডান চোখ লাল হয়ে যায়। চোখ দিয়ে পানি পড়া ও তীব্র ব্যথা শুরু হলে প্রথমে তাকে বীরগঞ্জের বিবি কাঞ্চন চক্ষু হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ঢাকার ইস্পাহানী ইসলামিয়া চক্ষু ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই বছরের শেষ দিকে ডান চোখে অস্ত্রোপচার করা হলেও আট মাসের মাথায় একই সমস্যা দেখা দেয় বাম চোখেও।

এরপর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসাযাত্রা। দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর ২০২২ সালে তাকে ভারতের কলকাতার অ্যাপোলো মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতাল ও পরে শিলিগুড়ির হিমালয় আই ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকেরা উন্নত চিকিৎসার জন্য চেন্নাইয়ের শংকর নেত্রালয়া হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

পরিবারের দাবি, চেন্নাইয়ের চিকিৎসকেরা জানান, বাংলাদেশে পূর্বে দেওয়া চিকিৎসায় গুরুতর ত্রুটি ছিল। ঢাকার একটি বিশেষায়িত চক্ষু হাসপাতালের চিকিৎসকেরাও একই ধরনের মতামত দিয়েছেন। ইতোমধ্যে চিকিৎসার পেছনে পরিবারের সঞ্চয় শেষ হয়ে গেছে। সহায়-সম্বল বিক্রি, ধারদেনা ও আত্মীয়স্বজনের সহযোগিতার পরও শেষ পর্যন্ত রক্ষা করা যায়নি রাকিবের দৃষ্টিশক্তি।

বর্তমানে দুই চোখেই সম্পূর্ণ দৃষ্টিহীন রাকিব। তবে চিকিৎসকদের মতে, দ্রুত উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে তার দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ জন্য প্রয়োজন প্রায় ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা, যা পরিবারের পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব নয়।

রাকিব বলেন, “আমি বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, দানশীল মানুষ ও মানবিক সংগঠনগুলোর কাছে বিনীত আবেদন জানাই—আপনারা আমার পাশে দাঁড়ান। আপনাদের সহযোগিতা পেলে হয়তো আবারও এই সুন্দর পৃথিবীকে দেখতে পারব এবং নতুন করে জীবন শুরু করতে পারব।”

রাকিবের বাবা মো. একরামুল হক বলেন, “একজন বাবার জন্য এর চেয়ে বড় কষ্ট আর কিছু হতে পারে না। নিজের সন্তানের সামনে থেকেও সে আমাকে দেখতে পায় না। চিকিৎসার জন্য যা ছিল সব ব্যয় করেছি। এখন উন্নত চিকিৎসার জন্য আরও ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা প্রয়োজন। তাই সরকার, সমাজের বিত্তবান মানুষ, বিভিন্ন মানবিক সংগঠন ও দেশের সব হৃদয়বান মানুষের কাছে আমার সন্তানের জন্য সহযোগিতা চাই।”

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহনিমা তরফদার বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ঘটনা। সমাজের মানুষ সামর্থ্য অনুযায়ী এগিয়ে এলে রাকিবের চিকিৎসার ব্যয় বহন করা সম্ভব হতে পারে। মানবিক এই উদ্যোগে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুজ্জামান সরকার বলেন, “রাকিবের বিষয়টি অত্যন্ত মর্মস্পর্শী। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক সংগঠন এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই। সম্মিলিত উদ্যোগে প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা হলে তার উন্নত চিকিৎসার সুযোগ সৃষ্টি হবে।”

পরিবার জানায়, সময়মতো প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা করা গেলে দ্রুত বিদেশে উন্নত চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব। তাই সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, প্রবাসী বাংলাদেশি, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও দেশের মানবিক মানুষের প্রতি সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন তারা।

সহায়তার ঠিকানা

বিকাশ/নগদ: ০১৭৭৬-৯৬৯৭৭৯

প্রাপক: মো. একরামুল হক (রাকিব হোসেনের বাবা)


ডি এস কে টিভি চ্যানেল

চেয়ারম্যান ও সম্পাদকঃ সামসুল আলম
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আসআদ

কপিরাইট © ২০২৫ ডি এস কে টিভি চ্যানেল