ডি এস কে টিভি চ্যানেল
আপডেট : সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

ভূরুঙ্গামারীতে মাদ্রাসা সুপার পদ নিয়ে সংঘাত, পুলিশি পাহারায় উদ্ধার

ভূরুঙ্গামারীতে মাদ্রাসা সুপার পদ নিয়ে সংঘাত, পুলিশি পাহারায় উদ্ধার
DSK TV chanel সংগ্রীত

ভূরুঙ্গামারীতে মাদ্রাসা সুপার পদ নিয়ে সংঘাত, পুলিশি পাহারায় উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) | ২৭ এপ্রিল, ২০২৬

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার কামাত আঙ্গারিয়া দাখিল মাদ্রাসায় প্রশাসনিক দ্বন্দ্ব এখন প্রকাশ্য সংঘাতে রূপ নিয়েছে। সুপার পদ নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হলে গত ২৬ এপ্রিল বিকেলে বর্তমান সুপারকে অবরুদ্ধ করার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সুপারকে উদ্ধার করে। এই ঘটনায় মাদ্রাসার শিক্ষা কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে, যার ফলে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের।

ঘটনার প্রেক্ষাপট

জানা যায়, সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহারের পর সুপার মো. সাইদুর রহমানকে দায়িত্ব ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। গত ২৪ এপ্রিল সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা ডা. মো. মজিদুল হকের উপস্থিতিতে দায়িত্ব হস্তান্তরের কথা থাকলেও বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি। অভিযোগ উঠেছে, ভারপ্রাপ্ত সুপার ও তার অনুসারীরা প্রভাব খাটিয়ে দায়িত্ব হস্তান্তরে বাধা দিচ্ছেন।

গত ২৬ এপ্রিল সকালে সুপার সাইদুর রহমান মাদ্রাসায় যোগ দিতে গিয়ে অফিস কক্ষ তালাবদ্ধ দেখতে পান। বিকেলে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে কক্ষের তালা খুলে প্রবেশের চেষ্টা করলে ভারপ্রাপ্ত সুপারের সমর্থকরা তাকে ঘিরে ফেলেন এবং একপর্যায়ে তাকে কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে।

পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

সুপার মো. সাইদুর রহমান বলেন, "ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে আমি দায়িত্ব বুঝে নিতে গেলে ভারপ্রাপ্ত সুপারের লোকজন আমাকে লাঞ্ছিত করে এবং জোরপূর্বক আটকে রাখে। আমি এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার বিচার চাই এবং আইনগত ব্যবস্থা নেব।"

অন্যদিকে, ভারপ্রাপ্ত সুপার আমিনুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "আমি কোনো জনবল বা 'মব' তৈরি করিনি। নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় দায়িত্ব হস্তান্তরের বিষয়ে আমি সচেতন।"

অনিয়মের পাহাড় ও শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

মাদ্রাসাটিতে দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক অচলাবস্থার কারণে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে:

  • সনদ জট: ২০২৪ সালের ১৬ জন শিক্ষার্থীর মূল সনদ এখনও বিতরণ করা হয়নি। সনদ না পেয়ে সম্প্রতি শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসায় বিক্ষোভ করেছে।

  • বেতন বন্ধ: কোনো নোটিশ ছাড়াই দুই শিক্ষক-কর্মচারীর ৬-৭ মাসের বেতন স্থগিত রাখা হয়েছে, যা বিধিবহির্ভূত বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।

  • পক্ষপাতিত্ব: চতুর্থ শ্রেণির এক কর্মচারীর বয়স শেষ হওয়ার পর বেতন বন্ধ হলেও রহস্যজনকভাবে তা পুনরায় চালু করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন জানান, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিপন্ন শিক্ষার পরিবেশ

তদন্ত নির্দেশ বাস্তবায়ন না হওয়া এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে কামাত আঙ্গারিয়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত এই সমস্যার সমাধান এবং মাদ্রাসার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডি এস কে টিভি চ্যানেল

সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬


ভূরুঙ্গামারীতে মাদ্রাসা সুপার পদ নিয়ে সংঘাত, পুলিশি পাহারায় উদ্ধার

প্রকাশের তারিখ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

ভূরুঙ্গামারীতে মাদ্রাসা সুপার পদ নিয়ে সংঘাত, পুলিশি পাহারায় উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) | ২৭ এপ্রিল, ২০২৬

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার কামাত আঙ্গারিয়া দাখিল মাদ্রাসায় প্রশাসনিক দ্বন্দ্ব এখন প্রকাশ্য সংঘাতে রূপ নিয়েছে। সুপার পদ নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হলে গত ২৬ এপ্রিল বিকেলে বর্তমান সুপারকে অবরুদ্ধ করার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সুপারকে উদ্ধার করে। এই ঘটনায় মাদ্রাসার শিক্ষা কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে, যার ফলে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের।

ঘটনার প্রেক্ষাপট

জানা যায়, সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহারের পর সুপার মো. সাইদুর রহমানকে দায়িত্ব ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। গত ২৪ এপ্রিল সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা ডা. মো. মজিদুল হকের উপস্থিতিতে দায়িত্ব হস্তান্তরের কথা থাকলেও বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি। অভিযোগ উঠেছে, ভারপ্রাপ্ত সুপার ও তার অনুসারীরা প্রভাব খাটিয়ে দায়িত্ব হস্তান্তরে বাধা দিচ্ছেন।

গত ২৬ এপ্রিল সকালে সুপার সাইদুর রহমান মাদ্রাসায় যোগ দিতে গিয়ে অফিস কক্ষ তালাবদ্ধ দেখতে পান। বিকেলে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে কক্ষের তালা খুলে প্রবেশের চেষ্টা করলে ভারপ্রাপ্ত সুপারের সমর্থকরা তাকে ঘিরে ফেলেন এবং একপর্যায়ে তাকে কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে।

পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

সুপার মো. সাইদুর রহমান বলেন, "ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে আমি দায়িত্ব বুঝে নিতে গেলে ভারপ্রাপ্ত সুপারের লোকজন আমাকে লাঞ্ছিত করে এবং জোরপূর্বক আটকে রাখে। আমি এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার বিচার চাই এবং আইনগত ব্যবস্থা নেব।"

অন্যদিকে, ভারপ্রাপ্ত সুপার আমিনুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "আমি কোনো জনবল বা 'মব' তৈরি করিনি। নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় দায়িত্ব হস্তান্তরের বিষয়ে আমি সচেতন।"

অনিয়মের পাহাড় ও শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

মাদ্রাসাটিতে দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক অচলাবস্থার কারণে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে:

  • সনদ জট: ২০২৪ সালের ১৬ জন শিক্ষার্থীর মূল সনদ এখনও বিতরণ করা হয়নি। সনদ না পেয়ে সম্প্রতি শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসায় বিক্ষোভ করেছে।

  • বেতন বন্ধ: কোনো নোটিশ ছাড়াই দুই শিক্ষক-কর্মচারীর ৬-৭ মাসের বেতন স্থগিত রাখা হয়েছে, যা বিধিবহির্ভূত বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।

  • পক্ষপাতিত্ব: চতুর্থ শ্রেণির এক কর্মচারীর বয়স শেষ হওয়ার পর বেতন বন্ধ হলেও রহস্যজনকভাবে তা পুনরায় চালু করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন জানান, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিপন্ন শিক্ষার পরিবেশ

তদন্ত নির্দেশ বাস্তবায়ন না হওয়া এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে কামাত আঙ্গারিয়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত এই সমস্যার সমাধান এবং মাদ্রাসার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।



ডি এস কে টিভি চ্যানেল

চেয়ারম্যান ও সম্পাদকঃ সামসুল আলম
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আসআদ

কপিরাইট © ২০২৫ ডি এস কে টিভি চ্যানেল